Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

: চরম অন্যায়! দলে নির্বাচন করেননি কোচ, তাই বেধড়ক মার দিল ক্রিকেটার মাথায় পড়ল ২০টি স্টিচ ভেঙেছে কাঁধও

পুদুচেরির অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ এস ভেঙ্কটরামনকে দলভুক্ত না করার কারণে তিন ক্রিকেটার মিলে নৃশংসভাবে মারধর করে। হামলায় কোচের মাথায় ২০টি সেলাই লাগে এবং কাঁধ ভেঙে যায়। ঘটনায় অভিযুক্তরা পলাতক, পুলিশ ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করেছে।

পুদুচেরির ক্রিকেট জগতে এক অভূতপূর্ব অশান্তি নেমে এসেছে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক নৃশংস ঘটনার জেরে। ক্রিকেটার এবং কোচের সম্পর্ক সাধারণত শৃঙ্খলা, পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও খেলোয়াড় গঠনের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে, কিন্তু পুদুচেরির অনূর্ধ্ব–১৯ দলের কোচ এস ভেঙ্কটরামনের ওপর যেভাবে একদল ক্রিকেটার হামলা চালায়, তা এই সম্পর্ককে লজ্জার মুখে ফেলেছে এবং আঞ্চলিক ক্রিকেট প্রশাসনে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। ঘটনার শুরু সেই দিনের সকালে, যখন নিয়মিত অনুশীলনের জন্য কোচ ভেঙ্কটরামন মাঠে পৌঁছান। প্রত্যেক দিনের মতোই তিনি নেট প্র্যাকটিস পরিচালনা করছিলেন। কয়েকজন সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় ব্যাটিং করছিলেন, কেউ কেউ বোলিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু পরিবেশের মধ্যে কোথাও যেন একটা চাপা উত্তেজনা ছিল, যা প্রথমে কেউ অনুধাবন করতে পারেনি। শোনা যাচ্ছে, কয়েকজন স্থানীয় ক্রিকেটার দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করছিল যে কোচ তাঁদের যথাযথ সুযোগ দিচ্ছেন না এবং দলে জায়গা না পাওয়ার হতাশা তাঁদের মনে ক্রমশ জমে উঠছিল। এই অভিযোগ কতটা ভিত্তিহীন বা কতটা সত্য— তা তদন্তের বিষয়, কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই যে হতাশা থেকেই তারা এক ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নেয়, যা শুধু তাঁদের ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎকেই অন্ধকার করেনি, বরং রাজ্যের ক্রিকেটব্যবস্থাকে পুরোপুরি নাড়িয়ে দিয়েছে।

সেই দিন সকাল প্রায় ১১টার দিকে তিনজন ক্রিকেটার— কার্তিকেয়ন জয়াসুন্দরম, এ আরাভিন্দরাজ ও এস সান্তোষ কুমারন— মাঠে আসে এবং কোচের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। প্রথমে কেউ বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি, কারণ খেলোয়াড়রা সাধারণত অনুশীলনের সময় এদিক–ওদিক থাকে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে আচমকাই পরিস্থিতি বদলে যায়। কোচ ভেঙ্কটরামন যখন নেট প্র্যাকটিসে দাঁড়িয়ে নির্দেশ দিচ্ছিলেন, তখন অভিযুক্তরা তাঁকে ডেকে পাশের দিকে নিয়ে যায়। কোচের কাছে থাকা বিশ্বস্ত কিছুজন পরে জানিয়েছেন, তারা ভেবেছিলেন হয়তো ছেলে তিনজন কোচের সঙ্গে কথা বলতে চায় বা কোচের কাছ থেকে কোনো পরামর্শচর্চা করতে এসেছে। কিন্তু পরিস্থিতি এত দ্রুত খারাপের দিকে যাবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। কোচ কথোপকথন শুরু করার আগেই অভিযুক্তদের মধ্যে একজন আচমকা তাঁকে চেপে ধরে। এর পর মুহূর্তের মধ্যে আরেকজন ব্যাট তুলে কোচের মাথায় প্রচণ্ড শক্তিতে আঘাত করতে থাকে। কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই এমন আঘাতে কোচ পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে পড়েন এবং তাঁর মাথা ফেটে রক্তঝরতে থাকে। পরে জানা গেছে, সেই আঘাত এতটাই ভয়ংকর ছিল যে তাঁর মাথায় ২০টি সেলাই করতে হয়। আঘাত কিন্তু শুধুই মাথায় সীমাবদ্ধ ছিল না। আরেকজন খেলোয়াড় কোচকে পেছন দিক থেকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেয় এবং কাঁধে লাথি ও ঘুষি মারতে থাকে। আঘাতের জেরে কোচের কাঁধ ভেঙে যায়, যা তাঁর শারীরিক যন্ত্রণাকে আরও বেড়ে দেয়। ওই সময় মাঠে উপস্থিত কয়েকজন সহকারী কর্মী ছুটে এসে তাঁকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন, কিন্তু অভিযুক্তরা তখনই ঘটনাস্থল ছাড়তে উদ্যত হয়। কোচকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, কিন্তু অভিযুক্তদের একজন নাকি তখনও চেঁচিয়ে বলে ওঠে যে তারা কোচকে “শিক্ষা দিয়ে গেল” কারণ তিনি তাঁদের নির্বাচন করেননি। মাঠে তৈরি হওয়া আতঙ্কজনক পরিবেশে খেলোয়াড়, সহকারী কর্মী এবং উপস্থিত অন্যান্য মানুষ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কেউ বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে শুধু দলে জায়গা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে একজন কোচের ওপর এমন নির্মম হামলা চালানো সম্ভব। তবে কেউ গ্রেফতার হওয়ার আগেই তিন অভিযুক্ত মাঠ থেকে পালিয়ে যায়। পরে জানা যায়, তারা পুদুচেরি ছাড়ার চেষ্টাও করতে পারে।

ঘটনার পর তড়িঘড়ি করে কোচকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর মাথার আঘাত অত্যন্ত গুরুতর ছিল এবং তাৎক্ষণিক সেলাই প্রয়োজন হয়। মাথায় রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। তিনি মানসিকভাবেও গভীরভাবে আঘাত পেয়েছেন। একজন কোচ হিসেবে নিজের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এমন আচরণ পাওয়া শুধু শারীরিক নয়, মানসিক আঘাতও বহন করে। চিকিৎসার পাশাপাশি তাঁর মানসিক কাউন্সেলিংয়ের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এদিকে, ঘটনা জানার পরই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ পন্ডিচেরি (CAP) গুরুতর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং জানিয়েছে যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। CAP–এর সভাপতি বলেছেন, ক্রিকেট শৃঙ্খলা, সম্মান ও খেলার স্পিরিট ধরে রাখার জায়গা। যেখানে কোচকে এইভাবে মারধর করা হয়, সেখানে ক্রিকেটের মূল্যবোধ কোথায় দাঁড়ায়? তিনি আরও জানান, এমন ঘটনা যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না পায়, তবে ভবিষ্যতে অন্যরাও একই কাজ করতে সাহস পেতে পারে, যা পুরো খেলাধুলার পরিবেশকে নষ্ট করে দেবে।

প্রশাসনের নির্দেশে পুদুচেরি পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। কোচ ভেঙ্কটরামন পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। তাঁর বয়ানে তিনি বলেছেন, তিন খেলোয়াড় দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে হুমকি দিত এবং দলে না নেওয়ার জন্য প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলত। তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো কিশোর বয়সের মতো আবেগ বা হতাশা থেকেই তারা এসব বলছে, কিন্তু যে তা সত্যিই জীবনহানিকর আকারে রূপ নেবে, তা তিনি কখনো ভাবেননি। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাতে শুধু তিন খেলোয়াড় নয়, তাঁদের পেছনে আরও বড় একটি গোষ্ঠীর প্ররোচনা থাকতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে স্থানীয় এক ক্রিকেট গোষ্ঠী বহুদিন ধরে কোচিং স্টাফদের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেছে এবং এই ঘটনার পেছনেও সেই গোষ্ঠীর ভূমিকা থাকতে পারে। যদিও পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে যে তদন্ত সমস্ত দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনার পর ক্রিকেটমহলের বহু প্রবীণ কোচ ও প্রাক্তন খেলোয়াড় মত দিয়েছেন যে খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ থাকতেই পারে, কিন্তু তা সমাধানের পথ কখনোই সহিংসতা হতে পারে না। তাঁরা মত দিয়েছেন যে ভারতীয় ক্রিকেটব্যবস্থায় বিভিন্ন স্তরে, বিশেষ করে রাজ্যস্তরে, নির্বাচন পদ্ধতিকে আরও স্বচ্ছ ও পেশাদার করা প্রয়োজন। অনেক সময় স্থানীয় রাজনীতি বা স্বার্থের সংঘর্ষ এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে যেখানে খেলোয়াড়রা ভুল পথে চালিত হয়। কিন্তু তাই বলে কোচকে ব্যাট দিয়ে মাথায় আঘাত করা কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়; বরং এটি একটি অপরাধ, যার শাস্তি হওয়া উচিত আদালতের মাধ্যমে। কারণ এমন বর্বরতা ক্রিকেট সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না।

ঘটনার পর CAP–এর ভেতরে প্রশাসনিক প্রশ্নও উঠছে। কোচের নিরাপত্তা কেন নিশ্চিত করা হয়নি? মাঠে কি পর্যাপ্ত কর্মী ছিল? খেলোয়াড়দের আচরণগত সমস্যা বা হুমকি দেওয়ার ঘটনা আগে কেন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। CAP জানিয়েছে, তারা একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যা শুধু ঘটনাটি নয়, তার আগের পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখবে। এই তদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে রাজ্য ক্রিকেট কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হতে পারে।

news image
আরও খবর

এদিকে, সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষোভ দেখা গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে লিখছেন, ক্রিকেটার মানে শুধু ব্যাট–বল নয়, বরং চরিত্র, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ। যে খেলোয়াড় দলে জায়গা না পেয়ে কোচের প্রাণনাশের চেষ্টা করে, সে কোনোভাবেই ক্রিকেটার হতে পারে না। বরং এসব আচরণ দেখেই বোঝা যায়, তাঁদের খেলাধুলার মানসিকতা এখনো পরিপক্ব হয়নি। পরিচালনমণ্ডলীরও উচিত নিরাপত্তা আরও কঠোর করা, যাতে ভবিষ্যতে কোনো কোচ বা কর্মকর্তা এমন আক্রমণের শিকার না হন।

ঘটনার পরে অভিযুক্ত তিন ক্রিকেটার এখনও পলাতক বলে জানা গেছে। পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে এবং তাঁদের মোবাইল ফোনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পুলিশের অনুমান, তাঁরা হয়তো রাজ্যের বাইরে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু এখন যেহেতু বিষয়টি জাতীয় সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তাই তাদের লুকিয়ে থাকা কঠিন হবে। কোচ ভেঙ্কটরামন জানিয়েছেন, তিনি চান অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো কোচ বা নির্বাচকের ওপর আর কেউ এমন হামলা চালানোর সাহস না পায়। তাঁর মতে, ক্রিকেট শেখার জায়গা হলো সম্মান শেখার জায়গাও। যদি খেলোয়াড়রা সেই মৌলিক মূল্যবোধই না রপ্ত করে, তবে বড় খেলোয়াড় হওয়া তো দূরের কথা, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হবে।

এই ঘটনার পর পুদুচেরি ক্রিকেটে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, তা কাটাতে সময় লাগবে। কোচদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে যে খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ হলে তাঁরা বিপদের মুখে পড়তে পারেন। প্রশাসন অবশ্য ইতিমধ্যেই আশ্বাস দিয়েছে যে ভবিষ্যতে কোচ বা কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হবে এবং অনুশীলনের সময় মাঠে পর্যাপ্ত কর্মী রাখা হবে। সাথে থাকবে CCTV নজরদারি, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই প্রতিরোধ করা যায়। একই সঙ্গে CAP ঘোষণা করেছে যে খেলোয়াড়দের আচরণগত দিক নিয়েও আলাদা ওয়ার্কশপ ও সেশন করা হবে, যাতে তারা মানসিক পরিপক্বতা ও শৃঙ্খলার গুরুত্ব বুঝতে পারে।

এই ঘটনা শুধু একটি আঞ্চলিক ক্রিকেটের ঘটনা নয়, বরং ভারতীয় ক্রিকেটসিস্টেমের বড় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, খেলাধুলার মানসিকতা এবং পেশাদারিত্ব এখনও কতটা প্রয়োজন। নির্বাচনে অসন্তোষ থাকবে, কেউ দলে ঢুকবে, কেউ বাদ পড়বে— এটাই খেলাধুলার নিয়ম। কিন্তু তা বলে সহিংসতায় নেমে পড়লে সেটি আর খেলোয়াড়সুলভ আচরণ থাকে না। বরং তা অপরাধ হয়ে ওঠে। একদিকে কোচ ভেঙ্কটরামনের জীবন বাঁচানো গেলেও তিনি দীর্ঘদিন শারীরিক ও মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যেতে পারেন। অন্যদিকে যে কিশোর বয়সী ক্রিকেটাররা ভবিষ্যতে খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন দেখছিল, তারাই এখন হয়তো বছরের পর বছর জেলখানায় কাটাতে পারে বা আজীবনের জন্য ক্রিকেটজগত থেকে বহিষ্কৃত হতে পারে। দলে সুযোগ না পাওয়ার ক্ষোভ মুহূর্তের জন্য তাঁদের অন্ধ করে দিয়েছে, কিন্তু তার মূল্য তাঁরা দীর্ঘজীবন ধরে দেবে।

এই ঘটনার পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবং বিভিন্ন রাজ্য বোর্ড আরও সতর্ক হয়েছে। খেলোয়াড় নির্বাচন, কোচিং স্টাফের নিরাপত্তা, খেলোয়াড়দের আচরণগত ট্রেনিং— প্রতিটি বিষয় এখন নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হচ্ছে। কারণ যদি এ ধরনের একটি ঘটনা পুদুচেরিতে ঘটে থাকে, তবে ভবিষ্যতে অন্যত্রও এমন ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের নিজেদেরও ভাবতে হবে যে খেলাধুলা কখনো সহিংসতার জায়গা নয়, বরং উন্নতি, আত্মসম্মান, অধ্যবসায় ও নিয়মানুবর্তিতার জায়গা।

সামগ্রিকভাবে এই ঘটনা পুদুচেরি ক্রিকেটে একটি কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। কোচ ভেঙ্কটরামনের সুস্থ হয়ে ওঠা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করা। শুধু শাস্তিই নয়, প্রয়োজন এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি করা যেখানে কোনো খেলোয়াড়ই মনে না করে যে কোচের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালিয়ে সে কখনো পার পেয়ে যেতে পারে। ক্রিকেটে খেলার মানের মতোই চরিত্রের মানও চর্চার বিষয়। আর সেই চরিত্র গঠনের দায়িত্ব খেলোয়াড়, কোচ, পরিবার ও প্রশাসন— সবারই।

Preview image