Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ট্রাম্পের ফোনবার্তা উপেক্ষা করেই ইরান প্রসঙ্গে আগ্রাসী নেতানিয়াহু? পশ্চিম এশিয়ায় বাড়ছে উত্তাপ

ইরানকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে পাল্টা হামলা না করার বার্তা দিলেও, ইজরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ ঘিরে প্রশ্ন উঠছে—মার্কিন সতর্কতা উপেক্ষা করেই কি আগ্রাসী পথে হাঁটছে তেল আভিভ? কূটনীতি, নিরাপত্তা ও যুদ্ধের আশঙ্কায় ফের অস্থির আন্তর্জাতিক মহল। 

ট্রাম্পের ফোনবার্তা উপেক্ষা করেই ইরান প্রসঙ্গে আগ্রাসী নেতানিয়াহু? পশ্চিম এশিয়ায় বাড়ছে উত্তাপ
International News

ইরানকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। একদিকে ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ, অন্যদিকে আমেরিকার কূটনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোনে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা না করার বার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সতর্কবার্তার পরেও ইজরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি ও আক্রমণাত্মক অবস্থান ঘিরে প্রশ্ন উঠছে—ওয়াশিংটনের পরামর্শ উপেক্ষা করেই কি আরও বড় সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে তেল আভিভ?

পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিতে ইজরায়েল-ইরান দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। বহু বছর ধরেই দুই দেশের সম্পর্ক শত্রুতাপূর্ণ। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, লেবাননে হিজবুল্লাহর প্রভাব, সিরিয়া ও ইয়েমেনে ইরান-ঘনিষ্ঠ শক্তির সক্রিয়তা এবং ইজরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ এই সবকিছু মিলে অঞ্চলটি বারবার অস্থির হয়ে উঠেছে। তবে এবার পরিস্থিতি আলাদা, কারণ সরাসরি ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের আশঙ্কা আবার সামনে এসেছে। একই সঙ্গে আমেরিকা কূটনৈতিক পথে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের ফোনবার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইজরায়েলের মধ্যে পাল্টা আঘাতের দাবি জোরালো হয়। ইজরায়েলের নিরাপত্তা মহল ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের একাংশ মনে করছে, ইরানের হামলার জবাব না দিলে তা দুর্বলতার বার্তা দেবে। অন্যদিকে, আমেরিকার আশঙ্কা—ইজরায়েল যদি সরাসরি ইরানে বড় সামরিক আঘাত করে, তাহলে পুরো পশ্চিম এশিয়া আগুনে জ্বলে উঠতে পারে। শুধু ইরান ও ইজরায়েল নয়, লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত সংযমের পথে হাঁটার বার্তা দিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের অবস্থান এখানে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি একদিকে ইজরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার পথও খোলা রাখতে চাইছেন। এই দ্বৈত অবস্থানই বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও নাটকীয় করে তুলেছে। ট্রাম্প reportedly নেতানিয়াহুকে বোঝাতে চেয়েছেন, তড়িঘড়ি পাল্টা হামলা করলে কূটনৈতিক আলোচনার পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। আমেরিকা যদি ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে থাকে, তবে একটি সামরিক সংঘাত সেই প্রক্রিয়াকে ভেঙে দিতে পারে। ফলে ট্রাম্পের বার্তা ছিল সামরিক জবাবের আগে সময় দেওয়া হোক কূটনীতিকে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, নেতানিয়াহু কি সেই বার্তা সম্পূর্ণভাবে মানবেন? ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর সরকারের নিরাপত্তা নীতির কেন্দ্রে রয়েছে ইরান-প্রতিরোধ। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, রেভল্যুশনারি গার্ডের কর্মকাণ্ড এবং ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির ভূমিকা নিয়ে ইজরায়েলের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। ফলে তেল আভিভের কাছে ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুধু কূটনৈতিক বিষয় নয়, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। এই অবস্থায় আমেরিকার সংযমী বার্তা ইজরায়েলের নিরাপত্তা হিসাবের সঙ্গে সবসময় মেলে না।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দেখা যাচ্ছে, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে উত্তেজনা শুধু কথার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইজরায়েলও পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের পথে এগিয়েছে। কোথাও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কোথাও সামরিক ঘাঁটি, কোথাও কৌশলগত পরিকাঠামোকে কেন্দ্র করে হামলার খবর সামনে এসেছে। যদিও যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব তথ্য যাচাই করা কঠিন, তবুও একাধিক রিপোর্টে স্পষ্ট—সংঘাতের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হল আঞ্চলিক যুদ্ধের সম্ভাবনা। ইরান একা নয়; পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ইরান-ঘনিষ্ঠ শক্তির উপস্থিতি রয়েছে। লেবাননে হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনে হুথি, ইরাকে বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠী এবং সিরিয়ায় ইরান-সমর্থিত নেটওয়ার্ক সব মিলিয়ে ইরানের প্রভাব বলয় বিস্তৃত। যদি ইজরায়েল সরাসরি ইরানে বড় হামলা চালায়, তাহলে এই গোষ্ঠীগুলিও সংঘাতে যুক্ত হতে পারে। এতে ইজরায়েলের উপর বহু দিক থেকে চাপ তৈরি হবে এবং আমেরিকার সামরিক স্বার্থও আক্রান্ত হতে পারে। তাই ওয়াশিংটন সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে।

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কের মধ্যেও সাম্প্রতিক সময়ে টানাপোড়েনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আগে দুই নেতা একে অপরের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু ইরান ও লেবানন ইস্যুতে তাঁদের অবস্থানের পার্থক্য এখন প্রকাশ্যে আসছে। Axios-এর আগের রিপোর্টেও ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত ফোনালাপের কথা বলা হয়েছে, যেখানে লেবানন ও ইরানকে কেন্দ্র করে মতভেদ স্পষ্ট হয়েছিল। এই ধারাবাহিকতা থেকে বোঝা যায়, ইজরায়েলের সামরিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ওয়াশিংটন পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়।

নেতানিয়াহুর দিক থেকেও রাজনৈতিক চাপ কম নয়। ইজরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিরাপত্তা ইস্যু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের হামলার পর যদি সরকার নরম অবস্থান নেয়, তবে বিরোধী দল ও কট্টরপন্থী মহল তাঁকে দুর্বল বলে আক্রমণ করতে পারে। অন্যদিকে বড় সামরিক পদক্ষেপ নিলে আন্তর্জাতিক চাপ, বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়বে। ফলে নেতানিয়াহু এমন এক কঠিন অবস্থায় রয়েছেন, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপের রাজনৈতিক ও সামরিক মূল্য আছে।

আমেরিকার জন্যও পরিস্থিতি সহজ নয়। ইজরায়েল আমেরিকার দীর্ঘদিনের মিত্র। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আমেরিকাকেও সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়তে হতে পারে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি, রেড সি-তে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, তেলের বাজার, মিত্র আরব দেশগুলির নিরাপত্তা—সব কিছুই প্রভাবিত হতে পারে। তাই ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য সম্ভবত একদিকে ইজরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া, অন্যদিকে সংঘাতকে এমন পর্যায়ে যেতে না দেওয়া যেখানে আমেরিকাকে বড় সামরিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

ইরানের অবস্থানও এই সংকটের কেন্দ্রে। তেহরান বারবার দাবি করে থাকে, ইজরায়েলের আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। ইরানের নেতৃত্বের কাছে ইজরায়েল শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র নয়, একটি কৌশলগত শত্রু। ফলে ইজরায়েলের প্রতিটি হামলার জবাব দেওয়ার চাপ ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও থাকে। বিশেষ করে রেভল্যুশনারি গার্ড ও কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলি কোনও নরম অবস্থানকে সহজে মেনে নেবে না। তাই ইরানের পক্ষ থেকেও পাল্টা হুঁশিয়ারি আসতে পারে।

news image
আরও খবর

তবে এই সংঘাতের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হল ভুল হিসাবের সম্ভাবনা। অনেক সময় কোনও পক্ষই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ চায় না, কিন্তু ছোট হামলা, ভুল লক্ষ্যবস্তু, বেসামরিক প্রাণহানি বা সামরিক ঘাঁটিতে বড় ক্ষতির ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ইজরায়েল যদি সীমিত হামলা করতে চায়, ইরান সেটিকে বড় আক্রমণ হিসেবে ধরে জবাব দিতে পারে। আবার ইরানের সীমিত প্রতিক্রিয়াকেও ইজরায়েল বৃহত্তর নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখাতে পারে। এই চক্র একবার শুরু হলে তা থামানো কঠিন।

এই কারণেই আন্তর্জাতিক মহল এখন ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ফোনালাপকে শুধু দুই নেতার ব্যক্তিগত কথোপকথন হিসেবে দেখছে না। এটি আসলে পশ্চিম এশিয়ার বৃহত্তর কূটনৈতিক পরীক্ষার অংশ। আমেরিকা কি ইজরায়েলকে সংযত রাখতে পারবে? ইজরায়েল কি নিজের নিরাপত্তা নীতি থেকে সরে আসবে? ইরান কি কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ রাখবে? এই তিনটি প্রশ্নের উত্তরই আগামী কয়েক দিন বা সপ্তাহে পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।

তেলের বাজারেও এই উত্তেজনার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত বাড়লে আন্তর্জাতিক তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত কোনও সংকট তৈরি হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেতে পারে। ভারতসহ তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলির জন্য এটি উদ্বেগের বিষয়। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহণ, উৎপাদন, আমদানি ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই ইরান-ইজরায়েল সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকেও এই পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিম এশিয়ায় লক্ষ লক্ষ ভারতীয় কর্মরত। উপসাগরীয় দেশগুলি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার বড় অংশের সঙ্গে যুক্ত। ইরান, ইজরায়েল এবং আরব দেশগুলির সঙ্গে ভারতের আলাদা আলাদা কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তাই ওই অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে ভারতকে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে নাগরিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সামলাতে হবে। ভারত সাধারণত সংযম, আলোচনা এবং কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেয়। এই সংকটেও সেই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

লেবানন ইস্যুও এই সংকটকে আরও জটিল করেছে। হিজবুল্লাহকে কেন্দ্র করে ইজরায়েল ও লেবাননের সীমান্তে আগেও বহুবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান-ঘনিষ্ঠ শক্তি হিসেবে হিজবুল্লাহর ভূমিকা ইজরায়েলের নিরাপত্তা পরিকল্পনার একটি বড় অংশ। যদি ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের সঙ্গে লেবানন ফ্রন্ট যুক্ত হয়, তাহলে যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। সাম্প্রতিক রিপোর্টে লেবাননকে কেন্দ্র করেও ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় শক্তিগুলির ভূমিকা কী হবে, সেটিও নজরকাড়া বিষয়। পশ্চিম এশিয়ায় বড় যুদ্ধ শুরু হলে শরণার্থী সংকট, মানবিক বিপর্যয়, খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহের সমস্যা এবং বাণিজ্যপথে বিঘ্ন সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়বে। ইউরোপ ইতিমধ্যেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব সামলাচ্ছে। তার উপর পশ্চিম এশিয়ায় নতুন সংঘাত শুরু হলে বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

ট্রাম্পের কূটনৈতিক বার্তা তাই অনেকের কাছে সংঘাত ঠেকানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি reportedly নেতানিয়াহুকে বোঝাতে চেয়েছেন, এখন পাল্টা হামলার সময় নয়। কিন্তু ইজরায়েল যদি মনে করে তার নিরাপত্তা সরাসরি হুমকির মুখে, তাহলে তারা মার্কিন পরামর্শ পুরোপুরি মেনে চলবে এমন নিশ্চয়তা নেই। আগেও ইজরায়েল বিভিন্ন সময়ে নিজের নিরাপত্তা স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে একতরফা সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

অন্যদিকে ইরানও যদি মনে করে আমেরিকা প্রকাশ্যে সংযমের কথা বললেও বাস্তবে ইজরায়েলকে সমর্থন করছে, তাহলে তেহরান কূটনৈতিক আলোচনায় অনীহা দেখাতে পারে। এতে আমেরিকা-ইরান সম্ভাব্য সমঝোতার পথ আরও কঠিন হবে। ইরানের অভ্যন্তরে কট্টরপন্থীরা বলতে পারে, আলোচনার নামে সময় নষ্ট করা হচ্ছে, অথচ ইজরায়েল সামরিকভাবে সুবিধা নিচ্ছে। এই ধরনের রাজনৈতিক চাপ আলোচনাকে ব্যর্থ করে দিতে পারে।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সংযম এবং পরিষ্কার যোগাযোগ। সামরিক উত্তেজনার সময় ভুল বার্তা, অসম্পূর্ণ তথ্য বা আবেগঘন সিদ্ধান্ত বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আমেরিকা, ইজরায়েল, ইরান এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলির মধ্যে ব্যাকচ্যানেল যোগাযোগ অত্যন্ত জরুরি। কূটনৈতিক দরজা খোলা রাখা না গেলে সংঘাত দ্রুত এমন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, যেখান থেকে ফিরে আসা কঠিন।

সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে এই সংঘাত দূরের ঘটনা মনে হলেও এর প্রভাব খুব বাস্তব। যুদ্ধ মানে শুধু সামরিক ঘাঁটি বা ক্ষেপণাস্ত্র নয়; যুদ্ধ মানে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি, ঘরবাড়ি ছাড়া হওয়া, শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়া এবং অর্থনীতির উপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ। পশ্চিম এশিয়ার প্রতিটি সংঘাতের মানবিক মূল্য বিপুল। তাই রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে কোটি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা জড়িয়ে থাকে।

Preview image