ভোররাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তছনছ হয়ে গেল গঙ্গাসাগর মেলা এলাকার একটি বড় অংশ। বুধবার ভোর প্রায় ৩টা নাগাদ হঠাৎই আগুন লাগে মেলা সংলগ্ন অস্থায়ী ছাউনিগুলিতে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ রূপ নেয় এবং একের পর এক ছাউনি আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে যায়। গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটায় এলাকায় থাকা তীর্থযাত্রী, দোকানদার ও সেবায়েতদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, কোনও একটি ছাউনিতে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। যদিও আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ছাউনিগুলি বাঁশ, পলিথিন, কাপড় ও কাঠ দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রবল হাওয়ার কারণেও আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। দীর্ঘ চেষ্টার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে ততক্ষণে বহু অস্থায়ী ছাউনি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। আগুনে পুড়ে যায় দোকানে রাখা কাপড়, খাবারদাবার, পুজোর সামগ্রী সহ নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লক্ষ টাকা ছাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভোররাতে বিধ্বংসী আগুনে তছনছ হয়ে গেল গঙ্গাসাগর মেলা এলাকার একাংশ। গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে আচমকাই আগুনের লেলিহান শিখা আর কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় মেলা চত্বর। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বুধবার ভোর প্রায় তিনটে নাগাদ হঠাৎই একটি অস্থায়ী ছাউনিতে আগুন দেখতে পাওয়া যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের একের পর এক ছাউনিতে। বাঁশ, পলিথিন, কাপড় ও কাঠ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী কাঠামো হওয়ায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। চারদিক জুড়ে শুধু আগুনের শব্দ, মানুষের চিৎকার আর আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
গঙ্গাসাগর মেলা মানেই লাখ লাখ পূণ্যার্থীর সমাগম। দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ আসেন পুণ্যস্নান ও পুজো দিতে। মেলা এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠে অসংখ্য অস্থায়ী ছাউনি, দোকান, খাবারের স্টল, পুজোর সামগ্রীর বাজার, ধর্মীয় আখড়া ও বিশ্রাম শিবির। এই অস্থায়ী ব্যবস্থার মধ্যেই ঘটে গেল এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। আগুন লাগার সময় অধিকাংশ মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। আচমকা ধোঁয়ার গন্ধ ও আগুনের তাপে ঘুম ভেঙে যায় অনেকের। কেউ কাপড়-চোপড়, কেউ টাকা-পয়সা বা দরকারি জিনিসপত্র বাঁচানোর চেষ্টা করেন, আবার কেউ প্রাণ বাঁচাতে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, কোনও একটি ছাউনিতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বা চুলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করে কিছু বলা হচ্ছে না। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেলা এলাকায় বহু অস্থায়ী দোকানে একসঙ্গে একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার রাখা ছিল। অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মানা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা যে উপেক্ষিত হয়, এই ঘটনায় তা আবারও সামনে এল বলে মনে করছেন অনেকে।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, কোনও একটি ছাউনিতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বা চুলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করে কিছু বলা হচ্ছে না। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেলা এলাকায় বহু অস্থায়ী দোকানে একসঙ্গে একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার রাখা ছিল। অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মানা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা যে উপেক্ষিত হয়, এই ঘটনায় তা আবারও সামনে এল বলে মনে করছেন অনেকে।
আগুন ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবকরা প্রথমে নিজেদের মতো করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে সেই চেষ্টা খুব একটা কাজে আসেনি। প্রবল হাওয়া থাকায় আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সংকীর্ণ রাস্তা ও ভিড়ের কারণে দমকল কর্মীদের কাজ করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে আগুনের সঙ্গে লড়াই চালানোর পর অবশেষে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
ততক্ষণে বহু অস্থায়ী ছাউনি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দোকানগুলিতে থাকা কাপড়, খাবারদাবার, পুজোর সামগ্রী, প্লাস্টিক সামগ্রী, কাঠের আসবাব, নগদ টাকা ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সবই আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই সর্বস্ব হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। বহু ছোট ব্যবসায়ী, যাঁরা মেলা উপলক্ষে শেষ সম্বল নিয়ে এখানে দোকান করেছিলেন, তাঁদের চোখে-মুখে অসহায়ত্বের ছবি ধরা পড়ে।
আগুন ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবকরা প্রথমে নিজেদের মতো করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে সেই চেষ্টা খুব একটা কাজে আসেনি। প্রবল হাওয়া থাকায় আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সংকীর্ণ রাস্তা ও ভিড়ের কারণে দমকল কর্মীদের কাজ করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে আগুনের সঙ্গে লড়াই চালানোর পর অবশেষে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
ততক্ষণে বহু অস্থায়ী ছাউনি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দোকানগুলিতে থাকা কাপড়, খাবারদাবার, পুজোর সামগ্রী, প্লাস্টিক সামগ্রী, কাঠের আসবাব, নগদ টাকা ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সবই আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই সর্বস্ব হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। বহু ছোট ব্যবসায়ী, যাঁরা মেলা উপলক্ষে শেষ সম্বল নিয়ে এখানে দোকান করেছিলেন, তাঁদের চোখে-মুখে অসহায়ত্বের ছবি ধরা পড়ে।
এই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর না পাওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলেছে। তবে কয়েকজন ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ও হালকা দগ্ধ হওয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে মূলত ভোররাতের সময় অনেক মানুষ ছাউনির বাইরে থাকায় এবং দ্রুত সরে যেতে পারায়।
ঘটনার পর গঙ্গাসাগর মেলা এলাকায় সাময়িকভাবে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। সাধারণ মানুষের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। মেলা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।
এই ঘটনার পর ফের একবার গঙ্গাসাগর মেলার অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রতি বছর এত বড় আয়োজন হলেও অস্থায়ী ছাউনিগুলিতে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন অনেকে। বিশেষ করে গ্যাস সিলিন্ডারের যথেচ্ছ ব্যবহার, বৈদ্যুতিক তারের অস্থায়ী সংযোগ এবং দাহ্য সামগ্রীর মজুত এই সব বিষয়ই বড় ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তাঁদের মতে, ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আরও কঠোর নিয়ম ও নজরদারি প্রয়োজন।
ঘটনার সময় অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকলেও, আগুনের তাপ ও ধোঁয়ায় অনেকেই ঘুম থেকে উঠে প্রাণ বাঁচাতে ছুটে বেরিয়ে আসেন। সৌভাগ্যবশত এই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর নেই। তবে কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের জেরে গঙ্গাসাগর মেলা এলাকায় সাময়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই এলাকা ঘিরে ফেলা হয় এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পুলিশ ও মেলা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপরতা শুরু করে।
ঘটনার পর থেকেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রতিবছর গঙ্গাসাগর মেলায় লক্ষ লক্ষ পূণ্যার্থী ভিড় করেন, অথচ অস্থায়ী ছাউনিগুলিতে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকে। বিশেষ করে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে আরও কড়া নজরদারির দাবি উঠেছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করা হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত পুনরুদ্ধার কাজ শুরু করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার ও সেবায়েতদের অনেকেই প্রশাসনের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, গঙ্গাসাগর মেলার মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জীবিকা নির্বাহের আশায় তাঁরা এখানে এসেছিলেন। কিন্তু এক রাতের অগ্নিকাণ্ডে সবকিছু শেষ হয়ে গেল। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে। নিয়ম মেনে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কীভাবে আগুন লাগল, কোনও গাফিলতি ছিল কি না, অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না এই সব দিক খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। দমকল বিভাগও তাদের নিজস্ব তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
ভোররাতের এই অগ্নিকাণ্ড গঙ্গাসাগর মেলার আনন্দ ও ধর্মীয় আবহে বড়সড় ধাক্কা দিল। পুণ্যস্নান, পুজো আর ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাঝেই যে এমন ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে, তা কেউ কল্পনাও করেননি। তবে এই ঘটনার মধ্য দিয়েই আবারও স্পষ্ট হয়ে গেল, এত বড় আয়োজনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও অগ্নি সুরক্ষাকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। মানুষের প্রাণ বাঁচলেও জীবিকা হারানো বহু মানুষের দীর্ঘ লড়াই যে এখনও বাকি, তা তাঁদের চোখের জলই বলে দিচ্ছে।