এসএসসির লিখিত পরীক্ষার পর ২০ হাজার পরীক্ষার্থীর নামের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে এবং ১৮ নভেম্বর থেকে নথি যাচাইকরণ ও ইন্টারভিউ শুরু হবে
স্কুল সার্ভিস কমিশন এসএসসির ইন্টারভিউয়ের তালিকায় নাম রয়েছে অযোগ্য প্রার্থীদের এই বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে কারণ অনেক প্রার্থী যারা পুরো নম্বর পেয়েছেন তারা ইন্টারভিউয়ে ডাক পাননি অথচ কেউ কেউ প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা দেখিয়ে অতিরিক্ত দশ নম্বর পেয়েছেন ফলে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এই পরিস্থিতি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে শিক্ষকদের একাংশ মামলা দায়ের করেছেন সোমবার হাই কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে শিক্ষকদের তরফে এবং মামলাকারীদের দাবি ইন্টারভিউয়ে ডাক পাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের তালিকায় একাধিক দাগি অযোগ্য প্রার্থীর নাম রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে কীভাবে তাদের এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাকিরা অভিযোগ রয়েছে প্রাইমারি স্কুলে চাকরি করেছেন এমন অনেকেই শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার নিরিখে অতিরিক্ত দশ নম্বর পেয়েছেন এবং আংশিক সময়ের জন্য কাজ করেছেন এমন কর্মীরাও তাদের কাজের অভিজ্ঞতা দেখিয়ে একই সুবিধা নিয়েছেন এই সব অনিয়মের বিরুদ্ধেই হাই কোর্টে শিক্ষকেরা গেছেন আগামী বুধবার বিচারপতি অমৃতা সিংহের বেঞ্চে ওই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে শনিবার রাতে এসএসসির একাদশ দ্বাদশের ইন্টারভিউয়ের তালিকা প্রকাশিত হয় এর পরই বিতর্ক শুরু হয় কারণ দেখা যায় তালিকায় বিশ হাজার জনের নাম থাকা সত্ত্বেও যারা দীর্ঘ দিন আন্দোলন করেছেন তাদের অনেকের নাম নেই আবার নতুন পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকে ষাটে ষাট পেয়েও ইন্টারভিউয়ে ডাক পাননি ফলে তারা ক্ষুব্ধ হন চাকরিহারা শিক্ষক তথা এসএসসি আন্দোলনের অন্যতম মুখ চিন্ময় মণ্ডল জানান তালিকায় নাম নেই কাট অফের থেকে তিন নম্বর কম পেয়েছি অথচ তালিকা মিলিয়ে দেখলাম অযোগ্যদের তালিকা থাকা একজনকেও ইন্টারভিউয়ে ডাক দেওয়া হয়েছে এক চাকরিহারার কথায় পাঁচ থেকে ছ’বছর চাকরি করার পর নিরপরাধ হয়েও প্রাতিষ্ঠানিক অসঙ্গতি এবং বিচারব্যবস্থার ব্যর্থতায় বঞ্চিত হয়েছি এতে আমাদের কোনো দোষ নেই আমাদের এখন কী হবে যদিও এসএসসির দাবি সব কিছু নিয়ম মেনেই হয়েছে এই বছর একাদশ দ্বাদশে শূন্যপদ ছিল বারো হাজার চারশত পঁয়াল্লিশটি লিখিত পরীক্ষার পর বিশ হাজার পরীক্ষার্থীর নামের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে এবং এই বিশ হাজার চাকরিপ্রার্থীকে প্রথমে নথি যাচাইকরণ এবং পরে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হবে অর্থাৎ প্রতিটি শূন্যপদের জন্য ইন্টারভিউয়ে ডাক দেওয়া হয়েছে ষোলো জনকে এই পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ এবং ক্ষোভ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে কারণ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা এবং আন্দোলন করে আসা প্রার্থীরা এখনও সুযোগ পায়নি নতুন প্রার্থীরা যারা ভালো ফলাফল পেয়েছেন তাদের মধ্যেও অনেকে বাদ পড়েছেন এবং এ ধরনের অনিয়ম এবং স্বচ্ছতার অভাব চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা এবং ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে শিক্ষকদের দাবি অনিয়মের কারণ এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা পরীক্ষা করা আবশ্যক যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে হাই কোর্টে যাওয়া মামলাটি মূলত এই ন্যায্যতা এবং স্বচ্ছতার অভাবকে সামনে আনেছে এবং শিক্ষকদের দাবি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে এমনকি যারা অযোগ্য তাদের ইন্টারভিউয়ে ডাক দেওয়া হয়েছে এ ধরনের ঘটনা একাডেমিক ক্ষেত্র এবং চাকরিপ্রার্থীদের ন্যায্য অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে শিক্ষকদের দাবি ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ এবং নম্বর বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং যারা অযোগ্য তাদের নাম তালিকা থেকে সরানো উচিত এছাড়া প্রাথমিক স্কুলে চাকরির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত নম্বরের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন যাতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাজ করেছেন বা আংশিক অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন প্রার্থীরা অযাচিত সুবিধা না পান দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করেছেন এমন প্রার্থীদের প্রতি ন্যায্যতা প্রদর্শন করা জরুরি এবং তাদের সুযোগ দেওয়া আবশ্যক এই ঘটনায় শিক্ষকদের মধ্যে এক ধরনের ঐক্যও দেখা গেছে কারণ তারা সকলেই ন্যায্যতা এবং স্বচ্ছতার দাবিতে একত্রিত হয়েছেন হাই কোর্টে মামলা দায়েরের মাধ্যমে শিক্ষকদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট যে প্রতিটি প্রার্থীকে ন্যায্য সুযোগ দেওয়া উচিত এবং ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং নিয়ম মেনে পরিচালিত হওয়া উচিত তালিকায় বিশ হাজার প্রার্থীর নাম থাকলেও যে অনেকে বাদ পড়েছেন তাদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা এবং আন্দোলন করে আসছেন তাদের অবদানকে মূল্যায়ন করা উচিত এবং এ ধরনের অনিয়মের কারণে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয় শিক্ষকদের বক্তব্য অনুযায়ী প্রশাসনকে দায়িত্ব নিতে হবে এবং প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা না ঘটে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং শিক্ষকদের দাবি অনুযায়ী সকল প্রার্থীর অভিজ্ঞতা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য নম্বর প্রদান করা উচিত এতে প্রক্রিয়া আরও ন্যায্য হবে এবং চাকরিপ্রার্থীরা ন্যায্য সুযোগ পাবে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করতে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে শিক্ষকদের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে শিক্ষকেরা আশা করছেন হাই কোর্ট মামলার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান হবে এবং প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে যাতে সকল প্রার্থী ন্যায্যভাবে ইন্টারভিউয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেন এবং চাকরির সুযোগ পেতে পারেন এছাড়া শিক্ষকদের দাবি প্রশাসনকে এই প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ এবং শূন্যপদ বরাদ্দের নিয়ম খতিয়ে দেখতে হবে যাতে কোন প্রার্থী অন্যায়ের শিকার না হয় এবং দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন বা ন্যায্যভাবে পরীক্ষায় পাশ করেছেন তাদের অধিকার নিশ্চিত করা যায় এই ঘটনায় শিক্ষকদের মধ্যে যে উদ্দীপনা এবং সচেতনতা দেখা দিয়েছে তা শিক্ষাক্ষেত্রে ন্যায্যতা এবং স্বচ্ছতার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে শিক্ষকেরা আশা করছেন হাই কোর্টের মাধ্যমে এই অনিয়মের বিষয়টি সমাধান হবে এবং
ভবিষ্যতে সকল প্রার্থী ন্যায্য সুযোগ পাবে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং নিয়ম মেনে পরিচালিত হবে এতে শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং চাকরিপ্রার্থীরা তাদের অধিকার অনুযায়ী ন্যায্য সুযোগ পাবে এই দীর্ঘ বিতর্কের মধ্যে শিক্ষকদের উদ্যোগ এবং হাই কোর্টে মামলা দায়েরের মাধ্যমে একটি সুস্পষ্ট বার্তা তৈরি হয়েছে যে চাকরিপ্রক্রিয়া এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে সকলকে দায়িত্ব নিতে হবে এবং কেউই অন্যায়ের শিকার হতে পারবে না শিক্ষকদের দাবিতে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতা বজায় রাখা হবে এবং সকল প্রার্থী তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য সুযোগ পাবে এই দীর্ঘ বিবরণ শিক্ষকদের অবস্থান এবং এই বিতর্কের পেছনের কারণকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে
এই পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আদালতে মামলা দায়ের করে প্রমাণ করেছেন যে নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতার জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। শিক্ষকেরা দাবি করছেন যে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য বা পক্ষপাতিত্ব না হওয়া উচিত এবং প্রার্থীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে সঠিক সুযোগ দেওয়া উচিত
এছাড়া মামলাকারীদের মতে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একাধিক অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে যেমন যেসব প্রার্থী অযোগ্য তারা ইন্টারভিউয়ে ডাক পেয়ে গেছে আবার যারা সঠিক ফলাফল অর্জন করেছেন তারা বাদ পড়েছেন ফলে এটি পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাদের দাবি সকল প্রার্থীকে সমান সুযোগ দেওয়া উচিত এবং যাদের অযোগ্যতা রয়েছে তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত
শিক্ষকদের এই আন্দোলন শুধু তাদের ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষার জন্য নয় বরং এটি শিক্ষাক্ষেত্রে একটি বড়ো পরিবর্তনের ডাক। তারা বিশ্বাস করেন যে এটি সবার জন্য একটি সঠিক এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। শিক্ষকরা এও দাবি করেছেন যে সরকারের উচিত এসব অযোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যাতে যোগ্য প্রার্থীরা প্রকৃতপক্ষে তাদের অধিকার পাচ্ছে
এটা স্পষ্ট যে স্কুল সার্ভিস কমিশন ও নিয়োগ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে শিক্ষকরা এবং তারা দৃঢ়ভাবে আশা করছেন যে তাদের দাবির সমাধান হবে এবং তাদের অধিকার ফিরে পাবেন। স্কুল সার্ভিস কমিশনের পক্ষ থেকে যে দাবিগুলি করা হয়েছে তার মধ্যে একটি বড়ো বিষয় হল সমস্ত কিছু নিয়ম মেনেই হয়েছে কিন্তু বাস্তবে এটি কতটুকু সঠিক হয়েছে সেটা পর্যালোচনা করা উচিত। কারণ অযোগ্য প্রার্থীদের ইন্টারভিউয়ে ডাক দেওয়া এবং অন্যান্য নানা অসঙ্গতি প্রমাণ করে যে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয়
এছাড়া, এর মাধ্যমে সমাজে শিক্ষাক্ষেত্রে ন্যায্যতা এবং স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তার গুরুত্ব উঠে এসেছে যা শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নতির জন্য অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষকদের এই আন্দোলন প্রমাণ করেছে যে শুধুমাত্র কিছু ব্যক্তি নয় বরং দেশের বৃহত্তর একটি অংশ যখন ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার জন্য একত্রিত হয় তখনই আসল পরিবর্তন সম্ভব
এই আন্দোলন শুধু বর্তমান সময়ে নয় ভবিষ্যতেও শিক্ষক ও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি বড়ো পথনির্দেশ হয়ে দাঁড়াবে যেখানে সকলকে সমান সুযোগ প্রদান করা হবে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে কোনও ধরনের বৈষম্য বা পক্ষপাতিত্ব থাকবে না