Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

জিমে ৭টি ভুল যা আপনার অস্থিসন্ধির জন্য বিপদজনক হতে পারে

সমাজমাধ্যমের প্রভাবের ফলে অল্পবয়সীরা এখন বেশ পরিচিত জিম সংস্কৃতির সাথে। তবে, ভুল ভঙ্গি বা অতিরিক্ত চাপের কারণে অজান্তেই অস্থিসন্ধির ক্ষতি হতে পারে। তাই সঠিক ভঙ্গি ও ব্যায়ামের প্রতি যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মত সতর্কতা অবলম্বন করলে শরীরের সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব।

 

নিয়মিত জিমে সময় কাটানো বর্তমান সমাজে একটি ব্যাপক প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতার যে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, শরীরচর্চা, ওজন কমানো বা সুঠাম দেহ গঠনের জন্য অধিকাংশ মানুষ এখন জিমে যাচ্ছে। কিন্তু, এই সচেতনতা সত্ত্বেও, যদি ব্যায়াম পদ্ধতি সঠিকভাবে অনুসরণ না করা হয়, তবে তা শারীরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে, বিশেষ করে অস্থিসন্ধির সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

আমরা জানি যে, জিমে যাওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য হলো শরীর সুস্থ রাখা এবং শারীরিক লক্ষ্যে পৌঁছানো। তবে এটি সঠিকভাবে করতে হবে, কারণ ব্যায়ামের সময় শরীরের প্রতিটি অংশে চাপ তৈরি হয় এবং যদি সেই চাপ সঠিকভাবে পরিচালিত না হয়, তা হলে তা অস্থিসন্ধির ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে তরুণরা যখন শরীর সুস্থ রাখতে বা শারীরিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে এক্সারসাইজের জন্য অতিরিক্ত ওজন বহন করতে থাকে, তখন এটি অস্থিসন্ধির জন্য মারাত্মক হতে পারে। খুব বেশি ওজন তোলার ফলে কাঁধ, হাঁটু, মেরুদণ্ড, বা অন্যান্য অস্থিসন্ধিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ব্যায়াম করার সময় আমাদের শরীরের সঠিক ভঙ্গি এবং পদ্ধতি অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক তরুণ তাদের শরীরের ক্ষমতার চেয়ে বেশি ওজন তুলতে গিয়ে ভুল ভঙ্গি ব্যবহার করেন। এভাবে সঠিকভাবে ব্যায়াম না করলে অস্থিসন্ধির ক্ষতি হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, অনেকেই বেঞ্চ প্রেস বা স্কোয়াট ব্যায়াম করতে গিয়ে সঠিক ভঙ্গি অনুসরণ না করায় কাঁধ বা হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেন, যার ফলে অস্থিসন্ধি বা হাড়ের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি, যখন আমরা অস্থিসন্ধির ওপর চাপ সৃষ্টি করি, তখন দীর্ঘমেয়াদে এটি আমাদের শারীরিক সুস্থতার জন্য বিপদজনক হতে পারে।

এছাড়া, আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে, অনেক তরুণ জিমে গিয়ে মাত্রাতিরিক্ত ব্যায়াম করেন এবং বিশ্রাম নেন না। আমাদের শরীরের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি অতিরিক্ত ব্যায়ামও শরীরের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্রামের মাধ্যমে শরীর পুনরুদ্ধার পায়, এবং এই পুনরুদ্ধার ছাড়া শরীরের উপকারিতা পাওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং, জিমে যাওয়ার আগে বা পরে যদি যথাযথ বিশ্রাম না নেওয়া হয়, তাহলে শরীরের অস্থিসন্ধি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অতএব, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা, সঠিক পরিমাণে ওজন তুলা, সঠিক ভঙ্গি এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে, শারীরিক স্বাস্থ্য বা শরীরের সুস্থতা যদি একমাত্র লক্ষ্য হয়, তবে সঠিক ব্যায়াম পদ্ধতি অনুসরণ এবং শরীরের প্রতি যত্ন নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। আজকাল, অনেক প্রশিক্ষক এবং শারীরিক বিশেষজ্ঞরা ব্যায়াম পদ্ধতির সঠিকতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করছেন, যা শরীরকে সুস্থ এবং শক্তিশালী রাখতে সহায়ক।

সবশেষে, তরুণ প্রজন্মের জন্য বিশেষভাবে এক কথা বলা যায়, “আপনি যদি সুস্থ থাকতে চান, তবে ব্যায়াম করুন, তবে সঠিকভাবে।” সঠিকভাবে ব্যায়াম না করলে তা শুধুমাত্র শরীরের ক্ষতি করবে, কিন্তু সঠিকভাবে করলে তা সুস্থ ও শক্তিশালী শরীর গঠনের পথ প্রশস্ত করবে।

অস্থিসন্ধির ক্ষতির প্রধান কারণ:

বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিয়মিত ভারী ওজন তুলতে গিয়ে যদি সঠিক ভঙ্গি না রাখা হয়, তবে এর প্রভাব সরাসরি অস্থিসন্ধিতে পড়ে। অস্থিসন্ধির নানা সমস্যা যেমন হাড়ের দুর্বলতা, হাঁটু ও কাঁধে অতিরিক্ত চাপ পড়া, কিংবা হাড়ের ফাটলও দেখা দিতে পারে। তাই, বিশেষভাবে কিছু ব্যায়ামের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, বিশেষ করে যদি আপনি ভারী ওজন ব্যবহার করেন।

৭টি সতর্কতা প্রক্রিয়া:

১) আপরাইট রো (Upright Row):
এই ব্যায়ামটি খুবই জনপ্রিয়, কিন্তু অনেকেই এটি করতে গিয়ে ভুল ভঙ্গি ব্যবহার করেন। আপরাইট রো করার সময় যখন আপনি দুই হাত শরীরের দিকে এগিয়ে আনেন, তখন কাঁধের উপরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এটি দীর্ঘ সময় ধরে করতে থাকলে কাঁধের ক্ষতি হতে পারে এবং পরবর্তীতে শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে পারে।

news image
আরও খবর

২) বেঞ্চ প্রেস (Bench Press):
বেঞ্চ প্রেস সাধারণত ভারী ওজন দিয়ে করা হয় এবং এটি কাঁধের পেশি তৈরি করতে সহায়তা করে। তবে, বেঞ্চে শুয়ে যখন দুই হাত বাইরের দিকে ছড়িয়ে ব্যায়ামটি করা হয়, তখন কাঁধের হাড়ের ওপর অকারণে চাপ তৈরি হয়। তাই, এই ব্যায়ামটি সঠিক ভঙ্গিতে এবং পরিমাণ মতো ওজন দিয়ে করা উচিত।

৩) বিহাইন্ড দ্য নেক প্রেস (Behind the Neck Press):
এই ব্যায়ামটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে যদি আপনি সঠিকভাবে না করেন। কাঁধের পিছনে হাত নিয়ে গিয়ে এটি করার ফলে ঘাড় এবং কাঁধের নিচের অংশের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা অস্থিসন্ধির সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এই ব্যায়ামটি পরামর্শ দেন না, যদি আপনি সঠিকভাবে জানেন না কীভাবে এটি করতে হয়।

৪) স্মিথ মেশিন স্কোয়াট (Smith Machine Squat):
স্কোয়াট একটি কার্যকর ব্যায়াম, তবে স্মিথ মেশিনে এটি করার সময় বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। এই মেশিনে এক জায়গায় থাকা অবস্থায় স্কোয়াট করা হলে হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। এটি হাড়ের ক্ষতি করতে পারে এবং হাঁটুর ইনজুরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই, স্কোয়াট সবসময় খালি হাতে বা বারবেল ব্যবহার করে করা উচিত।

৫) দেহ এবং মন (Mind-Muscle Connection):
জিমে গিয়ে অনেক সময় আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ে অভ্যাসবশত ব্যায়াম করতে চলে আসি, কিন্তু তখন শরীর যথেষ্ট বিশ্রাম না পাওয়ায় আমরা ওজন বাড়ানোর চেষ্টা করি। এটি অস্থিসন্ধিতে চোট লাগানোর সম্ভাবনা তৈরি করে। জিমে যেতে হলে আপনাকে অবশ্যই শরীরের প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিতে হবে এবং অতিরিক্ত ওজন চাপানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

৬) লেগ প্রেস (Leg Press):
লেগ প্রেস ব্যায়ামটি করার সময় যদি হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা হয়, তবে এটি পায়ের হাড়ের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যদি ওজন কম না করা হয় এবং চাপ বাড়ানো হয়, তবে পায়ের হাড়ে চোট লাগতে পারে। তাই এই ব্যায়ামটি সতর্কতার সাথে এবং সঠিকভাবে করা উচিত।

৭) শ্রাগ (Shrug):
কাঁধের পেশি তৈরি করতে শ্রাগ ব্যায়ামটি খুবই জনপ্রিয়, তবে ভারী ডাম্বেল ব্যবহার করার সময় যদি আপনি কাঁধকে দুই কানের দিকে নিয়ে যান, তবে তা চোটের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। শ্রাগ ব্যায়ামটি খুবই ধীরে ধীরে এবং সঠিক ভঙ্গিতে করা উচিত, যাতে অতিরিক্ত চাপ কাঁধের পেশির ওপর না পড়ে।

উপসংহার:

বর্তমান সময়ের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শরীর সুস্থ রাখা এবং ভালো দেহ গঠনের প্রতি একটি শক্তিশালী সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিকাংশ মানুষ এখন নিয়মিত জিমে যাচ্ছেন, স্বাস্থ্য সচেতন এবং সঠিক শারীরিক ফিটনেসের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। তবে, শারীরিক উন্নতি লাভের জন্য ব্যায়াম করা যেমন জরুরি, তেমনি সঠিক ব্যায়াম পদ্ধতি অনুসরণ করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভুল ভঙ্গিতে ব্যায়াম করা বা অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের ফলে শরীরের অস্থিসন্ধিতে সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কাঁধ, হাঁটু বা মেরুদণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অস্থিসন্ধির ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।

সঠিক ভঙ্গিতে ব্যায়াম করা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রতিটি ব্যায়ামের আগে সঠিক পরামর্শ গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, শরীরের প্রতি সঠিক যত্ন এবং সাবধানতা অবলম্বন করলে শরীর সুস্থ থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়। শরীরের সুস্থতা অর্জন করার জন্য শারীরিক কসরতের পাশাপাশি মানসিক শান্তিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই, শরীরের প্রতি সঠিক যত্ন নিতে হলে সঠিক পদ্ধতিতে ব্যায়াম এবং অস্থিসন্ধির প্রতি সতর্কতা রাখা উচিত।

Preview image