এ বছরও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন না অনুষ্কা শঙ্কর। টানা ১৩ বার মনোনয়ন মিললেও এখনও বিশ্বমঞ্চে সম্মান অধরাই রয়ে গেল তাঁর ঝুলিতে।
এ বারেও ভাগ্য প্রসন্ন হল না অনুষ্কা শঙ্কর-এর উপরে। আন্তর্জাতিক সঙ্গীতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড-এ ফের হতাশাই সঙ্গী হল তাঁর। টানা ১৩ বার গ্র্যামির জন্য মনোনয়ন পেলেও এখনও পর্যন্ত সেই সোনালি ট্রফি অধরাই থেকে গেল অনুষ্কার ঝুলিতে। ২০২৬ সালের ৬৮তম গ্র্যামি মঞ্চেও ব্যতিক্রম ঘটল না। এ বছর তাঁর বিভাগে পুরস্কার জিতে নিলেন আন্তর্জাতিক সুপারস্টার Bad Bunny। তাঁর অ্যালবাম ‘ইওও’ এ বছরের গ্র্যামি সম্মান অর্জন করেছে।
বিশ্ব সঙ্গীত দুনিয়ায় অনুষ্কা শঙ্করের নাম নতুন নয়। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ। রবিশঙ্করের কন্যা হিসেবে পরিচয়ের বাইরেও নিজের স্বতন্ত্র সত্তা ও সৃষ্টিশীলতার জোরে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক সঙ্গীত মানচিত্রে। তবু গ্র্যামির মতো মঞ্চে তাঁর ভাগ্য যেন বারবার পরীক্ষায় পড়ে।
এ বছর অনুষ্কার কাছে প্রত্যাশা ছিল যথেষ্টই। কারণ একসঙ্গে দু’টি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি। তাঁর অ্যালবাম ‘চ্যাপ্টার থ্রি: উই রিটার্ন টু লাইট’ এবং সেই অ্যালবামের অন্যতম প্রধান ট্র্যাক ‘ডেব্রেক’—দুটিই মনোনীত হয়েছিল। এই দুটি মনোনয়ন ছিল তাঁর কেরিয়ারের ১২তম এবং ১৩তম গ্র্যামি মনোনয়ন। এতগুলি মনোনয়ন পাওয়ার নজির ভারতীয় সঙ্গীতশিল্পীদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজনেরই আছে।
গ্র্যামি ঘোষণার ঠিক আগে অনুষ্কা নিজেই সমাজমাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা দেন। সেখানে তিনি লেখেন,
“এ বছর দু’দুটো মনোনয়ন ঝুলিতে। ‘চ্যাপ্টার থ্রি: উই রিটার্ন টু লাইট’ এবং ‘ডেব্রেক’-এর জন্য মনোনয়ন পাওয়া আমার কাছে গর্বের। এগুলো আমার ১২তম ও ১৩তম গ্র্যামি মনোনয়ন।”
এই বার্তায় যেমন গর্ব ছিল, তেমনই ছিল সংযম ও বাস্তবতার স্বীকৃতি। অনুষ্কার ভক্তদের একাংশ আশা করেছিলেন, এ বার হয়তো ভাগ্যের চাকা ঘুরবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশা পূরণ হয়নি।
এ বছর গ্র্যামি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অনুষ্কা উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছিল—মনোনয়ন থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি অনুষ্ঠানে গেলেন না? এই প্রশ্নের উত্তরও নিজেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন শিল্পী।
অনুষ্কা জানান, “পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের উত্তেজনা এবং মানসিক চাপের ঘূর্ণিপাকে আমি নিজেকে জড়াতে চাই না।” তাঁর মতে, ট্রফির লড়াইয়ের চেয়ে দর্শক-শ্রোতাদের সঙ্গে সরাসরি সঙ্গীতের মাধ্যমে যুক্ত থাকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই এ বছর তিনি ভারতে সফরে ব্যস্ত ছিলেন।
এই মন্তব্য অনুষ্কার ব্যক্তিত্বকেই তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির গুরুত্ব অস্বীকার না করেও তিনি বরাবরই বলেছেন, সঙ্গীত তাঁর কাছে একটি যাত্রা—যেখানে শ্রোতার সঙ্গে সম্পর্কটাই মুখ্য।
গ্র্যামি উপলক্ষে লস অ্যাঞ্জেলেসের পিকক থিয়েটার সেজে উঠেছিল আলো-আনন্দে। অনুষ্ঠানের দু’দিন আগেই শুরু হয়ে যায় প্রস্তুতি। ঝলমলে আলো, লাল গালিচা, তারকাদের আনাগোনা—সব মিলিয়ে উৎসবের আবহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
ভারতীয় সময় অনুযায়ী সোমবার ভোরে পুরস্কার প্রদান শুরু হয়। প্রথম পুরস্কার ঘোষণা করেন সঙ্গীত পরিচালক ও সঞ্চালক ড্যারেন ক্রিস। এ বছর মোট ৮৬টি বিভাগে গ্র্যামি পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্কার বিভাগে জয়ী হয়েছেন ব্যাড বানি। ল্যাটিন ও পপ সঙ্গীতের মেলবন্ধনে তাঁর কাজ গত কয়েক বছর ধরেই আন্তর্জাতিক সঙ্গীত দুনিয়ায় প্রবল প্রভাব ফেলেছে। ‘ইওও’ অ্যালবামটি সমালোচক ও শ্রোতাদের কাছেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সেই সূত্রেই গ্র্যামি মঞ্চে তাঁর জয় অনেকের কাছেই প্রত্যাশিত ছিল।
এ বছর গ্র্যামির মনোনয়ন তালিকায় ভারতের আরও কয়েকজন শিল্পীর নাম উঠে আসে। ‘সেরা গ্লোবাল মিউজিক অ্যালবাম’ বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিল শঙ্কর মহাদেবন-এর ব্যান্ড শক্তি। তাঁদের অ্যালবাম ‘মাইন্ড এক্সপ্লোশন’ (৫০তম বার্ষিকী ট্যুর লাইভ) দুটি মনোনয়ন অর্জন করেছিল।
এ ছাড়া ‘সায়ান’ অ্যালবামের জন্য একটি মনোনয়ন পান ইন্দো-আমেরিকান জ্যাজ় সুরকার ও পিয়ানোবাদক চারু সুরি।
অনুষ্কা অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকলেও শঙ্কর মহাদেবন ছিলেন গ্র্যামি মঞ্চে। মনোনয়ন মেডেলের ছবি ভাগ করে নিয়ে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানের শিল্পীদের সঙ্গে একই মঞ্চে সময় কাটাতে পেরে তিনি গর্বিত ও সমৃদ্ধ বোধ করছেন।
এ বছরের গ্র্যামি মঞ্চে একাধিক চমক ছিল। ‘ন্যারেটিভ এবং স্টোরিটেলিং রেকর্ডিং’ বিভাগে ‘দলাই লামা’ অডিও বুকের জন্য প্রথম গ্র্যামি জিতলেন রুফান ওয়েনরাইট। পুরস্কার নিতে উঠে তিনি মজা করে বলেন, “আমি দলাই লামা নই!”
এই বিভাগে তিনি এগিয়ে যান মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সহ-বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন-এর থেকে, যা এই বিভাগটিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।
এ ছাড়া জনপ্রিয় পপ অ্যালবাম ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর গান ‘গোল্ডেন’ ‘ভিজ্যুয়াল মিডিয়া’ বিভাগে ‘সেরা গান’-এর পুরস্কার জেতে।
এ বছরের গ্র্যামি মঞ্চ বিশেষ হয়ে থাকল স্টিভেন স্পিলবার্গ-এর জন্যও। তাঁর তথ্যচিত্র ‘মিউজিক ফর জন উইলিয়ামস’ ‘সেরা সঙ্গীত’ বিভাগে পুরস্কৃত হয়। এর মাধ্যমে স্পিলবার্গ ‘ইগট’ তালিকায় নাম লেখালেন।
এর আগে তিনি এমি অ্যাওয়ার্ড, অস্কার ও টনি অ্যাওয়ার্ড—এই তিনটি সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতেছিলেন। এতদিন অধরা ছিল গ্র্যামি। এ বছরের সম্মান সেই অপূর্ণতা পূরণ করল।
১৩ বার মনোনয়ন পাওয়া সত্ত্বেও গ্র্যামি জয় না এলেও অনুষ্কার কেরিয়ারের গুরুত্ব একটুও কমে না। বরং আন্তর্জাতিক সঙ্গীত জগতে তাঁর ধারাবাহিক উপস্থিতি ভারতীয় শাস্ত্রীয় ও ফিউশন সঙ্গীতের গ্রহণযোগ্যতাকেই তুলে ধরে।
অনুষ্কার নিজের কথাতেই স্পষ্ট—পুরস্কার তাঁর যাত্রার একমাত্র লক্ষ্য নয়। সঙ্গীতের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছনো, সংস্কৃতির সেতুবন্ধন গড়া এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করাই তাঁর মূল উদ্দেশ্য।
৬৮তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড মঞ্চে আবারও হতাশা এল অনুষ্কা শঙ্কর-এর জন্য। দীর্ঘ অপেক্ষা, বারবার মনোনয়ন, বিশ্বজোড়া প্রশংসা—সব কিছুর পরেও সেই কাঙ্ক্ষিত আন্তর্জাতিক ট্রফি এবারও অধরাই থেকে গেল। কিন্তু এই হতাশার আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে এক অনন্য, সম্মানজনক এবং গভীরভাবে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক যাত্রার গল্প—যা শুধুমাত্র পুরস্কারের মাপকাঠিতে বিচার করা যায় না।
সঙ্গীত জগতে পুরস্কার নিঃসন্দেহে স্বীকৃতির প্রতীক। কিন্তু অনুষ্কা শঙ্করের ক্ষেত্রে পুরস্কার কখনওই তাঁর শিল্পীসত্তার একমাত্র পরিচয় হয়ে ওঠেনি। বরং তাঁর যাত্রা শুরু থেকেই ছিল অন্য রকম। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরেও তিনি কখনও নিজেকে একটি নির্দিষ্ট ঘেরাটোপে আটকে রাখেননি। বরং প্রতিটি অ্যালবাম, প্রতিটি পরিবেশনা এবং প্রতিটি সহযোগিতার মাধ্যমে তিনি সেতুবন্ধন গড়েছেন সংস্কৃতি, সময় এবং প্রজন্মের মধ্যে।
১৩ বার গ্র্যামির মনোনয়ন পাওয়া নিজেই এক বিরল কৃতিত্ব। বিশ্বের হাজার হাজার শিল্পীর মধ্যে বারবার একই নাম উঠে আসা প্রমাণ করে—আন্তর্জাতিক সঙ্গীত জগতে অনুষ্কার অবস্থান কতটা দৃঢ়। তবু প্রতিবার ফল ঘোষণার মুহূর্তে তাঁর নাম না শোনা মানেই যে ব্যর্থতা, তা নয়। বরং এটি মনে করিয়ে দেয়, শিল্পের মূল্যায়ন সব সময় ট্রফির সংখ্যায় মাপা যায় না।
রবিশঙ্করের কন্যা হিসেবে অনুষ্কার যাত্রা সহজ ছিল না। কিংবদন্তির উত্তরাধিকার একদিকে যেমন গর্বের, অন্যদিকে তেমনই বিশাল প্রত্যাশার বোঝা। ছোট বয়স থেকেই তাঁকে প্রমাণ করতে হয়েছে—তিনি শুধু কারও কন্যা নন, নিজেও একজন স্বতন্ত্র শিল্পী। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্কা সেই প্রমাণ বারবার দিয়েছেন। সেতারের ধ্রুপদি কাঠামোর মধ্যেই তিনি ঢুকিয়েছেন জ্যাজ়, ইলেকট্রনিক, ফ্লামেঙ্কো ও বিশ্বসঙ্গীতের নানা রং।
এই বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীলতাই তাঁকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে। গ্র্যামি মনোনয়ন তালিকায় তাঁর নাম উঠে আসা মানেই, বিশ্ব সঙ্গীতের অভিজাত মহল তাঁর কাজকে গুরুত্ব দিচ্ছে—এ কথা অনস্বীকার্য।
এ বছরও গ্র্যামির ফলাফল ঘোষণার পর অনুষ্কা কোনও অভিযোগ বা হতাশার বিস্ফোরণ ঘটাননি। বরং তাঁর বক্তব্যে ফুটে উঠেছে এক পরিণত শিল্পীর দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের উত্তেজনা ও মানসিক চাপের মধ্যে তিনি নিজেকে জড়াতে চান না। তাঁর কাছে সঙ্গীতের আসল শক্তি মঞ্চে শ্রোতার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা।
এই মনোভাবই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। যেখানে অনেক শিল্পী পুরস্কারকে চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে দেখেন, সেখানে অনুষ্কার কাছে সঙ্গীত এক নিরবচ্ছিন্ন সাধনা। তাঁর ভারত সফর, লাইভ কনসার্ট এবং নতুন সৃষ্টির পরিকল্পনা প্রমাণ করে—ট্রফি না পেলেও তাঁর যাত্রা থেমে নেই।
বিশ্ব সঙ্গীতের মানচিত্রে অনুষ্কা শঙ্করের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। ইউরোপ, আমেরিকা থেকে শুরু করে এশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর সুর পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক উৎসব, নামী কনসার্ট হল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সঙ্গীত সম্মেলনে তাঁর কাজ আলোচিত হয়েছে গভীর সম্মানের সঙ্গে।
অনুষ্কার অ্যালবামগুলো শুধুমাত্র শোনা হয় না—সেগুলি নিয়ে আলোচনা হয়, বিশ্লেষণ হয়, গবেষণা হয়। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ সেতু। তাঁর কাজ নতুন প্রজন্মকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছে—যা কোনও পুরস্কারের থেকেও বড় অর্জন।
এই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে। গ্র্যামির বিচার প্রক্রিয়া বহুস্তরীয় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রুচি ও প্রবণতার পরিবর্তনের উপর নির্ভরশীল। অনেক সময় পরীক্ষামূলক বা ফিউশনধর্মী কাজ পুরস্কার পায় না, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সেগুলিই প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। অনুষ্কার কাজ ঠিক সেই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে।
ইতিহাস বলছে, বহু মহান শিল্পী তাঁদের জীবদ্দশায় বড় পুরস্কার পাননি, কিন্তু সময় তাঁদের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনুষ্কার ক্ষেত্রেও সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অনুষ্কার সঙ্গীত দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে মানবিকতা। তাঁর অনেক কাজেই ব্যক্তিগত যন্ত্রণা, আত্মঅনুসন্ধান ও আলোর দিকে ফেরার গল্প উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক অ্যালবামগুলিতে এই ভাবনা আরও স্পষ্ট। সুরের মধ্য দিয়ে তিনি কথা বলেন—শব্দের সীমা ছাড়িয়ে অনুভূতির ভাষায়।
এই দর্শনই তাঁকে শুধু একজন পারফর্মার নয়, বরং একজন চিন্তাশীল শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। গ্র্যামির মঞ্চে পুরস্কার না পেলেও বিশ্বজুড়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে তাঁর জায়গা অটুট।
হয়তো ভবিষ্যতের কোনও গ্র্যামি মঞ্চে ভাগ্য তাঁর দিকে মুখ ফিরিয়ে তাকাবে। আবার হয়তো তাকাবে না। কিন্তু তাতে অনুষ্কার যাত্রার গতি থামবে না। কারণ তাঁর শক্তি কোনও ট্রফিতে নয়—তাঁর শক্তি তাঁর সুরে, তাঁর দর্শনে এবং তাঁর নিরবচ্ছিন্ন সৃষ্টিশীলতায়।
প্রতিটি নতুন অ্যালবাম, প্রতিটি নতুন সহযোগিতা এবং প্রতিটি লাইভ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি নিজের সীমানা আরও প্রসারিত করছেন। এই যাত্রাই তাঁকে অনন্য করে তোলে।
৬৮তম গ্র্যামি মঞ্চে অনুষ্কা শঙ্করের জন্য আবারও এল হতাশা। কিন্তু সেই হতাশার মধ্যেও লুকিয়ে রয়েছে এক দীর্ঘ, সম্মানজনক ও প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক যাত্রার গল্প। পুরস্কার অধরা থাকলেও বিশ্ব সঙ্গীতের মানচিত্রে তাঁর অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই।
হয়তো ভবিষ্যতের কোনও মঞ্চে ভাগ্য তাঁর দিকে মুখ ফিরিয়ে তাকাবে—আর না তাকালেও অনুষ্কা শঙ্কর থাকবেনই, নিজের সুর আর দর্শনের জোরে। কারণ প্রকৃত শিল্পীর পরিচয় কোনও ট্রফিতে সীমাবদ্ধ নয়; তা সময়, প্রভাব এবং মানুষের হৃদয়ে তৈরি হওয়া এক স্থায়ী সুর।