Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

‘নিজেকে মাদক পাচারকারী মনে হত বিমানবন্দরে বারবার কেন সন্দেহের মুখে পড়তেন ইমরান হাশমী

মরান হাশমী জানিয়েছেন, বিমানবন্দরে যাতায়াতের সময় তাঁকে একাধিক বার থামানো হত নিরাপত্তা তল্লাশিতে। অভিনেতার ধারণা, তাঁর চেহারা ও একা ভ্রমণের কারণে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে অন্য কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলতেন বলেই এই সমস্যার মুখে পড়তে হত

বিমানবন্দরে গেলেই নাকি সন্দেহের চোখে দেখা হত ইমরান হাশমীকে। সাধারণ যাত্রীদের মতোই তাঁকেও একাধিক বার নিরাপত্তাজনিত পরীক্ষানিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। কখনও অতিরিক্ত তল্লাশি, কখনও আবার অভিবাসন দফতরের অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন—সব মিলিয়ে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা যে খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না, তা নিজেই স্বীকার করেছেন বলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেতা। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে নিজের এই অভিজ্ঞতার কথা খোলাখুলি জানালেন ইমরান হাশমী। কেন বারবার এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হত তাঁকে, সেই প্রশ্নের উত্তরও দিলেন অভিনেতা নিজেই।

বলিউডে ইমরান হাশমী এক পরিচিত নাম। দীর্ঘ কেরিয়ারে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। কখনও রোমান্টিক নায়ক, কখনও আবার ধূসর, জটিল কিংবা অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত চরিত্র—ইমরানের অভিনীত চরিত্রগুলির মধ্যে এক ধরনের বাস্তবতা ও তীব্রতা বরাবরই লক্ষ করা যায়। তবে পর্দার বাইরে, বাস্তব জীবনে বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা যে তাঁর জন্য এতটা অস্বস্তিকর হয়ে উঠত, তা হয়তো অনেকের কাছেই অজানা ছিল।

সম্প্রতি তাঁর আসন্ন ছবি ‘তস্করী: দ্য স্মাগলার্স ওয়েব’-এর একটি অনুষ্ঠানে এই প্রসঙ্গ উঠে আসে। ছবিটিতে ইমরান হাশমীকে দেখা যাবে শুল্ক দফতরের এক আধিকারিকের চরিত্রে, যিনি মাদক পাচার ও চোরাচালানের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। এই চরিত্রের সূত্র ধরেই সাংবাদিকরা জানতে চান, বাস্তবে কখনও কি বিমানবন্দরে শুল্ক বা নিরাপত্তা দফতরের কর্মীদের দ্বারা তিনি সমস্যার মুখে পড়েছেন?

এই প্রশ্নের উত্তরে ইমরান প্রথমেই পরিষ্কার করে দেন, শুল্ক দফতরের কর্মীদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কোনও খারাপ অভিজ্ঞতা নেই। বরং তাঁদের ব্যবহার ছিল যথেষ্ট ভদ্র ও সহযোগিতাপূর্ণ। তবে সমস্যা তৈরি হতো অভিবাসন ও নিরাপত্তা পরীক্ষার সময়। অভিনেতা জানান, বিমানবন্দরের পরিবেশে ঢুকলেই তাঁর মধ্যে এক ধরনের অজানা ভয় কাজ করত, যা যুক্তির বাইরে হলেও অনুভূতির জায়গায় খুব বাস্তব।

ইমরান হাশমীর কথায়, এই ভয় অনেকটাই মানসিক। তিনি বলেন, “এই যে একটা প্রচণ্ড ভয়ের অনুভূতি থাকে সকলের মধ্যে, সেটা আসলে খুব যুক্তিসঙ্গত নয়।” বিষয়টিকে আরও সহজভাবে বোঝাতে গিয়ে তিনি একটি তুলনাও টানেন। তাঁর মতে, এটা অনেকটা গাড়ি চালানো শেখার পরেও রাস্তায় হঠাৎ আরটিও আধিকারিককে দেখলে যেমন অকারণ উদ্বেগ কাজ করে, ঠিক তেমনই। আপনি জানেন, আপনার সব কাগজ ঠিক আছে, তবুও বুক ধড়ফড় করতে শুরু করে।

বিমানবন্দরের ক্ষেত্রেও তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল তেমনই। বিশেষ করে যখন তিনি একা ভ্রমণ করতেন, তখন এই অস্বস্তি আরও বেড়ে যেত। ইমরান বলেন, ব্যাগে শুধুমাত্র জামাকাপড় থাকলেও ‘গ্রিন চ্যানেল’ দিয়ে হাঁটার সময় মনে হত, যেন তিনি কোনও বড় অপরাধ করে ফেলেছেন। তাঁর ভাষায়, “মনে হয় যেন ব্যাগে ১০০ কেজি অবৈধ জিনিস নিয়ে যাচ্ছি। যেন কোনও মাদক পাচারকারী।”

এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মানসিক প্রভাবটি খুব স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। কড়া নজরদারি, স্ক্যানার, প্রশ্ন, নিরাপত্তারক্ষীদের দৃষ্টি—এই সবকিছু মিলিয়ে অনেক সময় নির্দোষ যাত্রীও নিজেকে অকারণে সন্দেহের মুখে দাঁড় করানো হয়েছে বলে মনে করেন। ইমরান হাশমীর অভিজ্ঞতা সেই সাধারণ মানসিকতারই প্রতিফলন।

তবে অভিনেতার সমস্যার এখানেই শেষ নয়। তিনি আরও জানান, অতীতে তাঁকে একাধিক বার অভিবাসন বিভাগে থামানো হয়েছিল। সেই সময় বিষয়টি তাঁর কাছে বেশ অস্বস্তিকর লেগেছিল। ইমরানের ধারণা, নিরাপত্তারক্ষীরা হয়তো তাঁকে অন্য কোনও ব্যক্তির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলতেন। বিশেষ করে তাঁর চেহারা ও কানে দুল পরার অভ্যাসের কারণেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

ইমরান জানান, সেই সময় তিনি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই একা যাতায়াত করতেন। একা ভ্রমণ করার সময়ই নাকি তাঁকে বেশি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হতো। চেহারার ধরন, দাড়ি, কানের দুল—এই সব মিলিয়ে হয়তো কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর মিল খুঁজে পেতেন নিরাপত্তারক্ষীরা। যদিও তিনি কখনও এই বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে বিরক্তি বা ক্ষোভ দেখাননি, তবে ভিতরে ভিতরে বিষয়টি তাঁকে যথেষ্ট অস্বস্তিতে ফেলত বলে স্বীকার করেছেন অভিনেতা।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির বদল হয়েছে বলেও জানান ইমরান। এখন আর তাঁকে সেইভাবে থামানো হয় না। তার অন্যতম কারণ, এখন তিনি বেশির ভাগ সময় পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণ করেন। স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে থাকলে নিরাপত্তারক্ষীদের আচরণেও পরিবর্তন আসে বলে মনে করেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, “এখন আমার মিষ্টি পরিবারের সঙ্গে আমাকে দেখে আর ওঁরা সন্দেহ করেন না।”

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাজের একটি বাস্তব দিকও সামনে এসেছে। অনেক সময় একা ভ্রমণকারী ব্যক্তিকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়, অথচ পরিবারের সঙ্গে থাকলে সেই সন্দেহ অনেকটাই কমে যায়। বাহ্যিক চেহারা, পোশাক বা পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে মানুষের প্রতি ধারণা তৈরি হওয়ার প্রবণতা এখনও যে সমাজে রয়েছে, ইমরান হাশমীর অভিজ্ঞতা তা স্পষ্ট করে।

অন্যদিকে, পর্দায় এবার ইমরান হাশমীকে দেখা যাবে একেবারে বিপরীত ভূমিকায়। ‘তস্করী: দ্য স্মাগলার্স ওয়েব’ ছবিতে তিনি অভিনয় করছেন শুল্ক দফতরের এক দায়িত্বশীল আধিকারিকের চরিত্রে, যিনি মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেন। বাস্তব জীবনে নিজেকে ‘মাদক পাচারকারী’ মনে হওয়ার যে অস্বস্তিকর অনুভূতির কথা তিনি বলেছেন, সেই অভিজ্ঞতা হয়তো তাঁর অভিনয়কে আরও বাস্তব ও গভীর করে তুলবে বলেই মনে করছেন অনেকে।

সব মিলিয়ে ইমরান হাশমীর এই বক্তব্য শুধুমাত্র একজন তারকার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়। এটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মানুষের মানসিক চাপ এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। অভিনেতার খোলামেলা স্বীকারোক্তি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বহু সাধারণ যাত্রী নিজেদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তাঁর কথার মিল খুঁজে পাচ্ছেন

বলিউডে ইমরান হাশমীর কেরিয়ার দীর্ঘ। রোমান্টিক হিরো থেকে শুরু করে অপরাধজগতের চরিত্র, আবার কখনও জটিল মনস্তত্ত্বের নায়ক—নানান ধরনের ভূমিকায় দর্শকের মন জয় করেছেন তিনি। পর্দায় বহুবার তাঁকে দেখা গিয়েছে আইন ভাঙা চরিত্রে বা সমাজের অন্ধকার দিকের প্রতিনিধিত্ব করতে। কিন্তু বাস্তব জীবনে বিমানবন্দরে যে তাঁকে এতটা অস্বস্তির মুখে পড়তে হবে, তা হয়তো কখনও কল্পনাও করেননি অভিনেতা।

সম্প্রতি তাঁর আসন্ন ছবি ‘তস্করী: দ্য স্মাগলার্স ওয়েব’-এর একটি প্রচারমূলক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ইমরান। ছবিটিতে তিনি অভিনয় করছেন শুল্ক দফতরের এক আধিকারিকের চরিত্রে, যিনি মাদক পাচার ও চোরাচালানের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। এই ছবির প্রেক্ষিতেই উঠে আসে বিমানবন্দরের প্রসঙ্গ। এক সাংবাদিক জানতে চান, বাস্তবে কখনও কি শুল্ক বিভাগের কোনও কর্মী তাঁকে থামিয়েছেন বা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়েছে?

news image
আরও খবর

এই প্রশ্নের উত্তরে ইমরান প্রথমেই পরিষ্কার করে দেন, শুল্ক বিভাগের কর্মীদের বিরুদ্ধে তাঁর কোনও অভিযোগ নেই। বরং তাঁদের ব্যবহার বরাবরই ভদ্র ও সহযোগিতাপূর্ণ ছিল বলে জানান অভিনেতা। ইমরানের কথায়, “না, আমার মনে হয় ওঁরা আমার সঙ্গে খুব মিষ্টি ব্যবহার করেছেন।” কিন্তু এরপরেই তিনি এমন একটি অনুভূতির কথা বলেন, যা শুনে অনেকেই নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল খুঁজে পান।

ইমরান জানান, বিমানবন্দরে ঢুকলেই তাঁর মধ্যে এক ধরনের অজানা ভয় কাজ করত। সেই ভয় কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার জন্য নয়, বরং একেবারেই মানসিক। অভিনেতা বলেন, “এই যে একটা প্রচণ্ড ভয়ের অনুভূতি থাকে সকলের মধ্যে, সেটা যুক্তিসঙ্গত নয়।” তাঁর মতে, বিমানবন্দরের পরিবেশটাই এমন, যেখানে মানুষ অজান্তেই স্নায়ুচাপে ভোগে।

এই মানসিক চাপকে বোঝাতে গিয়ে ইমরান একটি সহজ কিন্তু গভীর তুলনা টানেন। তিনি বলেন, বিষয়টা অনেকটা এমন, যেমন গাড়ি চালানো শেখার পরেও রাস্তায় হঠাৎ আরটিও আধিকারিককে দেখলে বুক ধড়ফড় করতে শুরু করে। আপনি জানেন, আপনার লাইসেন্স আছে, গাড়ির কাগজ ঠিক আছে, তবুও কোথা থেকে যেন একটা অস্বস্তি চলে আসে। বিমানবন্দরের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনই অনুভূতি হয় বলে জানান অভিনেতা।

এই অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠত, যখন তিনি একা ভ্রমণ করতেন। ইমরান বলেন, একা থাকলে যেন সন্দেহটা আরও বাড়ত। ব্যাগে শুধুমাত্র জামাকাপড় থাকলেও ‘গ্রিন চ্যানেল’ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তাঁর মনে হত, যেন তিনি কোনও ভয়ানক অপরাধ করে ফেলেছেন। অভিনেতার ভাষায়, “মনে হয় যেন ব্যাগে ১০০ কেজি অবৈধ জিনিস নিয়ে যাচ্ছি। যেন কোনও মাদক পাচারকারী।”

এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। একজন পরিচিত অভিনেতা, যাঁর পরিচয় সর্বজনবিদিত, তাঁর মধ্যেও যদি এমন ভয় কাজ করে, তাহলে সাধারণ যাত্রীদের মানসিক অবস্থা কী হতে পারে, সেই প্রশ্নও উঠে আসে। অনেকেই মনে করছেন, বিমানবন্দরের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা মানুষের মনে এক ধরনের অপরাধবোধ তৈরি করে, যদিও বাস্তবে কোনও দোষ না থাকে।

তবে ইমরানের অভিজ্ঞতা এখানেই শেষ নয়। অভিনেতা আরও জানান, অতীতে তাঁকে একাধিক বার অভিবাসন বিভাগে থামানো হয়েছিল। সেই সময় বিষয়টি তাঁর কাছে বেশ অস্বস্তিকর লেগেছিল। তিনি সন্দেহ করেন, নিরাপত্তারক্ষীরা হয়তো তাঁকে অন্য কোনও ব্যক্তির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলতেন। বিশেষ করে তাঁর চেহারা ও কানে দুল পরার অভ্যাসের কারণেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন ইমরান।

ইমরানের কথায়, সেই সময় তিনি প্রায়ই একা যাতায়াত করতেন। একা ভ্রমণ করার সময়ই নাকি তাঁকে বেশি প্রশ্নের মুখে পড়তে হতো। চেহারার গঠন, দাড়ি, কানের দুল—এই সবকিছু মিলিয়ে হয়তো কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর মিল খুঁজে পেতেন নিরাপত্তারক্ষীরা। যদিও অভিনেতা কখনও এই নিয়ে রাগ দেখাননি বা তর্কে জড়াননি, তবে ভিতরে ভিতরে বিষয়টি তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলত।

এই প্রসঙ্গে ইমরান আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। এখন আর তাঁকে সেইভাবে থামানো হয় না। তার অন্যতম কারণ, এখন তিনি বেশির ভাগ সময় পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণ করেন। স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে দেখলে নিরাপত্তারক্ষীদের আচরণও বদলে যায়। অভিনেতার কথায়, “কিন্তু এখন আমার মিষ্টি পরিবারের সঙ্গে আমাকে দেখে আর ওঁরা সন্দেহ করেন না।”

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাজের একটি বাস্তব দিক সামনে আসে। অনেক সময় একা ভ্রমণকারী ব্যক্তিকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়, অথচ পরিবারের সঙ্গে থাকলে সেই সন্দেহ অনেকটাই কমে যায়। বাহ্যিক চেহারা, পোশাক, শরীরী ভাষা—এই সবকিছুর উপর ভিত্তি করে মানুষের প্রতি ধারণা তৈরি হওয়ার প্রবণতা যে এখনও সমাজে রয়েছে, ইমরানের অভিজ্ঞতা তা স্পষ্ট করে।

অন্যদিকে, পর্দায় এবার ইমরান হাশমীকে দেখা যাবে একেবারে বিপরীত ভূমিকায়। ‘তস্করী: দ্য স্মাগলার্স ওয়েব’ ছবিতে তিনি অভিনয় করছেন শুল্ক দফতরের এক দায়িত্বশীল আধিকারিকের চরিত্রে। যিনি মাদক পাচারকারী ও চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেন। বাস্তব জীবনে নিজেকে ‘মাদক পাচারকারী’ মনে হওয়ার যে মানসিক অস্বস্তির কথা তিনি বললেন, সেই অভিজ্ঞতা হয়তো তাঁর অভিনয়ে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন অনেকে।

এই ছবির প্রেক্ষিতেই ইমরানের বক্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাস্তব আর পর্দার এই বিপরীত অভিজ্ঞতা দর্শকের কৌতূহল বাড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বাস্তব জীবনের এই অনুভূতি তাঁর অভিনয়কে আরও বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও তার মানসিক প্রভাব অস্বীকার করা যায় না। কড়া নজরদারি, স্ক্যানার, প্রশ্ন, অভিবাসন পরীক্ষা—সব মিলিয়ে মানুষের মনে এক ধরনের চাপ তৈরি হয়। ইমরান হাশমীর অভিজ্ঞতা সেই মানসিক চাপেরই একটি বাস্তব উদাহরণ।

সব মিলিয়ে ইমরান হাশমীর এই স্বীকারোক্তি শুধুমাত্র একজন তারকার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়। এটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানুষের মানসিক অবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। অভিনেতার খোলামেলা মন্তব্য যেমন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনই বহু সাধারণ মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছেন তাঁর কথায়।

এখন দেখার বিষয়, ‘তস্করী: দ্য স্মাগলার্স ওয়েব’ ছবিতে শুল্ক আধিকারিকের ভূমিকায় ইমরান হাশমী কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন দর্শকের মনে। বাস্তব জীবনের এই অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা হয়তো তাঁর অভিনয়কে আরও গভীর ও বাস্তব করে তুলবে—এমনটাই আশা করছেন অনেকে

Preview image