Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

কিং কোহলির রাজত্ব, এক ম্যাচেই ৫ বিধ্বংসী রেকর্ড, মুগ্ধ ক্রিকেট দুনিয়া

ভারত এবং নিউজিল্যান্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত জয় তুলে নিল টিম ইন্ডিয়া। নির্ধারিত দিনে দুই দলের লড়াই ছিল জমজমাট, যেখানে শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ভারত। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড সম্মানজনক রান তোলে, তবে ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বড় স্কোর গড়া সম্ভব হয়নি। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে কিছুটা চাপের মুখে পড়লেও, মিডল অর্ডারের দৃঢ় পারফরম্যান্স ও শেষ দিকের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় টিম ইন্ডিয়া। এই জয়ের ফলে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। সিরিজের বাকি ম্যাচগুলো নিয়ে এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের উত্তেজনা তুঙ্গে। সবাই তাকিয়ে রয়েছে পরবর্তী ম্যাচে দুই দলের আরও এক হাইভোল্টেজ লড়াই দেখার জন্য।

ভারত এবং নিউজিল্যান্ডের মধ্যে শুরু হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। প্রথম ম্যাচেই জমে উঠল হাইভোল্টেজ লড়াই, যেখানে শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিল টিম ইন্ডিয়া। এই জয়ের মাধ্যমে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল। ম্যাচ জুড়ে ছিল নাটকীয়তা, উত্তেজনা এবং একাধিক টার্নিং পয়েন্ট, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের মন ভরিয়ে দিয়েছে।

টস ও ম্যাচের শুরু

ম্যাচের শুরুতেই টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। পিচ ছিল ব্যাটিং সহায়ক, তবে শুরু থেকেই ভারতীয় পেসারদের দাপটে চাপের মুখে পড়ে কিউই ওপেনাররা। নতুন বলে সুইং ও সীম মুভমেন্টে বারবার সমস্যায় পড়তে হয় নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের।

নিউজিল্যান্ডের ইনিংস: ভালো শুরু, মাঝপথে ধস

নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার শুরুতে কিছুটা সাবধানে খেলেন। প্রথম পাওয়ারপ্লেতে বড় শটের পরিবর্তে স্ট্রাইক রোটেশনে জোর দেন তারা। তবে পাওয়ারপ্লে শেষ হতেই ভারতীয় বোলাররা আক্রমণে যান। প্রথম সাফল্য আসে অষ্টম ওভারে, যখন এক ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন ভারতীয় পেসার।

এরপর দ্রুত উইকেট পড়তে থাকে। মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা ক্রিজে এসে থিতু হওয়ার আগেই ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। ভারতীয় স্পিনাররা মাঝের ওভারগুলোতে দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণ দেখান। রান রেট কমে যায় এবং চাপ বাড়তে থাকে নিউজিল্যান্ড শিবিরে।

মিডল অর্ডারের লড়াই ও শেষের ঝড়

তবে একপ্রান্তে লড়াই চালিয়ে যান নিউজিল্যান্ডের একজন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। তিনি ধৈর্যের সঙ্গে ইনিংস গড়ে তোলেন এবং কয়েকটি আকর্ষণীয় বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে সম্মানজনক স্কোরের পথে এগিয়ে নিয়ে যান। শেষের দিকে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা কিছু ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলেন, যার ফলে স্কোরবোর্ডে দ্রুত রান যোগ হয়।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে নিউজিল্যান্ড একটি লড়াইযোগ্য স্কোর তোলে। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে পেস ও স্পিনের ভারসাম্য ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে ডেথ ওভারে ইয়র্কার ও স্লোয়ারের মিশ্রণে কিউই ব্যাটসম্যানদের বেঁধে রাখেন ভারতীয় পেসাররা।

ভারতের বোলিং পারফরম্যান্স

এই ম্যাচে ভারতের বোলিং ইউনিট ছিল অত্যন্ত সংগঠিত। নতুন বলে সুইং, মাঝের ওভারে স্পিনের জাদু এবং শেষের দিকে পেসারদের নিখুঁত লাইন-লেংথ—সব মিলিয়ে ছিল একটি সম্পূর্ণ প্যাকেজ। বিশেষভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছেন একজন তরুণ বোলার, যিনি তার স্পেল জুড়ে আগ্রাসী লাইন ধরে রাখেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন।

টার্গেট তাড়া করতে নামে ভারত

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতীয় ওপেনাররা আত্মবিশ্বাসী শুরু করেন। প্রথম কয়েক ওভারে সুন্দর টাইমিং ও প্লেসমেন্টে বাউন্ডারি আদায় করে নেন তারা। তবে খুব বেশি সময় একসঙ্গে থাকতে পারেননি দুই ওপেনার। একটি ভুল শটে প্রথম উইকেট পড়ে যায়।

এরপর দ্রুত আরও একটি উইকেট পড়ায় কিছুটা চাপে পড়ে যায় ভারত। নিউজিল্যান্ডের বোলাররা এই সময় দুর্দান্ত লাইন-লেংথ বজায় রেখে চাপ তৈরি করেন। সুইং ও বাউন্সে সমস্যায় পড়তে শুরু করেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা।

মিডল অর্ডারের দায়িত্বশীল ব্যাটিং

চাপের মুখে দলের হাল ধরেন ভারতের মিডল অর্ডারের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানরা। একজন সিনিয়র খেলোয়াড় অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে ইনিংস সাজান। তিনি অযথা ঝুঁকি না নিয়ে সিঙ্গেল-ডাবলসে রান তোলেন এবং প্রয়োজনমতো বাউন্ডারি হাঁকান।

অন্য প্রান্তে তরুণ ব্যাটসম্যানও দারুণ সাপোর্ট দেন। দু’জনের মধ্যে তৈরি হয় গুরুত্বপূর্ণ জুটি, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই জুটিতেই ভারতের স্কোর আবার ট্র্যাকে ফিরে আসে।

ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট

ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট আসে যখন নিউজিল্যান্ড একটি সহজ ক্যাচ ফেলে দেয়। সেই সুযোগে জীবন পেয়ে যান ভারতীয় ব্যাটসম্যান, যিনি পরবর্তী ওভারগুলোতে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচ পুরোপুরি ভারতের দিকে নিয়ে আসেন। এই একটি মুহূর্তই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

শেষের দিকে উত্তেজনা

যদিও ম্যাচ ভারতের হাতেই ছিল, তবুও শেষের দিকে কিছুটা নাটকীয়তা দেখা যায়। পরপর দুটি উইকেট পড়ে যাওয়ায় গ্যালারিতে চুপচাপ হয়ে যায় দর্শকরা। নিউজিল্যান্ডের বোলাররা শেষ মুহূর্তে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করেন।

তবে ভারতের লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দেন। দায়িত্বশীল ব্যাটিং ও স্মার্ট শট সিলেকশনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে লক্ষ্যের কাছে পৌঁছে যায় টিম ইন্ডিয়া।

জয়ের মুহূর্ত

অবশেষে একটি সুন্দর কভার ড্রাইভের মাধ্যমে জয়ের রান আসে। গোটা স্টেডিয়াম তখন উল্লাসে ফেটে পড়ে। ডাগআউটে ভারতীয় খেলোয়াড়দের মুখে দেখা যায় স্বস্তির হাসি। ৪ উইকেটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ভারত এবং সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

অধিনায়কের প্রতিক্রিয়া

ম্যাচ শেষে ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা দলের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ছেলেরা খুব ভালো খেলেছে। বোলাররা শুরুতেই চাপ তৈরি করেছে এবং ব্যাটসম্যানরা দায়িত্ব নিয়ে ম্যাচ শেষ করেছে। এভাবেই আমরা সিরিজ এগিয়ে নিতে চাই।”

নিউজিল্যান্ডের অধিনায়কও বলেন, “আমরা ভালো লড়াই করেছি, তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভুল হয়েছে। পরের ম্যাচে শক্তভাবে ফিরে আসব।”

ম্যাচের সেরা পারফরমার

এই ম্যাচে ভারতের একজন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন। তাঁর ধৈর্যশীল ইনিংসই ভারতের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়। পাশাপাশি একজন বোলারও প্রশংসা কুড়িয়েছেন, যিনি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের রান গতি আটকে দেন।

ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রতিক্রিয়া

ম্যাচের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ওঠে। টুইটার, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ভক্তরা ভারতের জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অনেকেই তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদী বার্তা দেন।

সিরিজের ভবিষ্যৎ লড়াই

এই জয়ের ফলে আত্মবিশ্বাসের বড় বুস্ট পেল টিম ইন্ডিয়া। তবে নিউজিল্যান্ডও হাল ছাড়ার দল নয়। পরবর্তী ম্যাচে তারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে, এটা নিশ্চিত। সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচে আরও জমজমাট লড়াই দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।

ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে শুরু হওয়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই জমে উঠল ক্রিকেটের মহারণ। দুই শক্তিশালী দলের এই লড়াই নিয়ে আগ্রহ ছিল তুঙ্গে, আর ম্যাচের ফলাফল সেই প্রত্যাশাকে একেবারেই হতাশ করেনি। টানটান উত্তেজনা, পাল্টা আক্রমণ, নাটকীয় মুহূর্ত এবং শেষ পর্যন্ত ভারতের ৪ উইকেটের জয়—সব মিলিয়ে দর্শকদের জন্য ছিল এক পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট বিনোদন।

সিরিজের গুরুত্ব ও প্রেক্ষাপট

এই সিরিজ শুধুমাত্র আরেকটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নয়, বরং আসন্ন বড় টুর্নামেন্টের আগে দুই দলের প্রস্তুতির অন্যতম মঞ্চ। ভারত যেমন ঘরের মাঠে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে চায়, তেমনই নিউজিল্যান্ড সব সময়ই ভারতের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত। ফলে এই সিরিজের প্রথম ম্যাচ থেকেই যে কড়া লড়াই হবে, তা আগেই অনুমান করা গিয়েছিল।

news image
আরও খবর

টস ও কৌশল

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। তাদের পরিকল্পনা ছিল শুরুতেই বড় স্কোর গড়ে তুলে ভারতকে চাপে ফেলা। পিচে ঘাস কম থাকলেও নতুন বলে কিছুটা মুভমেন্ট ছিল, যা কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন ভারতীয় বোলাররা।

ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা টস হেরে গিয়ে বলেন, লক্ষ্য তাড়া করতে তারা আত্মবিশ্বাসী। তাঁর কৌশল ছিল প্রথম ১০ ওভারে উইকেট তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়া।

নিউজিল্যান্ডের ইনিংস: ধীর শুরু, মাঝখানে বিপর্যয়

নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার সাবধানে ইনিংস শুরু করেন। প্রথম কয়েক ওভারে ঝুঁকি না নিয়ে সিঙ্গেল-ডাবলসে রান তোলার চেষ্টা করেন তারা। ভারতীয় পেসাররা আঁটসাঁট লাইন-লেংথে বল করে রান আটকে রাখেন। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই প্রথম উইকেট তুলে নেয় ভারত, যা কিউই শিবিরে চাপ বাড়ায়।

এরপর একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে। মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। কেউ খোঁচা মেরে আউট, কেউ আবার ভুল টাইমিংয়ে ক্যাচ তুলে দেন। ভারতের স্পিনাররা মাঝের ওভারগুলোতে এমনভাবে বোলিং করেন যে নিউজিল্যান্ডের রান গতি একেবারে থমকে যায়।

অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের লড়াই

তবে একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়ে যান নিউজিল্যান্ডের একজন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। তিনি ধৈর্যের সঙ্গে ইনিংস সাজান, ফাঁক খুঁজে রান নেন এবং সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি হাঁকান। তাঁর এই ইনিংসই নিউজিল্যান্ডকে সম্মানজনক স্কোরের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

শেষের দিকে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা কিছু বড় শট খেলেন, যার ফলে স্কোরবোর্ডে দ্রুত রান যোগ হয়। তবে ভারতীয় বোলাররা শেষ ওভারগুলোতে দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণ দেখান, বড় স্কোর হতে দেননি।

ভারতের বোলিং বিশ্লেষণ

এই ম্যাচে ভারতের বোলিং ইউনিট ছিল অত্যন্ত ব্যালান্সড। পেসাররা নতুন বলে আক্রমণ করেন, স্পিনাররা মাঝের ওভারে রান আটকে রাখেন এবং ডেথ ওভারে আবার পেসাররা নিখুঁত ইয়র্কার ও স্লোয়ার দিয়ে কাজ সারেন। বিশেষ করে একজন তরুণ পেসার তাঁর গতিময় বোলিং দিয়ে কিউই ব্যাটসম্যানদের ভীত করে তুলেছিলেন।

লক্ষ্য তাড়া করতে নামে টিম ইন্ডিয়া

নিউজিল্যান্ডের দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের ওপেনাররা আত্মবিশ্বাসী শুরু করেন। প্রথম কয়েক ওভারে সুন্দর ড্রাইভ ও পুল শটে বাউন্ডারি আসে। তবে একটি ভুল শটে প্রথম উইকেট পড়ে যায়। এরপর দ্রুত আরেকটি উইকেট পড়ায় কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে যায় ভারত।

নিউজিল্যান্ডের বোলাররা এই সময় আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। সুইং ও বাউন্সে সমস্যায় পড়েন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। গ্যালারিতে তখন চাপা উত্তেজনা, কেউই নিশ্চিত ছিলেন না ম্যাচ কোন দিকে যাবে।

মিডল অর্ডারের দৃঢ়তা

এই চাপের মুহূর্তে এগিয়ে আসেন ভারতের মিডল অর্ডারের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা। একজন সিনিয়র ব্যাটসম্যান ধৈর্যের সঙ্গে খেলতে থাকেন, অযথা ঝুঁকি নেন না। অন্যদিকে তরুণ ব্যাটসম্যানও দারুণ সাপোর্ট দেন। দু’জন মিলে ম্যাচের রাশ ধরে ফেলেন।

এই জুটিতে রান আসতে থাকে নিয়মিত। এক-দুটি ওভারেই ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে শুরু করে। নিউজিল্যান্ডের বোলাররা চেষ্টা করেও এই জুটি ভাঙতে পারেননি।

ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত

ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট আসে যখন নিউজিল্যান্ড একটি সহজ ক্যাচ ফেলায়। সেই সুযোগে জীবন পেয়ে যান ভারতীয় ব্যাটসম্যান, যিনি পরের ওভারেই পরপর দুটি বাউন্ডারি হাঁকান। এই মুহূর্তের পর থেকেই ম্যাচ ভারতের দখলে চলে যায়।

শেষের দিকের নাটক

যদিও ম্যাচ ভারতের হাতেই ছিল, তবুও শেষ দিকে কিছুটা নাটক দেখা যায়। পরপর দুটি উইকেট পড়ে যাওয়ায় গ্যালারিতে নিস্তব্ধতা নেমে আসে। নিউজিল্যান্ডের বোলাররা তখন মরিয়া হয়ে লড়াই করেন।

কিন্তু ভারতের লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা মাথা ঠান্ডা রেখে খেলেন। সিঙ্গেল-ডাবলসে রান নিয়ে লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে যান তারা।

জয়ের মুহূর্ত ও উদযাপন

অবশেষে একটি সুন্দর স্ট্রেট ড্রাইভে জয়ের রান আসে। পুরো স্টেডিয়াম তখন উল্লাসে ফেটে পড়ে। সতীর্থরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন, ডাগআউটে শুরু হয় আনন্দের উচ্ছ্বাস। ৪ উইকেটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ভারত এবং সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

অধিনায়কদের বক্তব্য

ম্যাচ শেষে রোহিত শর্মা বলেন, “এই ধরনের ম্যাচ জেতা সবসময় বিশেষ। ছেলেরা চাপের মুখে দারুণ চরিত্র দেখিয়েছে। আমরা এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরের ম্যাচে নামব।”

নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক বলেন, “আমরা ভালো শুরু করেছিলাম, কিন্তু মাঝখানে কিছু ভুল হয়েছে। সেগুলো শুধরে নিয়ে পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।”

ম্যাচের সেরা পারফরমার

এই ম্যাচে ভারতের মিডল অর্ডারের এক ব্যাটসম্যান ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন তাঁর দায়িত্বশীল ইনিংসের জন্য। পাশাপাশি একজন বোলারও নজর কাড়েন, যিনি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের গতি বদলে দেন।

দর্শক ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া

ম্যাচ শেষ হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসার বন্যা বয়ে যায়। টুইটার, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে ভক্তরা ভারতের জয় উদযাপন করেন। অনেকেই তরুণ খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী মন্তব্য করেন।

সিরিজের ভবিষ্যৎ চিত্র

এই জয়ের ফলে ভারত মানসিকভাবে অনেকটাই এগিয়ে গেল। তবে নিউজিল্যান্ড এমন দল নয় যারা সহজে হার মেনে নেবে। দ্বিতীয় ম্যাচে তারা ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা করবে। ফলে সিরিজের বাকি ম্যাচগুলো যে আরও উত্তেজনাপূর্ণ হবে, তা বলাই যায়।

উপসংহার

সব মিলিয়ে, ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড প্রথম ওয়ানডে ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এক সম্পূর্ণ প্যাকেজ—উত্তেজনা, নাটক, লড়াই ও আবেগে ভরা। ভারতের ৪ উইকেটের জয় শুধু পয়েন্ট টেবিলেই নয়, আত্মবিশ্বাসের দিক থেকেও বড় প্রভাব ফেলবে। এখন নজর দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে, যেখানে আবারও দুই দল মুখোমুখি হবে, আর ক্রিকেট দুনিয়া পাবে আরও একটি রোমাঞ্চকর লড়াই।

 

Preview image