Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অদিতি সুর সাধনালয়ের শুভ উদ্বোধন: অদিতি সিংকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ সঙ্গীত কর্মশালা করলেন অরিজিৎ

সঙ্গীত মানুষের হৃদয়কে কোমল করে, মনকে নির্মল করে এবং আত্মাকে গভীরভাবে আলোড়িত করতে পারে। সেই সঙ্গীতের পথযাত্রায় এক অনন্য নাম ছিলেন অদিতি সিং। সারা জীবন তিনি সঙ্গীতকে সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন। রাগসঙ্গীতের শুদ্ধ চর্চা, তালিমের গুরুত্ব, অধ্যবসায়ের প্রয়োজন সবই তিনি ছাত্রছাত্রীদের হৃদয়ে স্থাপন করেছিলেন। তাঁর সেই আজীবন সাধনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর পরিবারের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে নতুন সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান অদিতি সুর সাধনালয়। আর এই বিদ্যালয়ের শুভ উদ্বোধন হয়ে রইল দেশের জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ-এর বিশেষ কর্মশালায়। উদ্বোধনের দিন সকাল থেকেই বিদ্যালয়ের সামনে মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, সঙ্গীতপ্রেমী সবাই অপেক্ষা করছিলেন এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপস্থিতরা স্মরণ করেন অদিতি সিংয়ের সঙ্গীতনিবেদন, শৃঙ্খলা এবং তাঁর সহজ সরল ব্যক্তিত্ব। মনে হচ্ছিল তিনি যেন নিজেই তাঁর নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ইটে আশীর্বাদ ছড়িয়ে দিচ্ছেন। অরিজিৎ কর্মশালায় ছাত্রছাত্রীদের জানান সঙ্গীত শেখা মানে শুধু গান গাওয়া নয়, বরং মনকে শান্ত করা এবং সুরের সঙ্গে নিজের অনুভূতিকে জুড়ে নেওয়া। তিনি শ্বাস প্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রণ, রাগের অনুভব এবং গানের আবেগ ধরে রাখার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। ছাত্রছাত্রীরা তাঁর নির্দেশনায় চোখ বন্ধ করে সুর অনুভব করার যে অনুশীলনটি করল, সেটি ছিল উদ্বোধনের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত। অদিতি সুর সাধনালয় আগামী দিনে আরও অনেক প্রতিভাবান শিল্পী গড়ে তুলবে এমনটাই বিশ্বাস করেন সকলেই। অদিতি সিং নেই, কিন্তু তাঁর স্বপ্ন, তাঁর সুর, তাঁর শিক্ষাদর্শন এই বিদ্যালয়ের মাধ্যমে নতুন করে বেঁচে থাকবে। উদ্বোধনী দিনটি তাই শুধু একটি দিনের অনুষ্ঠান নয়, এটি ছিল একজন সঙ্গীত সাধিকার আজীবন পরিশ্রমের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং ভবিষ্যতের শিল্পীদের জন্য একটি নতুন আলোর পথ তৈরি করা।

সঙ্গীত এমন এক শক্তি যা মানুষের হৃদয়কে নরম করে, মনকে প্রসন্ন করে, আর আত্মাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে। এই শক্তির সঙ্গে এক আজীবন যাত্রা শুরু হয়েছিল অদিতি সিং নামে এক অসামান্য সঙ্গীত–সাধিকার হাত ধরে। তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য ছিল সঙ্গীতকে সঠিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে শুদ্ধ রাগসঙ্গীতচর্চার বীজ বপন করা, এবং তাদের কাছে সঙ্গীতকে শুধু গান নয় জীবনের একটি পথ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। তাঁর সেই অদম্য সাধনা, পরিশ্রম এবং আত্মনিবেদনকে স্মরণে রেখে, তাঁর পরিবারের উদ্যোগে তৈরি হলো একটি নতুন প্রতিষ্ঠান  অদিতি সুর সাধনালয়। আর এই প্রতিষ্ঠানের শুভসূচনা হয়ে রইল দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ-এর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ সঙ্গীত কর্মশালার মাধ্যমে। উদ্বোধনের দিন যেন একটি উৎসবে পরিণত হয়েছিল। সকাল থেকেই বিদ্যালয়ের সামনে ভিড় জমে ওঠে ছাত্রছাত্রী, সঙ্গীতবিলাসী, অভিভাবক এবং বহু সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের। অদিতি সিংয়ের নামে সঙ্গীত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে  এই খবর ছড়িয়েই মানুষ বুঝতে পেরেছিলেন, এটি কেবল একটি স্কুল নয়, বরং একটি নতুন যাত্রার সূচনা। যাঁরা অদিতি সিংকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন, তাঁদের মনে সেই দিনের ভোরটি ছিল আবেগে ভরা। তাঁদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে অদিতির সেই স্নিগ্ধ মুখ, একাগ্র চোখ, দৃঢ় ভঙ্গী  যার মধ্যে ফুটে উঠত তাঁর সঙ্গীত–নিবেদন। যাঁরা তাঁকে কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁরা জানেন তিনি বিশ্বাস করতেন  সঙ্গীত শেখা মানে নিজেকে শেখা, নিজের ভেতরের অনুভূতিকে চেনা। তাঁর কাছে সঙ্গীত ছিল এক সাধনা, যা করতে হয় প্রতিদিন, অবিরত, কোনও তাড়াহুড়ো ছাড়া। এই সব স্মৃতি আর আবেগকে সঙ্গে নিয়ে যখন অদিতি সুর সাধনালয়ের ফিতে কাটা হলো, তখন পরিবেশ জুড়ে নেমে এল এক অদ্ভুত নীরবতা। সেই নীরবতা ছিল শ্রদ্ধায় পূর্ণ। এত মানুষের ভিড়েও মনে হচ্ছিল যেন অদিতি সিং নিজে উপস্থিত হয়ে নতুন এই প্রতিষ্ঠানটিকে আশীর্বাদ করে গেলেন। আর সেই নীরব শ্রদ্ধার পরেই শুরু হলো ঢাক-ঢোল, করতাল ও সঙ্গীত পরিবেশনের মাঝে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ নিঃসন্দেহে ছিলেন গায়ক অরিজিৎ। সাধারণত নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে খুব বেশি প্রচার চান না তিনি। কিন্তু অদিতি সিংয়ের পরিবারের ডাক পেয়ে তিনি কোনও দ্বিধা না করেই হাজির হন। কারণ তাঁর নিজস্ব সঙ্গীত–সাধনার এক বিশাল অংশ জুড়ে আছেন অদিতি সিং। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, অদিতি সিং শুধু একজন শিক্ষক নন, বরং এমন এক মানুষ যিনি শিল্পীকে শিখিয়েছেন কিভাবে নম্র থাকতে হয়, কিভাবে নিজের সুরকে গভীরভাবে অনুভব করতে হয়, আর কিভাবে প্রতিটি গানকে নিজের হৃদয়ের সঙ্গে যুক্ত করে নিতে হয়। অরিজিৎ বলেন, “সঙ্গীত কখনও শুধু সুর-তাল নয়, সঙ্গীত হলো হৃদয়ের কথোপকথন। অদিতি মাসিমা আমাকে শিখিয়েছেন গাইতে হলে আগে শুনতে হয়, বুঝতে হয়, অনুভব করতে হয়।” তাঁর কথার মধ্যে ছিল গভীর শ্রদ্ধা। কর্মশালা শুরু হতেই তাঁর চারপাশে এক অদ্ভুত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রছাত্রীরা যেন নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে। অরিজিৎ প্রথমেই বোঝান— সঙ্গীত শেখা মানে সুর ধরার আগে নিজের শ্বাসকে জানা, নিজের মনকে শান্ত করা। তিনি বলেন, গান গাওয়ার আগে তার অনুশীলন ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ, যতটা গানের মূল রূপ। প্রতিটি সুরের আগে থাকে প্রস্তুতি, প্রতিটি লয়ের আগে থাকে ভেতরের শৃঙ্খলা। সঠিক শ্বাস-প্রশ্বাস, কণ্ঠের সঠিক ব্যবহার, রাগের ভিতর লুকিয়ে থাকা অভিব্যক্তি সবই ধীরে ধীরে বুঝিয়ে দেন তিনি। একসময় কর্মশালার মধ্যে এমন মুহূর্ত আসে যখন তিনি ছাত্রছাত্রীদের চোখ বন্ধ করে একটি সুর অনুভব করতে বলেন। তাঁরা চোখ বন্ধ করে বসতেই পুরো হলঘর জুড়ে ভেসে ওঠে কোমল সুর যেন অদিতি সিংয়ের আত্মা সেই সুরকে আশীর্বাদ করছেন। ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকেরা বলেন, এত বড় গায়কের কাছ থেকে এত ব্যক্তিগত ও মননশীল প্রশিক্ষণ পাওয়া সত্যিই সৌভাগ্যের। অদিতি সুর সাধনালয় শুধু একটি সঙ্গীত বিদ্যালয় নয়, বরং এমন এক কেন্দ্র যেখানে সঙ্গীতের পাশাপাশি মননচর্চা, ধ্যান, স্বরলিপি পাঠ, তালিম  সবকিছু একসঙ্গে শেখানো হবে। হাসিমুখে অনেকেই বলেন, এই প্রতিষ্ঠান আগামী দিনের অসংখ্য শিল্পী তৈরির কারখানা হয়ে উঠবে। বিশেষ করে গ্রামের বা সাধারণ পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা এখানে পাবে সেই মানের প্রশিক্ষণ, যা সাধারণত বড় শহরের প্রখ্যাত স্কুলেই পাওয়া যায়। অদিতির পরিবার জানিয়েছে, আর্থিকভাবে দুর্বল প্রতিভাবান ছাত্রছাত্রীরা বিনামূল্যেই শিক্ষা পাবেন। অদিতি সিংয়ের স্বপ্ন ছিল সকলের কাছে সঙ্গীত পৌঁছে দেওয়া আর সেটিই এই বিদ্যালয়ের প্রধান লক্ষ্য। উদ্বোধনী দিনের সবচেয়ে আবেগঘন অংশ ছিল অদিতির জীবনের কিছু মুহূর্ত নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিও প্রদর্শনী। সেখানে দেখা যায় তাঁর প্রতিদিনের অনুশীলন, ছাত্রদের প্রতি তাঁর মমতা, সঙ্গীতচর্চার প্রতি তাঁর নিষ্ঠা, এবং তাঁর পরিবারকে দেওয়া অনুপ্রেরণা। অনেকেই চোখ মুছতে মুছতে বললেন তিনি চলে গেলেও তাঁর সুর বেঁচে আছে তাঁর সৃষ্টিতে, তাঁর ছাত্রছাত্রীদের কণ্ঠে, এবং আজ থেকে এই নতুন প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে দেয়ালে। অরিজিৎ শেষে জানান, এই বিদ্যালয় ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের মিউজিক ল্যাব, ওয়ার্কশপ, লাইভ পারফরম্যান্স প্ল্যাটফর্ম এবং স্কলারশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে সঙ্গীতকে আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দেবে। তিনি আরও বলেন, আজকের দিনে ভাল গায়ক হতে হলে শুধু সঙ্গীত নয়, প্রযুক্তি, সাউন্ড, রেকর্ডিং সবটাতেই দক্ষ হতে হয়। অদিতি সুর সাধনালয় সেই আধুনিক পরিবেশ তৈরি করবে বলে বিশ্বাস করি। উদ্বোধন শেষে সবার মুখে ছিল একটাই কথা অদিতি সিং নেই, কিন্তু তাঁর স্বপ্ন আজ নতুন রূপ পেল আর সেদিনের সন্ধ্যা যখন নামছিল, ছাত্রছাত্রীদের চোখের সেই উজ্জ্বলতা, অরিজিৎ-এর নিরহংকারী উপস্থিতি, অদিতি সিংয়ের প্রতি সবার শ্রদ্ধা— সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল, যেন সঙ্গীতই আজ নতুন করে জন্ম নিল। অদিতি সুর সাধনালয় শুধু একটি শিক্ষালয় নয় এটি এক সাধনা, একটি স্মৃতি, একটি উত্তরাধিকার। এখানে প্রতিটি সুরে থাকবে অদিতির স্পর্শ, প্রতিটি লয়ে থাকবে তাঁর তপস্যা, প্রতিটি ছাত্রের কণ্ঠে থাকবে তাঁর শেখানো নম্রতা। আর সেই কারণেই এই বিদ্যালয়ের প্রথম দিনটি ইতিহাস হয়ে থাকবে কারণ সেদিন সঙ্গীত, স্মৃতি ও শ্রদ্ধা মিলেমিশে তৈরি করেছিল এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।সঙ্গীত মানুষের হৃদয়কে কোমল করে, মনকে নির্মল করে এবং আত্মাকে গভীরভাবে আলোড়িত করতে পারে। সেই সঙ্গীতের পথযাত্রায় এক অনন্য নাম ছিলেন অদিতি সিং। সারা জীবন তিনি সঙ্গীতকে সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন। রাগসঙ্গীতের শুদ্ধ চর্চা, তালিমের গুরুত্ব, অধ্যবসায়ের প্রয়োজন সবই তিনি ছাত্রছাত্রীদের হৃদয়ে স্থাপন করেছিলেন। তাঁর সেই আজীবন সাধনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর পরিবারের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে নতুন সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান অদিতি সুর সাধনালয়। আর এই বিদ্যালয়ের শুভ উদ্বোধন হয়ে রইল দেশের জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ-এর বিশেষ কর্মশালায়। উদ্বোধনের দিন সকাল থেকেই বিদ্যালয়ের সামনে মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, সঙ্গীতপ্রেমী সবাই অপেক্ষা করছিলেন এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপস্থিতরা স্মরণ করেন অদিতি সিংয়ের সঙ্গীতনিবেদন, শৃঙ্খলা এবং তাঁর সহজ সরল ব্যক্তিত্ব। মনে হচ্ছিল তিনি যেন নিজেই তাঁর নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ইটে আশীর্বাদ ছড়িয়ে দিচ্ছেন। অরিজিৎ কর্মশালায় ছাত্রছাত্রীদের জানান সঙ্গীত শেখা মানে শুধু গান গাওয়া নয়, বরং মনকে শান্ত করা এবং সুরের সঙ্গে নিজের অনুভূতিকে জুড়ে নেওয়া। তিনি শ্বাস প্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রণ, রাগের অনুভব এবং গানের আবেগ ধরে রাখার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। ছাত্রছাত্রীরা তাঁর নির্দেশনায় চোখ বন্ধ করে সুর অনুভব করার যে অনুশীলনটি করল, সেটি ছিল উদ্বোধনের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত। অদিতি সুর সাধনালয় আগামী দিনে আরও অনেক প্রতিভাবান শিল্পী গড়ে তুলবে এমনটাই বিশ্বাস করেন সকলেই। অদিতি সিং নেই, কিন্তু তাঁর স্বপ্ন, তাঁর সুর, তাঁর শিক্ষাদর্শন এই বিদ্যালয়ের মাধ্যমে নতুন করে বেঁচে থাকবে। উদ্বোধনী দিনটি তাই শুধু একটি দিনের অনুষ্ঠান নয়, এটি ছিল একজন সঙ্গীত সাধিকার আজীবন পরিশ্রমের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং ভবিষ্যতের শিল্পীদের জন্য একটি নতুন আলোর পথ তৈরি করা।

news image
আরও খবর
Preview image