Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

হকি ইন্ডিয়া লিগ: চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গল টাইগার্স থেকে পুনর্গঠিত এসজি পাইপার্স, সমস্ত ৮টি দলের একটি দ্রুত পর্যালোচনা

হকি ইন্ডিয়া লিগ ২০২৬ শুরু হতে চলেছে, যেখানে দেশের সেরা দলগুলি একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করবে। এই বছর, বেঙ্গল টাইগার্স চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তাদের শিরোপা ধরে রাখতে চাইবে, তবে তাদের পথ সহজ হবে না। তাদের প্রতিপক্ষ, পুনর্গঠিত এসজি পাইপার্স, শক্তিশালী দল হিসেবে নতুন করে আত্মপ্রকাশ করছে এবং তাদের নতুন রচনায় বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। এছাড়াও, অন্যান্য দলগুলি যেমন দিল্লি ডায়নামোস, মুম্বাই স্টিলার্স, হায়দ্রাবাদ হকস, পুনে প্রাইড, কলকাতা কোয়েস্ট, চেন্নাই সেন্টিনেলস, এবং বেঙ্গালুরু বার্নার্সও নিজেদের শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। প্রতিটি দলই নতুন তারকা খেলোয়াড়দের নিয়ে আসছে এবং তাদের কৌশল ও প্রস্তুতি সবকিছু পরিবর্তন করতে প্রস্তুত। এই মরসুমে নতুন চমক এবং রোমাঞ্চকর ম্যাচের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে সমস্ত হকি প্রেমীদের।

হকি ইন্ডিয়া লিগ ২০২৬: হকি পুনর্জাগরণের নতুন দিগন্ত; চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গল টাইগার্স থেকে পুনর্গঠিত এসজি পাইপার্স—এক নজরে সব দল

ক্রীড়া প্রতিবেদক | ঢাকা/কলকাতা

৩ জানুয়ারি, ২০২৬

ভারতের জাতীয় খেলা হকির হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারে ‘হকি ইন্ডিয়া লিগ (HIL) ২০২৬’ এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই টুর্নামেন্ট যখন শুরু হতে যাচ্ছে, তখন বিশ্ব হকির নজর এখন এই আটটি শক্তিশালী ফ্র্যাঞ্চাইজির ওপর। গত মৌসুমের নাটকীয় জয় আর এবার দলগুলোর আমূল পরিবর্তন—সব মিলিয়ে হকি প্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক টানটান উত্তেজনার লড়াই।

নিচে হকি ইন্ডিয়া লিগ ২০২৬-এর অংশগ্রহণকারী আটটি দলের শক্তি, দুর্বলতা এবং শিরোপা জয়ের প্রস্তুতির একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:


১. বেঙ্গল টাইগার্স (Bengal Tigers): শিরোপা ধরে রাখার মিশন

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বেঙ্গল টাইগার্স এবারও হট ফেবারিট। গত মৌসুমে তাদের লড়াকু মানসিকতা এবং কৌশলী খেলা দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করেছিল।

  • নেতৃত্ব ও কোচিং: দলের অধিনায়ক হিসেবে রয়েছেন প্রিয়াংকা সিং। তার ঠান্ডা মাথার নেতৃত্ব গতবার দলকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করেছিল। অভিজ্ঞ কোচ সঞ্জয় মিশ্রের অধীনে দলটি এবার আরও বেশি সুসংগঠিত।

  • শক্তি: তাদের প্রধান শক্তি হলো রক্ষণভাগ এবং মাঝমাঠের মধ্যে দুর্দান্ত বোঝাপড়া। সঞ্জয় মিশ্রের ‘টোটাল হকি’ কৌশল প্রতিপক্ষের আক্রমণকে নস্যাৎ করতে কার্যকর।

  • প্রস্তুতি: গতবারের মূল কাঠামোর সঙ্গে এবার কিছু তরুণ দেশি প্রতিভাকে যুক্ত করেছে টাইগার্সরা, যা তাদের গভীরতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

২. এসজি পাইপার্স (SG Pipers): পুনর্গঠিত শক্তির অভ্যুত্থান

গত মৌসুমের খামতিগুলো পূরণ করে এসজি পাইপার্স এবার সম্পূর্ণ নতুন চেহারায় আবির্ভূত হয়েছে। দলটির মালিকপক্ষ এবং ম্যানেজমেন্ট এবার বড় বিনিয়োগ করেছে।

  • নতুনত্ব: অরবিন্দ ঘোষের অধিনায়কত্বে দলটি এবার অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। নতুন কোচের অধীনে পাইপার্সরা আধুনিক হকির গতিশীল কৌশলে অভ্যস্ত হচ্ছে।

  • লক্ষ্য: তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো বেঙ্গল টাইগার্সের একাধিপত্য ভেঙে শিরোপা নিজেদের করে নেওয়া। দলটির ফরোয়ার্ড লাইন এবার লিগের অন্যতম শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

৩. দিল্লি ডায়নামোস (Delhi Dynamos): ভারসাম্য ও তারুণ্যের মিশেল

দিল্লি ডায়নামোস বরাবরই শারীরিক হকি খেলার জন্য পরিচিত। তবে ২০২৬ মৌসুমে তারা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে।

  • মূল খেলোয়াড়: দলের প্রাণভোমরা রাহুল শর্মা। তার ড্র্যাগ-ফ্লিক এবং পেনাল্টি কর্নার কনভার্সন রেট দলের বড় সম্পদ।

  • কোচিং দর্শন: কোচ বালু মুরলী এবার ডিফেন্স-টু-অ্যাটাক ট্রানজিশনের ওপর কাজ করছেন। তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা রাখা দিল্লির এই দলটি ডার্ক হর্স হয়ে উঠতে পারে।

৪. মুম্বাই স্টিলার্স (Mumbai Steelers): শৃঙ্খলা ও সংগঠনের প্রতিচ্ছবি

মুম্বাই স্টিলার্স এবার ‘ডিসিপ্লিনড হকি’ খেলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কোচ আদিত্য রাজ দলের প্রতিটি পজিশনে ব্যাক-আপ খেলোয়াড় নিশ্চিত করেছেন।

  • রণকৌশল: বিক্রম সিংয়ের অভিজ্ঞ কাঁধে চড়ে মুম্বাই তাদের আক্রমণ সাজাচ্ছে। তাদের ডিফেন্স লাইনে এবার বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে যাতে শেষ মুহূর্তে গোল খাওয়ার প্রবণতা কমানো যায়।

৫. হায়দ্রাবাদ হকস (Hyderabad Hawks): আগ্রাসনের নতুন নাম

হায়দ্রাবাদ হকস এবার লিগের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক দল হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে। কোচ সঞ্জীব কুমার বিশ্বাস করেন, "আক্রমণই হলো শ্রেষ্ঠ প্রতিরক্ষা।"

  • আক্রমণভাগ: আশিষ সিংয়ের গতি এবং ড্রিবলিং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠতে পারে। দলটি ছোট ছোট পাসে বলের দখল রেখে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে।


৬. পুনে প্রাইড (Pune Pride): আবেগ ও কৌশলের মেলবন্ধন

পুনে প্রাইড এমন একটি দল যারা তাদের প্যাশন বা আবেগের জন্য পরিচিত। তবে এবার তারা শুধু আবেগ নয়, বরং প্রখর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে চায় মাঠে।

news image
আরও খবর
  • প্রস্তুতি: কোচ অমিত কুমারের অধীনে তারা হাই-ইনটেনসিটি ট্রেনিং ক্যাম্প করেছে। তাদের লক্ষ্য হলো ম্যাচের শুরুতেই গোল করে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেওয়া।

৭. কলকাতা কোয়েস্ট (Kolkata Quest): বুদ্ধিবৃত্তিক হকির কারিগর

কলকাতার মানুষের হকির প্রতি ভালোবাসা দীর্ঘদিনের। কলকাতা কোয়েস্ট সেই ঐতিহ্যকে সঙ্গী করে আধুনিক হকির সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে।

  • তারকা খেলোয়াড়: রাজীব মিত্রের উপস্থিতি দলটিকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। কলকাতা কোয়েস্ট এবার তাদের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে জোর দিচ্ছে বেশি, যাতে বল পজিশন নিজেদের হাতে থাকে।

৮. চেন্নাই সেন্টিনেলস (Chennai Sentinels): স্থিতিশীলতার সন্ধানে

চেন্নাইয়ের দলটি গত কয়েক মৌসুমে ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগেছে। তবে ২০২৬-এ তারা সুশান্ত রায়ের নেতৃত্বে একটি অত্যন্ত স্থিতিশীল দল গঠন করেছে।

  • পরিবর্তন: কোচ বিক্রম সিং রক্ষণভাগকে লোহার বর্মের মতো তৈরি করেছেন। চেন্নাই এবার কাউন্টার-অ্যাটাকিং হকিতে বিশেষ চমক দেখাতে পারে।


লীগ টেবিলের লড়াই: পরিসংখ্যান ও প্রত্যাশা

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের লিগটি ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে চলেছে। দলগুলোর মধ্যে শক্তির পার্থক্য খুবই সামান্য।

দল বিশেষত্ব লক্ষ্য
বেঙ্গল টাইগার্স চ্যাম্পিয়ন মানসিকতা শিরোপা রক্ষা
এসজি পাইপার্স পুনর্গঠিত আক্রমণ ফাইনালে পৌঁছানো
দিল্লি ডায়নামোস তরুণ প্রতিভা প্লে-অফ নিশ্চিত করা
কলকাতা কোয়েস্ট সুসংগঠিত মাঝমাঠ শিরোপা জয়

হকি ইন্ডিয়া লিগ (HIL) ২০২৬ শুরু হতে চলেছে এবং এই মৌসুমে আমরা দেখতে পাবো দেশের সেরা হকি দলগুলির মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা। হকি ইন্ডিয়া লিগে অংশগ্রহণকারী দলগুলি সবাই একে অপরের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে, আর প্রতিটি দলই তাদের দলের শক্তি বৃদ্ধি করে এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য কঠিন পরিশ্রম করছে। বেঙ্গল টাইগার্স, যারা গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তারা এবার তাদের শিরোপা ধরে রাখার জন্য মুখিয়ে আছে, তবে তাদের সামনে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের অস্তিত্ব রয়েছে। এসজি পাইপার্স, যারা পুনর্গঠন করে নতুন দলে বেশ কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় যোগ করেছে, তারা এবার শক্তিশালী হতে প্রস্তুত।

এই নিবন্ধে আমরা একে একে ৮টি দলের পরিচিতি এবং তাদের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

১. বেঙ্গল টাইগার্স (Bengal Tigers)

গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গল টাইগার্স আবারও মাঠে নামছে শিরোপা ধরে রাখার জন্য। দলের রথী-মহারথী খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্যতম হলেন অধিনায়ক প্রিয়াংকা সিং, যিনি গত মৌসুমে দলের জন্য অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদান করেছেন। বেঙ্গল টাইগার্সের শক্তি তাদের অভিজ্ঞতা, কৌশল এবং দৃঢ় প্রতিরক্ষা। তাদের কোচ, সঞ্জয় মিশ্র, খেলার মধ্যে স্ট্র্যাটেজি এবং টিম কমিউনিকেশন গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মানেন। নতুন খেলোয়াড়দের যুক্ত করা তাদের শক্তি আরও বাড়িয়ে তুলতে সহায়ক হবে। বেঙ্গল টাইগার্স দলের আক্রমণাত্মক খেলার ধরন তাদের ফ্যানদের জন্য বেশ আকর্ষণীয়। তাদের শিরোপা জয়ের লক্ষ্য এবারও একটাই – চ্যাম্পিয়ন হওয়া।

২. এসজি পাইপার্স (SG Pipers)

পুনর্গঠিত এসজি পাইপার্স এবার এক নতুন দলে শক্তিশালী তারকা খেলোয়াড়দের নিয়ে আসছে। দলটি এবার একটি নতুন যুগে প্রবেশ করতে চলেছে, যেখানে নতুন কোচ এবং কৌশল নিয়ে তারা মাঠে নামবে। পুনর্গঠনের পরে এসজি পাইপার্সের শক্তি বেড়েছে, এবং তারা বেঙ্গল টাইগার্সের মতো চ্যাম্পিয়নদের হারানোর জন্য প্রস্তুত। দলের অধিনায়ক, অরবিন্দ ঘোষ, এই বছরের খেলাগুলিতে দলের কৌশলগত দিক নিয়ে কাজ করছেন। দলটি নতুন কিছু তারকা খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্ত করেছে, যারা তাদের আক্রমণাত্মক খেলার শক্তি বাড়াতে সক্ষম। তাদের লক্ষ্য এবার ফাইনালে পৌঁছানো এবং শিরোপা জেতা।

৩. দিল্লি ডায়নামোস (Delhi Dynamos)

দিল্লি ডায়নামোস এবার শক্তিশালী হয়ে উঠছে তাদের উন্নত দলগত কৌশল এবং তরুণ প্রতিভাদের সঙ্গে। দলের প্রধান খেলোয়াড়, রাহুল শর্মা, দলের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনাকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছেন। দলের কোচ, বালু মুরলী, আক্রমণাত্মক এবং প্রতিরক্ষামূলক কৌশলের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল তৈরি করেছেন। দিল্লি ডায়নামোস তাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চমৎকার ফিনিশিং এবং সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দেখাতে চাইছে। তাদের লক্ষ্য শক্তিশালী আক্রমণ এবং সুনির্দিষ্ট খেলার মাধ্যমে প্লে-অফে পৌঁছানো।

৪. মুম্বাই স্টিলার্স (Mumbai Steelers)

মুম্বাই স্টিলার্সের দলও একেবারে নতুন রূপে মাঠে নামছে এই মৌসুমে। তাদের নতুন কোচ, আদিত্য রাজ, দলকে একটি দায়িত্বশীল এবং সংগঠিত খেলায় নিযুক্ত করার জন্য কাজ করছেন। মুম্বাই স্টিলার্সের দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা রয়েছেন যারা খেলাধুলায় জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠে নামবেন। দলের প্রধান খেলোয়াড়, বিক্রম সিং, দলের আক্রমণ এবং আক্রমণাত্মক প্লে প্রক্রিয়া শক্তিশালী করবেন। দলটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা এবং আক্রমণের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল তৈরি করছে, যাতে তারা প্রতিটি ম্যাচে জয়ী হতে পারে।

৫. হায়দ্রাবাদ হকস (Hyderabad Hawks)

হায়দ্রাবাদ হকসের দল এবারের হকি ইন্ডিয়া লিগে দারুণ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামবে। দলটি নতুন শক্তিশালী খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং কোচ, সঞ্জীব কুমার, তাদের আক্রমণাত্মক খেলার উপর জোর দিচ্ছেন। হায়দ্রাবাদ হকসের খেলোয়াড়রা জানে যে, তাদের জন্য প্রতিটি ম্যাচ একটি বড় চ্যালেঞ্জ, তবে তারা দৃঢ় প্রতিরক্ষা এবং আক্রমণাত্মক খেলা শিরোপা জয়ের দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম। দলের প্রধান খেলোয়াড়, আশিষ সিং, আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করার জন্য কিছু নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামবেন।

৬. পুনে প্রাইড (Pune Pride)

পুনে প্রাইড এবার মাঠে নামছে অনেক শক্তিশালী খেলোয়াড় এবং উন্নত কৌশল নিয়ে। কোচ, অমিত কুমার, আক্রমণাত্মক খেলা ও দলগত কৌশলের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। পুনে প্রাইডের দলটি মঞ্চে নিজেদের প্যাশন এবং চেতনা দেখানোর জন্য প্রস্তুত। দলের খেলোয়াড়রা কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সফলতা অর্জন করতে বিশেষভাবে প্রস্তুত। পুনে প্রাইডের জন্য লক্ষ্য হবে শক্তিশালী আক্রমণ এবং সঠিক সময়ে সঠিক কৌশল অবলম্বন করা।

৭. কলকাতা কোয়েস্ট (Kolkata Quest)

কলকাতা কোয়েস্ট এবার একটি শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নামছে। দলটি একটি সমন্বিত খেলায় বিশ্বাসী এবং তাদের প্রতিটি খেলোয়াড়ই সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রশিক্ষিত। দলের অন্যতম প্রধান খেলোয়াড়, রাজীব মিত্র, যিনি মাঠে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখানোর জন্য প্রস্তুত। কলকাতা কোয়েস্টের কৌশল হচ্ছে আক্রমণাত্মক খেলা এবং প্রতিপক্ষের ভুলের জন্য প্রস্তুত থাকা। তাদের লক্ষ্য হবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে শিরোপা জয় করা।

৮. চেন্নাই সেন্টিনেলস (Chennai Sentinels)

চেন্নাই সেন্টিনেলস এই বছর নতুন জাগরণ নিয়ে মাঠে নামছে। দলের কোচ, বিক্রম সিং, একটি ভারসাম্যপূর্ণ খেলা তৈরি করার জন্য কাজ করছেন। দলটি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামবে এবং শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও আক্রমণের মধ্য দিয়ে তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে চাইবে। চেন্নাই সেন্টিনেলস দলের প্রধান খেলোয়াড়, সুশান্ত রায়, আক্রমণ এবং প্রতিরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি করতে দলের সেরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করছেন।

উপসংহার

হকি ইন্ডিয়া লিগ ২০২৬ এবার চরম উত্তেজনার মধ্যে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতিটি দল নিজেদের শক্তিশালী খেলার মাধ্যমে শিরোপা জয়ের জন্য প্রস্তুত। বেঙ্গল টাইগার্স যেমন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য আত্মবিশ্বাসী, তেমনি পুনর্গঠিত এসজি পাইপার্স, দিল্লি ডায়নামোস, মুম্বাই স্টিলার্স এবং অন্যান্য দলগুলিও নিজেদের সেরা প্রদর্শন দিতে প্রস্তুত। এই মৌসুমে হকি প্রেমীদের জন্য অসাধারণ প্রতিযোগিতা দেখা যাবে।

হকি ইন্ডিয়া লিগ ২০২৬ শুধুমাত্র একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি ভারতীয় হকির হারানো মর্যাদা ফিরে পাওয়ার লড়াই। বেঙ্গল টাইগার্সের শিরোপা রক্ষার লড়াই বনাম এসজি পাইপার্সের পুনরুত্থান—এই দ্বৈরথ দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে কোটি কোটি দর্শক। সব মিলিয়ে ১৬ দিনের এই মহাযুদ্ধ ভারতের ক্রীড়া মানচিত্রে নতুন ইতিহাস লিখতে চলেছে।

Preview image