Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বিদ্যুৎ গাছে গাছে উলঙ্গ হয়ে লাফাচ্ছে! কী কারণে এমন ঘটল, জানালেন অভিনেতা

বিদ্যুৎকে গাছে গাছে লাফাতে দেখা গেল, তাও আবার নগ্ন অবস্থায়! তার এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হলে, অনুরাগীরা তার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে, অভিনেতা নিজের বক্তব্য দিয়ে সমস্ত উদ্বেগের জবাব দিয়েছেন।

বিদ্যুৎ জামওয়াল, বলিউডের এক নামজাদা অ্যাকশন হিরো, যার শরীরচর্চার ধরণ শুধুমাত্র গতে বাঁধা জিমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি প্রাচীন মার্শাল আর্টের উপরও বেশ ভরসা রাখেন, এবং নিজের শরীরকে সর্বদা সক্রিয় ও চাঙ্গা রাখতে নানা ধরনের ট্রেনিংয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন। বিদ্যুৎ জামওয়ালকে আমরা সকলেই জানি তার একাধিক অ্যাকশন সিনেমা এবং শারীরিক দক্ষতার জন্য, তবে তার ট্রেনিংয়ের পদ্ধতি অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় ও একক।

বিদ্যুৎ জামওয়ালের শরীরচর্চার অন্যতম অদ্ভুত পদ্ধতি হল বরফজলে গা ডোবানো। যখন অন্যরা শীতকালে স্নান করতে ভয় পায়, তখন বিদ্যুৎ বরফজলে নিজেকে ডুবিয়ে শরীরের শক্তি এবং সহ্যক্ষমতা বৃদ্ধি করেন। আবার, যখন অন্যরা মাটি বা কাদার মধ্যে হাঁটতেও কষ্ট অনুভব করে, তখন বিদ্যুৎ নিজেকে গলা অবধি কাদায় নেমে স্নান করতে প্রস্তুত করেন। এসব অভ্যাস তাকে তার শরীর ও মনকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে দৃঢ় রাখতে সাহায্য করে।

তার শরীরচর্চার পদ্ধতিতে এমন অনেক অদ্ভুত কৌশল রয়েছে যা তাকে অন্যান্য অভিনেতাদের থেকে আলাদা করে তুলে। তিনি প্রায়ই নিজের ট্রেনিং রুটিন সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন, যা তার অনুরাগীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার উৎস। কিন্তু সম্প্রতি, তার শরীরচর্চার আরও এক অভিনব উপায় সবার সামনে এসেছে, যা অনেকেই জানতেন না। বিদ্যুৎ জামওয়ালকে সম্প্রতি গাছে গাছে লাফাতে দেখা গেছে, তাও আবার নগ্ন অবস্থায়। এটি তার আগের ট্রেনিং রুটিনের থেকে অনেক বেশি এক্সট্রিম ছিল। তিনি নিজের এই অভিজ্ঞতা একটি ভিডিওর মাধ্যমে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন।

ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার পর অনুরাগীরা তার মানসিক স্থিতাবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই জানতে চেয়েছেন, তার এই অদ্ভুত কার্যকলাপের পেছনে কী কারণ থাকতে পারে। কিছু অনুরাগী জানাতে চেয়েছেন, বিদ্যুৎ কি ঠিক আছেন? কি কারণে এমন কাণ্ড ঘটালেন তিনি? এসব প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়েছিল চারদিকে। তবে, বিদ্যুৎ জামওয়াল তার ফলোয়ারদের উদ্বেগের জবাব দিয়েছেন। তিনি তার পোস্টে জানিয়েছিলেন, প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং নিজের আত্মার খোঁজে থাকা তার ট্রেনিং রুটিনের একটি অংশ। তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন, এটি তার জন্য ‘সহজা’ নামক একটি আধ্যাত্মিক অভ্যাস। "সহজা" মানে হল প্রাকৃতিক স্বাচ্ছন্দ্য এবং সহজাত প্রবৃত্তির অবস্থায় ফিরে আসা, প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সংযোগ স্থাপন এবং অভ্যন্তরীণ সচেতনতা নিয়ে জীবন যাপন করা।

বিদ্যুৎ জামওয়ালের শরীরচর্চা শুধু শরীরকেন্দ্রিক নয়, এটি তার আধ্যাত্মিকতারও একটি অংশ। এটি তাকে তার দেহ ও মনকে সংহতভাবে কাজ করতে সহায়তা করে এবং তার জীবনযাপনকে আরও সচেতন করে তোলে। বিদ্যুৎ জামওয়াল বিশ্বাস করেন যে, প্রকৃতি এবং নিজের আত্মার সঙ্গে সংযোগ রাখা জীবনকে পূর্ণতা দেয় এবং একজন মানুষকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

বিদ্যুৎ জামওয়ালের জীবনের এই ধরনের ট্রেনিং পদ্ধতিগুলি তার জীবনের গভীরতার প্রতি এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। তিনি একাধারে শারীরিকভাবে এবং মানসিকভাবে নিজেকে চ্যালেঞ্জ করেন এবং প্রকৃতির সঙ্গে নিজেকে একত্রিত করে তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে একটি নতুন দিক খোঁজেন। এর ফলে, তিনি শুধু একজন অ্যাকশন হিরো হিসেবে সফলই নন, বরং একজন মানসিক এবং আধ্যাত্মিকভাবে শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।

এমনকি তার মার্শাল আর্টের দক্ষতার বিষয়েও কথা বলা যায়। বিদ্যুৎ জামওয়াল ছোটবেলা থেকেই কালারিপায়াত্তু নামক একটি প্রাচীন মার্শাল আর্ট শিখছেন। তিনি তার জীবনের তিনটি বছর কেরলে মায়ের আশ্রমে কাটিয়ে কালারিপায়াত্তু শিখেছিলেন এবং সেই দক্ষতা আজ তাকে এক অনন্য স্তরে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। কালারিপায়াত্তু শুধুমাত্র শারীরিক প্রশিক্ষণ নয়, এটি এক ধরনের আধ্যাত্মিক অভ্যাসও, যেখানে শরীরের পাশাপাশি মনও প্রশিক্ষিত হয়। বিদ্যুৎ জামওয়াল তার এই শারীরিক দক্ষতার জন্য বহু প্রশংসিত হয়েছেন এবং তার এই কৌশল অ্যাকশন সিনেমায় বাস্তবসম্মত অভিনয়ের জন্য উপযোগী হয়ে উঠেছে।

বিদ্যুৎ জামওয়ালের জীবনের শুরুটা ছিল যথেষ্ট ভিন্ন ধরনের। তার শৈশব কাটানো সেনা আধিকারিকের পরিবারে, যা তাকে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং কঠোর পরিশ্রমের মূলমন্ত্র দিয়েছে। তার বাবা ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, যার কারণে তিনি সারা দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, সংস্কৃতি এবং জীবনধারা সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছেন। এই অভিজ্ঞতা তার জীবনের দিকে একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি এনে দিয়েছে, যা তাকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে আরও দৃঢ় করেছে। তিনি যা কিছু করেন, তা নিষ্ঠা এবং দায়িত্ববোধের সাথে করেন, এবং তার সেই অভ্যেস আজও তার মধ্যে বহমান।

news image
আরও খবর

বিদ্যুৎ জামওয়ালের শৈশবের এই বিশেষ অভিজ্ঞতা তাকে একটি বিশেষ মানসিক শক্তি প্রদান করেছে। সেনাবাহিনীর কঠোর জীবনধারা তাকে শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ় মনোভাবের শিক্ষা দিয়েছে। সেনাবাহিনীর পরিবেশে বেড়ে ওঠা তাকে দুঃসাহসিক কাজের জন্য প্রস্তুত করেছে এবং এই মানসিকতা আজও তার শারীরিক এবং মানসিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে তাকে সহায়তা করে।

এমনকি তার মার্শাল আর্টের প্রতি ভালোবাসা এবং শৃঙ্খলা তাকে জীবনের সব ক্ষেত্রে সাহায্য করেছে। কালারিপায়াত্তু নামক প্রাচীন মার্শাল আর্ট শিখে, তিনি শারীরিক ও মানসিক উভয়ভাবেই এক শক্তিশালী চরিত্র গড়ে তুলেছেন। যখন তিনি ছোট ছিলেন, তখনই কেরলে মায়ের আশ্রমে তিন বছর বয়স থেকে কালারিপায়াত্তু শিখেছিলেন, যা তাকে মার্শাল আর্টে এক দক্ষতার উচ্চতায় পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। এই শখটি তার জীবনের একটি অমূল্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা তাকে শারীরিক সুস্থতা এবং আধ্যাত্মিক প্রশান্তি দিতে সহায়তা করে। তার শরীরচর্চার পদ্ধতি, শারীরিক দিকগুলি ছাড়াও, তাকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করেছে, যা তাকে শুধু একজন অ্যাকশন হিরো হিসেবে নয়, একজন শক্তিশালী মানুষ হিসেবে পরিণত করেছে।

তার সাফল্যের একটি বড় কারণ হল তার সঠিক জীবনযাপন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখা। তার শৈশব থেকে পাওয়া মূল্যবোধ তাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি শরীরচর্চার ক্ষেত্রে এতটাই সিরিয়াস যে তার প্রশিক্ষণ পদ্ধতি অনেকেই অনুসরণ করতে চায়। বরফজলে গা ডুবানো বা কাদায় স্নান করা, এগুলো তার শারীরিক সীমা এবং সহ্যক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য। তার এই অদ্ভুত প্রশিক্ষণ পদ্ধতি তার দর্শকদের কাছে একটি অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। তার এই শৃঙ্খলা এবং জীবনের প্রতি তার নিবেদনই তাকে একটি আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

বিদ্যুৎ জামওয়াল তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে নিজের শরীর ও মনকে উন্নত করার জন্য একত্রিতভাবে কাজ করেছেন। শরীরচর্চার প্রতি তার আগ্রহ এবং মার্শাল আর্টের প্রতি তার ভালোবাসা তার জীবনযাপনকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, শরীর এবং মনকে একসাথে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারলে, জীবনের সমস্ত কাজই সহজ হয়ে ওঠে। তার শরীরচর্চার রুটিন, মার্শাল আর্টের দক্ষতা এবং আধ্যাত্মিক যাত্রা তাকে শুধু চলচ্চিত্রের পর্দায় সফল করেছে না, বরং তাকে একজন শক্তিশালী এবং ইতিবাচক মানবিক চরিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বিদ্যুৎ জামওয়াল বিশ্বাস করেন যে, প্রকৃতির সঙ্গে নিজেকে সংযুক্ত করে আত্মার খোঁজে বের হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি বছর, তিনি শহরের বিলাসবহুল জীবন থেকে বেরিয়ে গিয়ে প্রকৃতির মধ্যে নিজেকে খুঁজে নেন। তিনি বলেন, "সহজা" নামে একটি আধ্যাত্মিক অভ্যাসে বিশ্বাসী, যা প্রাকৃতিক স্বাচ্ছন্দ্য এবং সহজাত প্রবৃত্তির অবস্থায় ফিরে আসা এবং প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সংযোগ স্থাপন করে জীবন যাপন করার শিক্ষা দেয়। এটা তাকে একজন নতুন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে, যা তার শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিদ্যুৎ জামওয়াল তার শৈশব এবং কৈশোরে শৃঙ্খলা এবং কষ্টের মধ্যে বেড়ে ওঠার ফলেই, আজকের দিনে তার জীবনকে একটি শক্তিশালী এবং অনুপ্রেরণামূলক পথে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। আজকের দিনে তিনি শুধু একজন অভিনেতা হিসেবে পরিচিত নন, বরং তিনি একজন জীবন্ত উদাহরণ, যিনি শারীরিক এবং মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করতে সমস্ত বাধাকে জয় করেছেন। তার শরীরচর্চা, আধ্যাত্মিক যাত্রা এবং মার্শাল আর্টের দক্ষতা তাকে শুধুমাত্র চলচ্চিত্রের পর্দায় সফল করেছেন না, বরং তার ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাকে একটি শক্তিশালী এবং দৃঢ় মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বিদ্যুৎ জামওয়াল আজকের দিনে একজন আদর্শ পুরুষ, যার জীবনযাপন এবং শৃঙ্খলা সমস্ত প্রজন্মের জন্য একটি অনুপ্রেরণা। তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে সে নিজেকে আরো শক্তিশালী, দক্ষ এবং মানবিকভাবে উন্নত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তার এই যাত্রা তার অনুরাগীদের কাছে অনুপ্রেরণা ও শক্তির উৎস, এবং তাকে একটি অনন্য চরিত্র হিসেবে প্রমাণিত করেছে।

Preview image