কিছুতেই তা খুশি কপূরকে ছেড়ে যায় না। মজার ছলে কোন সমস্যার কথা বললেন অভিনেত্রী? এমন সমস্যা হয় অনেকেরই। তা থেকে মুক্তি মিলবে কী ভাবে।
লিউডে নতুন প্রজন্মের তারকাদের মধ্যে অন্যতম আলোচিত নাম খুশি কপূর। The Archies ছবির মাধ্যমে তাঁর অভিনয়জগতে পদার্পণ। এখনও অভিনয়ে তেমন বড় সাফল্য না এলেও, ব্যক্তিগত জীবন, ফ্যাশন সেন্স এবং খোলামেলা বক্তব্যের জন্য প্রায়ই চর্চায় থাকেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে খুশি মজার ছলে জানালেন, তাঁর জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকা এক শারীরিক সমস্যার কথা—আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম। তাঁর এই স্বীকারোক্তি অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এমন সমস্যায় ভোগেন বহু মানুষ, কিন্তু তা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করেন।
খুশি কপূর হলেন প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেত্রী শ্রীদেবী-র কন্যা। তারকা পরিবারে জন্ম বলেই সব কিছু নিখুঁত—এমন ধারণা অনেকের। কিন্তু বাস্তবটা ভিন্ন। শারীরিক বা মানসিক সমস্যা যে খ্যাতি বা গ্ল্যামারের ধার ধারে না, খুশির বক্তব্য যেন সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়।
আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম হল অন্ত্রের একটি কার্যকরী (functional) সমস্যা। এটি কোনও সংক্রমণ, আলসার বা ক্যানসারের মতো কাঠামোগত অসুখ নয়। বরং অন্ত্রের কাজকর্মে অসামঞ্জস্য দেখা দেয়। ফলে বারবার পেটব্যথা, পেটফাঁপা, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা কখনও দুই-ই—এই ধরনের উপসর্গ ঘুরে-ফিরে দেখা দেয়।
চিকিৎসা-বিজ্ঞানের ভাষায় আইবিএসকে “ফাংশনাল গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ডিসঅর্ডার” বলা হয়। অর্থাৎ পরীক্ষায় বড় কোনও গঠনগত সমস্যা ধরা না পড়লেও উপসর্গ থাকে স্পষ্ট। এই কারণেই অনেক সময় রোগীরা হতাশ হয়ে পড়েন—কারণ রিপোর্ট স্বাভাবিক, অথচ অস্বস্তি বাস্তব।
আইবিএসের উপসর্গ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলি হল—
ঘন ঘন পেটব্যথা বা ক্র্যাম্প
পেটফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা
ডায়রিয়া (বারবার পাতলা পায়খানা)
কোষ্ঠকাঠিন্য
কখনও ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য পালা করে হওয়া
পায়খানার পরেও অসম্পূর্ণতার অনুভূতি
এই সমস্যার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল অনিশ্চয়তা। কখন পেট গুড়গুড় করবে বা হঠাৎ ব্যথা শুরু হবে, তা আগে থেকে বোঝা যায় না। আবার কখন সব ঠিক হয়ে যাবে, সেটাও অনুমান করা কঠিন।
আইবিএসের নির্দিষ্ট একটি কারণ এখনও চিহ্নিত হয়নি। তবে কয়েকটি বিষয়কে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধরা হয়—
স্ট্রেস ও মানসিক চাপ: অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে, যাকে ‘গাট-ব্রেন অ্যাক্সিস’ বলা হয়। মানসিক চাপ বাড়লে অন্ত্রের কার্যকলাপেও প্রভাব পড়ে।
অন্ত্রের অতিসংবেদনশীলতা: সামান্য গ্যাস বা মল জমলেও অতিরিক্ত অস্বস্তি হতে পারে।
খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত মশলাদার, তৈলাক্ত খাবার, ক্যাফেইন বা কিছু বিশেষ খাদ্য উপাদান উপসর্গ বাড়াতে পারে।
হরমোনের প্রভাব: বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক চক্রের সঙ্গে উপসর্গের ওঠানামা দেখা যায়।
আইবিএস প্রাণঘাতী নয়, কিন্তু জীবনযাত্রায় তার প্রভাব গভীর হতে পারে। অফিস, শুটিং, ভ্রমণ—সব ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তার একটা চাপ থাকে। কখন অস্বস্তি শুরু হবে, তা না জানার উদ্বেগ অনেক সময় সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
খুশি কপূরের মতো জনসমক্ষে থাকা একজন মানুষের পক্ষে এই সমস্যা আরও অস্বস্তিকর হতে পারে। ক্যামেরার সামনে বা দীর্ঘ শুটিংয়ের সময় পেটের সমস্যা হলে তা সামলানো সহজ নয়। তাঁর এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি তাই অনেকের কাছেই সাহস জোগাতে পারে।
আইবিএস সম্পূর্ণ সারিয়ে তোলার নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। তবে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে উপসর্গ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়—
খাদ্য নিয়ন্ত্রণ: কোন খাবারে সমস্যা বাড়ে, তা নোট করে এড়িয়ে চলা। অনেক ক্ষেত্রে ‘লো-ফডম্যাপ ডায়েট’ উপকারী হতে পারে (চিকিৎসকের পরামর্শে)।
নিয়মিত ব্যায়াম: হালকা হাঁটা, যোগব্যায়াম, প্রণায়াম অন্ত্রের গতিবিধি স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: মেডিটেশন, শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন, পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি।
পর্যাপ্ত জলপান: বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্যের ক্ষেত্রে।
চিকিৎসকের পরামর্শ: প্রয়োজন হলে অ্যান্টিস্পাসমোডিক বা অন্যান্য ওষুধ দেওয়া হতে পারে।
আইবিএস শুধু শারীরিক সমস্যা নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। অনেক সময় লজ্জা বা অস্বস্তির কারণে রোগীরা কথা বলতে চান না। ফলে উদ্বেগ বাড়ে। অথচ সচেতনতা বাড়লে এবং খোলাখুলি আলোচনা হলে সমস্যাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা সহজ হয়।
খুশি কপূরের বক্তব্যের গুরুত্ব এখানেই। তিনি সমস্যাটিকে হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরলেও, তা আসলে এক বাস্তব চিত্র। তারকা হোক বা সাধারণ মানুষ—এই সমস্যায় যে কেউ ভুগতে পারেন। আর সেই কারণেই প্রয়োজন সচেতনতা, সঠিক তথ্য এবং সহমর্মিতা।
গ্ল্যামার দুনিয়ার আলো ঝলমলে জীবনের আড়ালে যে মানুষটিও একেবারে সাধারণ, তা খুশির কথায় স্পষ্ট। আইবিএস হয়তো প্রাণঘাতী নয়, কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে তা যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। নিয়মিত যত্ন, সচেতন খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই সমস্যাকে অনেকটাই সামলে রাখা সম্ভব।
সবচেয়ে বড় কথা, শারীরিক সমস্যা নিয়ে লজ্জা না পেয়ে কথা বলা জরুরি। কারণ সচেতনতা ও স্বীকারোক্তিই সুস্থতার পথে প্রথম পদক্ষেপ।
সব মিলিয়ে খুশি কপূরের বক্তব্য শুধু একটি তারকার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত কিন্তু কম আলোচিত একটি সমস্যার প্রতিচ্ছবি। The Archies–এর মাধ্যমে যাঁর অভিনয়যাত্রা শুরু, সেই খুশি কপূর যখন আইবিএসের মতো অন্ত্রের সমস্যার কথা অকপটে বলেন, তখন বিষয়টি কেবল বিনোদন জগতের গসিপ হয়ে থাকে না—এটি পরিণত হয় সচেতনতার বার্তায়। প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেত্রী শ্রীদেবী–র কন্যা হওয়া সত্ত্বেও তাঁর জীবন যে নিখুঁত বা সমস্যামুক্ত নয়, তা স্পষ্ট হয়ে যায় এই স্বীকারোক্তিতে।
আইবিএস এমন এক সমস্যা, যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। কোনও প্লাস্টার নেই, দৃশ্যমান ক্ষত নেই, তবু ভেতরের অস্বস্তি প্রতিদিনের জীবনকে প্রভাবিত করে। কখন পেটব্যথা শুরু হবে, কখন হঠাৎ অস্বস্তি তৈরি হবে—এই অনিশ্চয়তা মানসিক চাপকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ফলে একটি দুষ্টচক্র তৈরি হয়—স্ট্রেস থেকে অন্ত্রের সমস্যা, আর অন্ত্রের সমস্যা থেকে আরও স্ট্রেস। এই চক্র ভাঙতে প্রয়োজন ধৈর্য, সচেতনতা এবং নিজের শরীরকে বোঝার চেষ্টা।
খুশির কথায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা লুকিয়ে আছে—শারীরিক সমস্যা নিয়ে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। বরং যত বেশি আলোচনা হবে, তত বেশি মানুষ বুঝতে পারবেন যে তাঁরা একা নন। আইবিএস প্রাণঘাতী না হলেও জীবনযাত্রার মানকে প্রভাবিত করে। তাই এটিকে হালকাভাবে না নিয়ে, আবার অযথা আতঙ্কিত না হয়ে, ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি।
জীবনযাপনের ছোট ছোট পরিবর্তন—নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত জলপান, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ—এসবই ধীরে ধীরে পরিস্থিতিকে সহজ করতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল নিজের শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়া। কখন বিশ্রাম প্রয়োজন, কোন খাবার সমস্যা বাড়াচ্ছে, কখন মানসিক চাপ বেড়ে যাচ্ছে—এসব বুঝতে শিখলে আইবিএসের মতো সমস্যাকেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
শেষ পর্যন্ত বলা যায়, তারকারা যখন নিজেদের দুর্বলতা বা শারীরিক সমস্যার কথা খোলামেলা ভাবে জানান, তখন তা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। কারণ এতে ভাঙে ‘সব ঠিক আছে’—এই ভান। খুশি কপূরের স্বীকারোক্তি তাই শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং এক ধরনের সাহসী পদক্ষেপ। এটি মনে করিয়ে দেয়—স্বাস্থ্য মানে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, ভেতরের সুস্থতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই সুস্থতার পথে প্রথম ধাপ হল স্বীকারোক্তি, সচেতনতা এবং নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া।
প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেত্রী শ্রীদেবী–র কন্যা হিসেবে খুশি ছোটবেলা থেকেই জনসমক্ষে পরিচিত। অনেকেই মনে করেন, তারকা পরিবারের সদস্যদের জীবন বুঝি নিখুঁত ও নিশ্চিন্ত। কিন্তু বাস্তব বলছে ভিন্ন কথা। শারীরিক অস্বস্তি, অনিয়মিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ—এসব কোনও নির্দিষ্ট পেশা বা সামাজিক অবস্থান মানে না। বরং জনসমক্ষে থাকা মানুষদের ক্ষেত্রে এই চাপ আরও বেশি। নিয়মিত শুটিং, প্রচার, ভ্রমণ, অনিয়মিত খাবার—এসবই অন্ত্রের সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে।
আইবিএস এমন এক সমস্যা, যা বাহ্যিকভাবে বোঝা যায় না। কোনও দৃশ্যমান ক্ষত বা গুরুতর পরীক্ষার রিপোর্টে ত্রুটি ধরা না পড়লেও, আক্রান্ত ব্যক্তি প্রতিনিয়ত অস্বস্তির সঙ্গে লড়াই করেন। কখন পেটব্যথা শুরু হবে, কখন পেটফাঁপা বাড়বে, বা হঠাৎ কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া দেখা দেবে—এই অনিশ্চয়তা মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তোলে। অনেক সময় সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতে ভয় হয়, দীর্ঘ ভ্রমণে অস্বস্তি লাগে, কিংবা কাজের জায়গায় মনোসংযোগ ব্যাহত হয়।
এই সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ‘গাট-ব্রেন কানেকশন’। অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মানসিক চাপ বাড়লে অন্ত্রের গতিবিধিও অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে। আবার দীর্ঘদিন অন্ত্রের সমস্যা চলতে থাকলে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়। ফলে একটি চক্র তৈরি হয়—স্ট্রেস থেকে শারীরিক অস্বস্তি, আর সেই অস্বস্তি থেকে আরও বেশি মানসিক চাপ। এই চক্র ভাঙতে হলে প্রয়োজন ধৈর্য, সচেতনতা এবং দীর্ঘমেয়াদি জীবনযাত্রার পরিবর্তন।