মুম্বই, পাওয়াই | লেন্সপিডিয়া নিউজ ডেস্ক এক ভয়ঙ্কর নাটক! মুম্বইয়ের পাওয়াই এলাকার RA Studio-তে হঠাৎই এক ব্যক্তি ১৭ জন শিশুকে বন্দি করে রাখল! নাম রোহিত আর্য — নিজেকে সমাজসেবক বললেও, বৃহস্পতিবার তিনি হয়ে উঠলেন গোটা শহরের আতঙ্ক। সূত্রের খবর, আর্য সকাল থেকেই সেই স্টুডিওর ভেতরে ছিলেন। বিকেল নাগাদ জানা যায়, ভিতরে আটকে রাখা হয়েছে স্কুলপড়ুয়া কিশোর-কিশোরীদের একদলকে। খবর পেয়ে পুলিশ ছুটে যায় ঘটনাস্থলে। আর শুরু হয় টানটান উত্তেজনা!
ঘটনার আগে রোহিত আর্য নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও আপলোড করেন, যেখানে তিনি বলেন—
“আমি কাউকে মারতে চাই না, টাকা চাই না, শুধু জানতে চাই—এই দেশের ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষ কেন প্রতারিত?”
এই বক্তব্যের পরই জল্পনা শুরু — এটা কি মানসিক ভারসাম্যহীনতার ফল, না কি কোনো পরিকল্পিত বার্তা?
আর্যের হাতে ছিল একটি এয়ার গান এবং কিছু সন্দেহজনক রাসায়নিক পদার্থ। পুলিশ প্রথমে আলোচনায় বসার চেষ্টা করলেও আর্য ক্রমেই অসংলগ্ন হয়ে ওঠেন।
রাত নামতেই মুম্বই পুলিশের বিশেষ টিম ‘অপারেশন সাইলেন্স’ শুরু করে।
একদল পুলিশ বাথরুমের দিক থেকে ঢুকে আর্যকে ঘিরে ফেলে।
অবশেষে এক রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয় — আর সেখানেই শেষ রোহিত আর্যের “মিশন”!
সৌভাগ্যবশত, ১৭ জন শিশুই নিরাপদে উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন এখন একটাই — এই নাটকের পেছনে আসল কারণ কী?
রোহিত আর্য নিজেকে এক সরকারি প্রকল্পের (PLC Sanitation Monitor Project) কর্মী বলতেন। দাবি করেছিলেন, তিনি কাজের যথাযথ পারিশ্রমিক পাননি।
কেউ কেউ বলছেন, তিনি সরকার বা কোনো বড় সংস্থার প্রতি ক্ষোভ থেকেই এই নাটক সাজিয়েছিলেন। আবার কেউ বলছেন — এ সবই মানসিক চাপের ফল, যেখানে ‘প্রতিশোধ’ তার একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়।
কিন্তু আর্যের মৃতদেহের পাশে উদ্ধার হওয়া নথিপত্র ও ডায়েরি ইঙ্গিত দিচ্ছে — বিষয়টা শুধুই আর্থিক নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের এক প্রচেষ্টা!
এই ঘটনায় দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক —
“একটা মানুষ যদি এতটা হতাশ হয়ে ১৭টা শিশুকে জিম্মি করে, তাহলে সমাজ কতটা বিপদে?”
সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে উত্তাল প্রতিক্রিয়া — কেউ পুলিশের পদক্ষেপকে সাধুবাদ দিচ্ছেন, কেউ আবার বলছেন “অভিযানের আগে আলোচনার আরও সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।”
রোহিত আর্য মারা গেছেন, কিন্তু তার রেখে যাওয়া প্রশ্ন এখন গর্জে উঠছে —
“দেশে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললে, মানুষ কি বাধ্য হয় পাগল হয়ে উঠতে?”
একদিকে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে, কিন্তু অন্যদিকে এই ঘটনা ভারতের মহানগর জীবনের অন্ধকার দিকটাকেও প্রকাশ করে দিয়েছে — মানসিক চাপ, অবহেলা, এবং সিস্টেমের প্রতি গভীর ক্ষোভের প্রতিফলন।