Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

আইসিসির আল্টিমেটাম বাংলাদেশের কাছে, বুধবারের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো বাধ্যতামূলক

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকেই ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি স্পষ্ট। পদ্মপাড়ে ধারাবাহিক হিন্দু নিধনের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্তরে ক্রমশ তীব্র হচ্ছে ভারতবিরোধী মনোভাব।

কলকাতা: ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন নয়। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্তরে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে নানা ইস্যুতে মতবিরোধ চলেছে। সেই আবহেই এবার বাংলাদেশের দিকে কড়া নজর রাখছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা আইসিসি। ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলা বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে আসা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে স্পষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিল আইসিসি। বুধবারের মধ্যেই নিজেদের অবস্থান জানাতে হবে বিসিবিকে।

আইসিসির তরফে জানানো হয়েছে, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা চলতে দেওয়া যাবে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানো অত্যন্ত জরুরি, কারণ তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সূচি ব্যবস্থাপনা, সম্প্রচার পরিকল্পনা, নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং ভেন্যু সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে বাংলাদেশ যদি বুধবারের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না জানায়, তাহলে আইসিসি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দ্বিধার মূল কারণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ। এর আগে বিসিবি ভারত থেকে ম্যাচ সরানোর আবেদন জানিয়ে আইসিসির কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল। সেই আবেদনে বলা হয়েছিল, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে তারা আশঙ্কিত। তবে আইসিসি বিষয়টি খতিয়ে দেখে দুবারই সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। আইসিসির স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, ভারত বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনও ঘাটতি নেই।

আইসিসির সিদ্ধান্তের পরও বিসিবি এখনও চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করেনি। ভারতে দল পাঠানো হবে কি না, সেই প্রশ্নে বোর্ডের অন্দরে মতভেদ রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। একাংশ মনে করছে, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে অংশ না নিলে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে আরেক অংশ নিরাপত্তা ঝুঁকিকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে। এই টানাপোড়েনের মাঝেই সময় গড়াচ্ছে এবং চাপ বাড়াচ্ছে আইসিসি।

এই প্রসঙ্গে ক্রিকেট মহলের একাংশ মনে করছে, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ক্রীড়াক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দুই দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জটিল হয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে হিন্দু নিধনের একাধিক ঘটনা এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত বিরোধী স্লোগান ও মনোভাব দুই দেশের দূরত্ব আরও বাড়িয়েছে। সেই প্রভাব ক্রিকেটেও পড়ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড যদিও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি, তবে বিসিসিআই সূত্রে খবর, তারা আইসিসির সিদ্ধান্তের সঙ্গেই একমত। বিসিসিআইয়ের মতে, ভারত বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অতীতে বহু আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট সাফল্যের সঙ্গে আয়োজন করেছে ভারত, তাই এই নিয়ে সংশয়ের কোনও কারণ নেই।

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত ভারতে খেলতে না আসে, তাহলে তা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্যও তা বড় ধাক্কা হতে পারে। বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করার সুযোগ হারাতে পারেন তারা। তাছাড়া আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনও দল প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও সম্ভাবনা থাকে।

এদিকে বাংলাদেশের সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যেও এই বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে ক্রিকেট যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আবার কেউ কেউ বোর্ডের সতর্ক অবস্থানকে সমর্থন করছেন। সামাজিক মাধ্যমে এই নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে।

news image
আরও খবর

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বুধবারের ডেডলাইন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে জল্পনা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটে, সেটাই এখন দেখার। তাদের সিদ্ধান্ত শুধু বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎই নয়, ভারত বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কের দিকনির্দেশও অনেকটা নির্ধারণ করে দিতে পারে বলে মনে করছে ক্রিকেট মহল                                                                                                                                                                      

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত ভারতে এসে বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলে, তাহলে তা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ মঞ্চে অংশগ্রহণ না করা মানে শুধুমাত্র একটি টুর্নামেন্ট মিস করা নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য বড় ক্রীড়াগত ও কূটনৈতিক বার্তা বহন করা। বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য এটি হতে পারে বড় ধাক্কা। নিজেদের প্রতিভা ও সামর্থ্য প্রমাণ করার যে সুবর্ণ সুযোগ বিশ্বকাপ এনে দেয়, তা হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনও দল যদি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ না করে বা শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। জরিমানা থেকে শুরু করে পয়েন্ট কাটা কিংবা ভবিষ্যতের টুর্নামেন্টে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। এই কারণেই আইসিসি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে দ্রুত এবং স্পষ্ট সিদ্ধান্ত চাইছে।

বাংলাদেশের সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যেও এই পরিস্থিতি নিয়ে মতভেদ স্পষ্ট। একাংশ মনে করছেন, রাজনীতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে ক্রিকেট যেন পিছিয়ে না পড়ে। তাদের মতে, খেলাধুলা দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করে এবং উত্তেজনা কমাতেও সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে অনেকেই বোর্ডের সতর্ক অবস্থানকে সমর্থন করছেন। তাঁদের দাবি, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা সবার আগে এবং কোনও ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ইস্যু ঘিরে তীব্র বিতর্ক চলছে এবং প্রতিদিনই নতুন নতুন মতামত সামনে আসছে।

এই প্রেক্ষাপটে ভারত বাংলাদেশ ক্রিকেট প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাসও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। গত দেড় দশকে দুই দেশের মধ্যে ক্রিকেট ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। কখনও মাঠের লড়াই, কখনও মাঠের বাইরের মন্তব্য দুই দলের ম্যাচকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের উত্থানের পর থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে জয় পাওয়ার লড়াই তাদের কাছে সম্মানের বিষয় হয়ে উঠেছে। আবার ভারতের কাছে বাংলাদেশ ম্যাচ মানেই সহজ প্রতিপক্ষের তকমা ভেঙে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়া।

বিশ্বকাপে ভারত বাংলাদেশ ম্যাচ সবসময়ই আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে। দুই দেশের সমর্থকদের আবেগ, গ্যালারির উত্তাপ এবং খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ মিলিয়ে এই ম্যাচগুলো বাড়তি গুরুত্ব পায়। যদি বাংলাদেশ ভারতে খেলতেই না আসে, তাহলে এই বহুল প্রতীক্ষিত দ্বৈরথ দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমী। শুধু তাই নয়, ভারত বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশও তখন নতুন প্রশ্নের মুখে দাঁড়াবে।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বুধবারের নির্ধারিত সময়সীমা যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে অনিশ্চয়তা এবং জল্পনা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড শেষ পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আইসিসি, ভারতীয় ক্রিকেট মহল এবং দুই দেশের অসংখ্য সমর্থক। এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি বিশ্বকাপ নয়, বরং ভারত বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কের আগামী অধ্যায় কীভাবে লেখা হবে, সেটিও অনেকটাই নির্ধারণ করে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।                                                                                                                                                           সব মিলিয়ে বলা যায়, এই মুহূর্তে ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্ক এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের সামনে দাঁড়িয়ে। বুধবারের নির্ধারিত সময়সীমা যত কাছে আসছে, ততই অনিশ্চয়তা এবং উত্তেজনা বাড়ছে ক্রিকেট মহলে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কোন পথে হাঁটে, সেই সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে বিশ্বকাপের সূচি থেকে শুরু করে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ। আইসিসি থেকে শুরু করে ভারতীয় ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ এবং দুই দেশের লক্ষ লক্ষ সমর্থক এখন তাকিয়ে রয়েছে ঢাকার দিকেই। শেষ পর্যন্ত যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন, তা শুধু চলতি বিশ্বকাপের গতিপথই নয়, বরং ভারত বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কের আগামী অধ্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

Preview image