Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

“ইনিয়া বনাম দ. আফ্রিকা প্রথম টেস্ট: মাত্র ১৮৯ রানেই অলআউট, ভারতের লিড মাত্র ৩০”

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে মাত্র ১৮৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় ভারত। ফলে প্রথম ইনিংস শেষে ভারতের লিড দাঁড়ায় মাত্র ৩০ রান। ব্যাটিং ব্যর্থতায় চাপে পড়েছে টিম ইন্ডিয়া, আর ম্যাচের মোড় ঘোরার সম্ভাবনা আরও বেড়ে গেছে।

ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে প্রথম টেস্ট ম্যাচ সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এই সিরিজে দুই দলেরই পারফরম্যান্স কেবল বর্তমান ফর্ম নয়, ভবিষ্যতের প্রস্তুতিও নির্দেশ করে। বিশেষত দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে খেলতে গেলে ভারতীয় দলের সামনে চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ব্যাটিং, বোলিং, পিচের অবস্থা এবং আবহাওয়া—সবকিছুই এখানে আলাদা। তাই সিরিজের প্রথম টেস্ট ভারত কেমনভাবে শুরু করে তা নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে থাকে। কিন্তু ভারতের ব্যাটিং পারফরম্যান্স সেই প্রত্যাশাকে পূরণ করতে পারেনি যখন দল মাত্র ১৮৯ রানে অলআউট হয়ে যায় এবং লিড দাঁড়ায় মাত্র ৩০। এই ফলাফল কেবল স্কোরবোর্ডে নয়, মনের দিক থেকেও বড় ধাক্কা দিয়েছে ভারতীয় দলকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাটসম্যানদের মনোযোগের অভাব, অতিরিক্ত বাউন্স সামলাতে ব্যর্থতা এবং সঠিক শট সিলেকশন না হওয়াই ভারতের ব্যর্থতার প্রধান কারণ।

ম্যাচের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে উইকেট ব্যাটসম্যানদের জন্য খুব সুবিধাজনক হবে না। দক্ষিণ আফ্রিকার পেসাররা উইকেটের বাউন্স এবং গতি ব্যবহার করে ভারতীয় টপ অর্ডারকে চাপে রাখেন। রোহিত শর্মা শুরুতেই সংগ্রাম করতে থাকেন, বল বারবার মিস করতে থাকেন এবং শেষ পর্যন্ত লেন্থ বলেই আউট হয়ে যান। তার আউট হওয়া দলের মনোবল কিছুটা নড়বড়ে করে দেয়, কারণ তিনি ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে দলের শুরুটা স্থির করার দায়িত্বে ছিলেন। পরের ব্যাটসম্যানরাও খুব বেশি সময় ধরে উইকেটে দাঁড়াতে পারেননি। শুভমন গিল কিছুটা চেষ্টা করলেও দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের ধারালো সুইং এবং শর্টপিচ ডেলিভারি সামলাতে গিয়ে ভুল শট খেলেন। বিরাট কোহলি কিছুক্ষণ লড়াই করে যান। তার ব্যাট থেকে কিছু সুন্দর কভার ড্রাইভ বের হয়, কিন্তু একটি অতিরিক্ত লিফট হওয়া বল তার ব্যাটের কানায় লেগে স্লিপে চলে যায়। কোহলির আউট হওয়া ভারতীয় ড্রেসিংরুমে গভীর হতাশা এনে দেয়।

মধ্যক্রমও খুব বেশি সময় টিকতে পারেনি। শ্রেয়স আইয়ার শুরুতে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, কিন্তু বোলারদের বুদ্ধিদীপ্ত বৈচিত্র্যে তিনি আউট হয়ে যান। লোকেশ রাহুল কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এবং দায়িত্ব নিয়ে খেলতে চাইছিলেন। তার ব্যাটিংয়ে দৃঢ়তা এবং শান্ত মেজাজ ছিল। কিন্তু অন্যপ্রান্ত থেকে নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকায় চাপ বাড়ছিলই। রাহুল চেষ্টা করেছিলেন ইনিংস লম্বা করতে, কিন্তু একটি ইনসুইং ডেলিভারি তার প্রতিরক্ষা ভেদ করে স্টাম্পে আঘাত করে। তার আউট হওয়া ছিল ভারতের ব্যাটিং বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় চিহ্ন। এরপর বাকি ব্যাটসম্যানরা খুব বেশি লড়াই দেখাতে পারেননি। রিষভ পন্তের অভাব এখানে খুবই অনুভূত হয়েছে, কারণ তিনি হঠাৎ রানের গতি বাড়িয়ে প্রতিপক্ষকে চাপ দিতে পারতেন। কিন্তু সেই সুযোগ এখানে আসেনি।

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা একটুও ছাড় দেননি। ক্যাগিসো রাবাডা, লুঙ্গি এনগিডি এবং মার্কো জানসেন নিজেদের সেরাটা দিয়েছেন। তাদের নিখুঁত লাইন-লেংথ, এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী বলের গতি ও সুইং পরিবর্তন করা ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বারবার সমস্যায় ফেলেছে। তারা একদিকে অত্যন্ত ধারাবাহিক ছিলেন, অন্যদিকে কৌশলগতভাবে খুবই স্মার্ট ছিলেন। প্রতিটি ব্যাটসম্যানের দুর্বলতা মাথায় রেখে আলাদা পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন, এবং সেই পরিকল্পনা সফলভাবে কাজে লাগিয়েছেন। এই কারণে একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে, আর ভারতীয় ইনিংস ধসে পড়ে।

ভারতের হয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অক্ষর পটেল এবং শার্দুল ঠাকুর। তারা কয়েকটি মূল্যবান রান সংগ্রহ করেন এবং ইনিংসকে একেবারে ভেঙে পড়া থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তাদের শট নির্বাচন এবং দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স দলকে কিছুটা লিড এনে দেয়। যদিও সেই লিড মাত্র ৩০ রান, যা দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে খুব একটা নিরাপদ বলা যায় না। তবে এই সামান্য লিডও ভারতীয় বোলারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, যদি তারা প্রথম সেশনে দ্রুত উইকেট তুলতে পারেন।

এই ম্যাচে ভারতের ব্যাটিং ব্যর্থতার মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন উইকেট পড়ার পর চাপ সামলাতে ব্যর্থতা। দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের বিরুদ্ধে ব্যাটিং সবসময় কঠিন ছিল, কিন্তু যে জিনিসটি বেশি চাপে ফেলেছে তা হলো ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের অস্থিরতা। অনেকেই বুঝে-শুনে শট না খেলে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেছেন এবং ফলাফল হয়েছে বিপর্যয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতি নিজেদের হাতে তুলে নেন। ব্যাটসম্যানদের ধৈর্যের অভাব এখানে স্পষ্ট হয়েছে।

তবে ভারতের বোলিং বিভাগ নিয়ে দলের আশাবাদ আছে। জসপ্রিত বুমরাহ, মোহাম্মদ সিরাজ এবং অক্ষর পটেল যে কোনও সময় ম্যাচে ফিরে আসতে পারেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং নিয়মিত উইকেট তোলা এই ম্যাচে ভারতের একমাত্র উপায়। বিশেষ করে বুমরাহ যদি প্রথমদিকে এক বা দুইটি উইকেট তুলতে পারেন, তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসেও ভাঙন ধরতে পারে। ভারতীয় দল জানে, এই ম্যাচে বোলিংই শেষ ভরসা।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের ব্যাটিং বিভাগে কিছু পরিবর্তনের দরকার হতে পারে। ওভারসিজ কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতার অভাব এবং টেকনিক্যাল সমস্যা বারবার সামনে আসছে। যদিও কিছু তরুণ খেলোয়াড় প্রতিভাবান, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার পেস কন্ডিশনে জমে ওঠার জন্য আরও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। ম্যাচ শেষে ভারতীয় সমর্থকরা হতাশ হলেও আশা ছাড়ছেন না। কারণ ভারত প্রায়ই শেষ মুহূর্তে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা দেখিয়েছে। তবে এই ম্যাচে পরিস্থিতি যে সহজ নয়, তা স্পষ্ট।

এই ম্যাচে ভারতের ব্যর্থতা শুধু ব্যাটিংয়ে সীমাবদ্ধ নয়, মানসিক দিকেও প্রভাব ফেলতে পারে। প্রথম ইনিংসে বড় রান করতে না পারলে প্রতিপক্ষ অনেক সময় বাড়তি আত্মবিশ্বাস পেয়ে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকাও ঠিক সেরকম অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। তারা জানে যে ভারতকে চাপে রেখে বড় লিড নেওয়া সম্ভব। আর যদি দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে বড় রান করে, তাহলে ম্যাচ ভারতের হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। তাই ভারতের বোলিং ইউনিটের ওপর বিরাট দায়িত্ব পড়েছে।

news image
আরও খবর

ম্যাচের বর্তমান পরিস্থিতি যেমনই হোক, ক্রিকেটে কিছুই অসম্ভব নয়। ভারতীয় দল যদি বোলিংয়ে সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংকে দ্রুত চাপে ফেলে, তাহলে ম্যাচে নতুন উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। ক্রিকেট সবসময়ই অনিশ্চয়তার খেলা। মাত্র ৩০ রানের লিড হয়তো পর্যাপ্ত নয়, কিন্তু যথেষ্ট হতে পারে অবিশ্বাস্য কিছু ঘটানোর জন্য। তবে ভারতের ব্যাটসম্যানদের এই ব্যর্থতা ভবিষ্যতেও চিন্তার বিষয় হয়ে থাকবে, কারণ বিদেশের মাটিতে ধারাবাহিক ব্যাটিং পারফরম্যান্স ছাড়া বড় কোনও সিরিজ জেতা সম্ভব নয়।

সুতরাং ম্যাচে ভারতের অবস্থান এখনো কঠিন, কিন্তু আশা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। পরের সেশনে বোলারদের ওপরই নির্ভর করছে সবকিছু। তাদের লড়াই যত শক্তিশালী হবে, ভারতের জয়ের সম্ভাবনাও ততই টিকে থাকবে। ব্যাটিং ব্যর্থতা সত্ত্বেও ভারতীয় বোলারদের সাহসী পারফরম্যান্স যে ম্যাচকে নতুন করে জীবন্ত করে তুলতে পারে, তার নজির ক্রিকেট ইতিহাসে অনেকবারই দেখা গেছে।

ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম টেস্ট ম্যাচের দ্বিতীয় দিন যে নাটকীয় মোড় নেবে, তা অনেকেই অনুমান করেছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পেস-বান্ধব পিচে ব্যাটিং যে মোটেই সহজ হবে না, তা ভারতের শুরুর ব্যাটসম্যানরা বুঝে গিয়েছিলেন প্রথম কয়েক ওভারের মধ্যেই। রোহিত শর্মার দ্রুত আউট হওয়া দলের ওপর প্রথম ধাক্কা দেয়। তার পরপরই শুভমন গিল ভুল শটে আউট হয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিরাট কোহলি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও তার ইনিংসও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। একটি অতিরিক্ত বাউন্স হওয়া ডেলিভারিতে তার ব্যাটের কানায় লেগে স্লিপে ধরা পড়েন তিনি। কোহলির আউট হওয়া ভারতীয় শিবিরে চাপ আরও বাড়িয়ে তোলে।

মধ্যক্রমও খুব বেশি প্রতিরোধ দেখাতে পারেনি। শ্রেয়স আইয়ার এবং লোকেশ রাহুল শুরুতে রান তুললেও দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের ধারালো বোলিংয়ের সামনে তারা টিকে থাকতে পারেননি। বিশেষ করে রাবাডা ও জানসেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের এক মুহূর্তের সুযোগও দেননি। বলের লেন্থে বৈচিত্র, সঠিক লাইন, আর মাঝে মাঝে শর্টপিচ ডেলিভারি—এসব মিশিয়ে ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপকে অসুবিধায় ফেলতে সক্ষম হন তারা। লোকেশ রাহুল কিছুটা দায়িত্ব নিয়ে খেললেও একসময় ইনসুইং বলে তার স্টাম্প উড়ে যায় এবং ভারতের ওপর ধস নামতে শুরু করে।

ইনিংসের শেষভাগে অক্ষর পটেল ও শার্দুল ঠাকুর কিছুটা আশা দেখান। তারা গুরুত্বপূর্ণ কিছু রান সংগ্রহ করেন এবং লজ্জার হাত থেকে দলকে রক্ষা করেন। কিন্তু ভারত শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৮৯ রানেই অলআউট হয়ে যায়। প্রথম ইনিংস শেষে ভারতের লিড দাঁড়ায় মাত্র ৩০ রান। এই লিড দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে খুব একটা নিরাপদ বলা যায় না, কারণ এখানে রান তোলা কঠিন হলেও একবার ব্যাটসম্যানরা সেট হয়ে গেলে বড় ইনিংস গড়ার সম্ভাবনাও থাকে।

ভারতের ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশের মাটিতে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের শট সিলেকশনে সমস্যা রয়েছে। অনেকেই পরিস্থিতি উপলব্ধি না করে তাড়াহুড়ো করে শট খেলেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের বিরুদ্ধে ধৈর্য ধরে খেলাই ছিল মূল চাবিকাঠি, যা ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা করতে পারেননি। এই কারণে প্রতিটি উইকেট পড়েছে কিছুটা আত্মসমর্পণের মতো।

তবে সবকিছুই শেষ হয়ে যায়নি। ভারতের বোলিং ইউনিট এখন ম্যাচে ফিরে আসার বড় দায়িত্ব নিয়ে নামবে। জসপ্রিত বুমরাহ এবং মোহাম্মদ সিরাজ নতুন বল হাতে শুরুতেই এক-দুটি উইকেট তুলে নিতে পারলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে চাপে ফেলা সম্ভব হবে। এছাড়া অক্ষর পটেলের স্পিন এই উইকেটে কতটা কার্যকর হবে সেটাও দেখার বিষয়। ভারতের বোলাররা আগেও কঠিন পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছেন, তাই আশা এখনো আছে।

সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে ভারতীয় দলের এই ব্যাটিং ব্যর্থতা ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে রইল। বিদেশের মাটিতে টেস্ট জিততে চাইলে শুধু বোলারদের ওপর নির্ভর করে লাভ নেই, ব্যাটসম্যানদেরও নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রথম টেস্টের এই পারফরম্যান্স থেকে শিক্ষা নিয়ে দল বাকি ম্যাচগুলোতে আরও প্রস্তুতি নিয়ে নামবে বলে আশা করা যায়।

Preview image