Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

জয়ার ওসিডি নীনার বধ ২ প্রেক্ষাগৃহে এই সপ্তাহে আর কোন কোন ছবি চমক দিতে চলেছে

জানুয়ারিতে এক দিকে ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’, ‘বিজয়নগরের হীরে’, অন্য দিকে ‘বর্ডার ২’, ‘মর্দানি ৩’-এর মতো ছবি দেখেছেন দর্শক। তাঁদের জন্য কী থাকছে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে?

নতুন বছর শুরু হতেই প্রেক্ষাগৃহে ছবির বন্যা— জানুয়ারির পর এ বার ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেও দর্শকদের জন্য থাকছে একাধিক প্রতীক্ষিত সিনেমা। থ্রিলার, হরর, কমেডি, অ্যাকশন থেকে সামাজিক বাস্তবতার গল্প— সব ধরনের দর্শকের জন্যই রয়েছে ভিন্ন স্বাদের ছবি। জানুয়ারিতে যেখানে ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’, ‘বিজয়নগরের হীরে’, ‘বর্ডার ২’, ‘মর্দানি ৩’-এর মতো বড় বাজেটের ও জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির ছবি দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে টেনেছে, সেখানে ফেব্রুয়ারির শুরুতেও অপেক্ষা করছে একাধিক আকর্ষণীয় মুক্তি। এই সময়টায় মুক্তি পাওয়া ছবিগুলি শুধু বিনোদনের ক্ষেত্রেই নয়, বিষয়বস্তু, অভিনয় এবং সামাজিক বার্তার দিক থেকেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।


ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের বড় মুক্তি: নানা স্বাদের ছবি

১) ওসিডি (OCD) — সাহসী বিষয়, জয়ার গভীর অভিনয়

এই সপ্তাহের সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ মুক্তি নিঃসন্দেহে ‘ওসিডি’। সৌকর্য ঘোষাল পরিচালিত এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান। ছবির মূল বিষয়বস্তু মানসিক ব্যাধি এবং মানুষের মানসিক জটিলতা— বিশেষ করে পিডোফিলিয়া, যা ভারতীয় তথা বাংলা ছবিতে এখনও খুব কম আলোচিত বিষয়।

জয়া আহসান এই ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তুতির সময় নিজের মধ্যেও কিছু অভ্যাস ও মানসিক প্রবণতা নিয়ে অনুসন্ধান করেছিলেন। তাঁর কথায়, পিডোফিলিয়া একটি ভয়ংকর মানসিক অসুস্থতা— যেখানে শিশুর প্রতি স্বাভাবিক স্নেহ নয়, বরং যৌন আকর্ষণ জন্মায়। সমাজে এটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ এবং একই সঙ্গে মানসিক বিকৃতি।

বাংলা ছবিতে সাধারণত রোমান্টিক, পারিবারিক বা সামাজিক গল্প বেশি দেখা যায়। কিন্তু মানসিক রোগ বা মানুষের অন্ধকার মনস্তত্ত্ব নিয়ে কাজ খুব কম হয়। ‘ওসিডি’ সেই দিক থেকে একটি সাহসী প্রয়াস। দর্শকদের জন্য এটি শুধু বিনোদন নয়, বরং এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক অভিজ্ঞতা এবং সামাজিক সচেতনতার বার্তা।


২) বধ ২ — প্রবীণ অভিনেতাদের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন

সঞ্জয় মিশ্র ও নীনা গুপ্ত অভিনীত ‘বধ ২’ একটি বহুল প্রতীক্ষিত সিকুয়েল। ‘বধ’ ছবিটি দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল, বিশেষ করে গল্পের গভীরতা এবং প্রবীণ অভিনেতাদের শক্তিশালী অভিনয়ের জন্য।

এই দ্বিতীয় পর্বে গল্প আরও গভীরে যায়। ঋণের চাপে শম্ভুনাথ মিশ্র যে খুন করতে বাধ্য হয়েছিলেন, তার ফলাফল এবং পরবর্তী জীবনযুদ্ধই উঠে আসে এই ছবিতে। দীর্ঘ ২৮ বছরের কারাবাসে নীনার চরিত্র মঞ্জুর জীবন, মানসিক অবস্থা এবং সম্পর্কের জটিলতা ছবির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

এই ছবির বিশেষ দিক হল— প্রবীণ অভিনেতাদের কেন্দ্রীয় চরিত্রে তুলে ধরা। নীনা গুপ্ত নিজেই বলেছেন, ‘বধ’ সিরিজ প্রবীণ অভিনেতাদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। শুধু পার্শ্বচরিত্র নয়, বরং গল্পের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে তাঁদের উপস্থিতি দর্শকদের কাছে একটি নতুন দৃষ্টান্ত।


৩) ভাবিজি ঘর পর হ্যায় — টিভি থেকে বড় পর্দায় জনপ্রিয় কমেডি

ভারতীয় টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় কমেডি ধারাবাহিক ‘ভাবিজি ঘর পর হ্যায়’ এবার বড় পর্দায়। টিভি দর্শকদের কাছে পরিচিত সেই দুই প্রতিবেশী এবং তাঁদের স্ত্রীদের নিয়ে হাস্যরসাত্মক গল্প এবার সিনেমার ফরম্যাটে দেখা যাবে।

এই ছবিতে আসিফ শেখ, শুভাঙ্গি আত্রে, রোহিতাশ্ব গৌর এবং বিদিশা শ্রীবাস্তব মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। দীর্ঘদিন বিতর্ক ছিল— ‘অঙ্গুরি ভাবি’র চরিত্রে কে থাকবেন। শেষ পর্যন্ত শুভাঙ্গি আত্রেকেই দেখা যাচ্ছে।

এই ছবির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল হালকা-ফুলকা কমেডি এবং পারিবারিক বিনোদন। বর্তমানে যখন থ্রিলার, হরর ও গম্ভীর বিষয়বস্তুর ছবি বেশি তৈরি হচ্ছে, তখন এমন একটি পারিবারিক কমেডি ছবি দর্শকদের কাছে স্বস্তির নিঃশ্বাস হতে পারে।


৪) জ়োর (Zor) — জম্বি, ভয় ও অ্যাকশনের মিশেল

হরর-থ্রিলার ঘরানার দর্শকদের জন্য রয়েছে ‘জ়োর’। গৌরব দত্ত পরিচালিত এই ছবিতে জম্বি সংক্রমণের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। শহরে হঠাৎ জম্বিদের উৎপাত, মানুষের বাঁচার লড়াই এবং একাধিক চরিত্রের জীবনসংগ্রাম— সব মিলিয়ে এটি একটি ফাস্ট-পেসড থ্রিলার।

অভিনয়ে রয়েছেন জয় সেনগুপ্ত, আকাশ মখিজা, ঋষভ চঢা এবং প্রান্তিকা দাস। প্রান্তিকার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ হিন্দি ছবি, যেখানে তিনি ‘সরস্বতী’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন— যে চরিত্রটি বুদ্ধিদীপ্ত, সাহসী এবং কৌশলী।

জম্বি জঁর এখনও ভারতীয় সিনেমায় খুব বেশি জনপ্রিয় নয়। তবে আন্তর্জাতিক দর্শকদের মধ্যে এই ঘরানা অত্যন্ত জনপ্রিয়। ‘জ়োর’ সেই দিক থেকে ভারতীয় দর্শকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হতে পারে।


৫) খাঁচা — নারীপাচারের অন্ধকার বাস্তবতা

সামাজিক বাস্তবতার গল্প নিয়ে আসছে ‘খাঁচা’। এই ছবিতে নারীপাচার চক্রের ভয়ংকর জগৎ তুলে ধরা হয়েছে। নেটপ্রভাবী মৃন্ময়, যিনি ‘সিনেবাপ’ নামে পরিচিত, এই ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন রজতাভ দত্ত, মীর আফসার আলি, কাঞ্চনা মৈত্র, অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায়, কৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রত্যুষা পাল প্রমুখ।

ছবির শুটিং হয়েছে পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে, যেখানে বাস্তবতার ছোঁয়া আরও বেশি। পরিচালক অনির্বাণ চক্রবর্তীর শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা থেকেই বোঝা যায়— এই ছবির পরিবেশ কতটা রোমাঞ্চকর এবং ভয়ানক। পাহাড়ি জঙ্গলে চিতা দেখা যাওয়ার ঘটনা ছবির বাস্তবতার অনুভূতিকে আরও তীব্র করে তোলে।

এই ধরনের ছবি শুধু বিনোদন নয়, বরং সামাজিক সচেতনতার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। নারীপাচার একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা, এবং সিনেমার মাধ্যমে এই বিষয়টি তুলে ধরা দর্শকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে পারে।

news image
আরও খবর

৬) দ্য স্ট্রেঞ্জারস: চ্যাপ্টার ৩ — হলিউডের রহস্যময় হরর থ্রিলার

হলিউডের জনপ্রিয় হরর সিরিজ ‘দ্য স্ট্রেঞ্জারস’-এর তৃতীয় অধ্যায়ও মুক্তি পাচ্ছে এই সপ্তাহে। গল্পের মূল বিষয়— ম্যানিকুইন নাকি জীবন্ত হয়ে ওঠে এবং শহরে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এই রহস্যের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে জেসমিনের জীবন বিপন্ন হয়ে ওঠে।

হরর ও রহস্যের মিশেলে তৈরি এই ছবিটি আন্তর্জাতিক দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। প্রথম দুই পর্বের সাফল্যের পর তৃতীয় পর্ব নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই তুঙ্গে।


ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ: সিনেমা প্রেমীদের জন্য বিশেষ সময়

ফেব্রুয়ারির শুরুটা সিনেমাপ্রেমীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে মানসিক রোগ, সামাজিক সমস্যা, অপরাধ ও থ্রিলারের মতো গুরুগম্ভীর বিষয়বস্তু, অন্যদিকে হালকা কমেডি ও হরর— সব মিলিয়ে দর্শকদের জন্য রয়েছে নানা স্বাদের বিনোদন।

এই সপ্তাহের ছবিগুলি শুধুমাত্র বক্স অফিসের লড়াই নয়, বরং বিষয়বস্তু, অভিনয় এবং নির্মাণশৈলীর দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ‘ওসিডি’ এবং ‘খাঁচা’-র মতো ছবিগুলি সমাজের অন্ধকার দিক তুলে ধরার সাহস দেখিয়েছে। ‘বধ ২’ প্রবীণ অভিনেতাদের গুরুত্ব এবং শক্তিশালী অভিনয়ের দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। ‘ভাবিজি ঘর পর হ্যায়’ পারিবারিক বিনোদনের প্রতিনিধিত্ব করছে, আর ‘জ়োর’ ও ‘দ্য স্ট্রেঞ্জারস: চ্যাপ্টার ৩’ হরর ও থ্রিলারের নতুন অভিজ্ঞতা এনে দিচ্ছে
 

উপসংহার (খুব দীর্ঘ ও বিস্তারিত)

নতুন বছরের দ্বিতীয় মাসের শুরুতেই সিনেমাপ্রেমীদের জন্য যে বৈচিত্র্যময় বিনোদনের সম্ভার অপেক্ষা করছে, তা নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য। জানুয়ারি মাসে যেখানে একাধিক বড় বাজেটের ছবি এবং জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির মুক্তি দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে টেনেছে, সেখানে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ যেন আরও বহুমাত্রিক গল্প, সাহসী বিষয়বস্তু এবং নতুন অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে হাজির হয়েছে। এই সপ্তাহের ছবিগুলির তালিকা লক্ষ্য করলে বোঝা যায়— বর্তমান ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সিনেমা ধীরে ধীরে এক নতুন দিকের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে শুধুমাত্র বিনোদন নয়, বরং সমাজ, মনস্তত্ত্ব, ভয়, হাসি এবং বাস্তবতার নানা স্তর একসঙ্গে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রথমেই যদি ‘ওসিডি’ ছবির কথা বলা হয়, তবে বলা যায়— এটি শুধুমাত্র একটি সিনেমা নয়, বরং একটি সাহসী সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান। পিডোফিলিয়ার মতো স্পর্শকাতর ও বিতর্কিত বিষয় নিয়ে বাংলা ছবিতে এতদিন খুব কম কাজ হয়েছে। জয়া আহসানের মতো অভিনেত্রী যখন এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করেন এবং নিজেও নিজের মানসিক প্রবণতা নিয়ে ভাবনার কথা বলেন, তখন সেটি শুধু অভিনয়ের সীমা ছাড়িয়ে একটি সামাজিক আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করে। এই ধরনের ছবি দর্শকদের শুধুমাত্র বিনোদন দেয় না, বরং সমাজের অন্ধকার দিকের দিকে তাকাতে বাধ্য করে। মানসিক রোগ, বিকৃতি এবং মানুষের অন্তর্লুকানো অন্ধকার প্রবৃত্তি নিয়ে আলোচনা করা আধুনিক সমাজে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই ‘ওসিডি’ শুধু বক্স অফিসের লড়াই নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বক্তব্য হিসেবেও বিবেচিত হবে।

এরপর ‘বধ ২’ ছবিটি প্রবীণ অভিনেতাদের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের প্রতীক। ভারতীয় সিনেমায় সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিনেতাদের প্রধান চরিত্রে দেখা যাওয়ার সুযোগ কমে যায়। কিন্তু ‘বধ’ এবং তার সিকুয়েল দেখিয়েছে— বয়স কোনো বাধা নয়, বরং অভিজ্ঞতা ও অভিনয়ের গভীরতা দর্শকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। সঞ্জয় মিশ্র ও নীনা গুপ্তের মতো অভিনেতাদের কেন্দ্রীয় চরিত্রে তুলে ধরা মানে সিনেমার ভাষায় এক ধরনের সামাজিক বার্তা— প্রবীণরাও গল্পের নায়ক-নায়িকা হতে পারেন। এই ছবির গল্পে অপরাধ, ভালোবাসা, অনুশোচনা এবং মানবিক সম্পর্কের জটিলতা উঠে এসেছে, যা দর্শকদের ভাবতে বাধ্য করবে।

অন্যদিকে, ‘ভাবিজি ঘর পর হ্যায়’ ছবিটি দর্শকদের জন্য একেবারে অন্য রকম অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে ছোট পর্দায় জনপ্রিয় এই ধারাবাহিকের চরিত্র ও কৌতুক এবার বড় পর্দায়। বর্তমান সময়ে যখন অনেক ছবিই গম্ভীর, অন্ধকার বা থ্রিলারধর্মী হয়ে উঠছে, তখন এমন একটি হালকা-ফুলকা পারিবারিক কমেডি ছবি দর্শকদের জন্য এক ধরনের স্বস্তি। পরিবার নিয়ে একসঙ্গে সিনেমা হলে গিয়ে হাসতে পারার মতো ছবির সংখ্যা দিন দিন কমছে। ‘ভাবিজি ঘর পর হ্যায়’ সেই অভাব কিছুটা হলেও পূরণ করতে পারে।

হরর ও অ্যাকশনপ্রেমীদের জন্য ‘জ়োর’ এবং ‘দ্য স্ট্রেঞ্জারস: চ্যাপ্টার ৩’ এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। জম্বি ঘরানার ছবি ভারতীয় দর্শকদের কাছে এখনও পুরোপুরি মূলধারায় আসেনি। তবে আন্তর্জাতিকভাবে এই জঁর অত্যন্ত জনপ্রিয়। ‘জ়োর’ যদি দর্শকদের মধ্যে জম্বি থ্রিলারের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে ভারতীয় সিনেমায় এই ঘরানার আরও কাজ দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে ‘দ্য স্ট্রেঞ্জারস’ সিরিজ হলিউডের হরর থ্রিলারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তৃতীয় অধ্যায়ে রহস্য, ভয় এবং অদ্ভুত কল্পনার মিশেল দর্শকদের নতুন ধরনের হরর অভিজ্ঞতা দিতে পারে।

সবচেয়ে বাস্তব ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছবি হিসেবে উঠে আসে ‘খাঁচা’। নারীপাচারের মতো ভয়ংকর অপরাধ নিয়ে তৈরি এই ছবিটি শুধু বিনোদন নয়, বরং একটি সামাজিক প্রতিবাদও বটে। নারীপাচার বিশ্বের অন্যতম গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন। এই ধরনের ছবি দর্শকদের সচেতন করতে পারে, সমাজের অন্ধকার দিকের কথা সামনে আনতে পারে এবং মানুষকে ভাবতে বাধ্য করতে পারে— কীভাবে এই ধরনের অপরাধ বন্ধ করা যায়। পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে শুটিংয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা ছবির সত্যতা ও তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

এই সব ছবিকে একসঙ্গে বিচার করলে বোঝা যায়— ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মুক্তিগুলি শুধু সংখ্যা বা বাজেটের দিক থেকে নয়, বরং বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্যের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে রয়েছে মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার, সামাজিক বাস্তবতা, অপরাধ, হরর, জম্বি, কমেডি এবং আন্তর্জাতিক রহস্য— অর্থাৎ প্রায় সব ধরনের দর্শকের জন্য কিছু না কিছু। বর্তমান সময়ে দর্শকদের রুচিও বহুমাত্রিক হয়ে উঠেছে। কেউ শুধুই হাসির ছবি দেখতে চান, কেউ আবার বাস্তবধর্মী বা গম্ভীর গল্প পছন্দ করেন, কেউ ভয় ও থ্রিলারের উত্তেজনা খোঁজেন। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের এই মুক্তিগুলি সেই বহুমাত্রিক রুচির প্রতিফলন।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল— এই ছবিগুলি ভারতীয় সিনেমার পরিবর্তনশীল ধারা সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়। একসময় যেখানে মূলধারার সিনেমা মানেই ছিল প্রেম, গান, নাচ এবং অ্যাকশন, এখন সেখানে মনস্তত্ত্ব, সামাজিক সমস্যা, মানসিক রোগ, অপরাধ, নারীপাচার, হরর ও আন্তর্জাতিক ঘরানার গল্প জায়গা করে নিচ্ছে। এটি ভারতীয় সিনেমার পরিণত হওয়ার লক্ষণ। নির্মাতারা এখন শুধু বক্স অফিসের কথা নয়, বরং গল্পের গভীরতা এবং সামাজিক বার্তার দিকেও নজর দিচ্ছেন।

দর্শকদের ক্ষেত্রেও এই পরিবর্তন লক্ষণীয়। বর্তমান দর্শক শুধু বিনোদন চান না, তাঁরা ভাবতে চান, নতুন কিছু দেখতে চান, নতুন অভিজ্ঞতা পেতে চান। ‘ওসিডি’-র মতো ছবি দর্শকদের মানসিক জগতের অন্ধকার দিকের মুখোমুখি করবে, ‘খাঁচা’ সমাজের নিষ্ঠুর বাস্তবতা তুলে ধরবে, ‘বধ ২’ মানবিক সম্পর্কের জটিলতা দেখাবে, ‘ভাবিজি ঘর পর হ্যায়’ হাসি এনে দেবে, আর ‘জ়োর’ ও ‘দ্য স্ট্রেঞ্জারস’ ভয় ও রহস্যের উত্তেজনা তৈরি করবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ সিনেমাপ্রেমীদের জন্য এক ধরনের সিনেমাটিক উৎসবের শুরু। জানুয়ারির বড় মুক্তির পর অনেকেই ভাবতে পারেন যে ফেব্রুয়ারিতে হয়তো তেমন কিছু থাকবে না। কিন্তু এই তালিকা প্রমাণ করে, ফেব্রুয়ারির শুরুতেই সিনেমা হলে যাওয়ার মতো একাধিক আকর্ষণীয় ছবি রয়েছে। যারা নিয়মিত সিনেমা দেখেন, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ সময়। যারা মাঝেমধ্যে সিনেমা হলে যান, তাদের জন্যও এই সপ্তাহে এমন কিছু ছবি রয়েছে, যা প্রেক্ষাগৃহে বড় পর্দায় দেখার অভিজ্ঞতা আরও তীব্র করে তুলবে।

শেষ পর্যন্ত বলা যায়, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের এই মুক্তিগুলি শুধু নতুন ছবি নয়, বরং নতুন চিন্তাভাবনা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং নতুন অভিজ্ঞতার প্রতীক। এই ছবিগুলি দর্শকদের হাসাবে, ভয় দেখাবে, ভাবাবে, চমক দেবে এবং সমাজের নানা স্তর সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শেখাবে। সিনেমা যেমন সমাজের প্রতিফলন, তেমনই সমাজকেও বদলানোর একটি শক্তিশালী মাধ্যম। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের এই ছবিগুলি সেই শক্তিরই এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

সিনেমাপ্রেমীদের জন্য তাই ফেব্রুয়ারির শুরু মানেই শুধু নতুন মাস নয়, বরং নতুন গল্প, নতুন অনুভূতি এবং নতুন অভিজ্ঞতার দরজা খুলে যাওয়া।

Preview image