Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

হায়দ্রাবাদের ওপেনার আমন রাওয়ের দুর্দান্ত ২০০*! ভারতীয় পেস ত্রয়ীকে ৮টি ছক্কা হাঁকিয়ে মিচেছেন!

হায়দ্রাবাদ ক্রিকেট দলের ওপেনার আমন রাও তার দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শনী দিয়ে তৃতীয় Vijay Hazare Trophy ম্যাচে অসাধারণ ২০০ রানের ইনিংস খেলেছেন। এই ইনিংসের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের দুর্দান্ত ব্যাটিং দক্ষতা প্রমাণ করেননি, বরং ভারতীয় পেস ত্রয়ীকে চমকপ্রদ ৮টি ছক্কা মেরে আরও একবার সবাইকে হতাশ করেছেন। রাওয়ের এই অসাধারণ ইনিংসটি ভারতীয় ক্রিকেটের পেস আক্রমণকে চ্যালেঞ্জ জানায়, যাদের মধ্যে ছিলেন শার্দুল ঠাকুর, উমেশ যাদব, এবং মোহাম্মদ শামি। রাওয়ের আগ্রাসী ব্যাটিং বিশেষভাবে নজর কাড়ে, যেখানে তিনি দ্রুত রান তুলতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে তার ছক্কার আক্রমণ ভারতীয় পেসারদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়াও, রাওয়ের ইনিংসটি তার ব্যক্তিগত এবং দলের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ইনিংসটি শুধু হায়দ্রাবাদ দলকেই শক্তিশালী করেছে, বরং তার ভবিষ্যত ক্রিকেট ক্যারিয়ারের দিকে নতুন আলো ফেলেছে। ভারতের জাতীয় দলে তার সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি এখন আরও নিশ্চিত মনে হচ্ছে।

আমন রাওয়ের দ্বিশতক: ভারতীয় পেস ত্রয়ীকে দুমড়ে-মুচড়ে হায়দ্রাবাদি ঝড়ের নতুন ইতিহাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, হায়দ্রাবাদ | ৭ জানুয়ারি, ২০২৬

ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের মানচিত্র গত এক দশকে আমূল বদলে গেছে। আইপিএল-এর চাকচিক্য আর জাতীয় দলের তীব্র প্রতিযোগিতার ভিড়ে প্রায়শই এমন কিছু প্রতিভার উদয় হয়, যারা রাতারাতি রূপকথার জন্ম দেন। ২০২৬ সালের বিজয় হাজারে ট্রফিতে হায়দ্রাবাদ বনাম অবশিষ্ট ভারতের (পেশাদার পেস আক্রমণ সমৃদ্ধ) ম্যাচে ঠিক তেমনই এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেললেন তরুণ ওপেনার আমন রাও। তার অপরাজিত ২০০* রানের ইনিংসটি কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং এটি ছিল আধুনিক ক্রিকেটের আগ্রাসন ও টেকনিকের এক নিখুঁত সংমিশ্রণ। বিশেষ করে ভারতের জাতীয় দলের তিন অভিজ্ঞ পেসার—মোহাম্মদ শামি, উমেশ যাদব এবং শার্দুল ঠাকুরকে যেভাবে তিনি মাঠের বাইরে পাঠিয়েছেন, তা ক্রিকেট ইতিহাসে দীর্ঘকাল চর্চিত হবে।

১. হায়দ্রাবাদের নতুন নক্ষত্র: আমন রাওয়ের উত্থান

হায়দ্রাবাদ শহরটি বরাবরই শৈল্পিক ব্যাটসম্যানদের জন্য পরিচিত। মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন থেকে শুরু করে ভিভিএস লক্ষ্মণ—প্রত্যেকের ব্যাটিংয়ে ছিল এক ধরণের আভিজাত্য। কিন্তু আমন রাও সেই ঘরানাকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন। তার ব্যাটিংয়ে আভিজাত্যের চেয়ে বেশি ছিল 'নিষ্ঠুরতা'। হায়দ্রাবাদের অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় থেকে উঠে আসা এই তরুণকে নিয়ে এতদিন শুধু স্থানীয় কোচদের মধ্যেই আলোচনা সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এই ২০০* রানের ইনিংসের পর তার নাম এখন ভারতীয় নির্বাচকদের টেবিলের শীর্ষে।

আমন রাও যখন ক্রিজে আসেন, তখন হায়দ্রাবাদ কিছুটা চাপে ছিল। কিন্তু শুরু থেকেই তিনি যে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন, তাতে মনে হচ্ছিল তিনি কোনো ঘরোয়া লিগ নয়, বরং নিজের বাড়ির আঙিনায় নেট সেশন করছেন। তার প্রতিটি শট ছিল সুপরিকল্পিত এবং কার্যকর।

২. বিধ্বংসী ২০০* রানের ইনিংস: পরিসংখ্যানের নেপথ্যে

বিজয় হাজারে ট্রফির ইতিহাসে দ্বিশতক খুব কম ক্রিকেটারেরই আছে। আমন রাও সেই অভিজাত ক্লাবে নিজের নাম লেখালেন অত্যন্ত রাজকীয় ভঙ্গিতে। মাত্র ১৩৪ বলে তিনি তার ২০০* রান পূর্ণ করেন। তার এই ইনিংসে ছিল ২২টি চার এবং ১২টি বিশাল ছক্কা।

ইনিংসের প্রথম ১০ ওভার তিনি নিজেকে কিছুটা সংযত রেখেছিলেন, বলের গতি ও বাউন্স বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পাওয়ারপ্লে শেষ হতেই তিনি রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। মাঝমাঠের স্পিনারদের ওপর দিয়ে যেভাবে তিনি বড় শট খেলেছেন, তাতে বিপক্ষ দলের অধিনায়ক দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। তার ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব ছিল ফুটওয়ার্ক। পেসারদের গতিকে কাজে লাগিয়ে যেভাবে তিনি ব্যাকফুট পাঞ্চ করেছেন, তা দেখে বিসিসিআই-এর নির্বাচকরাও মুগ্ধ হয়েছেন।


৩. পেস ত্রয়ীর বিরুদ্ধে লড়াই: যখন শামি-উমেশ-শার্দুল অসহায়

একটি ইনিংসে ২০০ রান করা প্রশংসনীয়, কিন্তু যখন সেই রান আসে আন্তর্জাতিক মানের বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে, তখন তার ওজন কয়েক গুণ বেড়ে যায়। আমন রাওয়ের মুখোমুখি ছিলেন ভারতের তিন দুর্ধর্ষ পেসার:

  • মোহাম্মদ শামি: যার সিম পজিশন এবং সুইং বিশ্বের যেকোনো ব্যাটারের জন্য বিভীষিকা।

  • উমেশ যাদব: যার ১৪০+ কিমি গতির বাউন্স বিপক্ষকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়।

  • শার্দুল ঠাকুর: যাকে 'লর্ড' বলা হয় তার উইকেট নেওয়ার অদ্ভুত ক্ষমতার জন্য।

আমন রাও এই ত্রয়ীকে লক্ষ্য করে মোট ৮টি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়েছেন। শামির ইন-সুইঙ্গারকে মিড-উইকেটের ওপর দিয়ে ফ্লিক করে ছক্কা মারা বা উমেশ যাদবের শর্ট পিচ বলকে পুল করে গ্যালারিতে পাঠানো ছিল সাহসিকতার চূড়ান্ত নিদর্শন। শার্দুল ঠাকুরের স্লোয়ার বলগুলোকেও তিনি দারুণভাবে রিড করেছেন। এই পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে, আমন রাও বড় মঞ্চের জন্য মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।


৪. টুর্নামেন্টের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব

বিজয় হাজারে ট্রফিকে বলা হয় ভারতীয় ওয়ানডে দলে ঢোকার প্রবেশদ্বার। সামনেই যখন আইসিসি ওয়ানডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং এশিয়ান কাপের মতো টুর্নামেন্ট রয়েছে, তখন এই ধরণের ইনিংস নির্বাচকদের ভাবনায় বিশাল ওলটপালট ঘটিয়ে দেয়। হায়দ্রাবাদ দলের কোচ এবং মেন্টরদের মতে, আমন রাও গত কয়েক মাস ধরে নেটে প্রতিদিন ১০০০-এর বেশি বল খেলেছেন। তার এই কঠোর পরিশ্রমই মাঠে প্রতিফলিত হয়েছে।

এই ম্যাচের ফলাফল কেবল হায়দ্রাবাদের পয়েন্ট টেবিলে উন্নতি করেনি, বরং প্রতিপক্ষ দলগুলোর মনে ভীতি ধরিয়ে দিয়েছে। একজন ওপেনার যদি ইনিংসের শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে ২০০ রান করতে পারেন, তবে সেই দলের রান রেট এবং মোরাল কোথায় পৌঁছাতে পারে, তা এই ম্যাচটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

৫. ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার এবং বর্তমানে ধারাভাষ্যকাররা আমন রাওয়ের এই ইনিংসকে 'বিরল' বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। কেউ কেউ তাকে 'নতুন প্রজন্মের বীরেন্দ্র শেবাগ' হিসেবেও দেখতে শুরু করেছেন। নির্বাচক কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, "আমন রাওয়ের টেকনিক্যাল গ্রিপ এবং পেস খেলার ক্ষমতা অসাধারণ। বিশেষ করে বড় পেসারদের বিরুদ্ধে তার ভয়ডরহীন মানসিকতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।"

আমন রাও নিজে অবশ্য বেশ বিনয়ী। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, "আমি শুধু বল দেখে খেলার চেষ্টা করেছি। আমার মাথায় ছিল না আমি কার বিরুদ্ধে খেলছি, শুধু লক্ষ্য ছিল হায়দ্রাবাদকে একটি বড় টার্গেট দেওয়া। শামি ভাই বা উমেশ ভাইয়ের মতো বোলারদের বিরুদ্ধে রান পাওয়াটা স্বপ্নের মতো।"

৬. জাতীয় দলে ডাক পাওয়া কি সময়ের অপেক্ষা?

বর্তমানে ভারতীয় দলে ওপেনিং স্লটে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও আমন রাওয়ের মতো একজন 'পাওয়ার হিটার' সবসময়ই বাড়তি সুবিধা দেয়। তার এই ইনিংসের পর জল্পনা শুরু হয়েছে যে, আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বা নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে হোম সিরিজে তাকে ব্যাক-আপ ওপেনার হিসেবে রাখা হতে পারে।

আমন রাওয়ের ব্যাটিং গেম, তার শারীরিক গঠন এবং স্ট্যামিনা নির্দেশ করে যে তিনি তিন ফরম্যাটেই খেলার উপযোগী। তবে সাদা বলের ক্রিকেটে তিনি বর্তমানে দেশের অন্যতম সেরা প্রতিভা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

news image
আরও খবর

ক্রিকেট ইতিহাসে কিছু ইনিংস থাকে যা কেবল রেকর্ড বুকে সীমাবদ্ধ থাকে, আর কিছু ইনিংস থাকে যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ব্যাটারদের পথ দেখায়। আমন রাওয়ের ২০০* রানের এই ইনিংসটি দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে পড়ে। ভারতের পেস ত্রয়ীকে পর্যুদস্ত করে তিনি যে বার্তাটি দিয়েছেন তা পরিষ্কার—ভারতীয় ক্রিকেটে এক নতুন সুপারস্টারের আগমন ঘটেছে। হায়দ্রাবাদের নিজামদের ঐতিহ্যের সাথে আমন রাওয়ের এই নতুন তেজ যুক্ত হয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে এক নতুন অধ্যায় রচনার অপেক্ষা করছে। ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, কবে এই তরুণ তুর্কি নীল জার্সি গায়ে ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে গর্জে উঠবেন।

হায়দ্রাবাদের ওপেনার আমন রাওয়ের ২০০* রানের বিস্ফোরক ইনিংস: ভারতীয় পেস ত্রয়ীকে ৮টি ছক্কা হাঁকিয়ে

বিশ্ব ক্রিকেটে প্রতিনিয়ত নতুন তারকা উঠে আসে এবং তারা নিজেদের দক্ষতা দিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায়, হায়দ্রাবাদ ক্রিকেট দলের ওপেনার আমন রাও তার অসাধারণ ব্যাটিং দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে গত তৃতীয় Vijay Hazare Trophy ম্যাচে ২০০* রানের এক বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন। এই ইনিংসটি কেবল হায়দ্রাবাদ দলের জন্য নয়, বরং ভারতের জাতীয় দলে তার আগমনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এই ইনিংসের মধ্যে দিয়ে তিনি ভারতীয় পেস ত্রয়ীকে ৮টি ছক্কা হাঁকিয়ে প্রমাণ করেছেন যে তিনি কেবলমাত্র একজন ব্যাটসম্যানই নন, বরং এক বিশেষ ধরনের ক্রিকেটার, যিনি যেকোনো প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ দিতে প্রস্তুত।

আমন রাও: হায়দ্রাবাদ ক্রিকেটের নতুন তারকা

আমন রাও, হায়দ্রাবাদ ক্রিকেট দলের ওপেনার হিসেবে পরিচিত, কিন্তু তার ব্যাটিংয়ের জন্য তিনি ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে তেমন পরিচিত ছিলেন না। তবে, এই ইনিংসের মাধ্যমে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছেন এবং তার নাম এখন সকলের মুখে মুখে। এমন একটি সময় ছিল, যখন আমন রাও শুধু আঞ্চলিক ক্রিকেটে পারফর্ম করতেন, কিন্তু তার এই বিস্ফোরক ইনিংস তার জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা আরও একধাপ এগিয়ে দিয়েছে।

এমনকি তিনি যেভাবে ভারতীয় পেস আক্রমণকে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন, তা কেবলমাত্র বড় মানের ক্রিকেটারদের পক্ষেই সম্ভব। শার্দুল ঠাকুর, উমেশ যাদব এবং মোহাম্মদ শামি, এই ত্রয়ী ভারতের পেস আক্রমণকে নেতৃত্ব দেয়, কিন্তু রাওয়ের ব্যাটিং তাণ্ডব তাদের জন্য ছিল এক চ্যালেঞ্জ। ৮টি ছক্কা হাঁকানো এবং ২০০* রান করা, বিশেষ করে যখন ভারতীয় পেস আক্রমণ মাঠে ছিল, তা তার ব্যাটিংয়ের গভীরতা এবং সাহসিকতাকে প্রদর্শন করে।

২০০ রানের ইনিংস: একটি বিশাল মাইলফলক

আমন রাও তার ইনিংসটি শুরু করেন দ্রুত এবং ব্যাটিংয়ের প্রথম দিকেই তার আগ্রাসন সকলকে চমকে দেয়। প্রথম থেকেই তিনি নিজের পরিকল্পনা স্পষ্ট রেখেছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে পেস আক্রমণের বিরুদ্ধে দ্রুত রান তোলার জন্য তাকে আক্রমণাত্মক হতে হবে এবং সেই অনুযায়ী তিনি খেলেন। সিঙ্গল, ডাবল এবং ত্রিশকি ছক্কাগুলির মাধ্যমে রাও খুব দ্রুত ২০০ রান পূর্ণ করেন।

এদিন, তার ব্যাটিংয়ে কোনো প্রকার ভীতি ছিল না। শার্দুল, উমেশ ও শামি, যারা একসময় ভারতীয় দলের প্রধান পেস বোলারদের একজন, তাদের বিপক্ষে তার এই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং সত্যিই একটি অসাধারণ ঘটনা। তিনি প্রতিটি বলের জন্য প্রস্তুত ছিলেন, যেন প্রতিটি বলের আক্রমণ করে নিজের কৌশল প্রয়োগ করতে পারছেন। এতে তার ব্যাটিংয়ের গভীরতা এবং আত্মবিশ্বাস প্রকট হয়ে ওঠে।

ভারতীয় পেস ত্রয়ীর বিরুদ্ধে রাওয়ের পারফরম্যান্স

যখন একটি দলের পেস আক্রমণ শক্তিশালী এবং অভিজ্ঞ থাকে, তখন কোনো ব্যাটসম্যানকে তাদের বিরুদ্ধে রান সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ভারতীয় পেস ত্রয়ী—শার্দুল ঠাকুর, উমেশ যাদব এবং মোহাম্মদ শামি—যারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায়ই সাফল্য অর্জন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে রাওয়ের পারফরম্যান্স আসলে তার অনন্যতার পরিচায়ক। এই তিন বোলারের বিরুদ্ধে তার ব্যাটিং ছিল এক অসাধারণ কীর্তি।

যেখানে শার্দুল ঠাকুর এবং উমেশ যাদব প্রায়ই তাদের শক্তিশালী লাইন ও লেনথ দিয়ে ব্যাটসম্যানদের আক্রমণ করতে চায়, সেখানে মোহাম্মদ শামি তার ভয়ংকর সুইং এবং স্পিড দিয়ে ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করতে সক্ষম। কিন্তু রাও তাদের সকলকে বিস্মিত করেছে। রাও তাদের তীব্র বাউন্সার এবং বোলিং পরিকল্পনাকে অগ্রাহ্য করে ছক্কা মারতে সক্ষম হয়েছে। এই ব্যাটিং ছিল সত্যিই তার ধৈর্য এবং ক্ষমতার প্রকাশ।

এখানে উল্লেখযোগ্য যে, রাওয়ের প্রতিটি ছক্কা ছিল শুধু এক আক্রমণ নয়, বরং একটি বার্তা ছিল যে, তিনি এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত। তাকে সহজে ভুলে যাওয়া যাবে না।

টুর্নামেন্টে এই ইনিংসের গুরুত্ব

ভিজে হযারে ট্রফি, যেখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটাররা অংশগ্রহণ করে, এটি একটি বড় টুর্নামেন্ট। এখানেই দলের ওপেনার হিসেবে আমন রাও তার ২০০ রানের ইনিংস খেলে দেখিয়ে দিলেন যে তার মধ্যে বিশ্বমানের ক্রিকেটারের সমস্ত গুণাবলী রয়েছে।

এই ম্যাচে হায়দ্রাবাদ দলের বিজয় শুধুমাত্র একটি দলের কৃতিত্ব ছিল না, বরং এটি আমন রাওয়ের জন্য তার নতুন ক্রিকেট জীবনের সূচনা ছিল। যদি তিনি এমনভাবে কনসিসটেন্ট পারফর্ম্যান্স দেখাতে থাকেন, তবে তার জাতীয় দলের দলে খেলার সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পাবে।

কোচ এবং টিম ম্যানেজমেন্টের প্রশংসা

আমন রাওয়ের এই ইনিংসের পর তার কোচ এবং টিম ম্যানেজমেন্টও তাকে প্রশংসিত করেছে। কোচরা জানাচ্ছেন, এটি শুধুমাত্র তার প্রতিভা নয়, বরং তার কঠোর পরিশ্রম এবং মনোযোগের ফলস্বরূপ হয়েছে। তিনি তার সেশনে অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন এবং প্রতিটি বলের প্রতি তার যথাযথ মনোভাব ছিল।

বিভিন্ন কোচ তার এই পারফরম্যান্সে একমত হয়েছেন যে, তিনি শুধুমাত্র একজন সিংহদৃষ্টি ব্যাটসম্যানই নন, বরং একসাথে তার মধ্যে রয়েছে ভিন্ন ধরণের ক্রিকেটীয় দক্ষতা, যা তাকে আরও উচ্চতর স্তরে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।

জাতীয় দলের দলে আমন রাও?

আমন রাওয়ের এই অসাধারণ ইনিংস জাতীয় দলের খেলার পরিসরে নতুন আলো ফেলতে পারে। তার অসাধারণ ব্যাটিং এবং ভারতীয় পেস আক্রমণকে ছক্কা হাঁকানোর ক্ষমতা প্রমাণ করে যে, তার মধ্যে জাতীয় দলের জন্য প্রয়োজনীয় সকল গুণ রয়েছে। তার পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে জাতীয় দলের দলে জায়গা করে নেওয়া।

ভারতীয় দলের ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে, যদি তিনি আগামী কিছু ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করতে পারেন, তবে তাকে দ্রুত জাতীয় দলের স্কোয়াডে সুযোগ দেওয়া হবে। রাওয়ের পারফরম্যান্সে তারা তাদের পূর্ণ আস্থা রেখে বলছেন যে, সে আসন্ন বিশ্বকাপের দলে তার স্থান ধরে রাখতে পারে।

উপসংহার

অপরূপ ব্যাটিং এবং সাহসী পারফরম্যান্সের জন্য আমন রাও বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। তার এই ২০০* রানের ইনিংস শুধু একটি দলের জন্য নয়, বরং তার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেও একটি বিশাল মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতীয় পেস আক্রমণের বিরুদ্ধে এমন পারফরম্যান্স কেবলমাত্র বিশ্বমানের ক্রিকেটারদের পক্ষেই সম্ভব। এখন অপেক্ষা শুধু সেই সময়ের, যখন আমন রাও তার এই পারফরম্যান্স নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বড় মঞ্চে শিরোনাম করবেন।

Preview image