Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবিসি নিউজকে হুমকি দিলেন, সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের দাবি

প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এবারের ঘটনাটি ঘটেছে যখন তিনি এবিসি নিউজের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে হুমকি দেন যে, এবিসি নিউজের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা উচিত। সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, কেন ট্রাম্প জেফ্রি এপস্টিনের মৃত্যুর তদন্ত প্রকাশ করছেন না এবং তার পরিবারের সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। উত্তেজিত হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, "এবিসি নিউজ মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছে" এবং এই কারণে তাদের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা উচিত। এটি ট্রাম্পের সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে দীর্ঘকালীন বিরোধেরই একটি নতুন পর্ব। তিনি "ফেক নিউজ" এবং "মিডিয়া ফ্রড" শব্দগুলো ব্যবহার করে একাধিক বার সংবাদমাধ্যমকে আক্রমণ করেছেন। ট্রাম্পের মতে, সংবাদমাধ্যম তার কাজ এবং প্রশাসনকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। তবে, এবার তিনি প্রকাশ্যে একটি সংবাদ সংস্থার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন, যা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে রক্ষিত, যেখানে বলা হয়েছে, সরকার সংবাদমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। ট্রাম্পের এই মন্তব্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ক্ষমতা ব্যবহারের মধ্যে সমন্বয়ের প্রশ্ন তোলেছে। এফসিসি, যেটি সংবাদমাধ্যমের সম্প্রচার লাইসেন্স নিয়ন্ত্রণ করে, জানিয়েছে যে, ট্রাম্পের মতো প্রেসিডেন্টদের এককভাবে কোনো সংবাদ সংস্থার লাইসেন্স বাতিল করার ক্ষমতা নেই। তবে, তার এই হুমকি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করবে, যেখানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে রক্ষা করার প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ভূমিকা:
বিশ্বরাজনীতির অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্য পরিচিত। তবে এবার তিনি এক নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ও স্বাধীনতা সম্পর্কিত নীতি নিয়ে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প এবিসি নিউজের বিরুদ্ধে তাঁর সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করার হুমকি দিয়েছেন, এই কারণে যে, সংবাদ সংস্থাটি তাঁর প্রশ্নের জবাবে "ফেক নিউজ" ছড়িয়ে দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন।

এটি একদিকে ট্রাম্পের সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে দীর্ঘকালীন বিরোধের প্রতিফলন, অন্যদিকে মার্কিন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের এই স্বাধীনতার ওপর প্রভাব নিয়ে নতুন চিন্তা তৈরি করছে। এবিসি নিউজের সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেছেন, যেখানে সাংবাদিক জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন।

ঘটনার পটভূমি:
এটি ঘটেছে এক সংবাদ সম্মেলনে, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের মাঝেই সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, “আপনি কেন এখনো জেফ্রি এপস্টিনের মৃত্যু সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ করছেন না, এবং আপনার পরিবার কি সৌদি আরবের সঙ্গে কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে?”
এ প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প উত্তেজিত হয়ে বলেন, “এগুলো সব মিথ্যা খবর। আপনি যদি আমার প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে থাকেন, আমি এবিসি নিউজের সম্প্রচার লাইসেন্স কেটে দেওয়ার কথা ভাবছি। এই ধরনের মিথ্যাচার আর সহ্য করা যাবে না।”

ট্রাম্পের সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে অবস্থান:
এটি প্রথম নয় যে, ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে এমন ধরনের মন্তব্য করেছেন। তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় থেকেই তিনি "ফেক নিউজ" এবং "মিডিয়া ফ্রড" শব্দগুলো বারবার ব্যবহার করেছেন। তিনি বারবার অভিযোগ করেছেন যে, সংবাদমাধ্যম তাঁকে এবং তাঁর প্রশাসনকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। তবে এবারের ঘটনাটি একটু ভিন্ন। এখানে তিনি শুধু একটি সংবাদ সংস্থার বিরুদ্ধে হুমকি দেননি, বরং আমেরিকার স্বাধীন গণমাধ্যমের মৌলিক অধিকারকেই চ্যালেঞ্জ করেছেন।

মিডিয়া স্বাধীনতা ও প্রেসিডেন্টের প্রভাব:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যম স্বাধীনভাবে তাদের কাজ করতে পারে এবং সরকারের কোনো চাপ বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই তথ্য সরবরাহ করতে পারে। কিন্তু ট্রাম্পের এই ধরনের হুমকি সেই স্বাধীনতার উপর চাপ সৃষ্টি করছে।
এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, প্রেসিডেন্টরা তাদের অবস্থান ব্যবহার করে সংবাদমাধ্যমের উপর প্রভাব বিস্তার না করুক। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আমেরিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি মৌলিক স্তম্ভ, এবং এর উপর আক্রমণ গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরূপ। ট্রাম্পের মতো একজন ক্ষমতাধর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যখন সংবাদমাধ্যমকে এমনভাবে লক্ষ্য করেন, তখন তার প্রভাব সমাজের বিভিন্ন স্তরে পড়তে পারে।

এফসিসি ও লাইসেন্স ব্যবস্থা:
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, সংবাদ সংস্থাগুলোর সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করার ক্ষমতা ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন (এফসিসি)-এর হাতে রয়েছে। তবে, এটি একটি জটিল আইনগত প্রক্রিয়া এবং প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতায় একটি সংবাদ সংস্থার লাইসেন্স বাতিল করা সম্ভব নয়। সংবাদ সংস্থাগুলির লাইসেন্স বাতিলের জন্য অনেক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় এবং সেই সঙ্গে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের অধিকারকে রক্ষা করার বিষয়েও সরকারকে সচেতন থাকতে হয়।

এফসিসি একটি স্বায়ত্তশাসিত সরকারি সংস্থা, যা সংবাদমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মনীতির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। ট্রাম্পের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে, অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারেন, যা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করবে। যদিও সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে অভিযোগের জন্য যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া আছে, কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকে সংবাদমাধ্যমের উপর চাপ সৃষ্টি করা বিপজ্জনক হতে পারে।

মিডিয়া অঙ্গনে ট্রাম্পের পরিসংখ্যান:
ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক সবসময়ই বিতর্কিত ছিল। তিনি একাধিক বার দাবি করেছেন যে, সংবাদমাধ্যম তাঁর কর্মকাণ্ডকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে এবং তাঁকে খারাপভাবে দেখানোর চেষ্টা করছে। “ফক্স নিউজ” ছাড়া অন্য কোনো টেলিভিশন চ্যানেল বা সংবাদমাধ্যম তাঁর সরকারের কাজের প্রশংসা করার বদলে সব সময় সমালোচনা করেছিল।

তবে, তিনি শুধু সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে নয়, সাংবাদিকদেরও ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন। তিনি একাধিক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপমানজনক মন্তব্য করেছেন, যার ফলে অনেক সাংবাদিকের পক্ষে ট্রাম্পের প্রশাসনকে সত্য অনুসন্ধানে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

প্রেসিডেন্টের প্রেসিডেন্সি ও সংবাদমাধ্যম:
অতীতেও প্রেসিডেন্টরা সংবাদমাধ্যমের সাথে তাদের সম্পর্ক কঠিন করে তুলেছেন, কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন তা আরও এক স্তরে নিয়ে গিয়েছে। ট্রাম্পের মতো একজন নেতা যখন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে এমনভাবে ক্ষিপ্ত হন, তখন সেটি গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি চ্যালেঞ্জ করে। রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তির প্রতি সাংবাদিকদের প্রশ্ন করা তাদের মৌলিক দায়িত্ব, এবং সুতরাং তারা যদি উত্তর না পায় বা প্রশ্নে বাধা পায়, তবে তা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতিক্রিয়া:
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন বক্তব্য সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা ইতিমধ্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, এরকম আচরণ গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় হুমকি।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও এই ঘটনার পক্ষে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য আলোচনা আয়োজন করছে, যেখানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক চাপের মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা হবে।

news image
আরও খবর

এফসিসির ভূমিকা ও আইনি প্রক্রিয়া:
এফসিসি-এর দায়িত্ব সাংবাদিকতা এবং সম্প্রচারের স্বাধীনতা রক্ষা করা। তবে, প্রেসিডেন্ট বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের শুধুমাত্র এককভাবে সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিল করার ক্ষমতা নেই। যদি কোনও সংবাদ সংস্থা আইন ভঙ্গ করে, তবে এফসিসি সেই বিষয়টি তদন্ত করবে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে। সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করার জন্য কার্যকরী তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এবার তিনি এবিসি নিউজের বিরুদ্ধে তার সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়েছেন। ঘটনা ঘটে একটি সংবাদ সম্মেলনে, যেখানে ট্রাম্প এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে এই হুমকি দেন। সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, কেন ট্রাম্প জেফ্রি এপস্টিনের মৃত্যুর তদন্ত সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ করছেন না এবং তার পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে কি কোনো ব্যবসা সম্পর্কিত। এই প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে দাবি করেন যে এবিসি নিউজ "ফেক নিউজ" ছড়াচ্ছে এবং তাদের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা উচিত।

এটি ট্রাম্পের সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে দীর্ঘকালীন বিরোধের প্রতিফলন এবং এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য তার প্রশাসনের সময়কালের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়, যেখানে তিনি একাধিক বার সংবাদমাধ্যমকে আক্রমণ করেছিলেন।

ট্রাম্পের সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে অবস্থান:
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকার সময় থেকেই সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে একাধিক বার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার জনপ্রিয় স্লোগান "ফেক নিউজ" (মিথ্যা খবর) বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার বিরুদ্ধে তিনি ব্যবহার করেছেন। ট্রাম্পের মতে, সংবাদমাধ্যম তার কাজ এবং প্রশাসনকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। তিনি দাবি করেছেন, সংবাদমাধ্যম তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এবং জনসাধারণকে ভুল তথ্য প্রদান করছে।

এই ঘটনাটি তার বিদ্বেষপূর্ণ সম্পর্কেরই আরও একটি উদাহরণ। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তাঁর এই দ্বন্দ্বের মধ্যে তিনি বারবার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তবে এবারের ঘটনা একটু ভিন্ন, যেখানে তিনি প্রকাশ্যে একটি সংবাদ সংস্থার সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন। এটি তাঁর প্রশাসনের সময় থেকেই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আক্রমণের একটি নতুন রূপ।

এফসিসি ও লাইসেন্স ব্যবস্থা:
ট্রাম্পের এই হুমকি একদিকে রাজনৈতিক মনোভাবের প্রতিফলন, অন্যদিকে এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর আক্রমণ। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন (এফসিসি) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমগুলির সম্প্রচার লাইসেন্স। তবে, আইন অনুযায়ী, শুধুমাত্র প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতায় একটি সংবাদ সংস্থার লাইসেন্স বাতিল করা সম্ভব নয়। এফসিসি এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করে এবং সেটা আইনি পদ্ধতির মাধ্যমে হতে হয়।

এফসিসি সাধারণত সরকারি রেগুলেটরি সংস্থা হিসেবে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মাবলী অনুসরণ করে। এক্ষেত্রে, ট্রাম্পের মতো প্রেসিডেন্ট সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিল করার ক্ষেত্রে যে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না, তা স্পষ্ট। তবে, তাঁর বক্তব্য সংবাদমাধ্যমের প্রতি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের চেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।

মিডিয়া স্বাধীনতা ও ট্রাম্পের হুমকি:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি সাংবিধানিক অধিকার, যা প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে রক্ষিত। এই অধিকার অনুযায়ী, সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এবং সরকারের বা কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের হস্তক্ষেপের বাইরে থেকে তারা তথ্য সংগ্রহ এবং প্রচার করতে পারে। তবে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য সেটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি যদি সংবাদমাধ্যমের উপর চাপ তৈরি করেন, তবে সেটি সাংবাদিকদের কাজ করতে বাধা সৃষ্টি করবে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি খর্ব করতে পারে।

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী গণতন্ত্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উচিত এই স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে চলা। ট্রাম্পের মতো এক ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যখন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে এমন হুমকি দেন, তখন সেটি শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়, সারা বিশ্বের গণমাধ্যমের জন্য একটি হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

উপসংহার:
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এবিসি নিউজের লাইসেন্স বাতিলের হুমকি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার প্রকাশ ঘটিয়েছে, যা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ক্ষমতা ব্যবহারের মাঝে সম্পর্কের প্রশ্ন উঠিয়ে দিয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য, এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উচিত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে চলা।

এই হুমকি আমেরিকান গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তা ভবিষ্যতে আরও কোনো সরকার বা রাজনৈতিক ব্যক্তির দ্বারা পদদলিত না হয়।

Preview image