Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ব্যারাকপুরে হকার উচ্ছেদ ঘিরে উত্তেজনা! পুলিশের সঙ্গে বাম কর্মীদের বচসা ভাইরাল

ব্যারাকপুরে হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে সিপিআইএমের বিক্ষোভ ঘিরে তৈরি হল তীব্র উত্তেজনা। পুলিশের বাধা, রাস্তা অবরোধ এবং উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ভিডিও ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।

উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর মহকুমায় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজনীতি এবং প্রশাসনিক পরিস্থিতি। হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে এবার মুখোমুখি অবস্থানে দেখা গেল পুলিশ ও বাম কর্মীদের। ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ব্যারাকপুরের ব্যস্ত এলাকায় বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, স্লোগান এবং উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের দৃশ্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চর্চা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রশাসনের তরফে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা দখল করে থাকা হকারদের সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। অভিযোগ, ফুটপাত ও রাস্তার বড় অংশ জুড়ে দোকান বসায় সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। যানজটও নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই কারণেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয় বলে দাবি।

তবে এই উচ্ছেদ অভিযানের বিরোধিতা করে পথে নামে বামপন্থী সংগঠন এবং সিপিআইএম কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, হকারদের পুনর্বাসনের কোনও স্পষ্ট ব্যবস্থা না করেই উচ্ছেদ করা হচ্ছে। বহু গরিব পরিবারের রুজিরুটির একমাত্র ভরসা এই ছোট ব্যবসা। ফলে বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ মানে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা কেড়ে নেওয়া।

বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাস্তায় মিছিল, স্লোগান এবং পুলিশের সঙ্গে বচসা শুরু হয়। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে দাঁড়িয়ে বাম কর্মীরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ফুটপাত দখল এবং রাস্তার উপর অস্থায়ী দোকান বসার কারণে সাধারণ মানুষের সমস্যা হচ্ছিল। স্কুল পড়ুয়া, অফিসযাত্রী এবং ব্যবসায়ীদেরও নিত্যদিন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছিল। সেই কারণেই প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের পক্ষে মত দিয়েছেন অনেকে।

অন্যদিকে হকারদের বক্তব্য, তাদের ব্যবসা সরিয়ে দিলে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে। বহু বছর ধরে ওই এলাকায় ব্যবসা করে সংসার চালাচ্ছেন তাঁরা। আচমকা উচ্ছেদ করলে তাদের সামনে বড় সংকট তৈরি হবে। এই কারণেই বাম সংগঠনগুলি হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনে নেমেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জীবিকা নিয়ে প্রশাসন উদাসীন। অন্যদিকে শাসকদলের দাবি, শহরের যানজট কমানো এবং ফুটপাত সাধারণ মানুষের জন্য খালি রাখতেই এই পদক্ষেপ জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরাঞ্চলে হকার সমস্যা বহুদিনের। একদিকে যেমন ফুটপাত দখল হলে সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা হয়, অন্যদিকে বহু নিম্নবিত্ত পরিবারের জীবিকা নির্ভর করে এই ব্যবসার উপর। ফলে প্রশাসনের সামনে সবসময়ই একটি কঠিন ভারসাম্যের প্রশ্ন থাকে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে এখন তুমুল আলোচনা চলছে। কেউ বলছেন আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার, আবার কেউ মনে করছেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষের সমস্যা বাড়ানো হচ্ছে। ভিডিওতে পুলিশের সঙ্গে বাম কর্মীদের তর্ক-বিতর্ক এবং উত্তেজনার দৃশ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুক, ইউটিউব এবং এক্স প্ল্যাটফর্মে।

এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াও বিভক্ত। একাংশ বলছেন, ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ যানজটের কারণে প্রতিদিন বহু মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। আবার অন্য অংশের দাবি, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ মানবিক নয়।

শহর পরিকল্পনাবিদদের মতে, হকার সমস্যা শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা। শহরের বিপুল সংখ্যক মানুষ অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ফলে হকার উচ্ছেদের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যারাকপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও সরগরম হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছে। কেউ প্রশাসনের পাশে দাঁড়াচ্ছে, কেউ আবার আন্দোলনকারীদের সমর্থন করছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী দিনে এই ইস্যু আরও বড় আকার নিতে পারে।

এদিকে পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনও অশান্তি যাতে না ছড়ায়, সেই কারণেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অযথা বাধা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বজায় রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং পথচলতি মানুষদের মধ্যেও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষের সমস্যাই বাড়ছে।

সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব এই ঘটনায়ও স্পষ্ট। কয়েক মিনিটের ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হতেই রাজ্যজুড়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক সমর্থক নিজেদের মত তুলে ধরতে শুরু করেন। কেউ আন্দোলনকে সমর্থন করছেন, কেউ প্রশাসনের পদক্ষেপকে সঠিক বলছেন।

মানবাধিকার কর্মীদের একাংশের দাবি, গণতান্ত্রিক দেশে প্রতিবাদ করার অধিকার সকলের রয়েছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অযথা বাধা দেওয়া উচিত নয়। তবে অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকলে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতেই হয়।

ব্যারাকপুরের এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—শহরের উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা সম্ভব? ফুটপাত দখলমুক্ত করা যেমন জরুরি, তেমনই দরিদ্র মানুষের জীবিকার দিকটিও উপেক্ষা করা যায় না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে হকার ইস্যু বরাবরই অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কারণ শহুরে অর্থনীতির বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ফলে এই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান দ্রুত রাজনৈতিক রং নিয়ে ফেলে।

ঘটনার পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। টক শো, লাইভ ডিবেট এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এখন অন্যতম আলোচ্য বিষয় ব্যারাকপুরের এই বিক্ষোভ। অনেকেই দাবি করছেন, সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকার, প্রশাসন এবং হকার সংগঠনগুলির মধ্যে আলোচনার প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শুধুমাত্র উচ্ছেদ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পরিকল্পিত হকার জোন তৈরি করা হলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ হবে, অন্যদিকে হকারদের জীবিকাও বজায় থাকবে।

news image
আরও খবর

অর্থনীতিবিদদের মতে, অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করা মানুষের সংখ্যা ভারতে অত্যন্ত বেশি। ফলে এই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান সরাসরি বহু পরিবারের উপর প্রভাব ফেলে। তাই পুনর্বাসন নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে বাম সংগঠনগুলি জানিয়েছে, হকারদের স্বার্থে আন্দোলন ভবিষ্যতেও চলবে। তাদের দাবি, প্রশাসন যদি পুনর্বাসনের রূপরেখা না দেয়, তাহলে আরও বড় আন্দোলনে নামা হবে।

অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, শহরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন মেনেই কাজ করা হচ্ছে। রাস্তা ও ফুটপাত সাধারণ মানুষের জন্য মুক্ত রাখা জরুরি বলেও দাবি করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ব্যারাকপুরের হকার উচ্ছেদ বিতর্ক এখন শুধুমাত্র একটি স্থানীয় সমস্যা নয়; এটি শহর উন্নয়ন, জীবিকা, রাজনীতি এবং প্রশাসনিক নীতির সংঘাতের বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন ব্যারাকপুরের ব্যবসায়ী মহলেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বড় দোকান মালিকদের একাংশ মনে করছেন, ফুটপাত এবং রাস্তা দখলমুক্ত না হলে এলাকার ব্যবসায়িক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ অতিরিক্ত ভিড় ও যানজটের কারণে অনেক ক্রেতাই বাজার এলাকায় আসতে চান না। অন্যদিকে ছোট ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, বড় শপিং মল ও বড় দোকানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে গেলে ফুটপাতের দোকানই তাদের একমাত্র ভরসা।

পরিবহন ব্যবস্থার উপরও এই হকার সমস্যার প্রভাব পড়ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। ব্যারাকপুরের মতো ব্যস্ত এলাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। রাস্তার দু’পাশে দোকান বসে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং জরুরি পরিষেবার গাড়িও অনেক সময় আটকে পড়ে। প্রশাসনের দাবি, সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে।

তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রশাসন শুধুমাত্র উচ্ছেদ করছে কিন্তু সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে নজর দিচ্ছে না। তাদের দাবি, পরিকল্পিত পুনর্বাসন ছাড়া এই ধরনের অভিযান সাময়িক সমাধান দিলেও ভবিষ্যতে আবার একই সমস্যা তৈরি হবে। কারণ জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ ফের রাস্তায় দোকান বসাতে বাধ্য হবেন।

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কেউ মনে করছেন শহরকে সুসংগঠিত করতে উচ্ছেদ প্রয়োজন, আবার কেউ বলছেন দরিদ্র মানুষের পেটে লাথি মেরে উন্নয়ন সম্ভব নয়। সামাজিক মাধ্যমে এই দুই মতাদর্শের সংঘাতও স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে।

এদিকে রাজনৈতিক দলগুলির তরফেও শুরু হয়েছে একে অপরকে দোষারোপের পালা। বিরোধীদের দাবি, সরকার সাধারণ মানুষের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে ব্যর্থ। অন্যদিকে শাসকদলের অভিযোগ, বিরোধীরা রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য আন্দোলনকে উস্কে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে রাস্তার আন্দোলনের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। ফলে হকার উচ্ছেদের মতো সংবেদনশীল ইস্যু দ্রুত রাজনৈতিক আবেগের কেন্দ্রে চলে আসে। বিশেষ করে যখন জীবিকা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা একসঙ্গে জড়িয়ে যায়, তখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ভাইরাল ভিডিওতে কিছু জায়গায় উত্তেজনা বাড়তে দেখা গিয়েছে। যদিও পুলিশ সূত্রে দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই ছিল মূল লক্ষ্য। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আরও সংলাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেত।

মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশের মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিবাদ মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই আন্দোলনকারীদের বক্তব্য শোনা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা উচিত। একই সঙ্গে তারা এটাও স্বীকার করছেন যে, সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকারও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সমাজবিদদের মতে, শহরের অর্থনীতিতে হকারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে কম দামে পণ্য পৌঁছে দিতে এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বড় ভূমিকা রয়েছে। ফলে শুধুমাত্র প্রশাসনিক কড়াকড়ি দিয়ে সমস্যার সমাধান করা কঠিন।

অনেক বিশেষজ্ঞ আবার ‘হকার জোন’ তৈরির পক্ষে মত দিচ্ছেন। তাদের মতে, নির্দিষ্ট এলাকায় পরিকল্পিতভাবে হকারদের বসার ব্যবস্থা করা গেলে একদিকে যেমন রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত থাকবে, অন্যদিকে জীবিকাও বজায় থাকবে। দেশের বিভিন্ন শহরে এই ধরনের মডেল ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে বলেও উল্লেখ করছেন তাঁরা।

ব্যারাকপুরের সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা দেখিয়ে দিল, শহর উন্নয়ন এবং জীবিকার প্রশ্নে এখনও বড় ধরনের নীতিগত সমস্যার মুখোমুখি প্রশাসন। উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গেলে সাধারণ মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

এই ঘটনার জেরে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কারণ হকার ইস্যু সরাসরি বহু পরিবারের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এই আন্দোলন শুধুমাত্র রাজনৈতিক সীমার মধ্যে আটকে থাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওর কারণে বিষয়টি আরও দ্রুত রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ এবং সংবাদমাধ্যমে এই নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। অনেকে আবার লাইভ ভিডিও করে নিজেদের মতামত তুলে ধরছেন। ফলে ঘটনাটি এখন শুধুমাত্র ব্যারাকপুরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

স্থানীয়দের একাংশের মতে, প্রশাসন, হকার সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলগুলিকে নিয়ে যৌথ বৈঠক করা হলে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কারণ সংঘাত বাড়লে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

সব মিলিয়ে ব্যারাকপুরের হকার উচ্ছেদ ঘিরে তৈরি হওয়া এই উত্তেজনা নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে শহুরে জীবনের এক কঠিন বাস্তবতা। উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা, জীবিকা এবং রাজনৈতিক স্বার্থ—সবকিছুর টানাপোড়েনের মাঝখানে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হচ্ছেন। আগামী দিনে প্রশাসন কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং পুনর্বাসন ও উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Preview image