ভারতের অলিম্পিক পদকজয়ী ভারোত্তোলক মীরাবাই চানুর ওজন শ্রেণি বাদ পড়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক থেকে। তাঁর কোচিং টিম জানিয়েছে, আপাতত তাদের পুরো মনোযোগ এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির দিকে, যেখানে নতুন লক্ষ্য স্থির করেছেন মীরা।
লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে মীরাবাই চানুর ওজন শ্রেণি বাদ, নতুন লক্ষ্য এশিয়ান গেমস
ভারতের গর্ব এবং অলিম্পিক পদকজয়ী ভারোত্তোলক মীরাবাই চানু-র সামনে এসেছে নতুন চ্যালেঞ্জ। আসন্ন লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক ২০২৮-এ তাঁর বর্তমান ওজন শ্রেণি ৪৯ কেজি বাতিল করেছে আন্তর্জাতিক ভারোত্তোলন ফেডারেশন (IWF)। এই অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তের ফলে নতুন করে কৌশল এবং পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে মীরাবাইয়ের প্রশিক্ষক দলকে।
তাড়াহুড়োয় নয়, আগে এশিয়ান গেমসে মনোযোগ
চানুর টিম জানিয়েছে, এই মুহূর্তে নতুন ওজন শ্রেণিতে (৫৫ কেজি বা ৫৯ কেজি) পরিবর্তনের তাড়াহুড়ো না করে তারা প্রথমে এশিয়ান গেমস-এ মনোযোগ দিচ্ছেন। সেখানে সফলভাবে অংশগ্রহণ এবং পারফরম্যান্স যাচাইয়ের পরই নির্ধারিত হবে পরবর্তী পদক্ষেপ।
মীরাবাইয়ের কোচ বিজয় শর্মা বলেন, "আমরা তাড়াহুড়ো করছি না। প্রথমে মীরার ফিটনেস, শারীরিক অবস্থা এবং পারফরম্যান্স সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া জরুরি। এশিয়ান গেমস আমাদের জন্য তা যাচাই করার সেরা সুযোগ। সেখানকার ফলাফলের ভিত্তিতেই আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব—নতুন ওজন শ্রেণিতে যাওয়া নাকি অন্য কোনো পথ বেছে নেওয়া।"
টোকিও থেকে এখন পর্যন্ত: সংগ্রাম ও সাফল্য
মীরাবাই চানু, যিনি টোকিও অলিম্পিক ২০২০-তে রৌপ্য পদক জিতে ভারতীয় ভারোত্তোলনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছিলেন, আজও দেশের অন্যতম সেরা আশার প্রতীক। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কব্জি ও কাঁধের চোট-আঘাতের কারণে তাঁকে বেশ কয়েকবার প্রতিযোগিতা থেকে বিরতি নিতে হয়েছে। তা সত্ত্বেও তাঁর অদম্য মানসিক শক্তি এবং নিরলস পরিশ্রম তাঁকে রেখেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াবিদদের তালিকায়।
ওজন শ্রেণি পরিবর্তন: এক বিশাল চ্যালেঞ্জ
ভারোত্তোলন বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন শ্রেণি পরিবর্তন যেকোনো ক্রীড়াবিদের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ। এর জন্য শুধুমাত্র শারীরিক ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস নয়, বরং সম্পূর্ণ ট্রেনিং রুটিন, খাদ্যতালিকা, পেশী-ভর ভারসাম্য এবং লিফটিং কৌশল নতুন করে তৈরি করতে হয়। প্রতিটি ওজন শ্রেণিতে প্রতিযোগিতার মান ভিন্ন এবং শারীরিক চাহিদাও আলাদা।
জাতীয় ক্রীড়া একাডেমির ভারোত্তোলন বিশেষজ্ঞ রমেশ মালহোত্রা বলেন, "৪৯ কেজি থেকে ৫৫ বা ৫৯ কেজিতে উত্তরণ মানে শুধু ওজন বাড়ানো নয়। এতে পেশী গঠন, শক্তি বৃদ্ধি এবং শরীরের সামগ্রিক সামঞ্জস্য বজায় রাখতে হয়, যা কমপক্ষে ৬ মাস থেকে ১ বছরের প্রস্তুতি চায়।"
তবে মীরাবাই আগেও প্রমাণ করেছেন, কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি লড়াই করে সাফল্য ছিনিয়ে আনতে পারেন। তাঁর দৃঢ়তা এবং প্রতিশ্রুতি তাঁকে এবারও জয়ী করতে পারে।
সবার নজর এশিয়ান গেমসে
এখন গোটা দেশের নজর মীরাবাইয়ের পরবর্তী লক্ষ্য—এশিয়ান গেমস-এ। সেখানকার পারফরম্যান্সই ঠিক করে দেবে তাঁর ভবিষ্যৎ পথ—নতুন ওজন শ্রেণিতে অলিম্পিকের স্বপ্ন দেখা, নাকি অন্য কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মনোনিবেশ করা।
ভারতের ক্রীড়াপ্রেমীরা আশাবাদী, তাদের এই 'লৌহকন্যা' আবারও জাতীয় পতাকা উড়িয়ে দেবেন সাফল্যের শিখরে। মীরাবাই চানুর গল্প শুধু পদক জয়ের নয়—এ এক অদম্য সংগ্রাম, দৃঢ় প্রত্যয় এবং অসীম ভালোবাসার গল্প।