পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্রকারী পাকিস্তানি জঙ্গি সাজিদ সইফুল্লাকে সম্প্রতি পাকিস্তানের এক স্কুলের অনুষ্ঠানে দেখা গেছে যেখানে তিনি পাকিস্তান সেনার সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন
পহেলগাঁও হত্যালীলা এখনও ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পুলওয়ামার পহেলগাঁও অঞ্চলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে অন্তত ১৯ জন সেনা সদস্যকে হত্যা করা হয় এই হত্যাকাণ্ডটি ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে পাকিস্তানি মদতপুষ্ট জঙ্গিদের একটি বড় আক্রমণ ছিল হামলার পেছনে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-এ-তৈবা ছিল যার সঙ্গে আরও এক জঙ্গি সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট টিআরএফ-এর সম্পর্ক রয়েছে
এনআইএ জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এই হামলার বিষয়ে ব্যাপক তদন্ত চালায় এবং তাদের চার্জশিটে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে চার্জশিটে পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে সইফুল্লা কাসুরির নাম উঠে আসে সইফুল্লা পাকিস্তানের কাসুরের বাসিন্দা এবং পাকিস্তানের সবচেয়ে বিপজ্জনক জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-এ-তৈবার সঙ্গে যুক্ত এনআইএ-এর তদন্তে জানা গেছে সইফুল্লার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি নিয়মিতভাবে পাকিস্তানি সেনা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমন্ত্রণ পান
সইফুল্লার এই সংযোগটি পহেলগাঁও হামলার পেছনে পাকিস্তানের মদদ ও পরিকল্পনার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে এনআইএ-এর দাবি অনুযায়ী সইফুল্লা লস্কর-এ-তৈবার এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং তার সংগঠনটি কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে একটি বড় ভূমিকা পালন করে আসছে বিশেষত কাশ্মীরি স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলোর মধ্যে সইফুল্লা ও তার সংগঠনের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ
সইফুল্লার নিয়মিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছ থেকে আমন্ত্রণ পাওয়া নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে এবং এটি আরও প্রমাণিত হয়েছে যে পাকিস্তান সরকারের মদদপুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওপর আক্রমণ চালানোর জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছ থেকে সাহায্য পাচ্ছে সইফুল্লা তার সংগঠনের সদস্যদের মাধ্যমে পাক সেনাবাহিনীর জন্য অর্থনৈতিক ও অস্ত্র সহায়তা নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করেন এবং এই কাজে সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখেন
এনআইএ-এর তদন্তে আরও জানা যায় যে সইফুল্লা একাধিকবার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে হামলার পরিকল্পনা করেছে এবং হামলা চালানোর জন্য তিনি তার সংগঠনকে প্রস্তুত করতে সহায়তা করেছেন তার সংগঠনটি কাশ্মীরের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা চালানোর জন্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণ করছিল এবং তাদের উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর অপারেশনগুলো ব্যাহত করা
সইফুল্লার এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে পহেলগাঁও হামলার পেছনে পাকিস্তানি মদত এবং ষড়যন্ত্রের শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে সামনে এসেছে এবং ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী এই তথ্যগুলি আরও বিস্তৃতভাবে তদন্ত করে চলছে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী বর্তমানে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নিয়েছে যাতে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি কাশ্মীরে আর কোন ধরনের হামলা চালাতে না পারে
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে সইফুল্লার সম্পর্ক যে মাত্রা পর্যন্ত পৌঁছেছে তা ভারতের নিরাপত্তার জন্য এক বড় উদ্বেগের বিষয় ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যাতে এই ধরনের জঙ্গি হামলা প্রতিরোধ করতে পারে তার জন্য ভারত সরকারও বড় আয়োজন করেছে
এনআইএ তাদের তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ পেয়েছে যে পাকিস্তান সেনাবাহিনী শুধু সইফুল্লাকে সাহায্য করেই থেমে থাকেনি তারা বিভিন্ন উপায়ে কাশ্মীরের পরিস্থিতি খারাপ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী এই ধরনের হামলা প্রতিরোধ করার জন্য আরো শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে
ভারতের সরকারের এই পদক্ষেপগুলি আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আরও চাপ সৃষ্টি করতে সহায়ক হবে এবং কাশ্মীরের জনগণ যাতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে সেই জন্যও এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ
সম্প্রতি, সইফুল্লার একটি ভাইরাল ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি পাকিস্তানের একটি স্কুলে বক্তৃতা প্রদান করছেন। ভিডিওতে সইফুল্লা দাবী করেন পাক সেনা আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তারা আমাকে জঙ্গি নিহত সেনাদের জানাজায় অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানায়। সইফুল্লা তার বক্তৃতায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে আরও হুমকি দেন এবং দাবি করেন, ভারত তাকে ভয় পায়। তাঁর বক্তব্যে কাশ্মীর নিয়ে তার সংগঠনের কর্মকাণ্ডের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। সইফুল্লা দৃঢ়ভাবে বলেছেন আমরা কখনও কাশ্মীরের আন্দোলন থেকে পিছু হটব না।
এনআইএ-এর তদন্তে জানা যায়, সইফুল্লা শুধু পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন না, তিনি পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে সরকারের সহযোগিতায় নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। সইফুল্লা নিজেও দাবি করেছেন যে, ‘‘ভারত আমাকে ভয় পায়’’ এবং তিনি পহেলগাঁও হামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে নাম উঠে আসার পর তার পরিচিতি আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে গেছে।
এনআইএ আরও জানায়, সইফুল্লার মাথার দাম ১০ লাখ টাকা ধার্য করা হয়েছে এবং যিনি তাকে গ্রেফতার করতে সাহায্য করবেন, তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হবে। সইফুল্লার ওপর বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন ইউএপিএ এর অধীনে নিষিদ্ধ জঙ্গি ঘোষণার পর তার বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের গ্রেফতারি পরোয়ানা।
পহেলগাঁও হামলার ঘটনার তদন্তে আরও কিছু বিস্ময়কর তথ্য পাওয়া গেছে। পহেলগাঁও হামলার দুই মাস আগে পাকিস্তানের পঞ্জাবের কাঙ্গলপুরে সইফুল্লাকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্পে দেখা গিয়েছিল। এর মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, সইফুল্লা পাক সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করছিল এবং এর মাধ্যমে হামলার জন্য পরিকল্পনা ও সমর্থন পেয়ে থাকতে পারে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও সাইফুল্লার সম্পর্কের প্রমাণাদি একটি বড় ইঙ্গিত দেয়, যা তার দ্বারা পরিচালিত গোপন যুদ্ধের বাস্তবতা প্রকাশ করে। পাক সেনার মদদে লস্কর-এ-তৈবা, জঈশ-এ-মোহাম্মদ এবং অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনগুলি কাশ্মীরের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এই সমস্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানী সেনার ভূমিকা নতুন করে আলোচনার যোগ্য হয়ে উঠেছে।
এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং সরকারের সঙ্গে সইফুল্লার সম্পর্ক কতটা গভীর এবং তিনি পহেলগাঁও হামলায় কীভাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিলেন সইফুল্লার গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কাশ্মীরে অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে এমন তথ্য পাওয়া গিয়েছে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীও এখন এই জঙ্গি গোষ্ঠী ও তাদের সহযোগী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী অভিযান চালাতে প্রস্তুত
পাকিস্তান যদি এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত না থাকে তবে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে ভারতের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ কেননা পাকিস্তান সমর্থিত জঙ্গি হামলার পরবর্তী ধাপ কী হতে পারে তা অনুমান করা কঠিন তবে ভারত সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী তাদের পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে এবং দেশের সীমান্তের সুরক্ষা শক্তিশালী করার জন্য আরও উদ্যোগ নিচ্ছে
এনআইএ’র তদন্তে সইফুল্লার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সইফুল্লা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন এবং তাদের নির্দেশে কাজ করতেন তার বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের সাহায্য ও নির্দেশনা পেয়েছিলেন সইফুল্লা পাকিস্তানের ভূখণ্ডে তার সংগঠন পরিচালনা করতেন এবং সেখান থেকে কাশ্মীরে হামলার জন্য সমর্থন পেতেন
এই সমস্ত তথ্য প্রমাণ করে যে পাকিস্তান সরকার এবং সেনাবাহিনী কাশ্মীরের পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল করার জন্য সইফুল্লা ও তার সংগঠনকে সমর্থন দেয় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি কাশ্মীরের শান্তি বিঘ্নিত করার জন্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সমর্থন নিয়ে পরিকল্পনা করে আসছে
ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী এই ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত তারা ইতোমধ্যে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে এবং সীমান্ত সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করছে ভারতের সরকার কাশ্মীরের পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং পাকিস্তানি মদতপুষ্ট জঙ্গিদের কার্যকলাপ বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক মহলে আরও চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে
পাকিস্তান যদি এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত না থাকে তবে এটি শুধুমাত্র ভারতের জন্য নয় বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জন্য একটি বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াবে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে এবং এই ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে
ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী এবং সরকার তাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গি হামলাগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করছে তারা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইছে এবং তাদের সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভের চেষ্টা করছে
এই অবস্থায় ভারতের সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত এবং কাশ্মীরের শান্তি বজায় রাখতে তারা সকল প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সইফুল্লা ও তার সংগঠন যেভাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাহায্য নিয়ে কাশ্মীরের শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে তা নিশ্চিতভাবেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে
যতদিন পাকিস্তান এই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে ততদিন দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকতে পারে এবং ভারত সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সমস্ত শক্তি দিয়ে কাজ করবে পাকিস্তান সমর্থিত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের একতা এবং দৃঢ়তা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে