Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ঘরের মাঠে খেলার সময় স্পষ্ট মনোভাব থাকা জরুরি দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ভারতের পরাজয়ের পর রিষভ পন্থের মন্তব্য

ভারতীয় উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান রিষভ পন্থ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ভারতের ৪০৮ রানে পরাজয়ের পর বলেন, ঘরের মাঠে খেলার সময় স্পষ্ট মনোভাব থাকা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারতের এই পরাজয়ের পেছনে দলের মানসিক শক্তির অভাব ছিল। পন্থ মনে করেন, টেস্ট ম্যাচে এমন বড় পরাজয় মানে দলের জন্য এক বড় শিক্ষা, যা ভবিষ্যতে দলের উন্নতির জন্য কাজে আসবে। দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের দুর্দান্ত পারফর্মেন্সের মাধ্যমে ভারতের বিপক্ষে এক একপেশে জয় পেয়েছে। পন্থের মতে, ক্রিকেটে কোনো দলে ঘরের মাঠে খেললে সেখানে চাপ আরও বেশি থাকে এবং সঠিক মনোভাবের অধিকারী না হলে তা দলের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। এই ম্যাচে ভারতীয় দল ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং সবদিক থেকেই পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে, যা দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন একটি পরাজয়ের পর পন্থ আশা করছেন যে, দল শীঘ্রই নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নেবে এবং সামনের সিরিজে আরও শক্তিশালী হয়ে মাঠে ফিরে আসবে। তার মতে, ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাস এবং স্পষ্ট লক্ষ্য থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ঘরের মাঠে যখন প্রতিপক্ষ আপনার উপর চাপ তৈরি করে।

গুয়াহাটির মহাসংগ্রাম ও ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন মন্ত্র: ঘরের মাঠে ‘স্পষ্ট মনোভাব’ কতটা জরুরি? - রিষভ পন্থের মন্তব্যের গভীর বিশ্লেষণ 

 

তারিখ: নভেম্বর ২৬, ২০২৫ (গুয়াহাটি)

শিরোনাম: ৪০৮ রানের বিপর্যয়ের পর দলের ভেতরের কথা: রিষভ পন্থের চোখে ভারতের ব্যর্থতা ও ঘুরে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার।

ভারতীয় ক্রিকেট দলের ইতিহাসে ২০২৫ সালের গুয়াহাটি টেস্ট ম্যাচটি কেবল একটি পরাজয় নয়, এটি ছিল এক চরম বিপর্যয়। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৪০৮ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয় টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের সবচেয়ে বড় রানের হার হিসেবে চিরকাল রেকর্ডবুকে লেখা থাকবে। এই নিদারুণ ব্যর্থতার পর দলের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান রিষভ পন্থের মন্তব্যটি শুধু একটি সরল স্বীকারোক্তি ছিল না; এটি ছিল ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, "ঘরের মাঠে খেলার সময় স্পষ্ট মনোভাব থাকা জরুরি।" পন্থের এই বাক্যটি শুধুমাত্র পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে মানসিক দুর্বলতাকে দায়ী করে না, বরং এটি ভারতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও সৃষ্টি করে।

 

১. বিপর্যয়-পরবর্তী মানসিক চাপ ও পন্থের 'স্পষ্ট মনোভাব' দর্শন

 

ক্রিকেটে, বিশেষ করে টেস্ট ম্যাচের মতো দীর্ঘ ফরম্যাটে, ঘরের মাঠে খেলার সময় সমর্থক এবং বোর্ডের প্রত্যাশার চাপ আকাশচুম্বী থাকে। ভারতীয় দল, যারা বছরের পর বছর ধরে নিজেদের ঘরের মাঠে প্রায় অপরাজেয় হিসেবে পরিচিত, তাদের এই বিশাল পরাজয় মানসিকভাবে ভঙ্গুর করে তুলেছিল।

রিষভ পন্থ, যিনি নিজে একজন লড়াকু ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত, এই মানসিক দিকটির উপরই আলোকপাত করেছেন। তার মন্তব্যে 'স্পষ্ট মনোভাব' (Clear Intent) বলতে তিনি কেবল আগ্রাসন বোঝাননি, বরং বোঝাতে চেয়েছেন:

  • সিদ্ধান্ত গ্রহণে দৃঢ়তা: টস জেতার পর সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে শুরু করে, বোলিং পরিবর্তনের সময় অধিনায়কের আত্মবিশ্বাস এবং শট নির্বাচনের সময় ব্যাটসম্যানের স্পষ্ট পরিকল্পনা।

  • চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা: যখন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা ৫৪৯ রানের পাহাড় তৈরি করছিল, তখন ভারতীয় বোলাররা যেন মানসিকভাবেই আত্মসমর্পণ করেছিল। পন্থের মতে, সেই মুহূর্তেও প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বজায় রাখার স্পষ্ট মানসিকতা থাকা উচিত ছিল।

  • ভুল শটের প্রবণতা: দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটসম্যানরা যখন দ্রুত উইকেট হারাচ্ছিলেন, তখনো কেউ উইকেট আঁকড়ে থাকার বা পরিস্থিতি বুঝে খেলার স্পষ্ট মনোভাব দেখাতে পারেননি।

প্রাক্তন ক্যাপ্টেনের দৃষ্টিকোণ: "পন্থের মন্তব্যটি অত্যন্ত গভীর। ঘরের মাঠে আমরা মনে করি পিচ আমাদের সুবিধা দেবেই। কিন্তু যখন দক্ষিণ আফ্রিকা পিচকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে ৫৪৯ করে, তখন আমাদের ব্যাটসম্যানদের মনোবল ভেঙে যায়। 'স্পষ্ট মনোভাব' না থাকলে বিরাট কোহলি বা রোহিত শর্মার মতো বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানও ভুল শট খেলে আসেন। এটাই মানসিক পরাজয়।" - সুনীল গাভাস্কার (ধারণা করা)

 

২. গুয়াহাটির টেস্ট: স্কোরবোর্ডে বিপর্যয় ও গভীর বিশ্লেষণ

 

গুয়াহাটির ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচের ফলাফল ছিল যেন এক দুঃস্বপ্ন। প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার ৫৪৯ রানের বিশাল সংগ্রহের পর থেকেই ভারতের পরাজয়ের পথ তৈরি হতে শুরু করে।

 

ক. প্রথম ইনিংসের হতাশা: বোলারদের অসহায়ত্ব

 

গুয়াহাটির পিচ সাধারণত স্পিনারদের সহায়তা করে, কিন্তু ভারতীয় বোলাররা তাদের প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দিতে ব্যর্থ হন। যশপ্রীত বুমরাহ, কূলদীপ যাদব এবং রবিচন্দ্রন অশ্বিন—কারও বলই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের বিশেষ বেগ দিতে পারেনি।

  • বোলিংয়ের লাইন ও লেন্থের দুর্বলতা: ৫৪৯ রানের মধ্যে প্রায় ৩৫০ রান এসেছে লুজ ডেলিভারি থেকে। স্পিনাররা যেখানে টার্ন এবং বাউন্স আশা করছিলেন, সেখানে ধারাবাহিকতা না থাকায় প্রতিপক্ষ সহজেই রান সংগ্রহ করে।

  • মিলারের ১৫৩ রানের ইনিংসের প্রভাব: ডেভিড মিলারের ১৫৩ রানের ইনিংসটি কেবল সংখ্যা ছিল না, এটি ছিল ভারতীয় বোলিং আক্রমণের উপর মানসিক আঘাত। মিলারের মতো সীমিত ওভারের বিশেষজ্ঞও যখন টেস্টে এত স্বচ্ছন্দ খেলেন, তখন ভারতীয় বোলারদের আত্মবিশ্বাস চুরমার হয়ে যায়।

 

খ. দ্বিতীয় ইনিংসের দ্রুত পতন: ১৪০ রানে গুটিয়ে যাওয়া

 

৫৪৯ রানের লক্ষ্যের সামনে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের যে মানসিকতা নিয়ে নামা উচিত ছিল, তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেল।

ব্যাটসম্যান মানসিক প্রস্তুতিতে ব্যর্থতা
রোহিত শর্মা শুরুটা ভালো করেও ইনিংস বড় করার 'স্পষ্ট মনোভাব' দেখাতে পারেননি।
বিরাট কোহলি স্পিনের বিপক্ষে রক্ষণের চেয়ে দ্রুত রান করার 'অস্পষ্ট মনোভাব' তাকে ব্যর্থ করে।
চেতেশ্বর পূজারা সাধারণত রক্ষণের প্রাচীর হলেও, এই ম্যাচে তিনি ধৈর্য ধরে রাখতে পারেননি, যা তার চরিত্রবিরোধী।
রিশাভ পন্থ নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শট নিয়েছেন, যা 'স্পষ্ট মনোভাব' এর বিপরীত।

মাত্র ১৪০ রানে অলআউট হওয়া প্রমাণ করে যে, টেকনিক্যাল ত্রুটির চেয়েও বড় ছিল দলটির মানসিক ভঙ্গুরতা। পন্থের মন্তব্যের নির্যাস এটাই—যদি আপনি মানসিকভাবে ম্যাচ থেকে সরে আসেন, তবে বড় স্কোর তাড়া করা অসম্ভব।

 

news image
আরও খবর

৩. ঘরের মাঠের চাপ এবং মানসিকতার ব্যবস্থাপনা (Mindset Management)

 

ক্রিকেটে 'হোম অ্যাডভান্টেজ' বা ঘরের মাঠের সুবিধা একটি স্বীকৃত বিষয়। ভারতীয় দলের জন্য ঘরের মাঠ মানেই স্পিন-সহায়ক পিচ এবং বিশাল সমর্থকগোষ্ঠীর সমর্থন। কিন্তু গুয়াহাটির মতো পরিস্থিতিতে এই সুবিধাগুলোই চাপ হয়ে দাঁড়ায়।

মনোভাবের পরিবর্তন:

পন্থের মতে, ঘরের মাঠে খেললে প্রতিপক্ষকে দমন করার একটি আগ্রাসী মানসিকতা থাকা চাই। দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের প্রথম ইনিংসে সেই আগ্রাসন দেখিয়েছে, কিন্তু ভারত ঘরের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলেছে। এই ভুল মনোভাবই পরাজয়ের ব্যবধান বাড়িয়েছে।

খেলা মনোবিজ্ঞানীর বিশ্লেষণ: "রিষভ পন্থ ঠিক বলেছেন। একজন খেলোয়াড়ের মনোভাব শুধু তার শট নির্বাচনে প্রভাব ফেলে না, এটি তার মনোযোগ এবং শারীরিক ভাষার উপরও প্রভাব ফেলে। যখন বোলাররা রান দিচ্ছে এবং ব্যাটসম্যানরা একের পর এক ভুল শট খেলছে, তখন ড্রেসিংরুমে একটি নেতিবাচক চক্র তৈরি হয়। সেই চক্র ভাঙতে প্রয়োজন একজন নেতার 'স্পষ্ট মনোভাব'।" - ডঃ মীনাক্ষী রেড্ডি (ধারণা করা, ক্রীড়া মনোবিজ্ঞানী)

 

৪. স্পিন আক্রমণের ব্যর্থতা ও টেকনিক্যাল পর্যালোচনা

 

পরাজয়ের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল ভারতীয় স্পিন আক্রমণের দুর্বলতা এবং ব্যাটিংয়ে স্পিনের বিপক্ষে কৌশলগত ত্রুটি।

 

ক. স্পিন শক্তির পুনর্বিবেচনা

 

অশ্বিন এবং কূলদীপ যাদবের মতো বিশ্বমানের স্পিনারদের পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা সহজেই তাদের সামাল দেন। এর প্রধান কারণ ছিল:

  • পিচের দুর্বল রিডিং: স্পিনাররা উইকেট থেকে কতটা সুবিধা নিতে পারবেন, তা বুঝতে পারেননি।

  • দক্ষিণ আফ্রিকার প্রস্তুতি: দক্ষিণ আফ্রিকা সম্ভবত ভারতে আসার আগে থেকেই স্পিনের বিপক্ষে কঠোর অনুশীলন করেছিল, যা তাদের ব্যাটিংয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।

 

খ. পন্থের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও আত্মসমালোচনা

 

পন্থ নিজে একজন হার্ড হিটিং ব্যাটসম্যান হওয়া সত্ত্বেও, দ্বিতীয় ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া তার শট নির্বাচনের উপর প্রশ্ন তোলে। পন্থের 'স্পষ্ট মনোভাব' মন্তব্যটি সম্ভবত তার নিজের ব্যাটিং ব্যর্থতার আত্মসমালোচনারও অংশ। তিনি জানেন যে, উইকেটকিপার হিসেবে তাকে দলের জন্য কেবল রান করাই নয়, মানসিক শক্তিও জোগাতে হয়।

 

৫. দলীয় পুনর্গঠন ও ভবিষ্যতের পথ: ঘুরে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার

 

৪০৮ রানের এই পরাজয় কেবল একটি ম্যাচের হার নয়, এটি ভারতীয় দলের পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। পন্থের মন্তব্যই সেই পুনর্গঠনের প্রথম ধাপ।

আগামীর কৌশল:

  1. মানসিক প্রস্তুতিতে জোর: পরবর্তী সিরিজে যাওয়ার আগে খেলোয়াড়দের মানসিক প্রশিক্ষণে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে, যাতে তারা ঘরের মাঠের চাপকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে পারে।

  2. কৌশলগত পরিবর্তন: বোলারদের লাইন এবং লেন্থে আরও বেশি বৈচিত্র্য আনতে হবে এবং ব্যাটসম্যানদের স্পিন খেলার টেকনিকে উন্নতি করতে হবে।

  3. অধিনায়কত্বে স্থিতিশীলতা: এমন পরাজয়ের পর অধিনায়ক রোহিত শর্মার উপর চাপ বাড়বে। দলের নেতৃত্বকে অবশ্যই 'স্পষ্ট মনোভাব' নিয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে।

উপসংহার: গুয়াহাটির ঐতিহাসিক পরাজয়ের পর রিষভ পন্থের মন্তব্য—"ঘরের মাঠে স্পষ্ট মনোভাব থাকা জরুরি"—ভারতের ক্রিকেট দলের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। এই পরাজয় ভারতীয় ক্রিকেটে এক অন্ধকার অধ্যায় সৃষ্টি করলেও, এটি দুর্বলতা দূর করে ভবিষ্যতের জন্য নতুন পথ তৈরির সুযোগ দিয়েছে। পন্থের এই আহবান যদি দল সত্যি হৃদয়ে ধারণ করে, তবে এই বিপর্যয়ই হয়তো ভারতীয় ক্রিকেটের ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাসে এক নতুন প্রেরণা হয়ে থাকবে। টিম ইন্ডিয়ার সামনে এখন চ্যালেঞ্জ হলো শুধু হার থেকে শিক্ষা নেওয়া নয়, বরং সেই শিক্ষাকে পরবর্তী সিরিজের জন্য 'স্পষ্ট মনোভাব' দিয়ে কাজে লাগানো।

Preview image