Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

শিল্পাকে নিয়ে ভুয়ো গুজবে কড়া হুঁশিয়ারি আইনজীবীর, আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির দায়িত্বও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিন লাখ লাখ পোস্ট শেয়ার হয়। এর মধ্যে অনেক কন্টেন্টই মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা ক্ষতিকর। যদিও এই প্ল্যাটফর্মগুলির নিজস্ব নীতি এবং মডারেশন ব্যবস্থা আছে, তবুও অনেক সময় ক্ষতিকর কন্টেন্ট দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়, সেগুলি সরানোর আগেই।শিল্পার আইনি টিম ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে নোটিস পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য সম্বলিত পোস্টগুলি সরিয়ে ফেলা হয়। পাশাপাশি যারা এই ধরনের কন্টেন্ট তৈরি বা শেয়ার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের যুগে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুজব, কুৎসা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অভিনেত্রী শিল্পাকে কেন্দ্র করে যেধরনের অভিযোগ, ইঙ্গিতপূর্ণ খবর এবং যাচাইহীন দাবি ছড়িয়ে পড়ছে, তা নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিলেন তাঁর আইনজীবী। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, শিল্পার নাম জড়িয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে কুৎসা রটানো হলে বা ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রকাশ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে এক মুহূর্তও দেরি করা হবে না। এই হুঁশিয়ারির পর থেকেই বিনোদন মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হয়েছে, শিল্পার বাড়িতে নাকি আয়কর হানা হয়েছে। কোথাও আবার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তাঁর আর্থিক লেনদেন নিয়ে নাকি তদন্ত চলছে। এই ধরনের খবর দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রেই কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র বা সরকারি বিবৃতি ছাড়াই সেগুলো পরিবেশন করা হয়। শিল্পার আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই সমস্ত খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর দাবি, কিছু ব্যক্তি এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর মক্কেলকে নিয়ে জনসাধারণের মনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যা শুধু মানহানিকরই নয়, আইনত দণ্ডনীয় অপরাধও বটে। আইনজীবীর কথায়, একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে শিল্পা বছরের পর বছর ধরে নিজের পরিশ্রম, প্রতিভা এবং পেশাদারিত্ব দিয়ে যে সম্মান অর্জন করেছেন, তা নষ্ট করার জন্যই এই ধরনের গুজব রটানো হচ্ছে। বিনোদন জগতে প্রতিযোগিতা, হিংসা এবং ব্যক্তিগত আক্রোশ নতুন নয়, কিন্তু সেই কারণে কারও সম্মানহানি করা বা আইনি ঝামেলায় জড়ানোর ভয় দেখানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই কিছু সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং অনলাইন প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করা হয়েছে, যেগুলো প্রয়োজনে আদালতে প্রমাণ হিসেবে পেশ করা হবে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে, আয়কর হানার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কীভাবে কোনও নিশ্চিত তথ্য ছাড়াই খবর ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত আয়কর বিভাগ কোনও অভিযান চালালে তা নিয়ে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এবং পরবর্তীকালে সরকারি সূত্রে তথ্য প্রকাশ পায়। কিন্তু শিল্পার ক্ষেত্রে এমন কোনও সরকারি বিবৃতি নেই। তবুও কিছু মহল এই খবরকে এমনভাবে পরিবেশন করেছে, যেন সবকিছুই প্রমাণিত সত্য। শিল্পার আইনজীবীর মতে, এই ধরনের আচরণ শুধু সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী নয়, বরং সাধারণ মানুষকেও বিভ্রান্ত করে। শিল্পা নিজে এই বিষয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি মন্তব্য না করলেও, তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, এই ধরনের গুজবে তিনি অত্যন্ত বিরক্ত এবং মানসিকভাবে আহত। একজন অভিনেত্রী হিসেবে তাঁকে প্রায়শই সমালোচনা, ট্রোলিং এবং ভুয়ো খবরের মুখোমুখি হতে হয়, কিন্তু এবার বিষয়টি মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে আয়কর হানার মতো গুরুতর অভিযোগ তাঁর পেশাগত ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই কারণেই তাঁর আইনি টিম এবার আর চুপ করে থাকতে চাইছে না। আইনজীবী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যারা এই ধরনের মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হতে পারে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিকে আইনি নোটিস পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট সরিয়ে নেওয়ার দাবিও জানানো হবে। তাঁর কথায়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও তার মানে এই নয় যে কেউ ইচ্ছেমতো মিথ্যা অভিযোগ তুলে ধরতে পারে। স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বও আসে, আর সেই দায়িত্ব পালন না করলে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে। এই ঘটনার পর বিনোদন জগতে অনেকেই শিল্পার পাশে দাঁড়িয়েছেন। একাধিক সহকর্মী অভিনেতা এবং পরিচালক ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে সমর্থন জানিয়েছেন বলে খবর। তাঁদের মতে, ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে তারকাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। আজ শিল্পা, কাল অন্য কেউ—এই প্রবণতা যদি রুখে না দেওয়া যায়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। এখানেই শেষ নয়। এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে এসেছে ডিজিটাল মিডিয়ার দায়িত্ববোধের প্রশ্ন। দ্রুত খবর পরিবেশনের প্রতিযোগিতায় অনেক সময় যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তা উপেক্ষিত হয়। কিন্তু আয়কর হানা, তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপের মতো বিষয় অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সেগুলি নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ালে তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। শিল্পার আইনজীবীর মতে, এই ধরনের খবর প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া উচিত ছিল, যা করা হয়নি। অনেকে মনে করছেন, শিল্পাকে ঘিরে এই গুজবের নেপথ্যে হয়তো তাঁর সাম্প্রতিক সাফল্য বা জনপ্রিয়তাও একটি কারণ। বিনোদন জগতে সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনাও বাড়ে, এবং অনেক সময় সেই সমালোচনা ব্যক্তিগত আক্রমণে পরিণত হয়। শিল্পা সম্প্রতি যে সব কাজ করেছেন, সেগুলি দর্শক এবং সমালোচকদের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছে। এই সাফল্যই হয়তো কিছু মানুষের চোখে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মত অনেকের। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, মানহানির মামলায় অভিযুক্তদের শুধু জরিমানা নয়, প্রয়োজনে জেল পর্যন্ত হতে পারে, বিশেষ করে যদি প্রমাণ হয় যে মিথ্যা তথ্য জেনেবুঝে ছড়ানো হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করা কনটেন্টও এখন আইনের আওতায় পড়ে, এবং ‘আমি তো শুধু শেয়ার করেছি’—এই যুক্তি আর গ্রহণযোগ্য নয়। শিল্পার আইনজীবীর এই কড়া অবস্থান হয়তো ভবিষ্যতে অন্য তারকাদের ক্ষেত্রেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এই ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সাধারণ মানুষের ভূমিকা। অনেক সময় যাচাই না করেই খবর শেয়ার করা হয়, যা গুজবকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। শিল্পার আইনজীবী পরোক্ষভাবে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, কোনও খবর পড়ে তা বিশ্বাস করার আগে তার উৎস এবং সত্যতা যাচাই করা জরুরি, নইলে অজান্তেই কেউ আইনি সমস্যায় জড়িয়ে পড়তে পারেন। সব মিলিয়ে শিল্পাকে ঘিরে এই বিতর্ক শুধু একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত লড়াই নয়, বরং বৃহত্তর সামাজিক এবং আইনি প্রেক্ষাপটের সঙ্গে জড়িত। একদিকে যেমন এটি তারকাদের মানসিক চাপ এবং ব্যক্তিগত পরিসরের প্রশ্ন তুলে ধরে, অন্যদিকে তেমনই ডিজিটাল যুগে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তাও সামনে আনে। শিল্পার আইনজীবীর হুঁশিয়ারি স্পষ্ট করে দিয়েছে, আর চুপ করে সহ্য করা হবে না।শেষ পর্যন্ত এই ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ কতদূর গড়ায়, তা সময়ই বলবে। তবে এটুকু নিশ্চিত, শিল্পাকে নিয়ে কুৎসা রটানো বা ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানো যে সহজ হবে না, সেই বার্তা ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে। আয়কর হানার গুজব হোক বা অন্য কোনও ইঙ্গিতপূর্ণ খবর, সবকিছুরই জবাব এবার দেওয়া হবে আইনের ভাষায়। আর এই ঘটনাই হয়তো ভবিষ্যতে আরও অনেককে সতর্ক করবে, যাতে খবরের নামে কুৎসা ছড়ানোর আগে দু’বার ভাবা হয়।অনেকে মনে করছেন, শিল্পাকে ঘিরে এই গুজবের নেপথ্যে হয়তো তাঁর সাম্প্রতিক সাফল্য বা জনপ্রিয়তাও একটি কারণ। বিনোদন জগতে সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনাও বাড়ে, এবং অনেক সময় সেই সমালোচনা ব্যক্তিগত আক্রমণে পরিণত হয়। শিল্পা সম্প্রতি যে সব কাজ করেছেন, সেগুলি দর্শক এবং সমালোচকদের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছে। তাঁর অভিনীত একটি ওয়েব সিরিজ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং তিনি বেশ কয়েকটি পুরস্কারও পেয়েছেন।এই সাফল্যই হয়তো কিছু মানুষের চোখে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মত অনেকের। বিনোদন শিল্পে প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা যখন অসুস্থ হয়ে ওঠে এবং কারও সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়, তখন তা গ্রহণযোগ্য থাকে না। শিল্পার একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলেন, "শিল্পা তাঁর পরিশ্রম এবং প্রতিভার বলে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। তাঁর সাফল্য কারও দয়া বা অনুগ্রহের ফল নয়। এই সত্যটি হজম করতে না পেরেই কেউ কেউ এই ধরনের কুৎসা ছড়াচ্ছে।"শিল্পার আইনজীবীর এই কড়া অবস্থান হয়তো ভবিষ্যতে অন্য তারকাদের ক্ষেত্রেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন অভিনেতা-অভিনেত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল। এটি একটি বার্তা দেবে যে তারকারা আর চুপ করে সহ্য করবেন না।

news image
আরও খবর
Preview image