চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল যাত্রীদের মধ্যে। আচমকাই ট্রেনের একটি কোচে আগুন লেগে যাওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকায় যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি শুরু করেন। সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই এক যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। আগুনের তাপে কোচের একাংশ সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, চলন্ত অবস্থাতেই কোচের ভেতর থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। প্রথমে অনেকে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে চিৎকার শুরু করেন যাত্রীরা। কেউ কেউ জরুরি জানালা ও দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন, আবার অনেকে ট্রেন থামার অপেক্ষায় ছিলেন। এই সময়েই ধোঁয়া ও আগুনের মধ্যে আটকে পড়ে এক যাত্রী গুরুতরভাবে আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে রেলকর্মী ও দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়। বেশ কিছু সময়ের চেষ্টায় আগুন নেভানো সম্ভব হলেও ততক্ষণে কোচের ভেতরের আসন, লাগেজ ও অন্যান্য সামগ্রী সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। আগুনের কারণে ওই রুটে ট্রেন চলাচল কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়। বহু ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ে, ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়ে।
চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্ক, শোক ও উদ্বেগে ভরে উঠল গোটা রেলপথ। হঠাৎ করেই যাত্রীবোঝাই একটি ট্রেনের একটি কোচে আগুন ধরে যাওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আগুনের লেলিহান শিখা, কালো ধোঁয়া আর যাত্রীদের আর্তচিৎকারে বিভীষিকাময় হয়ে ওঠে গোটা পরিবেশ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এক যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে এবং কোচের একাংশ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘটনার পর রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ট্রেনটি স্বাভাবিক গতিতেই চলছিল। যাত্রীরা নিজেদের মতো করে বসে ছিলেন, কেউ কেউ গল্প করছিলেন, কেউ মোবাইলে ব্যস্ত, আবার কেউ ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। আচমকাই কোচের ভেতরে পোড়া গন্ধ পাওয়া যায়। প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন হয়তো কোথাও ব্রেকের সমস্যা বা বাইরের কোনও উৎস থেকে ধোঁয়া আসছে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই কোচের এক দিক থেকে ঘন ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। এরপরেই আগুনের লেলিহান শিখা চোখে পড়তেই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে শান্ত পরিবেশ রূপ নেয় চরম বিশৃঙ্খলায়।
ঘটনার সময় ট্রেনটি চলন্ত অবস্থায় ছিল এবং যাত্রীরা নিজেদের মতো করে যাত্রা করছিলেন। কেউ জানালার পাশে বসে বাইরের দৃশ্য উপভোগ করছিলেন, কেউ আবার মোবাইল ফোনে ব্যস্ত ছিলেন। এমনই এক স্বাভাবিক মুহূর্তে কোচের ভেতরে হঠাৎ করে পোড়া গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। প্রথমে অনেকেই বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেননি। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই ধোঁয়া ঘন হতে শুরু করে এবং আগুনের শিখা চোখে পড়তেই যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে শান্ত পরিবেশ রূপ নেয় বিশৃঙ্খলায়।
ধোঁয়ার কারণে কোচের ভেতরে দম বন্ধ হয়ে আসছিল। চোখ জ্বালা করতে থাকে, শ্বাস নিতে কষ্ট হতে শুরু করে। আতঙ্কে যাত্রীরা এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। কেউ দরজার কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন, কেউ আবার জানালা দিয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন। চলন্ত ট্রেনে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই এক যাত্রী গুরুতরভাবে আটকে পড়েন। আগুন ও ধোঁয়ার চাপে তিনি আর বেরিয়ে আসতে পারেননি বলে জানা যায়।
চালককে পরিস্থিতি জানানো হলে জরুরি ভিত্তিতে ট্রেন থামানো হয়। ট্রেন থামতেই যাত্রীরা দ্রুত নেমে পড়েন এবং নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। অনেকেই শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন, কেউ কেউ আতঙ্কে কাঁপছিলেন। খবর পেয়ে রেলকর্মী ও দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ব্যবহার করে আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে কোচের একাংশ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।
আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করায় যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি শুরু করেন। কেউ দরজার দিকে ছুটে যান, কেউ জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে সাহায্যের আশায় চিৎকার করতে থাকেন। চলন্ত ট্রেন হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ট্রেন থামানো না গেলে বিপদ আরও বাড়তে পারে এই আতঙ্কে অনেকেই কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন। ধোঁয়ার কারণে শ্বাস নিতে কষ্ট হতে শুরু করে, চোখ জ্বালা করতে থাকে। এই অবস্থাতেই এক যাত্রী ধোঁয়া ও আগুনের মধ্যে আটকে পড়েন। চারপাশে প্রচণ্ড আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার কারণে তাঁকে সময়মতো বের করে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানা যায়।
অবশেষে চালককে পরিস্থিতি জানানো হলে জরুরি ভিত্তিতে ট্রেন থামানো হয়। ট্রেন থামতেই যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত নেমে পড়েন। অনেকেই রেললাইনের ধারে ছুটে যান, কেউ কেউ মাটিতে বসে পড়েন শ্বাসকষ্টে। দমকল বাহিনী ও রেলকর্মীদের খবর দেওয়া হলে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ব্যবহার করে আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়। আগুন নেভাতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যায়, কারণ ততক্ষণে কোচের ভেতরে থাকা দাহ্য বস্তু আগুনকে আরও ছড়িয়ে দিয়েছিল।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর দেখা যায়, কোচের একাংশ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আসন, লাগেজ, ব্যক্তিগত সামগ্রী সব কিছুই আগুনে নষ্ট হয়ে যায়। ধোঁয়ার কালো ছাপ আর পোড়া গন্ধে কোচের ভেতরের দৃশ্য ছিল হৃদয়বিদারক। ওই যাত্রীকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েন সহযাত্রীরা। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন, কেউ কেউ হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন পোড়া কোচের দিকে।
এই দুর্ঘটনার জেরে ওই রুটে দীর্ঘ সময় ধরে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। একাধিক ট্রেন মাঝপথে দাঁড়িয়ে পড়ে। যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে ওঠে। রেল কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থার কথা জানালেও বাস্তবে বহু মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। গন্তব্যে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় অফিসযাত্রী, রোগী, বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। রেললাইনের উপর পড়ে থাকা পোড়া অংশ ও নিরাপত্তাজনিত কারণে লাইন পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর রেল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট, বৈদ্যুতিক ত্রুটি অথবা কোনও দাহ্য বস্তু থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তবে যাত্রীদের অসতর্কতা কিংবা কোচের পুরনো বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার ত্রুটিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। রেল আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নতুন করে রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে। প্রতিটি কোচে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকার কথা থাকলেও অনেক যাত্রীই অভিযোগ করেছেন যে সেগুলি কার্যকর ছিল না বা সময়মতো ব্যবহার করা যায়নি। জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনা হবে, সেই প্রশিক্ষণের অভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনেকের মতে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যাবে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যায়নি। শর্ট সার্কিট, বৈদ্যুতিক ত্রুটি কিংবা যাত্রীদের অসতর্কতা সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার তদন্তের জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য বিকল্প ট্রেন ও সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। আহত যাত্রীদের চিকিৎসার দায়িত্বও রেল কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। চলন্ত ট্রেনে কীভাবে আগুন লাগল এবং তা এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল তা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই দাবি করেছেন, কোচে আগুন নেভানোর যন্ত্র থাকলেও তা সময়মতো ব্যবহার করা যায়নি। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসছে।
সব মিলিয়ে, চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ড একদিকে যেমন একটি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, তেমনই যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন রেখে গেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে রেল কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর সকলের।
রেলপথ দেশের অন্যতম প্রধান গণপরিবহণ ব্যবস্থা। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করেন। সেই জায়গায় এমন দুর্ঘটনা যাত্রীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, চলন্ত ট্রেনে আগুন লাগার মতো গুরুতর ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে। নিরাপত্তা মানদণ্ড ঠিকমতো মানা হচ্ছে কি না, কোচগুলির নিয়মিত পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করছেন যাত্রীরা।
এই দুর্ঘটনায় নিহত যাত্রীর পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। তাঁদের কাছে এই ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং জীবনের অপূরণীয় ক্ষতি। রেল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানালেও প্রিয়জন হারানোর বেদনা কোনওভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদেরও মানসিক আঘাত কম নয়। অনেকেই এখনও আতঙ্কে রয়েছেন, ট্রেনে উঠতে ভয় পাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে, চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ড শুধু একটি কোচ পুড়ে যাওয়ার ঘটনা নয়, বরং এটি গোটা ব্যবস্থার উপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। যাত্রী নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি সব দিকেই আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য রেল কর্তৃপক্ষ কতটা দ্রুত ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে দেশবাসী।