বেঙ্গালুরুর নিমহ্যান্স এবং আইআইএসসি এর বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে এমন এক যন্ত্র আবিষ্কার করলেন যা মানুষের স্বপ্নকে ভিডিওর মতো রেকর্ড করতে সক্ষম। এই যন্ত্রটির নাম দেওয়া হয়েছে স্বপ্নচিত্র। এটি মাথায় পরলে ঘুমের মধ্যে মস্তিষ্কের তরঙ্গের পাঠ নিয়ে তা পর্দায় ফুটিয়ে তোলে। মানসিক রোগের চিকিৎসা এবং সৃজনশীল দুনিয়ায় এই আবিষ্কার এক বিপ্লব আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মানুষের মন এক গভীর রহস্যের আধার আর সেই রহস্যের সবচেয়ে গহীন কোণ হলো স্বপ্ন। আদিমকাল থেকেই মানুষ জানতে চেয়েছে ঘুমের মধ্যে সে যা দেখে তা কি শুধুই কল্পনা নাকি অন্য কোনো জগতের বার্তা। সকালে উঠে অনেক সময়ই আমরা স্বপ্নের কথা ভুলে যাই বা ঝাপসা মনে থাকে। ইশ যদি স্বপ্নটা রেকর্ড করে রাখা যেত এই আক্ষেপ আমাদের সবারই আছে। কিন্তু আজ থেকে সেই আক্ষেপ আর থাকবে না। ভারতের বিজ্ঞানীদের অসামান্য মেধা এবং কঠোর পরিশ্রমে আজ সেই অসম্ভব সম্ভব হলো। বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরো সায়েন্সেস বা নিমহ্যান্স এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স বা আইআইএসসি এর একদল স্নায়ুবিজ্ঞানী তৈরি করেছেন বিশ্বের প্রথম স্বপ্ন রেকর্ড করার যন্ত্র বা ড্রিম রেকর্ডার। বিজ্ঞানীরা এই যন্ত্রটির নাম দিয়েছেন স্বপ্নচিত্র।
আজ সকালে বেঙ্গালুরুর বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী এই যন্ত্রটি বিশ্বের সামনে উন্মোচন করেন। এই আবিষ্কারের ফলে ভারত মস্তিষ্ক গবেষণা বা নিউরোসায়েন্স এর দুনিয়ায় আমেরিকা এবং জাপানকে পেছনে ফেলে এক নম্বরে উঠে এল। এতদিন জাপানি বিজ্ঞানীরা এমআরআই স্ক্যানার দিয়ে ঝাপসা ছবি তৈরি করতে পেরেছিলেন কিন্তু ভারতের স্বপ্নচিত্র সম্পূর্ণ রঙিন এবং প্রায় হাই ডেফিনিশন ভিডিও তৈরি করতে সক্ষম।
গবেষণার নেপথ্য কাহিনী এবং প্রযুক্তি
এই অসাধ্য সাধনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ১২ বছরের গবেষণা। প্রজেক্টের প্রধান বিজ্ঞানী ডক্টর রাঘবন আইয়ার বলেন আমরা মানুষের মস্তিষ্কের ভিজ্যুয়াল কর্টেক্স বা দর্শনেন্দ্রিয় অংশের সংকেতগুলোকে ডিকোড বা পাঠোদ্ধার করার চেষ্টা করছিলাম। যখন আমরা কোনো কিছু দেখি তখন আমাদের মস্তিষ্কে এক বিশেষ ধরনের বৈদ্যুতিক তরঙ্গ বা ইলেকট্রিক্যাল ইমপালস তৈরি হয়। ঘুমের মধ্যে যখন আমরা স্বপ্ন দেখি তখনও একই ধরনের তরঙ্গ তৈরি হয় কিন্তু আমাদের চোখ বন্ধ থাকে। আমাদের চ্যালেঞ্জ ছিল চোখ বন্ধ থাকা অবস্থায় মস্তিষ্কের সেই তরঙ্গগুলোকে ধরে সেগুলোকে ছবিতে রূপান্তরিত করা।
স্বপ্নচিত্র যন্ত্রটি দেখতে অনেকটা আধুনিক ভিআর হেডসেট বা ভার্চুয়াল রিয়েলিটি চশমার মতো। এর মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার ন্যানো সেন্সর যা মাথার খুলির ওপর থেকে মস্তিষ্কের সূক্ষ্মতিসূক্ষ্ম কম্পন মাপতে পারে। এই সেন্সরগুলো একটি সুপারকম্পিউটারের সাথে যুক্ত থাকে। কম্পিউটারটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে সেই কম্পনগুলোকে বিশ্লেষণ করে এবং তাকে দৃশ্যে পরিণত করে। এর জন্য বিজ্ঞানীরা লক্ষ লক্ষ মানুষের ঘুমের ডেটা এবং স্বপ্নের প্যাটার্ন নিয়ে একটি বিশাল ডেটাবেস তৈরি করেছিলেন। এআই সেই ডেটাবেস ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে বুঝে নেয় যে ব্যক্তিটি ঘুমের মধ্যে কী দেখছেন।
প্রথম সফল পরীক্ষা এবং বিস্ময়
আজকের অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও দেখানো হয় যা গত রাতে এক স্বেচ্ছাসেবী বা ভলান্টিয়ারের ঘুমের সময় রেকর্ড করা হয়েছিল। ভিডিওটিতে দেখা যায় ওই ব্যক্তি একটি নীল সমুদ্রের ধারে হাঁটছেন এবং আকাশে দুটি চাঁদ দেখা যাচ্ছে। দৃশ্যটি এতটাই পরিষ্কার ছিল যে সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ পর্যন্ত অনুমান করা যাচ্ছিল। ডক্টর আইয়ার বলেন আমরা শব্দের তরঙ্গগুলোকেও রেকর্ড করতে পারছি। অর্থাৎ স্বপ্নে আপনি কার সাথে কথা বলছেন বা কী শব্দ শুনছেন তাও শোনা যাবে।
স্বেচ্ছাসেবী তরুণটি বলেন সকালে উঠে আমার মনে ছিল না আমি কী স্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু যখন এই ভিডিওটি দেখলাম তখন আমি অবাক হয়ে গেলাম। আমার অবচেতন মন বা সাবকনশাস মাইন্ড যে এত সুন্দর দৃশ্য তৈরি করতে পারে তা আমার জানা ছিল না। এটি আমার কাছে এক জাদুর মতো মনে হচ্ছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিপ্লব
স্বপ্নচিত্র কেবল বিনোদনের জন্য নয় এর আসল উদ্দেশ্য হলো মানসিক রোগের চিকিৎসা। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন সিজোফ্রেনিয়া ডিপ্রেশন এবং পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার বা পিটিএসডি এর মতো রোগের চিকিৎসায় এটি গেম চেঞ্জার হতে পারে। অনেক সময় রোগীরা তাদের মনের কথা বা ভয়ের কারণ মুখে বলতে পারেন না বা তারা নিজেরাই জানেন না তাদের অবচেতনে কী চলছে। তাদের স্বপ্ন বিশ্লেষণ করে ডাক্তাররা সহজেই সমস্যার মূলে পৌঁছাতে পারবেন।
উদাহরণস্বরূপ একজন যুদ্ধফেরত সৈনিক যিনি পিটিএসডি তে ভুগছেন তিনি হয়তো রোজ রাতে দুঃস্বপ্ন দেখেন কিন্তু সকালে ভুলে যান। এই যন্ত্রের মাধ্যমে ডাক্তাররা দেখতে পাবেন তিনি ঠিক কী দেখছেন এবং সেই অনুযায়ী থেরাপি দিতে পারবেন। এছাড়াও কোমায় থাকা রোগীদের মনের অবস্থা বোঝার জন্যও এটি ব্যবহার করা হতে পারে। কোমায় থাকা মানুষটি কি স্বপ্ন দেখেন বা তার মস্তিষ্কে কী চলছে তা জানার জন্য স্বপ্নচিত্র একটি জানালা খুলে দেবে।
সৃজনশীলতা এবং শিল্পকলা
চলচ্চিত্র নির্মাতা লেখক এবং শিল্পীদের জন্য এই যন্ত্র এক আশীর্বাদ। অনেক বিখ্যাত গল্প বা সিনেমার প্লট স্বপ্নের মাধ্যমে এসেছে। পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান ইনসেপশন সিনেমার ধারণা স্বপ্ন থেকেই পেয়েছিলেন। এখন পরিচালকরা তাদের স্বপ্ন রেকর্ড করে সেটাকেই সিনেমার চিত্রনাট্য হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। একজন শিল্পী তার স্বপ্নের রং এবং দৃশ্যগুলো হুবহু ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন। সঙ্গীতশিল্পীরা স্বপ্নে শোনা সুর রেকর্ড করে নতুন গান তৈরি করতে পারবেন। সৃজনশীলতার এক নতুন জোয়ার আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বপ্ন শেয়ারিং বা ড্রিম স্ট্রিমিং
বিজ্ঞানীরা বলছেন ভবিষ্যতে এমন দিন আসবে যখন আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের স্বপ্ন শেয়ার করতে পারব। যেমন আমরা এখন ইনস্টাগ্রামে ছবি বা ভিডিও দিই তেমনি ভবিষ্যতে সকালে উঠে আমরা ফেসবুকে আমাদের গত রাতের স্বপ্নের ভিডিও পোস্ট করব। বন্ধুরা সেই স্বপ্নে লাইক কমেন্ট করবে। ড্রিম স্ট্রিমিং নামে এক নতুন বিনোদন মাধ্যম তৈরি হবে। মানুষ অন্যের স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করবে। নেটফ্লিক্স বা অ্যামাজনের মতো ড্রিমফ্লিক্স নামে নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হতে পারে যেখানে বিখ্যাত মানুষদের স্বপ্ন দেখানো হবে।
নৈতিকতা এবং গোপনীয়তার প্রশ্ন
তবে প্রতিটি মুদ্রার যেমন দুটি পিঠ থাকে তেমনি এই প্রযুক্তিরও কিছু অন্ধকার দিক রয়েছে। মানবাধিকার কর্মী এবং আইনজীবীরা ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। তাদের প্রধান চিন্তা হলো প্রাইভেসি বা গোপনীয়তা। মানুষের মনই ছিল শেষ ব্যক্তিগত জায়গা যেখানে কেউ উঁকি দিতে পারত না। কিন্তু স্বপ্নচিত্র সেই দেওয়াল ভেঙে দিল।
একজন আইনজীবী বলেন সরকার বা পুলিশ যদি এই যন্ত্র ব্যবহার করে সন্দেহভাজনদের মনের কথা জানতে চায় তবে তা কি মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে না। কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে কোনো অপরাধ করেন তবে কি তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। এছাড়াও হ্যাকাররা যদি আমাদের মস্তিষ্কের ডেটা হ্যাক করে আমাদের গোপন ভয় বা আকাঙ্ক্ষা জেনে যায় তবে তা ব্ল্যাকমেইল করার কাজে ব্যবহার হতে পারে। বিজ্ঞানীরা অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন যে এই যন্ত্রটি অফলাইনে কাজ করে এবং ডেটা এনক্রিপ্ট করা থাকে। তবে বিতর্ক থামছে না।
স্বপ্ন হ্যাকিং এবং বিজ্ঞাপন
আরেকটি ভয়ের দিক হলো ড্রিম হ্যাকিং। বড় বড় কোম্পানিগুলো কি আমাদের স্বপ্নে বিজ্ঞাপন ঢোকানোর চেষ্টা করবে। ধরুন আপনি স্বপ্নে দেখছেন আপনি মরুভূমিতে তৃষ্ণার্ত এবং হঠাৎ সেখানে একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ঠান্ডা পানীয়র দোকান দেখতে পেলেন। এটি কি কাকতালীয় নাকি কোম্পানিটি আপনার অবচেতনে বিজ্ঞাপন ঢুকিয়ে দিয়েছে। এই ধরনের বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে এখন থেকেই আইন তৈরির দাবি উঠছে।
শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োগ
স্বপ্নচিত্র শিক্ষাক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে। লুসিড ড্রিম বা সচেতন স্বপ্নের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা ঘুমের মধ্যে পড়াশোনা রিভাইস করতে পারবে। বিজ্ঞানীরা বলছেন ঘুমের মধ্যে মস্তিষ্ক তথ্য প্রসেস করে। এই যন্ত্রের মাধ্যমে আমরা সেই প্রসেসটিকে আরও উন্নত করতে পারি। কোনো কঠিন অঙ্ক বা ভাষা শেখার ক্ষেত্রে ঘুমের সময়টিকে কাজে লাগানো যেতে পারে।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
ভারতের সাধারণ মানুষের মধ্যে এই আবিষ্কার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কলকাতার এক কলেজ ছাত্রী বলেন আমি খুব উত্তেজিত। আমি রোজ অদ্ভুত সব স্বপ্ন দেখি। এবার সেগুলো বন্ধুদের দেখাতে পারব। কিন্তু তার বাবা বলেন এটা প্রকৃতির বিরুদ্ধে যাওয়া। কিছু জিনিস গোপন থাকাই ভালো। সব কিছু প্রযুক্তির আলোয় নিয়ে আসলে জীবনের রহস্য বা রোমাঞ্চ বলে কিছু থাকবে না।
মুম্বাইয়ের এক আইটি কর্মী বলেন আমার কাজের চাপে ঘুমানোর সময় পাই না। যদি এই যন্ত্র দিয়ে আমি আমার ভালো স্বপ্নগুলো বেছে নিয়ে আবার দেখতে পারি তবে মানসিক শান্তি পাব। এটি অনেকটা অন ডিমান্ড ড্রিম বা চাহিদামতো স্বপ্নের মতো হবে।
আন্তর্জাতিক মহলে ভারত
স্বপ্নচিত্র আবিষ্কারের ফলে ভারত প্রযুক্তি বিশ্বে এক সুপারপাওয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলো। নাসা এবং ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি এই প্রযুক্তি মহাকাশচারীদের ওপর ব্যবহার করার জন্য ভারতের সাথে চুক্তি করতে চাইছে। মহাকাশে দীর্ঘ সময় একা থাকার ফলে নভোচারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কী প্রভাব পড়ে তা এই যন্ত্র দিয়ে বোঝা যাবে। আমেরিকা এবং চীনের বিজ্ঞানীরা ভারতীয় বিজ্ঞানীদের এই সাফল্যকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। টাইম ম্যাগাজিন এটিকে এই শতাব্দীর সেরা আবিষ্কার হিসেবে প্রচ্ছদে স্থান দিয়েছে।
ভবিষ্যতের পৃথিবী
স্বপ্নচিত্র কেবল শুরু মাত্র। বিজ্ঞানীরা বলছেন আগামী ১০ বছরের মধ্যে আমরা কেবল স্বপ্ন রেকর্ডই করব না বরং স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণও করতে পারব। আমরা রাতে শোয়ার আগে ঠিক করে দিতে পারব আজ আমরা কী স্বপ্ন দেখব। প্যারিসে ছুটি কাটানোর স্বপ্ন নাকি ছোটবেলার স্কুলে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন। এটি হবে এক কাস্টমাইজড ড্রিম ওয়ার্ল্ড।
উপসংহার
২০২৬ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি দিনটি মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। মানুষ চাঁদ জয় করেছে মঙ্গল জয়ের পথে কিন্তু নিজের মনের অতল গহ্বর জয় করা বাকি ছিল। স্বপ্নচিত্র সেই গহ্বরের চাবি আমাদের হাতে তুলে দিল। এই প্রযুক্তি আমাদের শেখাবে কীভাবে নিজেদের আরও ভালো করে জানা যায়। ভয় বা ট্রমা কাটিয়ে কীভাবে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফেরা যায়। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে প্রযুক্তি হলো ভৃত্যের মতো তাকে মনিব হতে দেওয়া যাবে না। আমাদের স্বপ্নের নিয়ন্ত্রণ যেন যন্ত্রের হাতে চলে না যায়। স্বপ্ন হোক সুন্দর স্বপ্ন হোক মুক্ত। ভারতীয় বিজ্ঞানীদের এই যুগান্তকারী আবিষ্কার মানবজাতির কল্যাণে লাগুক এটাই আমাদের প্রার্থনা। ঘুমের দেশের চাবিকাঠি এখন আমাদের পকেটে। এবার চোখ বুজে নতুন এক দুনিয়া দেখার পালা। শুভ রাত্রি এবং শুভ স্বপ্ন।