ফিদে ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৫ এ সেমিফাইনালে হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের পর যেন নতুন উদ্যম নিয়েই বোর্ডে ফিরেছেন রাশিয়ার তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার আন্দ্রে এসিপেঙ্কো। সেমিফাইনালের কঠিন হারের পর অনেকে ভাবছিলেন, এই ধাক্কা কি তাঁর আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলবে? কিন্তু এসিপেঙ্কো দেখালেন ঠিক উল্টো ছবি। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তিনি যে শার্প খেলাটি উপস্থাপন করেছেন, তা প্রমাণ করেছে তাঁর মনোবল আগের মতোই অটুট, বরং আরও দৃঢ়। প্লেসমেন্ট রাউন্ডে ধারাবাহিকভাবে ভালো চাল, সঠিক সময়ে ঝুঁকি নেওয়া এবং ট্যাকটিক্যাল দক্ষতা দেখিয়ে তিনি আবার ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্টের দৌড়ে নিজের অবস্থান শক্ত করলেন। যে ধৈর্য, প্রস্তুতি ও গভীর গণনা তিনি প্রদর্শন করেছেন, তা ছাপ ফেলেছে বিশ্বজুড়ে গ্র্যান্ডমাস্টারদের চোখে। বিশ্লেষকদের মতে, এসিপেঙ্কোর এই প্রত্যাবর্তনই দেখিয়ে দিল সেমিফাইনাল হার তাঁর যাত্রার সমাপ্তি নয়, বরং আরও বড় লড়াইয়ের শুরু। এখন প্রশ্ন একটাই এসিপেঙ্কো কি শেষ পর্যন্ত ক্যান্ডিডেটসের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন? ফর্ম, ফোকাস এবং জয়ের ক্ষুধা দেখে অনেকেই বলছেন, তিনি সেই পথেই এগোচ্ছেন। ওয়ার্ল্ড কাপের শেষ দফাগুলো তাই আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভূমিকা:
দাবা, যাকে প্রায়শই বলা হয় 'মাইন্ড স্পোর্টস'-এর রাজা, সেখানে একটি চাল, একটি ভুল এবং একটি সিদ্ধান্ত একজন খেলোয়াড়ের সম্পূর্ণ ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দাবা টুর্নামেন্টগুলির মধ্যে অন্যতম FIDE World Cup 2025, ঠিক এমনই এক তীব্র মানসিক চাপ এবং কৌশলগত লড়াইয়ের মঞ্চ। এই মঞ্চেই রাশিয়ার তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার আন্দ্রে এসিপেঙ্কো (Andrey Esipenko) সেমিফাইনালে অপ্রত্যাশিত হারের মুখে পড়লেও, যে অসামান্য মনোবল ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন, তা এখন সমগ্র দাবা জগতে আলোচ্য বিষয়। সেমিফাইনালের তিক্ত ফলাফল ভুলে তিনি প্লেসমেন্ট ম্যাচে চমৎকার প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন এবং দাবা-বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধক্ষেত্র—ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্টের (Candidates Tournament) সিটের আরও একধাপ কাছে পৌঁছে গেছেন। এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি ম্যাচ জয় নয়, এটি এক চ্যাম্পিয়নসুলভ মানসিকতার প্রমাণ। এই নিবন্ধে আমরা এসিপেঙ্কোর এই উত্থান-পতন, তাঁর মানসিক দৃঢ়তা এবং ক্যান্ডিডেটসের পথে তাঁর অবস্থান বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করব।
ওয়ার্ল্ড কাপের এই সংস্করণে এসিপেঙ্কোর পারফরম্যান্স ছিল শুরু থেকেই নিখুঁত। ওপেনিং প্রস্তুতিতে গভীরতা, মিডলগেমে ট্যাকটিক্যাল পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা এবং এন্ডগেমে নির্ভুল ক্যালকুলেশন—সব মিলিয়ে তাঁর অগ্রযাত্রা ছিল রীতিমতো প্রশংসনীয়। একে একে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে তিনি যখন সেমিফাইনালে পৌঁছান, তখন অনেকেই তাঁকে ফাইনালে পৌঁছানোর অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। তাঁর দাবার স্টাইল ছিল আক্রমণাত্মক কিন্তু নিয়ন্ত্রিত, যা তাঁকে টুর্নামেন্টে এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত করেছিল।
কিন্তু সেমিফাইনাল এক ভিন্ন গল্প নিয়ে আসে। দাবা খেলায় ছোট ভুলও বড় মূল্য চাইতে পারে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র মানসিক চাপের মধ্যে এসিপেঙ্কোকে কিছু অপ্রত্যাশিত ভুলের জন্য চড়া মূল্য দিতে হয়েছে।
ভুল ওপেনিং নির্বাচন: ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, বিশেষ করে সেমিফাইনালের প্রথম গেমগুলিতে, তিনি এমন কিছু ওপেনিং বেছে নেন যা প্রতিপক্ষের প্রস্তুতির কাছে দুর্বল প্রমাণিত হয়।
সময় ব্যবস্থাপনায় বিচ্যুতি: দাবার সর্বোচ্চ স্তরে টাইম-ম্যানেজমেন্ট একটি নির্ণায়ক ফ্যাক্টর। সেমিফাইনালের কিছু গেমে এসিপেঙ্কোর সময় ব্যবস্থাপনায় সামান্য বিচ্যুতি ঘটে, যার ফলে তিনি জটিল পজিশনগুলিতে যথেষ্ট সময় দিতে পারেননি।
মিসড ট্যাকটিক্যাল সুযোগ: চাপের মুখে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকটিক্যাল সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার কারণে ম্যাচের মোড় বড় ব্যবধানে প্রতিপক্ষের দিকে ঘুরে যায়।
ম্যাচের পর এসিপেঙ্কো নিজেই স্বীকার করেন: “এক-দুটি ভুলই পুরো ফলাফল বদলে দিয়েছে। সেমিফাইনাল মানসিকভাবে কঠিন ছিল এবং আমি আমার সেরা খেলাটি দিতে পারিনি।”
তবে এখানেই তাঁর সত্যিকারের শক্তির প্রকাশ দেখা যায়। দাবা বিশ্বের অনেক তরুণ খেলোয়াড় এত বড় পরাজয়ের পর, বিশেষ করে ক্যান্ডিডেটসে যাওয়ার এত কাছে এসে, মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। কিন্তু এসিপেঙ্কো সেই সুযোগ দেননি। তিনি দ্রুত মনোযোগ ধরে রেখে, পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করে পুনরায় নিজের খেলাকে গুছিয়ে নেন।
সেমিফাইনালের পর ওয়ার্ল্ড কাপের প্লেসমেন্ট ম্যাচগুলো (তৃতীয় স্থানের জন্য লড়াই) সাধারণত খেলোয়াড়দের কাছে ততটা আকর্ষণীয় মনে না হলেও, ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্টের দরজা খোলার জন্য এই ম্যাচগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচগুলিই নির্ধারণ করে দিতে পারে যে, কে ক্যান্ডিডেটসের জন্য সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করবে। আন্দ্রে এসিপেঙ্কো এই সুযোগটি একদম নিখুঁতভাবে কাজে লাগালেন।
তিনি শুধু জয়ই পাননি, তাঁর জয় এসেছে এক আত্মবিশ্বাসী ও নিয়ন্ত্রিত খেলার মাধ্যমে, যা প্রমাণ করে যে সেমিফাইনালের হার তাঁর মানসিকতার ওপর কোনো স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারেনি। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের মূল দিকগুলি হলো:
শক্তিশালী ওপেনিং রেপার্টরিওয়ারের পুনরুদ্ধার: প্লেসমেন্ট ম্যাচে তিনি এমন কিছু ওপেনিং বেছে নেন, যেখানে তাঁর প্রস্তুতি ছিল অত্যন্ত গভীর। প্রতিপক্ষকে শুরু থেকেই চাপে রাখার কৌশল নেন তিনি।
কৌশলী মিডলগেম: জটিল মিডলগেম পজিশনগুলিতে তিনি অতি-আগ্রাসন পরিহার করে কৌশলী এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে থাকেন।
সুনির্দিষ্ট এন্ডগেম গণনা: সময় স্বল্পতায়ও তাঁর এন্ডগেম ক্যালকুলেশন ছিল ত্রুটিহীন, যা তাঁকে ম্যাচ জয়ে সাহায্য করে।
সঠিক সময়ে ঝুঁকি নেওয়া: যখন প্রয়োজন হয়েছে, তখনই তিনি ঝুঁকি নিয়েছেন, কিন্তু সেমিফাইনালের মতো অপরিণামদর্শী আগ্রাসন দেখাননি।
দাবা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ম্যাচেই একজন খেলোয়াড়ের মানসিক দৃঢ়তা (Mental Toughness) এবং চ্যাম্পিয়ন মেজাজ (Champion Mentality) বোঝা যায়। সেমিফাইনালের হতাশাকে পাশ কাটিয়ে মানসিকভাবে শক্ত থাকা এবং নতুন করে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া—এসিপেঙ্কোর ক্যারিয়ার-গঠনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্ট বিশ্ব দাবার সবচেয়ে কঠিন এবং মর্যাদাপূর্ণ লড়াই। এটিকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হয়। এখান থেকেই নির্ধারিত হয় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের চ্যালেঞ্জার, যিনি বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের বিরুদ্ধে খেলবেন। বিশ্বে হাতে গোনা কয়েকজন নির্বাচিত খেলোয়াড়েরই সুযোগ হয় এই আসরে খেলতে।
২০২৫ সালের ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্টের সিট পাওয়ার জন্য FIDE (International Chess Federation) বেশ কিছু মানদণ্ড বিবেচনা করে, যার মধ্যে রয়েছে:
ওয়ার্ল্ড কাপ র্যাংকিং: ওয়ার্ল্ড কাপের শীর্ষ ৩ জন খেলোয়াড় সরাসরি ক্যান্ডিডেটসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন। এসিপেঙ্কোর লক্ষ্য এখন তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করা।
সাম্প্রতিক টুর্নামেন্ট পারফরম্যান্স: অন্যান্য গ্র্যান্ড সুইস বা গ্র্যান্ড প্রিক্স ইভেন্টে তাঁর পারফরম্যান্স।
ফিদে রেটিং এবং ধারাবাহিকতা: রেটিং তালিকায় উচ্চ স্থান ধরে রাখা এবং টানা ভালো পারফর্ম করা।
ক্রিকেটে যেমন ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ বা ফুটবলে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব, দাবায় ক্যান্ডিডেটস তার চেয়েও বেশি প্রতিযোগিতামূলক। কারণ এটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সরাসরি পথ। তাই এই টুর্নামেন্টে জায়গা করে নেওয়া মানে এক বিশাল অর্জন এবং নিজেকে দাবা বিশ্বের অভিজাত শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা।
আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার এবং দাবা ভাষ্যকাররা ইতিমধ্যেই এসিপেঙ্কোর মধ্যে ‘বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর খেলার গুণাবলী তাঁকে অন্যান্য তরুণ খেলোয়াড়দের থেকে আলাদা করে তুলেছে:
গভীর ক্যালকুলাশন: জটিল পজিশনে বহু চাল পর্যন্ত সঠিকভাবে গণনা করার তাঁর ক্ষমতা অসাধারণ।
ওপেনিং-প্রস্তুতির পরিপক্বতা: প্রতিপক্ষের প্রস্তুতিকে এড়িয়ে নতুনত্ব নিয়ে আসার ক্ষমতা।
কঠিন পরিস্থিতিতে ঠান্ডা মাথায় খেলা: চাপের মুখেও মাথা ঠান্ডা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিরল দক্ষতা।
এসিপেঙ্কো প্রথম আন্তর্জাতিক দাবার নজর কাড়েন দুই বছর আগে, যখন তিনি তখনকার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ম্যাগনাস কার্লসেনকে পরাজিত করেন। তখন থেকেই তিনি দাবা-বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রে। এবারের ওয়ার্ল্ড কাপে তাঁর পারফরম্যান্স, বিশেষ করে সেমিফাইনালের ধাক্কা সামলে তাঁর প্রত্যাবর্তন, আবারো সেই আলোচনাকে শক্তিশালী করেছে।
দাবা খেলা শুধু কৌশল বা দক্ষতার নয়—এটি পুরোপুরি একটি মানসিক খেলা। সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হারলে খেলোয়াড়দের ওপর যে তীব্র চাপ পড়ে, তা প্রায়শই তাদের পরবর্তী পারফরম্যান্স নষ্ট করে দেয়:
আত্মবিশ্বাস হারানো: পরাজয়ের পর আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করা সবচেয়ে কঠিন।
মনোযোগ বিচ্যুতি: ভুলগুলি মনে বারবার আসতে থাকে, যা খেলায় মনোযোগ নষ্ট করে।
খেলায় অস্থিরতা: দ্রুত ফলাফল বের করার বা ভুল শোধরানোর তাগিদ থেকে অস্থিরতা আসে।
কিন্তু এসিপেঙ্কো এই সবকিছুর উল্টোটা দেখিয়েছেন। তিনি আবার নতুন করে নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছেন, নিজের ভুলগুলো শুধরেছেন এবং পরবর্তী ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। তাই তাঁর এই প্রত্যাবর্তন মানসিক শক্তির এক প্রতীকী উদাহরণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—"এসিপেঙ্কোর এই কামব্যাকই প্রমাণ করে তিনি দীর্ঘদিন বিশ্ব দাবাকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন, কারণ কেবল ভালো ক্যালকুলেটরই নয়, তাঁকে একজন দুর্দান্ত মানসিক যোদ্ধাও হতে হবে।"
ফিদে রেটিং তালিকায় এসিপেঙ্কো আগেই ছিলেন বিশ্বের শীর্ষ তরুণদের মধ্যে। ওয়ার্ল্ড কাপের প্রতিটি জয় তাঁর রেটিং পয়েন্ট বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তাঁকে ক্যান্ডিডেটসের সম্ভাব্য তালিকায় উপরের দিকে রেখেছে।
| সূচক | বর্তমান অবস্থান/পরিস্থিতি | তাৎপর্য |
| ওয়ার্ল্ড কাপ র্যাংকিং | তৃতীয় স্থান অর্জনের জন্য লড়ছেন | সরাসরি ক্যান্ডিডেটসের যোগ্যতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে |
| ফিদে রেটিং | শীর্ষস্থানীয় গ্র্যান্ডমাস্টারদের মধ্যে অবস্থান | ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের ইঙ্গিত |
| সাম্প্রতিক ফর্ম | শেষ দুটি ম্যাচে জয়ের ধারায় | মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আত্মবিশ্বাসী |
| মানসিক দৃঢ়তা | সেমিফাইনালের হার থেকে সফল প্রত্যাবর্তন | দীর্ঘমেয়াদি চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য অপরিহার্য |
বিশ্বজুড়ে দাবা-সমর্থকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় এসিপেঙ্কোর প্রত্যাবর্তনের প্রশংসা করছে। চেস কমিউনিটিতে তাঁর প্রত্যাবর্তনকে বলা হচ্ছে—"ফাইটারের কামব্যাক", যা প্রমাণ করে তিনি চাপের মুখেও লড়তে জানেন।
এখন প্রশ্ন একটাই—আন্দ্রে এসিপেঙ্কো কি সত্যিই ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্টে জায়গা পাবেন?
বর্তমান পরিস্থিতি দেখে অনেকেই বলছেন, তিনি খুবই সম্ভাবনাময় অবস্থানে রয়েছেন। ওয়ার্ল্ড কাপের শেষ ধাপে তাঁর জয়ের ধারা এবং মানসিক প্রস্তুতি তাঁকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তাঁকে ক্যান্ডিডেটসের টিকিট নিশ্চিত করার জন্য আর এক বা দুটি শক্তিশালী ম্যাচ জিততে হবে। তাঁর সামনে এখন কেবল দুটি পথ:
ওয়ার্ল্ড কাপে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করা: এর ফলে তিনি সরাসরি ক্যান্ডিডেটসে কোয়ালিফাই করবেন।
অন্যান্য কোয়ালিফায়ারদের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করা: যদি তিনি তৃতীয় হতে ব্যর্থও হন, তবুও রেটিং এবং অন্যান্য টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তাঁর সুযোগ থাকতে পারে।
উপসংহার:
ফিদে ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৫-এ আন্দ্রে এসিপেঙ্কোর এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ম্যাচ জয় বা রেটিং পয়েন্টের হিসাব নয়—এটি তাঁর মানসিক শক্তি, প্রবল ইচ্ছাশক্তি এবং খেলায় পরিপক্বতার প্রতিচ্ছবি। সেমিফাইনালের ধাক্কা যেন তাঁর নতুন প্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার প্রমাণ করেছেন যে, একজন বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে কেবল নিখুঁত কৌশল জানলেই হয় না, তাঁকে মানসিক যুদ্ধেও জয়ী হতে হয়।
বিশ্ব দাবা এখন অপেক্ষায় আছে এসিপেঙ্কোর পরবর্তী চালের জন্য। ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্টের দরজা কি সত্যিই তাঁর জন্য খুলবে? সময়ই বলে দেবে, এই তরুণ রাশিয়ান গ্র্যান্ডমাস্টার কতদূর যাবেন—তবে এখন পর্যন্ত তিনি দেখিয়েছেন, তিনি একজন সত্যিকারের যোদ্ধা।