ভারতীয় পুরাণের চরিত্রদের নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ নতুন কিছু নয়, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই উপস্থাপনার ধরন বদলেছে। আজকের দর্শক শুধু গল্প নয়, আধুনিক ভিএফএক্স ও ভিজ্যুয়াল ম্যাজিকের মাধ্যমে এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেখতে চান। সেই প্রেক্ষিতেই শোনা যাচ্ছে এক চমকপ্রদ খবর হনুমানকে কেন্দ্র করে তৈরি হতে চলেছে একটি বিশেষ ছবি, যেখানে তাঁকে নাকি হলিউডের সুপারহিরো হাল্কের আদলে শক্তিশালী ও বিশাল রূপে দেখানো হবে। আরও আলোচনার বিষয়, এই ছবিতে হনুমানের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে বলিউডের শক্তিমান অভিনেতা সানি দেওলকে। হনুমান শুধুমাত্র এক পৌরাণিক চরিত্র নন, তিনি শক্তি, ভক্তি ও আত্মত্যাগের প্রতীক। রামায়ণে তাঁর বীরত্ব, বুদ্ধিমত্তা এবং রামের প্রতি নিঃশর্ত ভক্তি তাঁকে চিরন্তন করে তুলেছে। এই ছবিতে নাকি তাঁর জীবনের নির্বাচিত অধ্যায়গুলি আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে নতুনভাবে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি এটি হবে সঙ্গীতনির্ভর ছবি, যেখানে ভক্তিমূলক সুর ও আধুনিক ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর মিলিয়ে এক মহাকাব্যিক আবহ তৈরি করা হবে। যদিও এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও এই সম্ভাব্য প্রকল্প ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সবকিছু বাস্তবায়িত হলে, এই ছবি ভারতীয় পৌরাণিক সিনেমায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
ভারতীয় পুরাণের চরিত্রদের নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ নতুন কিছু নয়। দশকের পর দশক ধরে রামায়ণ, মহাভারত এবং অন্যান্য পৌরাণিক কাহিনির চরিত্রগুলি বড় পর্দায় এবং টেলিভিশনে প্রাণ পেয়ে আসছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই চরিত্রগুলিকে উপস্থাপনের ভাষা, ভঙ্গি এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকে যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তা দর্শকদের প্রত্যাশাকেও নতুন মাত্রা দিয়েছে। আজকের দর্শক শুধু গল্প শুনতে চান না, তারা চান এমন এক ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা যা তাদের মুগ্ধ করবে, অবাক করবে এবং আবেগতাড়িত করবে।এ বার হনুমান রূপে সানি দেওল। অভিনেতার ‘গদর ২’ বক্স অফিসে ঝড় তুলেছিল। তার পর থেকে তাঁর হাতে পর পর কাজ। তার মধ্যে রয়েছে নিতেশ তিওয়ারির ছবি ‘রামায়ণ’-এর প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ। এই ছবিতে সানি হনুমানের চরিত্রে অভিনয় করছেন। তবে এখানেই শেষ নয়। ছবির প্রযোজক এ বার শুধু হনুমানকে কেন্দ্র করেই ছবি তৈরি করছেন। সেই ধারাবাহিকতাতেই এবার শোনা যাচ্ছে এক চমকপ্রদ খবর—হনুমানকে কেন্দ্র করে তৈরি হতে চলেছে এক বিশেষ ছবি, যেখানে চরিত্রটিকে নাকি হলিউডের বিখ্যাত সুপারহিরো হাল্কের আদলে শক্তিশালী, বিশাল ও আধুনিক ভিএফএক্স নির্ভর রূপে তুলে ধরা হবে। শুধু তাই নয়, এই ছবিতে হনুমানের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে বলিউডের শক্তিমান অভিনেতা সানি দেওলকে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবু এই খবর ইতিমধ্যেই বিনোদন মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল ও উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
হনুমান ভারতীয় সংস্কৃতি ও বিশ্বাসে শুধুমাত্র এক পৌরাণিক চরিত্র নন, তিনি শক্তি, ভক্তি, আত্মত্যাগ এবং নিঃস্বার্থ সেবার প্রতীক। রামায়ণের পাতায় পাতায় তাঁর বীরত্বের কাহিনি ছড়িয়ে রয়েছে। ছোটবেলায় সূর্যকে ফল ভেবে গিলে খাওয়া থেকে শুরু করে লঙ্কা দহন, সঞ্জীবনী পাহাড় তুলে আনা কিংবা রামের প্রতি নিঃশর্ত ভক্তি—এই সব গল্প প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের মনে গেঁথে আছে। তিনি শুধুমাত্র একজন বীর যোদ্ধা নন, তিনি একাধারে পণ্ডিত, দার্শনিক, সঙ্গীতজ্ঞ এবং সর্বোপরি একজন নিখুঁত ভক্ত। তাঁর চরিত্রে রয়েছে এমন বহুমাত্রিকতা যা একজন অভিনেতা এবং নির্মাতার জন্য সমান চ্যালেঞ্জিং এবং আকর্ষণীয়। সেই চরিত্রকে নতুন করে বড় পর্দায়, তাও একেবারে আধুনিক সুপারহিরো ঘরানার ছাঁচে তুলে ধরা হলে তা যে দর্শকদের কৌতূহল বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।
খবর অনুযায়ী, এই ছবিটি নাকি শুধুমাত্র পৌরাণিক পুনর্কথন নয়, বরং এক ধরনের সঙ্গীতনির্ভর মহাকাব্যিক অভিজ্ঞতা হতে চলেছে। অর্থাৎ গল্প বলার পাশাপাশি সঙ্গীত এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এবং ছবির আবহ তৈরিতে, চরিত্রের আবেগ প্রকাশে এবং দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে সঙ্গীত হবে প্রধান মাধ্যম। ভারতীয় পুরাণে যেমন কীর্তন, স্তোত্র ও ভজনের মাধ্যমে ভক্তি প্রকাশের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে, তেমনই এই ছবিতেও হনুমানের চরিত্রকে বোঝাতে ও তাঁর আবেগ, শক্তি এবং আত্মিক যাত্রাকে তুলে ধরতে সঙ্গীতকে এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। আধুনিক অর্কেস্ট্রেশন ও প্রাচীন মন্ত্রের সংমিশ্রণে তৈরি হতে পারে এক অনন্য সাউন্ডস্কেপ, যা দর্শককে শুধুমাত্র গল্প দেখাবে না, বরং সেই গল্পের মধ্যে ডুবিয়ে দেবে এবং প্রতিটি মুহূর্ত অনুভব করাবে।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে দিকটি নিয়ে আলোচনা চলছে, তা হল হনুমানের চরিত্র নির্মাণের ভিজ্যুয়াল স্টাইল। শোনা যাচ্ছে, এই ছবিতে হনুমানকে অনেকটা মার্ভেল ইউনিভার্সের হাল্কের মতো বিশালদেহী, রাগে ও শক্তিতে ফেটে পড়া এক চরিত্র হিসেবে দেখানো হবে। মার্ভেলের হাল্ক যেমন আবেগের চাপে পড়ে তার সীমাহীন শক্তির প্রকাশ ঘটায় এবং তার শরীর বিশাল আকৃতি ধারণ করে, তেমনই হনুমানের ক্ষেত্রেও তাঁর রুদ্ররূপ, যুদ্ধের সময়কার ভয়ংকর শক্তি এবং দেবত্বের প্রকাশকে অত্যাধুনিক ভিএফএক্সের মাধ্যমে দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখানে একটা মৌলিক পার্থক্য থেকে যায়—হনুমানের শক্তির উৎস রাগ নয়, বরং ভক্তি ও ধর্মের প্রতি তাঁর অটল নিষ্ঠা। যখন রামের সেবায় কিংবা ধর্ম রক্ষায় প্রয়োজন পড়ে, তখনই হনুমান তাঁর অসীম শক্তির পরিচয় দেন। এই দার্শনিক পার্থক্যটি চরিত্রকে আরও গভীর এবং অর্থবহ করে তোলে।
এই ধরনের উপস্থাপনা ভারতীয় পুরাণচিত্রণের ক্ষেত্রে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এতদিন আমরা হনুমানকে কখনও অ্যানিমেশনে, কখনও টেলিভিশনের ধারাবাহিকে যেমন রামানন্দ সাগরের রামায়ণ কিংবা অন্যান্য সিরিয়ালে, আবার কখনও তুলনামূলক কম বাজেটের পৌরাণিক ছবিতে দেখেছি। এসব উপস্থাপনায় হনুমানের চরিত্র সাধারণত ঐতিহ্যবাহী রূপেই দেখানো হয়েছে। কিন্তু বিশ্বমানের ভিএফএক্স, মোশন ক্যাপচার প্রযুক্তি এবং বড় বাজেটের প্রযোজনায় হনুমানকে দেখানো হলে তা আন্তর্জাতিক স্তরেও ভারতীয় পুরাণকে নতুনভাবে পরিচিত করাতে পারে। অনেকটা যেমন বাহুবলী সিরিজ ভারতীয় মহাকাব্যিক সিনেমাকে বিশ্বের দরবারে নিয়ে গিয়েছিল, কিংবা আদিপুরুষের ক্ষেত্রে চেষ্টা করা হয়েছিল, যদিও সাফল্যের মাপকাঠি আলাদা ছিল এবং দর্শক প্রতিক্রিয়াও ভিন্ন হয়েছিল।
এবার আসা যাক সানি দেওলের প্রসঙ্গে। বলিউডে সানি দেওল মানেই এক বিশেষ ধরনের শক্তিশালী উপস্থিতি। ঘায়েল, ঘাতক, দামিনী কিংবা বর্ডার—এই সব ছবিতে তাঁর বজ্রকণ্ঠ সংলাপ, রাগী চোখ আর শক্তসমর্থ শরীর দর্শকের মনে এক আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। তাঁর অভিনয়ের স্টাইল সবসময়ই তীব্র, আবেগপ্রবণ এবং শক্তিশালী। সাম্প্রতিক সময়ে গদর ২-এর বিপুল সাফল্য আবারও প্রমাণ করেছে যে সানি দেওলের প্রতি দর্শকের আবেগ এখনও অটুট এবং তিনি এখনও বক্স অফিসে ম্যাজিক তৈরি করতে সক্ষম। তাই তাঁকে যদি হনুমানের ভূমিকায় দেখা যায়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে এক সাহসী ও চমকপ্রদ কাস্টিং হবে এবং দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেবে।
খবর অনুযায়ী, ছবিতে হনুমানের মানবীয় দিক ও দেবত্বের দিক—দু'টিকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখানো হবে। সানি দেওলের গলার ভারী টোন, তাঁর শরীরী ভাষা এবং অভিব্যক্তি হনুমানের শক্তিশালী রূপকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। বিশেষ করে যুদ্ধের দৃশ্য কিংবা রামের প্রতি ভক্তি প্রকাশের মুহূর্তগুলিতে তাঁর অভিনয় আলাদা মাত্রা যোগ করতে পারে। তাঁর ক্যারিয়ারে এমন অনেক চরিত্র রয়েছে যেখানে তিনি দেশপ্রেম, ভক্তি এবং আবেগের গভীরতাকে তুলে ধরেছেন। তবে এই চরিত্রে অভিনয় করা মোটেও সহজ নয়। হনুমান মানে শুধুমাত্র শক্তি নয়, তাঁর মধ্যে রয়েছে শিশু সুলভ সরলতা, গভীর বুদ্ধিমত্তা, প্রচণ্ড শক্তির পাশাপাশি বিনয়, এবং অসীম করুণা। এই সব স্তরকে একসঙ্গে ফুটিয়ে তোলাই হবে অভিনেতার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। হনুমান একই সময়ে ভয়ংকর যোদ্ধা এবং নিরীহ সেবক, তিনি অসীম শক্তিশালী অথচ চরম বিনয়ী, তিনি দেবতা অথচ মানবিক আবেগে পরিপূর্ণ—এই সব দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়কে পর্দায় জীবন্ত করে তোলা প্রকৃতপক্ষেই কঠিন।
এই ছবির গল্প নাকি পুরো রামায়ণকে অনুসরণ করবে না, বরং হনুমানের জীবনের কিছু নির্বাচিত অধ্যায়কে কেন্দ্র করে এগোবে। তাঁর জন্মকথা যেখানে বায়ুদেবের আশীর্বাদে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, বাল্যকালের কীর্তি যেখানে তিনি সূর্যকে ফল মনে করে গিলে ফেলেন এবং ইন্দ্রের বজ্র আঘাতে তাঁর থুতনি ভেঙে যায় যার থেকে তাঁর হনুমান নামটি আসে, সুগ্রীবের সঙ্গে বন্ধুত্ব যা রামচন্দ্রের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘটায়, রামের সঙ্গে সেই প্রথম সাক্ষাৎ যেখানে তিনি জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পান, এবং লঙ্কাকাণ্ড যেখানে তিনি তাঁর সবচেয়ে বড় বীরত্বের পরিচয় দেন—এই সব পর্বকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে লঙ্কায় যাওয়ার দৃশ্য, সমুদ্র লঙ্ঘন যেখানে তিনি এক বিশাল লাফে সমুদ্র পার হন, অশোকবনে সীতার সঙ্গে সাক্ষাৎ যা একটি অত্যন্ত আবেগময় মুহূর্ত, এবং লঙ্কা দহন যেখানে তিনি তাঁর লেজে আগুন ধরিয়ে পুরো লঙ্কা জ্বালিয়ে দেন—এই অংশগুলি আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে চোখ ধাঁধানো ভাবে উপস্থাপিত হতে পারে। প্রতিটি দৃশ্য হতে পারে একেকটি ভিজ্যুয়াল মাস্টারপিস।
সঙ্গীতের ক্ষেত্রে ছবিটি নাকি খুবই উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং নির্মাতারা চাইছেন এমন একটি সাউন্ডট্র্যাক তৈরি করতে যা দর্শকদের মনে দীর্ঘদিন থেকে যাবে। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সঙ্গে আধুনিক ফিউশন, কোরাস এবং আন্তর্জাতিক মানের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর মিলিয়ে এক মহাকাব্যিক আবহ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। হনুমান চালিসা কিংবা বজরংবাণের মতো স্তোত্রের অংশ বিশেষ নতুন সুরে ব্যবহার করা হতে পারে, যা দর্শকের মধ্যে ভক্তির আবেগ জাগিয়ে তুলবে এবং ধর্মীয় অনুভূতিকে শিল্পের সঙ্গে মিশিয়ে দেবে। একই সঙ্গে অ্যাকশন দৃশ্যে থাকবে জোরালো, গতিময় সঙ্গীত যা হলিউডের সুপারহিরো ছবির মতো শক্তিশালী এবং যা চরিত্রের শক্তিকে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে। ভারতীয় বাদ্যযন্ত্র যেমন তবলা, সেতার, বাঁশি এবং পশ্চিমা অর্কেস্ট্রার মেলবন্ধন এক অসাধারণ সাউন্ডস্কেপ তৈরি করতে পারে।
এই ধরনের ছবি তৈরি করতে গেলে প্রযুক্তিগত দিক থেকেও বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। হনুমানের লেজ যা তাঁর পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাঁর উড়ে যাওয়া যেখানে তিনি আকাশে ভেসে বেড়ান, বিশাল আকৃতির রূপ যেখানে তিনি পর্বতসম হয়ে ওঠেন কিংবা ক্ষুদ্র হয়ে যান—সবকিছুই উচ্চমানের ভিএফএক্স নির্ভর। তাই আন্তর্জাতিক মানের ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট স্টুডিও যুক্ত হতে পারে বলেই জল্পনা চলছে এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হতে পারে। মোশন ক্যাপচার প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিনেতার অভিব্যক্তি ও শরীরী ভাষাকে ডিজিটাল চরিত্রে রূপান্তর করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এতে করে বাস্তবতা ও কল্পনার মেলবন্ধন আরও নিখুঁত হতে পারে এবং দর্শকরা সত্যিকারের হনুমানকে পর্দায় দেখছেন বলে বিশ্বাস করবেন।
তবে এত কিছুর মধ্যেও একটা বড় প্রশ্ন থেকেই যায়—এই ধরনের আধুনিক উপস্থাপনা কি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে? ভারতীয় পুরাণের সঙ্গে মানুষের আবেগ গভীরভাবে জড়িত এবং এটা শুধু গল্পের বিষয় নয়, বরং ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রশ্ন। চরিত্রের রূপ বা গল্প বলার ধরনে সামান্য পরিবর্তনও বিতর্কের জন্ম দিতে পারে যেমনটা আমরা আদিপুরুষের ক্ষেত্রে দেখেছি। নির্মাতাদের তাই খুব সাবধানে এগোতে হবে যাতে আধুনিকতার ছোঁয়া থাকলেও মূল ভাবনা ও ধর্মীয় আবেগে আঘাত না লাগে। হনুমানকে হাল্কের মতো শক্তিশালী দেখানো হলেও তাঁর ভক্তি, বিনয় ও ধর্মীয় মহিমা যেন কোথাও হারিয়ে না যায়, সেটাই হবে আসল পরীক্ষা। চরিত্রের বাহ্যিক রূপ পরিবর্তন করা যেতে পারে কিন্তু তাঁর আত্মা যেন বজায় থাকে।
সব মিলিয়ে, যদি এই খবর সত্যি হয় এবং পরিকল্পনামাফিক ছবি তৈরি হয়, তাহলে তা ভারতীয় পৌরাণিক সিনেমার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছেও ভারতীয় পুরাণের শক্তিকে তুলে ধরতে পারে। সানি দেওলের মতো অভিনেতাকে হনুমানের ভূমিকায় দেখা নিঃসন্দেহে দর্শকদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা হবে এবং তাঁর বিশাল ভক্তবৃন্দকে সিনেমা হলে টানবে। আধুনিক প্রযুক্তি, সঙ্গীতনির্ভর গল্প বলার ধরন এবং আন্তর্জাতিক মানের ভিজ্যুয়াল—সবকিছু মিলিয়ে এই ছবি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং এক ধরনের ভিজ্যুয়াল মহাকাব্য হয়ে উঠতে পারে যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম মনে রাখবে।
এখনও পর্যন্ত সবটাই অবশ্য জল্পনা ও শোনা কথার উপর ভিত্তি করে এবং নিশ্চিত তথ্যের অভাব রয়েছে। নির্মাতাদের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না এবং এই প্রকল্প আদৌ বাস্তবায়িত হবে কিনা তা-ও জানা যায়নি। তবে হনুমানের মতো এক চিরন্তন চরিত্রকে নতুন আঙ্গিকে বড় পর্দায় দেখার ভাবনাই দর্শকদের মনে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এবং প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলে, তা যে বক্স অফিসের পাশাপাশি দর্শকের