করন জোহর অবশেষে ঘোষণা করলেন ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’-এর রিমেকে অভিনয় করবেন কোন তারকারা। দীর্ঘ জল্পনার পর প্রকাশ্যে এল নতুন কাস্টিংয়ের নাম, যা নিয়ে বলিউড মহলে উত্তেজনা তুঙ্গে।
বলিউডে রিমেকের হাওয়া বহুদিন ধরেই বইছে, তবে তার মধ্যেও কিছু ছবির গুরুত্ব ও আবেগ আলাদা। যেসব ছবি সময়কে ছাপিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে অমলিন হয়ে থাকে, সেগুলির রিমেক করা খুব সহজ কাজ নয়। এমনই এক ক্লাসিক ছবি ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’। করন জোহরের পরিচালনায় ১৯৯৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবি বলিউডে রোমান্সকে নতুন সংজ্ঞা দিয়েছিল। শাহরুখ খান, কাজল ও রানি মুখার্জির জাদু আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। বছরের পর বছর ধরে এই ছবির রিমেক নিয়ে জল্পনা শোনা গিয়েছে, কিন্তু করন জোহর কখনওই স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। কিন্তু অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল। বহু প্রতীক্ষার পর তিনি ঘোষণা করলেন—‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’-এর রিমেক আসছে, এবং এবার তিনি জানালেন সেই রিমেকে কারা অভিনয় করছেন।
এই ঘোষণাটি শুধু একটি কাস্ট–লিস্ট নয়, বরং এক নতুন যুগের বলিউডের প্রতিচ্ছবি। করন জোহরের মতে, এখনকার দর্শক আগের থেকে একেবারেই আলাদা। তাদের রুচি, ভাবনা, প্রত্যাশা অনেকটাই আধুনিক ও বিশ্বায়িত। এমন পরিস্থিতিতে কোনও ক্লাসিক ছবিকে রিমেক করতে গেলে শুধু আগের গল্পকে নতুন করে বলা যথেষ্ট নয়, বরং সেটিকে নতুন প্রজন্মের অনুভূতির সঙ্গে মিলিয়ে দিতে হয়। তিনি তাই অত্যন্ত ভেবেচিন্তে তিনজন অভিনেতা বেছে নিয়েছেন, যারা মূল ছবির চরিত্রগুলির মতোই আপন মনে পর্দা দখল করতে পারেন।
তিনি জানিয়েছেন, রিমেকের জন্য যেসব অভিনেতা বেছে নিয়েছেন, তাঁরা কেবল জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নির্বাচিত নন; বরং তাঁদের মধ্যে আছে সেই চার্ম, সেই ইমোশন, সেই স্ক্রিন প্রেজেন্স যা দর্শকদের মধ্যে আবারও ‘রাহুল–অঞ্জলি–টিনা’র জাদু ফিরিয়ে আনতে পারে। করন বলেন, “এই ছবি শুধু প্রেমের গল্প নয়। এটি বন্ধুত্বের গল্প, দ্বিতীয় সুযোগের গল্প, বড় হয়ে ওঠার গল্প। তাই কাস্টিংয়ে কোনও তাড়াহুড়ো করতে চাইনি। আমি চেয়েছিলাম এমন মুখ, যাদের দেখে দর্শক একইসঙ্গে নতুন অনুভব করবে, আবার পুরনো স্মৃতিও জেগে উঠবে।”
তিনি আরও বলেন, “৯০-এর দশকে স্কুল, কলেজ, প্রেম—সবই ছিল অনেক সহজ এবং অনেক স্বপ্নময়। কিন্তু এখনকার যুবসমাজ অনেক বেশি বাস্তববাদী। তাই রিমেকেও সেই আবহ রক্ষা করতে গিয়ে আমরা আজকের সময়কে অস্বীকার করতে পারি না। তাই চরিত্রগুলির ব্যাকস্টোরি, সম্পর্কের ধরন, আবেগ–সবকিছুতেই কিছু নতুন মোড় থাকবে।”
ধীরে ধীরে যখন করন কাস্টের নাম প্রকাশ করতে শুরু করেন, তখনই বলিউড মহলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা বাড়তে থাকে। অনেকে আন্দাজ করছিলেন কোন তারকা কোন ভূমিকায় অভিনয় করতে পারেন। কেউ ভাবছিলেন হয়তো স্টার–কিডদের নিয়ে তৈরি হবে রিমেক, আবার কেউ মনে করছিলেন পুরো নতুন মুখ দেওয়া হবে। করন সবসময়ই নতুন প্রতিভাকে তুলে ধরেন, তাই সেই সম্ভাবনাও প্রবল ছিল। কিন্তু অবশেষে ঘোষণার পর বোঝা গেল—তিনি কোনও ঝুঁকি নিতে চাননি, আবার একইসঙ্গে পুরোপুরি পরিচিত মুখও আনেননি।
রিমেক ছবিটি পরিচালনা করবেন স্বয়ং করন জোহরই। তিনি জানিয়েছেন, এটি তাঁর কাছে শুধুই একটি ছবি নয়, বরং আবেগের অংশ। তিনি বলেন, “‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’ আমার প্রথম শিশু। একজন পরিচালক হিসেবে আমার আত্মবিশ্বাস, আমার স্বপ্ন, আমার বিশ্বাস—সবকিছুই এই ছবির হাত ধরেই তৈরি হয়েছে। তাই এর রিমেক অন্য কাউকে দিয়ে করানো প্রশ্নই ওঠে না।”
এরপর তিনি জানান নতুন ছবির গল্প আগের ছবির মতোই তিন বন্ধুর সম্পর্ককে কেন্দ্র করে আবর্তিত হলেও এতে থাকবে আরও গভীর আবেগ, আরও বাস্তবসম্মত দ্বন্দ্ব, এবং আরও শক্তিশালী নারীচরিত্র। করন জোহর বারবারই বলেছেন যে তিনি এখনকার দর্শকদের সামনে এমন গল্প আনতে চান যেখানে নারীদের ভূমিকা আরও দৃঢ় ও স্বাধীন। তাই রিমেকে ‘অঞ্জলি’ এবং ‘টিনা’ চরিত্র দুটিতে নতুন মাত্রা যোগ করা হবে।
রিমেকের কাস্টিংয়ের বিষয়ে করন বলেন, “আমি চাই না নতুন প্রজন্ম আগের ছবির সঙ্গে তুলনা করে দেখুক। বরং তারা যেন এই রিমেককে নতুন ছবি হিসেবেই দেখে। তাই কাস্টিংয়ে আমরা খুব সতর্ক ছিলাম এবং এমন অভিনেতাদের বেছেছি যাদের মধ্যে স্বাধীন আকর্ষণ আছে, যাদের অভিনয় নিজেদের মতো আলাদা।”
ঘোষণার সাথে সাথে তিনজন অভিনেতার নাম প্রকাশ্যে আসে এবং মুহূর্তেই তারা ট্রেন্ড করে। নেটিজেনরা উত্তেজিত। ভক্তদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ বলছেন, এটা নতুন যুগের সাহসী কাস্টিং; আবার কেউ বলছেন, স্টারডমের চাপে রিমেকটি যেন মূল ছবির আবেগ হারিয়ে না ফেলে। তবে সবাই একমত—করন জোহর রিমেক করতে জানেন।
তিনি আরও বলেন, “আমি চাই নতুন ছবিটি দেখলে মানুষ অনুভব করুক—সময় বদলেছে, সম্পর্ক বদলেছে, কিন্তু প্রেম আর বন্ধুত্বের ভাষা চিরকালই একই রকম।” ছবিটি কবে শুটিং শুরু হবে, সে বিষয়েও করন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আগামী বছর থেকেই প্রোডাকশন শুরু হবে। লোকেশনও ঠিক করা হচ্ছে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং ভারতের আধুনিক কলেজ পরিবেশ মিলিয়ে।
এমনকি করন জানিয়েছেন যে ছবিতে কয়েকটি চমকও থাকবে। মূল ছবির কোনও অভিনেতা কি অতিথি চরিত্রে থাকবেন? এ বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি। তবে বলিউড সূত্রের মতে, শাহরুখ খান বা কাজলকেও বিশেষ অতিথি চরিত্রে দেখা যেতে পারে। যদিও এটি এখনো নিশ্চিত নয়, কিন্তু দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে।
সংগীত সম্পর্কে করন বলেন যে রিমেকের গানে পুরনো সুরের ছোঁয়া থাকবে, কিন্তু লিরিক, টোন, মিউজিক প্রোডাকশন হবে সম্পূর্ণ আধুনিক। “ছোটরা-ছোটরা” বা “কুচ কুচ হোতা হ্যায়”র মতো আইকনিক গানগুলির নতুন রূপও থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়—করন জোহরের ঘোষণা শুধু একটি রিমেকের খবর নয়, বরং এটি নতুন প্রজন্মের জন্য পুরনো স্মৃতিকে নতুনভাবে উপহার দেওয়ার প্রচেষ্টা। রিমেকে অভিনয় করবেন যেসব তারকা, তাঁরা নিজেদের প্রতিভা দিয়ে নতুন রাহুল, নতুন অঞ্জলি, নতুন টিনা তৈরি করবেন। দর্শকরা অপেক্ষায়—এই রিমেক কি সত্যিই আগের ছবির মতো ইতিহাস গড়বে? নাকি এটি একেবারে নতুন গল্প
বলিউডে রিমেক এখন আর শুধু ব্যবসার খাতিরে বানানো প্রকল্প নয়, বরং দর্শকদের আবেগ ও স্মৃতিকে নতুনভাবে ছুঁয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা। বিশেষত এমন কোনও ছবি যার সঙ্গে একটি প্রজন্মের বড় হয়ে ওঠা জড়িয়ে থাকে, সেই ছবির রিমেক ঘোষণাই অনেকের মনে একধরনের উচ্ছ্বাস ও উদ্বেগ তৈরি করে। ঠিক সেই অনুভূতিই আবারও সামনে এসেছে যখন করন জোহর ঘোষণা করলেন ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’-এর রিমেক তৈরি হচ্ছে এবং অবশেষে তিনি জানালেন নতুন কাস্টিং-এর নাম। ১৯৯৮ সালের এই ব্লকবাস্টার সিনেমাটি শুধু বলিউডের রোমান্সের সংজ্ঞা বদলায়নি, বরং রাহুল–অঞ্জলি–টিনার গল্প দর্শকদের মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছিল। তাই রিমেকের ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভক্তদের প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই তুঙ্গে।
করন জোহর দীর্ঘদিন ধরেই রিমেকের বিষয়ে নানা ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। তিনি বারবার স্বীকার করেছেন, এই ছবি তাঁর কাছে শুধু ডেবিউ কাজ নয়, বরং তাঁর হৃদয়ের কাছাকাছি থাকা একটি সৃষ্টিকর্ম। তাই রিমেক তৈরি করার সিদ্ধান্তটি তিনি কোনওভাবেই হুট করে নেননি। তিনি জানিয়েছেন যে অনেক বছর ধরে তাঁকে বারবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছে ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’-এর দ্বিতীয় অংশ বা রিমেক কখন আসবে। কিন্তু তিনি মনে করতেন সঠিক সময় ও সঠিক কাস্টিং ছাড়া এই ছবিকে আবারও বড় পর্দায় আনা উচিত নয়। আর আজকের নতুন প্রজন্ম যখন শুধু গল্প নয়, চরিত্রের মনস্তত্ত্ব, বাস্তবতা এবং সম্পর্কের গভীরতা বুঝতে চায়, তখন সেই চাপ আরও বাড়ে।
নতুন কাস্টিং ঘোষণা করতে গিয়ে করন বলেন, “আমি চাইনি এই ছবিটি আগেরটির নকল হোক। আমি চাই নতুন দর্শক যেন নিজেদের সময়, নিজেদের অনুভূতির সঙ্গে মিলিয়ে গল্পটিকে গ্রহণ করেন। তাই চরিত্রগুলোর আবেগ একই থাকলেও তাদের ব্যাকড্রপ, তাদের দ্বন্দ্ব, তাদের লড়াই—সবই আজকের বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত থাকবে।” তাঁর কথায় স্পষ্ট ছিল যে রিমেকের লক্ষ্য শুধুমাত্র নস্টালজিয়া জাগানো নয়, বরং একটি নতুন যুগের রাহুল, অঞ্জলি ও টিনাকে জন্ম দেওয়া।
রিমেকের অভিনেতাদের নাম জানতেই বলিউডে হইচই শুরু হয়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া ঢেউয়ের মতো ছড়াতে থাকে। অনেকে প্রশংসা করেন করনের সাহসী ও আধুনিক কাস্টিং সিদ্ধান্তকে। আবার কেউ কেউ বলেন, “শাহরুখ–কাজল–রানির ম্যাজিক কেউ কখনও রিপ্লেস করতে পারবে না।” এই দ্বিধা অবশ্য স্বাভাবিকই, কারণ মূল ছবি যে আবেগ তৈরি করেছিল তা যুগান্তকারী। তা সত্ত্বেও করনের বিশ্বাস, নতুন প্রজন্ম তাদের নিজস্ব তারকাদের চোখে এই গল্পটিকে আবারও নতুনভাবে দেখবে।
করন আরও বলেন, “আজকের দর্শক আগের মতো নয়। তারা চায় চরিত্র যেন বাস্তব চরিত্রের মতো অনুভূত হয়। তাই রিমেকের চিত্রনাট্যেও আমরা অনেক পরিবর্তন আনছি। স্কুল বা কলেজ জীবনের সম্পর্ক যেখানে একসময় খুব সরল ছিল, আজ তা অনেক বেশি জটিল। বন্ধুত্ব, প্রেম, নিজের পরিচয়, ক্যারিয়ারের চাপ—সব মিলিয়ে আজকের যুবসমাজের গল্প অনেক আলাদা। তাই রিমেকেও সেই বাস্তবতা আসবে।”
নতুন ছবিটিতে সংগীতও একটি বড় ভূমিকা নেবে। মূল ছবির আইকনিক গানগুলি এখনো দর্শকের মনে গেঁথে আছে। করন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে কিছু গান নতুনভাবে রিমিক্স করে বা আধুনিক বাদ্যযন্ত্রে সাজিয়ে ছবিতে রাখা হতে পারে, তবে কোনওভাবেই মূল সুরের আবেগ নষ্ট করা হবে না। তিনি বলেন, “পুরনো স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে নতুন আবেগ সৃষ্টি করাই আমাদের লক্ষ্য।”
ছবির শুটিং আগামী বছরের শুরুতেই শুরু হতে পারে বলে জানা যায়। লোকেশন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, আধুনিক ভারতীয় কলেজ এবং কিছু মনোরম পাহাড়ি অঞ্চল। করন জানান, “আমি চাই ছবির ভিজ্যুয়াল যেন নতুন প্রজন্মকে আকর্ষণ করে, কিন্তু একই সঙ্গে পুরনো দর্শকরাও যেন সেই পরিচিত উষ্ণতা অনুভব করেন।”
এই রিমেক ঘিরে বলিউডে প্রত্যাশা এতটাই, যে এখনই স্টুডিও ও প্রযোজকের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে ছবির ডিস্ট্রিবিউশন অধিকার নিয়ে। অনেকেই বিশ্বাস করছেন এটি হতে পারে পরবর্তী বড় হিট। করন অবশ্য বলছেন, “এই ছবি হিট হবে কি না, সে নিয়ে আমি ভাবছি না। আমি চাই দর্শক এই রিমেক দেখে অনুভব করুক—‘হ্যাঁ, গল্পটা বদলেছে, সময়টা বদলেছে, কিন্তু আবেগ একই আছে।’ এটাই আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।”
সব মিলিয়ে পরিষ্কার, ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’-এর রিমেক কেবল একটি সিনেমা নয়; এটি একটি আবেগের পুনর্জন্ম, একটি সংস্কৃতির পুনর্গঠন, এবং পুরনো স্মৃতির নতুন ব্যাখ্যা। দর্শক এখন অপেক্ষায়—এই নতুন রাহুল, অঞ্জলি ও টিনা কি সত্যিই আগের মতোই তাঁদের হৃদয়ে জায়গা করতে পারবে?