প্রান্তিকা দাস ফের বলিউডে, হরর কমেডি জোরএ মুখ্য চরিত্রে।নতুন বছরের শুরুতেই বড় সুযোগ জোর এ সরস্বতী চরিত্রে প্রান্তিকা।তিন বন্ধুর গল্পে প্রান্তিকা, বিপরীতে ঋষভ রাজ চাড্ডা ও আকাশ মাখিজা।১৬ জানুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে প্রান্তিকার হরর-কমেডি জোর।
প্রান্তিকা দাস — বাঙালি অভিনেত্রী ও মডেল, যিনি ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বলিউড হরর‑কমেডি ‘ভুল ভুলাইয়া ৩’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে প্রথমবারের মতো অনিল করিন্ডের মতো বড় ফ্র্যাঞ্চাইজে পা দিয়েছিলেন এবং দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়েছিলেন। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই তিনি আবারও বলিউডের পর্দায় ফিরে এসেছেন, কিন্তু এবার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের জন্য, একটি সম্পূর্ণ নতুন ও আগ্রাসী প্রজেক্টে — ‘জোর’ সিনেমায়।
এই আলোচনায় আমরা প্রান্তিকার ক্যারিয়ার, নতুন ছবির গল্প ও চরিত্র, চলচ্চিত্র নির্মাণ ও হরর‑কমেডি ঘরানার বিবর্তন, এবং এই প্রকল্পটি তার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ — সকল দিক বিশদভাবে আলোচনা করব।
প্রান্তিকা দাসের বলিউড যাত্রা শুরু হয়েছিল ‘ভুল ভুলাইয়া 3’ নামে একটি জনপ্রিয় হরর‑কমেডি ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে, যেখানে তিনি প্রধান চরিত্র নয় হলেও গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে উপস্থিত ছিলেন। এই চরিত্রের মাধ্যমে তিনি বলিউড ভক্তদের চোখে পড়েন এবং তার অভিনয় দক্ষতা সম্পর্কে মানুষ আগ্রহী হন।
এটা একটি বড় ভালো সুযোগ কারণ ‘ভুল ভুলাইয়া’ শিরোনামে ছবি ইন্ডাস্ট্রিতে ইতোমধ্যেই একটি পরিচিত ও লাভজনক ফ্র্যাঞ্চাইজ হয়ে উঠেছে, এবং প্রান্তিকার উপস্থিতি তাকে বলিউডের বড় প্রজেক্টে পরিচিতি দেয়। তাছাড়া এই অভিজ্ঞতা তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, যা তাকে আরও বড় সুযোগের পথে নিয়ে যায়।
‘জোর’ একটি হরর‑কমেডি ঘরানার ছবি; এটা বলিউডের দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় এমন একটি ফর্ম্যাট—যেখানে ভয়, হাস্যরস, থ্রিল ও মজা মিলিয়ে নির্মাণ করা হয়। এই ধরনের ছবি দর্শকদের দু’টি অনুভূতি একসাথে দিতে পারে: ভয়ের উত্তেজনা এবং কমেডির বিনোদন, যা সম্প্রতি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
গৌরব দত্তের পরিচালনায় নির্মিত এই ছবি মূলত তিন বন্ধুর গল্প, যেখানে জীবন, বন্ধুত্ব, ভয় ও হাসির পারস্পরিক সম্পর্ক উঠে আসে। ছবির নাম ‘জোর’ রাখা হয়েছে সম্ভবত তার ভূতুড়ে বা থ্রিল‑ভিত্তিক গল্পের ইঙ্গিত হিসেবেও, যা দর্শকদের মনে প্রশ্ন জাগাতে পারে এবং কৌতূহল সৃষ্টি করে।
এই ছবির গল্পে তিন বন্ধু — জিতু, গুড্ডু এবং সরস্বতী — বিভিন্ন মজার ও ভীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। এই তিনটি চরিত্র হইহই করে ভয়ের অবস্থার মধ্য দিয়ে যাবার সময় একে‑অন্যের সাথে বন্ধুত্ব ও সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরে। মূলত গল্পটি বন্ধুত্ব, ঝুঁকি, ও আত্মা‑ভয়ের মধ্যে নিজেদের বাধ্যকতা ও স্বপ্নকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
প্রান্তিকা দাস ‘সরস্বতী’ চরিত্রে অভিনয় করছেন, যিনি অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী; তার লক্ষ্যপূরণের জন্য সে কোনো কিছুই করবেন না এমন নয়। এই চরিত্রটি নাটকীয় ও বহুমাত্রিক — কারণ সরস্বতী তার সৌন্দর্য, বুদ্ধি এবং আত্মবিশ্বাস ব্যবহার করে নিজের পথ তৈরি করতে চায়, কিন্তু হরর‑কমেডির পরিস্থিতি তাকে বিভিন্ন রকম আবেগ ও ভয়ের মুখোমুখি করে।
ঋষভ রাজ চাড্ডা ও আকাশ মাখিজা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যারা সরস্বতীর সঙ্গে মিলে গল্পের স্থিতি ও গতিপ্রকরণে বড় ভূমিকা পালন করেন।
ছবির পরিচালক গৌরব দত্ত, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলা চলচ্চিত্র ও মিডিয়ার বিভিন্ন দিকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এবার বলিউডে নিয়েছেন পরিচালকের ভূমিকায় পদক্ষেপ। ‘জোর’ তার বলিউড পরিচালন‑অভিষেকও বলা যাচ্ছে, যেখানে তিনি সফলভাবে একটি জনপ্রিয় ঘরানা — হরর‑কমেডি — নিয়ে কাজ করেছেন।
ছবিটি কে এস এস প্রোডাকশনস & এন্টারটেইনমেন্ট‑এর প্রযোজনায় প্রস্তুত হয়েছে; এটি একটি প্রতিষ্ঠিত প্রডাকশন হাউজ যারা আগে থেকে বিভিন্ন ছবি, বিজ্ঞাপন ও অনলাইন প্রজেক্টে কাজ করেছে। প্রযোজনা‑দল বলছে যে ‘জোর’ একটি আকর্ষণীয় গল্পের সঙ্গে দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখবে—বিশেষত থ্রিল এবং কমেডির সমন্বয়ে।
ছবির শ্যুটিং দুইটি বড় শহরে হয়েছে: কলকাতা ও দিল্লি। বাস্তব লোকেশনগুলোর সাহায্যে গল্পকে বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে, একটি অফিস ও কর্পোরেট লোকেশন নির্বাচন করা হয়েছে যেখানে গল্পের বেশিরভাগ ভয়ানক পরিস্থিতি আবর্তিত হয়।
শুটিং‑পর্বে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যেমন রাতে প্রথম আলোতে ক্যামেরা সেটাপ ও ভৌতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা—যা প্রায় সময়ে শ্যুটিংকে কঠিন করেছে, কিন্তু অনেক শিল্পীই বলেছেন যে এই কাজগুলো অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করেছে এবং ছবিটিকে বাস্তব জীবনের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।
‘জোর’‑এ সরস্বতী এমন এক চরিত্র যিনি সজাগ, আত্মবিশ্বাসী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী। এই চরিত্রটি শুধুমাত্র একটি হাস্যকর বা ভয়ঙ্কর চরিত্র নয়, বরং তার মানসিক উন্নয়ন, দক্ষতা ও ইচ্ছাশক্তিও গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরস্বতী আশা করে তার গন্তব্যে পৌঁছতে, কিন্তু হরর‑কমেডির পরিস্থিতি তাকে পরীক্ষার মুখে ফেলে দেয়।
প্রান্তিকা এই চরিত্রটি সম্পর্কে বলেন যে এটি তাঁর কাছে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং কারণ সরস্বতীকে একাধিক আবেগ, ভয়, মজার পরিস্থিতি এবং ব্যক্তিগত সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে — যা অভিনয়ের জন্য একটি বিশাল সুযোগ ও দায়িত্ব।
শুটিং‑কালে কিছু ভয়ংকর দৃশ্যে প্রান্তিকাও এগিয়ে গিয়ে কাজ করেছেন এবং এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন যেগুলো তার ব্যক্তিগত সীমানা পরীক্ষা করেছে। এই অভিজ্ঞতা তাকে একটি নতুন মাত্রা দিয়েছে যে কীভাবে বাস্তব এবং ছবি‑ভিত্তিক ভয়াবহ সেটিংসের মধ্যে পার্থক্য করে অভিনয়ের মানসিক প্রস্তুতি নিতে হয়।
ভারতীয় চলচ্চিত্রে হরর এবং কমেডি ঘরানা আলাদা‑আলাদা সময়ে সফল হয়েছে। তবে দর্শকরা যখন এই দুটি মিশিয়ে দেখেছেন — যেমন Stree, Bhool Bhulaiyaa সিরিজ — তখন তা বক্স‑অফিসে বড় সাফল্য পেয়েছে।
এই ঘরানা দর্শকদের ভয় ও হাসি একসাথে দেয়; হঠাৎ ভয়ানক মুহূর্তের পর হাস্যকর রিলিফ দর্শকদের অভিজ্ঞতাকে বেশি আনন্দদায়ক করে তোলে। চরিত্র‑চালিত গল্প এবং ভাল কমেডিক সময় দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখে, আর হরর অংশ গল্পে থ্রিল ও উত্তেজনা যোগ করে। এই মিশ্রণে গল্পকে তীব্র ও উদ্দীপক রাখা হয়, যখন দর্শক এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়।
‘জোর’ এর মতো ছবিতে এই জনপ্রিয় ঘরানার উপাদানগুলো রয়েছে: বন্ধুত্ব, থ্রিল, আতঙ্ক এবং হাস্যরস। ছবিটি এই ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়, যেখানে চরিত্রের আবেগ, সম্পর্ক, এবং অপরিচিত ভয়বোধ দর্শকদের মনোযোগ আকৃষ্ট করতে পারে।
এই ছবিটি প্রান্তিকার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ। কারণ এখানে তিনি শুধুমাত্র একটি পার্শ্ব চরিত্রে নয়, বরং একটি কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন, যা তার অভিনয় দক্ষতা ও versatility প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি করে।
এছাড়া, বলিউড হরর‑কমেডি দর্শক সংখ্যায় ব্যাপক প্রত্যাশিত একটি ঘরানা, এবং এতে সফল হওয়া মানে অভিনেতার ক্যারিয়ার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখা।
ছবিটি ১৬ জানুয়ারি ২০২৬-এ মুক্তি পাচ্ছে, যা নতুন বছরের শুরুতে একটি বড় সুযোগ প্রদানে পারে এবং দর্শকদের কাছে যথেষ্ট আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
প্রান্তিকা দাসের নতুন বলিউড ছবি ‘জোর’ শুধু একটি সিনেমা নয় — এটা একটি যাত্রা, যেখানে একটি উদীয়মান অভিনেত্রী তার ক্যারিয়ারের পরবর্তী বড় ধাপ গ্রহণ করছে। এই ছবির মাধ্যমে দেখা যাবে কীভাবে অভিনেত্রী ভয়ের, হাসির এবং সম্পর্কের সংমিশ্রণে তার চরিত্রে প্রাণ প্রতিস্থাপন করেন।
যেহেতু হরর‑কমেডি ঘরানা বক্স‑অফিসে দর্শকদের আকর্ষণ করে এবং নতুন গল্প ও চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখে, ‘জোর’ প্রান্তিকার জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে — যা তাকে আরও বড় প্রজেক্টে পৌঁছানোর পথে সহায়তা করবে।