Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পশ্চিমবঙ্গে একাধিক স্থানে ভূমিকম্প, আতঙ্কিত স্থানীয়রা

আজ পশ্চিমবঙ্গের একাধিক এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন জেলা ও শহরে ভূমিকম্পের মাত্রা কম হলেও, ঝাঁকুনির ফলে বাসিন্দারা মুহূর্তে ঘরবাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এখন পর্যন্ত কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

পশ্চিমবঙ্গে একাধিক এলাকায় ভূমিকম্প: আতঙ্ক ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

ভূমিকম্পের প্রাথমিক তথ্য

আজ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় একটি মাঝারি আকারের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এই ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল [কেন্দ্রস্থলের নাম] এবং তার তীব্রতা ছিল [ম্যাগনিটিউডের সংখ্যা] রিখটার স্কেলে। ভূমিকম্পটি পশ্চিমবঙ্গের প্রধান শহরগুলিতে, যেমন কলকাতা, সিঙ্গুর, এবং আসানসোলের কিছু অংশে বেশ ভালভাবে অনুভূত হয়েছে।

ভূমিকম্পের কারণে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত ছিল শহরের বাসিন্দারা, যারা কিছু মুহূর্তের জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। সংবাদসূত্রে জানা গেছে, ভূমিকম্পের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন অঞ্চলে ভবনগুলোতে ফাটল ধরেছে এবং কিছু স্থানে সামান্য অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।
এই ভূমিকম্পের কারণে লোকজন ঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তায় চলে আসে এবং আশেপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কিছু পুরানো বিল্ডিংয়ে ফাটল দেখা যায়, তবে তেমন কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

ভূমিকম্প হলো পৃথিবীর অভ্যন্তরের শক্তি পরিবর্তনের ফলস্বরূপ ভূতাত্ত্বিক ক্ষিপ্রতা। পৃথিবীর ভূগর্ভস্থ শিলা এবং অন্যান্য পাথরের মধ্যে যে শক্তি জমা হয়, তা এক সময় মুক্তি পায় এবং মাটির উপরিভাগে ভূমিকম্প সৃষ্টি করে। ভূমিকম্প সাধারণত দুই প্রকারের হয়:

  1. প্রাকৃতিক ভূমিকম্প: এগুলি মূলত তীব্র প্রাকৃতিক শক্তির পরিবর্তন, যেমন টেকটনিক প্লেটগুলির সংঘর্ষ বা মোল্ডিংয়ের ফলে ঘটে।

  2. কৃত্রিম ভূমিকম্প: যেগুলি সাধারণত বোমা বিস্ফোরণ বা খনি খননের কারণে সৃষ্টি হয়।

পশ্চিমবঙ্গের ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি কিছুটা বিশেষ। রাজ্যের বেশিরভাগ অংশ গঙ্গা অববাহিকার অঞ্চলে অবস্থিত, যা বিপদজনক না হলেও বেশ কিছু ভূমিকম্পের ঘটনা এখানে ঘটে থাকে।
 

বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও ভূমিকম্পের কারণ

পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকম্পের প্রধান কারণ হলো হিমালয়ের টেকটনিক শিফট। ভারতীয় উপমহাদেশের সীমান্তবর্তী টেকটনিক প্লেটগুলির সংঘর্ষের কারণে প্রায়শই এই অঞ্চলে ভূমিকম্প হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয়ের উত্তরের অঞ্চলে প্লেটের সীমান্তে বিরামহীন চাপ জমা হচ্ছে। এই চাপের কারণে মাঝেমাঝে ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। পশ্চিমবঙ্গের সীমানা খুব বেশি বিপদজনক না হলেও, আশেপাশের অঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে।

ভূমিকম্পের ফলস্বরূপ আতঙ্ক

ভূমিকম্পের ফলে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শহরের ঘরবাড়িতে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ, যাদের ভূমিকম্পের ভয় দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে, তারা সবসময় প্রস্তুত থাকে। ভূমিকম্পের প্রথম সেকেন্ডেই তারা দৌড়ে বাইরে চলে আসেন। যেহেতু কলকাতায় বিভিন্ন ঐতিহাসিক ভবন রয়েছে, সেখানে পুরনো নির্মাণশৈলীর কারণে ভূমিকম্পের প্রভাব বেশি পড়েছে। তবে, কোনও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
 

ভূমিকম্পের ফলে কলকাতা এবং তার আশেপাশের শহরগুলিতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে, কলকাতা শহরের অধিকাংশ পুরনো বাড়ির গঠন এমনভাবে তৈরি, যেখানে ভূমিকম্পের প্রভাব বেশি পড়তে পারে। ভূমিকম্পের পরপরই মানুষ রাস্তায় চলে আসেন এবং কিছুক্ষণ আতঙ্কিত অবস্থায় ছিলেন। তবে, শহরের সুনির্দিষ্ট স্থানগুলোতে বেশ কিছু ফাটল দেখা গেছে এবং সেগুলোর মেরামত কাজ দ্রুত শুরু হয়েছে। আশঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে, ভূমিকম্পের কারণের ব্যাখ্যা জানিয়ে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে পশ্চিমবঙ্গে ভূমিকম্পের ঝুঁকি পুরোপুরি নিঃশেষ হয়নি।
 

এত দিনে কলকাতায় ভূমিকম্পের ইতিহাস

কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য এলাকায় ভূমিকম্পের ইতিহাস দীর্ঘ। কলকাতায় ১৮৮৫ সালে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্প হয়েছিল, যা বেশ তীব্র ছিল। এর পরে আরও কিছু ছোট-মাঝারি ভূমিকম্প হয়েছিল। তবে, ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গে ভূমিকম্পের তীব্রতা কিছুটা কম ছিল, যদিও আশেপাশের রাজ্য যেমন অসম এবং নেপালে মাঝে মধ্যে বড় ভূমিকম্প অনুভূত হতো। কলকাতায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়, তবে তার তীব্রতা ছিল কম।

প্রাকৃতিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকম্পের প্রধান কারণ হলো ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত হিমালয়ের টেকটনিক শিফট, যা প্রাচীন ভূমির মধ্যে শক্তি জমে থাকে এবং হঠাৎ মুক্তি পায়। এই শিফটের কারণে মাঝেমধ্যে আমাদের রাজ্যে ভূমিকম্পের ঝুঁকি দেখা দেয়।পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পটির ঘটনা ঘটে ১৮৬৯ সালে, যখন গঙ্গা নদী অঞ্চলে এক বড় আকারের ভূমিকম্প হয়েছিল। তারপরে, বিগত কয়েক দশকে ভূমিকম্পের তীব্রতা কম থাকলেও আশেপাশের এলাকাগুলোতে মাঝেমাঝে ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে।

ভূমিকম্পের ফলে বাড়িতে ক্ষতি এবং উদ্ধার কাজ

এদিনের ভূমিকম্পের পর শহর ও গ্রামাঞ্চলে কিছু ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কলকাতার [বিশেষ এলাকার নাম], সিঙ্গুর, এবং হাওড়ার কিছু এলাকায় পুরনো বাড়ি ও ভবনে ফাটল ধরেছে এবং কিছু জায়গায় দেওয়ালও ধসে পড়েছে। সেখানকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এবং দ্রুত বাড়ি ছেড়ে বাইরে চলে আসেন।

news image
আরও খবর

প্রাথমিকভাবে কর্তৃপক্ষ উদ্ধার কাজ শুরু করেছে এবং সেনাবাহিনী ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তারা উদ্ধারকাজে সহায়তা করছে এবং বিধ্বস্ত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
 

ভূমিকম্পের পর জরুরি পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর ভূমিকম্পের পরপরই সতর্কতা জারি করেছে। জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ মহকুমা আধিকারিকরা দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেছেন। জরুরি পরিষেবাগুলো সঠিকভাবে কাজ করার জন্য স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, পানীয় জল এবং স্যানিটেশন পরিষেবা সক্রিয় করা হয়েছে।

এছাড়া, দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হাসপাতালে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এনডিআরএফ এবং ফায়ার সার্ভিসের দলগুলোও দ্রুত উদ্ধার কাজের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

 

ভূমিকম্পের ভবিষ্যত পরিস্থিতি এবং প্রস্তুতি

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে ভূমিকম্পের ঝুঁকি সবসময় থাকবে। তবে, এই ধরনের দুর্যোগের প্রতি প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করতে হবে। ভবিষ্যতের ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে সব ধরণের দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতিও গঠন করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিপর্যয়ের জন্য বেশ কিছু নতুন পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং মানুষের জীবন রক্ষা করা যায়।

বিপর্যয়ের পরবর্তী প্রস্তুতি

পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসন ইতোমধ্যে ভূমিকম্পের পরবর্তী প্রস্তুতির জন্য নীতি গ্রহণ শুরু করেছে। বিশেষ করে পুরনো ভবনগুলির শক্তি পরীক্ষা, বসবাসযোগ্যতা যাচাই এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগ, স্বাস্থ্য দপ্তর এবং পুলিশ প্রশাসন একযোগে কাজ করছে। কলকাতার বড় হাসপাতালগুলোও প্রস্তুত রয়েছে। যেহেতু ভূমিকম্পের পরবর্তী সময়ে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভিড় হতে পারে, সেজন্য জরুরি পরিষেবাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রাখার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ভূমিকম্পের ভবিষ্যত সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গে ভূমিকম্পের ঝুঁকি পুরোপুরি মুছে ফেলা সম্ভব নয়, তবে সরকার, প্রশাসন এবং জনসাধারণ যদি প্রস্তুত থাকে, তবে ক্ষতি অনেক কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে যদি বড় ভূমিকম্প হয়, তবে সেভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত, যাতে জনগণের প্রাণহানি কম হয়।

অবশেষে ভূমিকম্পের পর পরিবেশ

এদিকে ভূমিকম্পের পর কলকাতা শহরসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে, কিছু জায়গায় রাস্তার অবস্থা খারাপ, যেহেতু ছোটখাটো ফাটলগুলো দেখা গেছে। সেখানকার সেতু, ফুটপাথ, ও অন্যান্য অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে।

এছাড়া রাজ্যের আবহাওয়া বিভাগ জানাচ্ছে, ভবিষ্যতে ভূমিকম্পের পর আরও কিছু আফটার শক থাকতে পারে, যার ফলে জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

উপসংহার

আজকের ভূমিকম্প পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য একটি সতর্কতামূলক বার্তা হিসেবে কাজ করবে। গবেষকরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে ভূমিকম্পের ঘটনা প্রায়ই ঘটে এবং এ নিয়ে আরও গবেষণা ও প্রস্তুতির প্রয়োজন। ভূমিকম্পের আসন্ন ঝুঁকি মোকাবিলায় সময়মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। সাধারণ মানুষকে ভূমিকম্পের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা এবং ভবিষ্যতে যে কোনও বিপদে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন।

এমন ভূমিকম্পের পর আরও সচেতনতা এবং প্রস্তুতি, জনগণের সুরক্ষা ও জরুরি পরিষেবার উন্নতি ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

Preview image