রাজ্য পুলিশের ডিজি পদে নিয়োগের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাঠানো প্রস্তাব ইউপিএসসি ফেরত পাঠিয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়ম মানা হয়নি বলেই এই সিদ্ধান্ত বলে সূত্রের খবর।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ বা ডিজি পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা ইউপিএসসি রাজ্য সরকারের পাঠানো একটি প্রস্তাব ফেরত পাঠিয়েছে, যেখানে ডিজি পদে প্যানেলভুক্ত করার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। এই সিদ্ধান্তের পরেই প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্য পুলিশের সর্বোচ্চ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আদৌ কি সমস্ত নিয়ম ও নির্দেশিকা মানা হয়েছে, নাকি প্রক্রিয়াগত ত্রুটি থেকেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের ডিজি পদে নিয়োগের জন্য কয়েকজন আইপিএস অফিসারের নাম প্যানেলভুক্ত করে ইউপিএসসির কাছে পাঠিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব খতিয়ে দেখে ইউপিএসসি জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী এই প্যানেল প্রস্তুত করা হয়নি। বিশেষ করে ডিজি নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট যে স্পষ্ট গাইডলাইন দিয়েছিল, তার সঙ্গে রাজ্যের পাঠানো তালিকার একাধিক ক্ষেত্রে মিল পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হচ্ছে। সেই কারণেই পুরো প্রস্তাবটি ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ডিজি নিয়োগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আগেও বিতর্ক হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট একাধিকবার জানিয়েছে, রাজ্য পুলিশের ডিজি নিয়োগ যেন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয় এবং নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য স্থায়ীভাবে নিযুক্ত করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্য সরকারকে যোগ্য আইপিএস অফিসারদের একটি তালিকা ইউপিএসসির কাছে পাঠাতে হয় এবং সেখান থেকে যাচাই-বাছাইয়ের পর চূড়ান্ত প্যানেল তৈরি করা হয়। সেই প্যানেল থেকেই রাজ্য সরকার ডিজি নির্বাচন করতে পারে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে ইউপিএসসির দাবি, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে।
এই ঘটনার ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনিক স্তরে অস্বস্তি বেড়েছে। কারণ রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষপদ দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী বা ভারপ্রাপ্ত অবস্থায় থাকলে তার প্রভাব গোটা ব্যবস্থার উপর পড়তে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ডিজির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই পদে নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তা রাজ্য প্রশাসনের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
রাজ্য সরকার সূত্রে জানা যাচ্ছে, ইউপিএসসির ফেরত পাঠানো চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে নতুন করে সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে সময় লাগবে, যা রাজ্য পুলিশের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে, ইউপিএসসি যেহেতু একটি সাংবিধানিক সংস্থা, তাই তাদের সিদ্ধান্তকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ডিজি নিয়োগের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে নিয়মের সামান্য ব্যত্যয়ও বড় প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে, তার প্রেক্ষিতে ডিজি নিয়োগের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই ঘটনার প্রভাব শুধুমাত্র প্রশাসনিক স্তরেই সীমাবদ্ধ নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্ক, বিশেষ করে প্রশাসনিক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আগে থেকেই টানাপোড়েন রয়েছে। ইউপিএসসির সিদ্ধান্ত সেই টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে অনেকের মত। যদিও কেন্দ্রীয় স্তরের কেউ কেউ বলছেন, এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও নিয়মতান্ত্রিক বিষয়, এর সঙ্গে রাজনীতিকে জড়ানো ঠিক নয়।
পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেক সিনিয়র আইপিএস অফিসার মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে ডিজি নিয়োগ করা হলে ভবিষ্যতে এমন জটিলতা এড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে তারা এও বলছেন, ডিজি পদে স্থায়ী নিয়োগ না হলে মাঠপর্যায়ে কাজ করা অফিসারদের মনোবলেও তার প্রভাব পড়ে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের ডিজি নিয়োগ নিয়ে ইউপিএসসির প্রস্তাব ফেরত পাঠানোর ঘটনা রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিসরে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, রাজ্য সরকার কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এবং কত দ্রুত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়। কারণ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দ্রুত ও নিয়মমাফিক নিয়োগ হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ বা ডিজি পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা ইউপিএসসি রাজ্য সরকারের পাঠানো একটি প্রস্তাব ফেরত পাঠিয়েছে, যেখানে ডিজি পদে প্যানেলভুক্ত করার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। এই সিদ্ধান্তের পরেই প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্য পুলিশের সর্বোচ্চ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আদৌ কি সমস্ত নিয়ম ও নির্দেশিকা মানা হয়েছে, নাকি প্রক্রিয়াগত ত্রুটি থেকেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের ডিজি পদে নিয়োগের জন্য কয়েকজন আইপিএস অফিসারের নাম প্যানেলভুক্ত করে ইউপিএসসির কাছে পাঠিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব খতিয়ে দেখে ইউপিএসসি জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী এই প্যানেল প্রস্তুত করা হয়নি। বিশেষ করে ডিজি নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট যে স্পষ্ট গাইডলাইন দিয়েছিল, তার সঙ্গে রাজ্যের পাঠানো তালিকার একাধিক ক্ষেত্রে মিল পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হচ্ছে। সেই কারণেই পুরো প্রস্তাবটি ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ডিজি নিয়োগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আগেও বিতর্ক হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট একাধিকবার জানিয়েছে, রাজ্য পুলিশের ডিজি নিয়োগ যেন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয় এবং নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য স্থায়ীভাবে নিযুক্ত করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্য সরকারকে যোগ্য আইপিএস অফিসারদের একটি তালিকা ইউপিএসসির কাছে পাঠাতে হয় এবং সেখান থেকে যাচাই-বাছাইয়ের পর চূড়ান্ত প্যানেল তৈরি করা হয়। সেই প্যানেল থেকেই রাজ্য সরকার ডিজি নির্বাচন করতে পারে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে ইউপিএসসির দাবি, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে।
এই ঘটনার ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনিক স্তরে অস্বস্তি বেড়েছে। কারণ রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষপদ দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী বা ভারপ্রাপ্ত অবস্থায় থাকলে তার প্রভাব গোটা ব্যবস্থার উপর পড়তে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ডিজির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই পদে নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তা রাজ্য প্রশাসনের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
রাজ্য সরকার সূত্রে জানা যাচ্ছে, ইউপিএসসির ফেরত পাঠানো চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে নতুন করে সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে সময় লাগবে, যা রাজ্য পুলিশের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে, ইউপিএসসি যেহেতু একটি সাংবিধানিক সংস্থা, তাই তাদের সিদ্ধান্তকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ডিজি নিয়োগের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে নিয়মের সামান্য ব্যত্যয়ও বড় প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে, তার প্রেক্ষিতে ডিজি নিয়োগের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই ঘটনার প্রভাব শুধুমাত্র প্রশাসনিক স্তরেই সীমাবদ্ধ নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্ক, বিশেষ করে প্রশাসনিক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আগে থেকেই টানাপোড়েন রয়েছে। ইউপিএসসির সিদ্ধান্ত সেই টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে অনেকের মত। যদিও কেন্দ্রীয় স্তরের কেউ কেউ বলছেন, এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও নিয়মতান্ত্রিক বিষয়, এর সঙ্গে রাজনীতিকে জড়ানো ঠিক নয়।
পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেক সিনিয়র আইপিএস অফিসার মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে ডিজি নিয়োগ করা হলে ভবিষ্যতে এমন জটিলতা এড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে তারা এও বলছেন, ডিজি পদে স্থায়ী নিয়োগ না হলে মাঠপর্যায়ে কাজ করা অফিসারদের মনোবলেও তার প্রভাব পড়ে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের ডিজি নিয়োগ নিয়ে ইউপিএসসির প্রস্তাব ফেরত পাঠানোর ঘটনা রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিসরে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, রাজ্য সরকার কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এবং কত দ্রুত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়। কারণ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দ্রুত ও নিয়মমাফিক নিয়োগ হওয়া অত্যন্ত জরুরি।