অঙ্গহীন হয়েও তিনি আজ দেশের গর্ব। জম্মু কাশ্মীরের শীতল দেবী প্রমাণ করেছেন ইচ্ছাশক্তি আর নিষ্ঠা থাকলে অসম্ভবও সম্ভব। পায়ে ডাম্বেল তুলে, কাঁধে ধনুক টেনে তিনি বিশ্বজয় করেছেন তীরন্দাজিতে।
অঙ্গহীন জন্মেছিলেন তিনি। দুই হাতে না থেকেও কখনও নিজের স্বপ্নকে ছেড়ে দেননি। জম্মু-কাশ্মীরের কিশোরী শীতল দেবী আজ ভারতের গর্ব, বিশ্বের অনুপ্রেরণা। ছোটবেলা থেকেই তিনি পা দিয়েই সব কাজ করতেন—খাওয়া, লেখা, এমনকি গাছে ওঠাও! এই শারীরিক সীমাবদ্ধতাই একদিন তাঁকে করে তোলে অসাধারণ এক তীরন্দাজ।
শীতলের কোচরা তাঁর জন্য তৈরি করেন বিশেষ ট্রিগার ব্যবস্থা, যাতে তিনি কাঁধ ও চিবুকের সাহায্যে তীর ছুঁড়তে পারেন। শুধু তাই নয়, পায়ের পেশি শক্তিশালী করতে তিনি পায়ে ডাম্বেল তোলেন, কাদার সাহায্যে গ্রিপ অনুশীলন করেন, যাতে ধনুক নিয়ন্ত্রণে থাকে নিখুঁতভাবে। তাঁর এই উদ্ভাবনী প্রশিক্ষণ পদ্ধতিই তাঁকে করে তুলেছে বিশ্বের সেরা অঙ্গহীন তীরন্দাজদের অন্যতম।
সম্প্রতি শীতল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস গড়েছেন। আরও আশ্চর্যের বিষয়—তিনি এখন সক্ষম (able-bodied) বিভাগের প্রতিযোগিতাতেও ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাঁর সাফল্য প্রমাণ করছে, অঙ্গ নয়—মন, অধ্যবসায় আর সাহসই জীবনের আসল অস্ত্র।
শীতল দেবীর গল্প আজ শুধু ভারতের নয়, গোটা বিশ্বের কাছে এক অনুপ্রেরণার প্রতীক—যিনি দেখিয়ে দিলেন, দেহের সীমাবদ্ধতা নয়, মনের শক্তিই আসল জয় এনে দেয়।