নির্মলা সীতারামনের বাজেট পেশের দিনই শেয়ার বাজারে বড় ধস—দুপুরে সেনসেক্স পড়ল ২,৩৭০ পয়েন্ট, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ।
নির্মলা সীতারামনের নবম সাধারণ বাজেট পেশের দিনেই কার্যত কেঁপে উঠল ভারতের শেয়ার বাজার। রবিবার বাজেটের জন্য বিশেষ ভাবে বাজার খোলা থাকলেও লগ্নিকারীদের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক বিক্রি। দুপুরে এক সময় বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স ২,৩৭০ পয়েন্ট বা প্রায় ২.৮৮ শতাংশ পড়ে যায়। সূচক নেমে আসে ৮০ হাজারের নিচে। শেষ পর্যন্ত কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও দিনের শেষে বিনিয়োগকারীদের মোট ক্ষতির অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকা। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটিও একই ভাবে বড় ধাক্কা খায়।
বাজেটের দিন বাজার খোলার সিদ্ধান্ত ও প্রত্যাশা
সাধারণত রবিবার শেয়ার বাজার বন্ধ থাকে। কিন্তু বাজেট ঘোষণার দিন হওয়ায় এ বার বিশেষ ভাবে বাজার খোলা রাখা হয়। বাজেটের আগে লগ্নিকারীদের মধ্যে আশার পারদ ছিল ঊর্ধ্বমুখী। কর ছাড়, মধ্যবিত্তের জন্য স্বস্তি, উৎপাদন খাতে উদ্দীপনা এবং পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনার মতো ঘোষণার প্রত্যাশা ছিল বাজার মহলের।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিল, অর্থমন্ত্রী এই বাজেটে অবকাঠামো খাতে আরও বরাদ্দ বাড়াতে পারেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য সুবিধা ঘোষণা করতে পারেন এবং শেয়ার বাজারের ওপর করের চাপ কিছুটা হলেও কমাতে পারেন। কিন্তু বাজেট ভাষণ যত এগোতে থাকে, ততই স্পষ্ট হয়ে যায়, বাজারের সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না।
সেনসেক্স ও নিফটির ঐতিহাসিক পতন
রবিবার দুপুরে এক সময় সেনসেক্স ২,৩৭০.৩৬ পয়েন্ট পড়ে নেমে আসে ৭৯,৮৯৯.৪২ অঙ্কে। এটি সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম বড় অন্তঃদিবসীয় পতন হিসেবে ধরা হচ্ছে। শেষ দিকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে বাজার বন্ধ হয় ৮০,৭২২.৯৪ অঙ্কে, যা আগের দিনের তুলনায় ১,৫৪৬.৮৪ পয়েন্ট কম।
অন্যদিকে, নিফটি ৫০ সূচকও ৪৯৫.২০ পয়েন্ট পড়ে বন্ধ হয় ২৪,৮২৫.৪৫ অঙ্কে। ব্যাঙ্ক নিফটি, মিডক্যাপ এবং স্মলক্যাপ সূচকেও ব্যাপক পতন দেখা যায়। প্রায় সব ক্ষেত্রেই লাল রং ছড়িয়ে পড়ে দালাল স্ট্রিটে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধস শুধুমাত্র একটি ঘোষণার প্রতিক্রিয়া নয়, বরং বাজেটের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বাজারবান্ধব সংস্কারের অভাবের প্রতিফলন।
ডেরিভেটিভস ট্রেডে কর বৃদ্ধিই বাজার আতঙ্কের মূল কারণ
বাজার পতনের সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ফিউচারস অ্যান্ড অপশনস (F&O) বা ডেরিভেটিভস ট্রেডের উপর সিকিউরিটিজ ট্রানজাকশন ট্যাক্স (STT) বৃদ্ধির প্রস্তাব। বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রী যখন এই কর বৃদ্ধির ঘোষণা করেন, তখনই দালাল স্ট্রিটে হইচই পড়ে যায়।
ভারতের শেয়ার বাজারে ডেরিভেটিভস ট্রেডিংয়ের অংশগ্রহণ ক্রমশ বেড়েছে। বিশেষ করে খুচরো বিনিয়োগকারীরা এই বিভাগে বেশি সক্রিয়। কর বাড়লে ট্রেডিং খরচ বাড়বে, লাভের মার্জিন কমবে—এই আশঙ্কায় বহু লগ্নিকারী দ্রুত মুনাফা তুলে নেওয়ার পথে হাঁটেন। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যে বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়।
একাধিক ব্রোকারেজ সংস্থার মতে, বাজেটে এই ঘোষণাটি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। ফলে বাজারে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সেই আতঙ্কই পতনকে আরও ত্বরান্বিত করে।
১০ লক্ষ কোটি টাকার বাজারমূল্য উবে যাওয়া — কতটা বড় ধাক্কা?
রবিবারের এই ধসের ফলে বাজার থেকে প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকা উবে যায়। এটি কেবল একটি সংখ্যার হিসাব নয়, বরং দেশের লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারীর সঞ্চয়ের উপর বড় আঘাত।
বিশেষ করে মিউচুয়াল ফান্ড, ডিম্যাট অ্যাকাউন্টধারী ছোট বিনিয়োগকারী এবং অবসরকালীন সঞ্চয় বিনিয়োগকারীরা এই পতনের ধাক্কা সবচেয়ে বেশি অনুভব করেছেন। বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, এক দিনের মধ্যেই পোর্টফোলিওর মূল্য ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যদিও বাজারের এই ওঠানামা স্বাভাবিক, তবু বাজেটের দিন এমন বড় ধস বিনিয়োগকারীদের আস্থার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকারের তরফে আশ্বাসমূলক বার্তা জরুরি হয়ে উঠেছে।
কোন কোন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?
এই ধসের প্রভাবে প্রায় সব সেক্টরই লাল হয়ে গেলেও কিছু খাতে ক্ষতির মাত্রা ছিল তুলনামূলক বেশি।
১. ব্যাংক ও আর্থিক পরিষেবা:
বড় ব্যাংক ও এনবিএফসি সংস্থার শেয়ারগুলিতে ব্যাপক বিক্রি দেখা যায়। সুদের হার, ঋণ নীতি এবং আর্থিক সংস্কার নিয়ে বাজেটে প্রত্যাশিত ঘোষণা না থাকায় বিনিয়োগকারীদের হতাশা স্পষ্ট হয়।
২. আইটি ও প্রযুক্তি খাত:
ডলার-রুপির ওঠানামা ও বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কার মধ্যেই আইটি খাত চাপের মুখে ছিল। বাজেটে এই খাতের জন্য কোনও বিশেষ স্বস্তির ঘোষণা না থাকায় পতন আরও বাড়ে।
৩. ধাতু ও শিল্প খাত:
ইনফ্রাস্ট্রাকচার খাতে বরাদ্দ প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় ধাতু ও শিল্প সংস্থাগুলির শেয়ারে বিক্রি বেড়ে যায়।
৪. মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ:
সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খায় মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ শেয়ার। ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ থেকে লগ্নিকারীরা বেরিয়ে আসতে শুরু করলে এই বিভাগে বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়।
বাজেট ভাষণের ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া
বাজেট ভাষণের শুরুতে বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু অর্থমন্ত্রী কর সংস্কার, রাজস্ব ঘাটতি এবং ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষার প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিতেই বাজারে সতর্কতা বাড়ে।
এরপর যখন ডেরিভেটিভস ট্রেডে কর বৃদ্ধির ঘোষণা আসে, তখনই বাজারে বড় পতনের সূচনা হয়। ব্রোকারেজ হাউসগুলির ট্রেডিং ডেস্কে মুহূর্তের মধ্যে বিক্রির অর্ডার বাড়তে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় স্টপ-লস ট্রিগার হয়ে বিক্রি আরও বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেটের দিন সাধারণত বাজারে অস্থিরতা থাকে। কিন্তু এ বারের পতনের মাত্রা ছিল প্রত্যাশার চেয়েও বেশি।
বিনিয়োগকারীদের মানসিকতা ও বাজার মনস্তত্ত্ব
শেয়ার বাজার শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সূচকের প্রতিফলন নয়, এটি মানুষের মানসিকতারও আয়না। বাজেটের দিন লগ্নিকারীরা যে আশা নিয়ে বাজারে বসেছিলেন, তা পূরণ না হওয়ায় হতাশা দ্রুত আতঙ্কে রূপ নেয়।
একজন সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক বলেন, “বাজেটে যদি অন্তত এক বা দু’টি বাজারবান্ধব ঘোষণা থাকত, তা হলে হয়তো এই পতন এতটা গভীর হত না। কিন্তু কর বৃদ্ধির মতো নেতিবাচক ঘোষণা বাজারের মনোবল ভেঙে দেয়।”
এই মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কার ফলেই বাজারে দ্রুত বিক্রি শুরু হয় এবং পতন আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
সরকার ও নীতিনির্ধারকদের প্রতিক্রিয়া
বাজার ধসের পর অর্থ মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়, বাজেটের উদ্দেশ্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। কর কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে বাজারকে আরও স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল করা লক্ষ্য বলেও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার যদি দ্রুত কোনও আশ্বাসমূলক বার্তা না দেয়, তা হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সময় লাগতে পারে। অতীতে দেখা গিয়েছে, বাজেটের পর বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।
আন্তর্জাতিক বাজার ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
এই পতন শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ কারণে হয়নি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবও এতে রয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হার বৃদ্ধি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা আগেই বাজারকে চাপের মধ্যে রেখেছিল।
এই পরিস্থিতিতে বাজেটে প্রত্যাশিত উদ্দীপনামূলক ঘোষণা না থাকায় বিনিয়োগকারীদের হতাশা আরও বেড়েছে। বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের (FPI) মধ্যেও সতর্ক মনোভাব দেখা গিয়েছে, যার প্রভাব ভারতীয় বাজারেও পড়েছে।
দীর্ঘমেয়াদে বাজারের উপর প্রভাব কতটা?
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই পতন স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাজারের ভিত্তি এখনও মজবুত। ভারতের অর্থনীতি বৃদ্ধির পথে রয়েছে, কর্পোরেট আয়ের সম্ভাবনাও ইতিবাচক।
একাধিক ব্রোকারেজ সংস্থা জানিয়েছে, বাজেটের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ বাজারে অস্থিরতা থাকতে পারে। তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে আবার ধীরে ধীরে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
খুচরো বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা
এই ধরনের বাজার পতনের সময়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন খুচরো বিনিয়োগকারীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করলে অনেক সময় ক্ষতি স্থায়ী হয়ে যায়।
বাজার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখুন।
পোর্টফোলিও বৈচিত্র্য বজায় রাখুন।
আতঙ্কে সিদ্ধান্ত না নিয়ে আর্থিক উপদেষ্টার সঙ্গে পরামর্শ করুন।
মৌলভিত্তি শক্ত সংস্থার শেয়ারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আস্থা রাখুন।
বাজেট ও বাজার সম্পর্কের ইতিহাস
ভারতের শেয়ার বাজারে বাজেট ঘোষণার দিন বহুবার বড় ওঠানামা দেখা গিয়েছে। অতীতেও এমন উদাহরণ রয়েছে, যখন বাজেটের কিছু ঘোষণায় বাজার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
২০১৮ সালে দীর্ঘমেয়াদি ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স পুনর্বহালের ঘোষণার পর বাজারে বড় পতন হয়েছিল। আবার ২০২০ সালে বাজেটে ব্যাঙ্কিং ও অবকাঠামো খাতে উদ্দীপনা দেওয়ার ঘোষণায় বাজারে ইতিবাচক সাড়া দেখা যায়।
এই ইতিহাস বলছে, বাজেটের দিন বাজারের প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ ভাবে নির্ভর করে ঘোষণার প্রকৃতি ও বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার উপর।
ডেরিভেটিভস ট্রেডে কর বৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাব
ডেরিভেটিভস ট্রেডে কর বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে সক্রিয় ট্রেডারদের উপর। প্রতিদিনের ভিত্তিতে যারা বহু লেনদেন করেন, তাঁদের জন্য ট্রেডিং খরচ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে বাজারে লিকুইডিটি কিছুটা কমতে পারে। তবে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হল, অতিরিক্ত জল্পনা কমিয়ে বাজারকে আরও স্থিতিশীল করা।
তবে এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে বাজারের জন্য ইতিবাচক না নেতিবাচক হবে, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
মিডিয়া ও বাজার মহলের প্রতিক্রিয়া
বাজেটের দিন এই ধস সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক বিশ্লেষক একে “বাজেট-পরবর্তী বাজার ধাক্কা” হিসেবে উল্লেখ করছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিনিয়োগকারীরা নিজেদের হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে বাজারের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
ব্রোকারেজ সংস্থাগুলি তাদের ক্লায়েন্টদের উদ্দেশে বিশেষ নোট জারি করে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছে এবং আতঙ্কিত হয়ে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
বাজার পুনরুদ্ধারের সম্ভাব্য পথ
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজার ঘুরে দাঁড়াতে হলে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে—
সরকারের তরফে আশ্বাসমূলক বার্তা ও স্পষ্ট নীতিগত দিকনির্দেশ।
কর্পোরেট আয়ের ইতিবাচক ফলাফল।
বৈশ্বিক বাজারে স্থিতিশীলতা।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো।
এই চারটি বিষয় ইতিবাচক হলে আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যেই বাজার ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব
শেয়ার বাজারের এই পতন শুধুমাত্র বিনিয়োগকারীদের উপরই নয়, সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মনোভাবের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বহু মানুষের অবসরকালীন সঞ্চয়, বিমা ও মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ বাজারের সঙ্গে যুক্ত।
বাজার ধস হলে মানুষের ব্যয়ের প্রবণতা কমতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে ভোক্তা চাহিদা ও সামগ্রিক অর্থনীতির উপর। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি স্বল্পমেয়াদি প্রভাব, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি তার নিজস্ব গতিতে চলবে
বাজেটের ইতিবাচক দিক ও বাজারের প্রতিক্রিয়ার ফারাক
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাজেটে রাজস্ব ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মতো একাধিক ইতিবাচক দিক রয়েছে বলে সরকারের দাবি। কিন্তু বাজার তাৎক্ষণিক ভাবে মূলত কর ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত ঘোষণার দিকেই নজর দেয়।
এই কারণেই বাজেটের সামগ্রিক অর্থনৈতিক দিক ইতিবাচক হলেও বাজারের প্রতিক্রিয়া নেতিবাচক হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ।