Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পেশার চেয়েও প্রেম বড় ছিল প্রেমিকাকে না পেলে বাঁচাই যেত না, অকপট স্বীকারোক্তি সিয়াম আহমেদ এর

সহকর্মীদের কাজ ও সম্পর্ক নিয়ে অকপট সিয়াম আহমেদ। তিনি জানান, জিৎ-এর সঙ্গে তাঁর খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর ছবি তিনি নিয়মিত দেখেন এবং তাঁদের কাজ তাঁর কাছে প্রশংসনীয় বলেই মনে হয়।

বাংলাদেশের বিনোদন জগতে তাঁর পেশাজীবনের বয়স মাত্র ন’বছর। অথচ এই অল্প সময়ের মধ্যেই যে ভাবে নিজেকে প্রথম সারির নায়কদের কাতারে তুলে এনেছেন, তা অনেক অভিজ্ঞ শিল্পীকেও ভাবতে বাধ্য করে। অনুরাগীদের দাবি, উল্কার গতিতেই শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। কেউ কেউ তো সরাসরি তুলনা টানছেন বাংলা ছবির সুপারস্টারদের সঙ্গে। নামটা বললেই বোঝা যায়—সিয়াম আহমেদ।

এই মুহূর্তে কলকাতার অভিনেত্রী সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়-এর সঙ্গে শ্রীলঙ্কায় রয়েছেন সিয়াম। পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয়-এর ইদের ছবি রাক্ষস-এ এই দুই বাংলার দুই শিল্পীকেই দেখা যাবে জুটি হিসেবে। রোমান্স, অ্যাকশন, রক্তপাত—সব মিলিয়ে জমজমাট বাণিজ্যিক ছবি হতে চলেছে বলেই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের খবর।

রবিবার সকালে সিয়াম ও সুস্মিতার একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তে ভাইরাল। ক্যামেরার সামনে পরস্পরের দিকে ঝুঁকে থাকা, চোখে চোখে কথা, স্বাভাবিক হাসি—সব মিলিয়ে প্রেমে মত্ত এক জুটির ছবিই ধরা পড়েছে দর্শকের চোখে। বাস্তব আর পর্দার প্রেম মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে যেন। অনুরাগীদের একাংশের প্রশ্ন—এ কি শুধুই অভিনয়ের রসায়ন, না কি তার বাইরেও কিছু?

ঠিক এই সময়েই আরও একটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন সিয়াম। এ পার বাংলার দর্শকদের একাংশের দাবি—তিনি নাকি ক্রমশ শাকিব খান-এর ঘাড়ে শ্বাস ফেলছেন! ইদে একই সময় দু’জনের ছবি মুক্তি পাবে। ভয় লাগে না?

এই প্রশ্নই ফোনের ওপারে ছুড়ে দিয়েছিল আনন্দবাজার ডট কম। তখনও শুটিং শুরু হয়নি। শ্রীলঙ্কা থেকে ফোনে ধরা দিলেন সিয়াম। কণ্ঠে মৃদু হাসি। বললেন,
“সত্যিই যদি লোকে সে রকম বলে, তা হলে তো আমার দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল। আরও ঘষেমেজে নিজেকে তৈরি করতে হবে। আরও ত্রুটিমুক্ত হতে হবে।”

তার পরেই গলার স্বর খানিকটা ভারী। স্পষ্ট করে জানালেন, তুলনার জায়গা তিনি নিজেও মানেন না। “শাকিব ভাই ২৬ বছর ধরে বাংলাদেশের বিনোদন দুনিয়াকে কাঁধে নিয়ে বয়ে চলেছেন। ওঁর সমতুল্য হওয়া সহজ নয়। আমি সেই চেষ্টাও করি না। নিজের কাজটাই করে যেতে চাই।”

ইদের প্রসঙ্গ এলেই সিয়ামের চোখে অন্য রকম উজ্জ্বলতা। “ইদ আমাদের কাছে শুধু উৎসব নয়, একটা বড় পরীক্ষা। ওই সময় সবার সেরা কাজগুলো পর্দায় আসে। শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে একই সময়ে আমার ছবিও মুক্তি পাচ্ছে—এই ভাবনাটাই আনন্দের।”

প্রতিদ্বন্দ্বিতা? সিয়াম এক কথায় নাকচ করে দেন। “না, কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। আমার সব প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিজের সঙ্গে। আগের ছবির থেকে নিজেকে কতটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলাম, দর্শক নতুন ছবিতে আমাকে কতটা গ্রহণ করলেন—এই প্রশ্নগুলোই আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।”

এই আত্মবিশ্লেষণই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে, মনে করেন অনেকে। নিজের সীমাবদ্ধতা যেমন জানেন, তেমনই জানেন কোন ধারার ছবিতে তাঁকে সবচেয়ে বেশি মানায়। এখানেও অনুপ্রেরণা হিসেবে তিনি বারবার শাকিব খানের নাম করেন। “আমি বুঝি, বিনোদনধর্মী ছবিতে আমায় ভাল লাগে দর্শকের। রোমান্স, অ্যাকশন—এই জায়গাতেই ওঁরা আমাকে দেখতে চান। তাই এই বিশ্বাস ভাঙতে চাই না।”

পরিচালক হৃদয়ের ছবি ‘রাক্ষস’ও ঠিক সেই ঘরানার। প্রেম আছে, উত্তেজনা আছে, হিংস্রতা আছে। আর তার মাঝেই নায়কের প্রেমিকা হিসেবে সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়। এ পার বাংলার ছবিতে কাজ করা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই ফের সেই হাসি। স্বীকার করে নিলেন, বন্ধুত্ব হয়েছে। “বন্ধুত্ব না হলে একসঙ্গে কাজ করা যায় না,” বলেই জানালেন সিয়াম।

পর্দায় যাঁকে দর্শক অ্যাকশন আর রোমান্সের মিশেলে দেখেন, বাস্তবে কি তিনি তেমনই? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সিয়াম যেন ফিরে গেলেন ২০১৮ সালে। তাঁর প্রথম ছবিমুক্তির বছর। রায়হান রাফীর পরিচালনায় ‘পোড়া মন’। তখন তিনি জানতেন না, ছবিটি চলবে কি না। নিজের প্রতিষ্ঠা নিয়েও কোনও স্বপ্ন দেখেননি।

কিন্তু ঠিক সেই বছরই জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রেমিকা শাম্মা রুশাফি অবন্তীকে বিয়ে করেছিলেন। অকপটে বললেন,
“ওকে না পেলে আমি মরেই যেতাম! কারণ, আমি প্রেমিক পুরুষ। প্রেমে থাকি, ভালবাসাতেও।”

এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে সিয়ামের জীবনের দর্শন। তাঁর বিশ্বাস, পেশাজীবন একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ভালবাসা, কাছের মানুষ থেকে যান আজীবন। সেই বিশ্বাসই তাঁর পরের কথাতেও। স্ত্রী ব্যবসায়ী, সৌন্দর্য দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত। তবু সংসার, সন্তান, স্বামীর যত্ন—সব সামলান সমান দক্ষতায়। তাঁদের চার বছরের সন্তান রয়েছে। ২০১১ সালে শুরু হওয়া প্রেম আজও অটুট, দাবি সিয়ামের।

এত অনুরাগিনী, এত জনপ্রিয়তা—স্ত্রী কি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন? সিয়ামের জবাব দৃঢ়। “একেবারেই না। আমি যখন কিছুই না, তখন থেকেই ও আমায় চেনে। আমার পাশে থেকেছে। সময়ের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্ত হয়েছে।”

পুরুষ অনুরাগীদের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ। “একুশ শতকে এই ভাবনা আর চলে না যে বিবাহিত নায়ক মানেই আগ্রহ কমবে। আমি তো দেখি, বিবাহিত নায়িকারাও সমান ভাবে ভালবাসা পান।”

ব্যস্ততার মধ্যেও টলিউডের ছবি দেখেন সিয়াম। কলকাতায় কাজের সুযোগ পেলে কাদের সঙ্গে কাজ করতে চান? প্রশ্ন শুনে খানিক সতর্ক। রাজনৈতিক নেতার মতোই ‘পলিটিক্যালি কারেক্ট’ উত্তর। তবু একটি নাম আলাদা করে বললেন—জিৎ। “জিৎদার সঙ্গে আমার খুব ভাল সম্পর্ক।”

এতেই শেষ নয়। তিনি জানালেন, নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর একাধিক ছবি দেখেছেন। তাঁদের কাজ তাঁর ভাল লাগে। “আমি যে ধারার ছবিতে কাজ করি, ওঁরাও তেমন ছবি বানান। সুযোগ পেলে ওঁদের সঙ্গে কাজ করতে ভাল লাগবে।”

ফোনের ওপারে তখন শুটিংয়ের তাড়া। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হবে। টানা প্রায় ২০ ঘণ্টা কাজ। ক্লান্তি আছে, ব্যস্ততা আছে, কিন্তু কণ্ঠে তাড়াহুড়োর চেয়ে বেশি স্পষ্ট এক ধরনের স্থিরতা। বিদায় নেওয়ার আগে যেন একটি কথাই পরিষ্কার করে দিলেন সিয়াম আহমেদ—তিনি শুধু পর্দার নায়ক নন। তিনি একজন প্রেমিক, একজন স্বামী, একজন বাবা। আর এই তিনটি পরিচয়ই হয়তো তাঁকে আজকের জায়গায় এনে দিয়েছে।

এই স্বীকারোক্তির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে তাঁর জীবনের দর্শন। এমন এক দর্শন, যেখানে পেশা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সম্পর্ক তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে সাফল্য শুধু বক্স অফিসের অঙ্কে মাপা হয় না, বরং মানুষ হিসেবে কতটা পরিণত হওয়া গেল, সেটাই আসল।

বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন আলোচনা হয়, তখন নতুন প্রজন্মের কয়েকটি নাম ঘুরেফিরে আসে। সেই তালিকায় সিয়াম আহমেদের নাম এখন আর প্রশ্ন নয়, বাস্তবতা। তবু আশ্চর্যের বিষয়, নিজেকে তিনি এখনও ‘পথচলার শুরুতেই’ মনে করেন। তাঁর কথাবার্তায় নেই আত্মম্ভরিতা, নেই তারকাসুলভ দূরত্ব। বরং আছে এক ধরনের সচেতন বিনয়—যেন জানেন, পথ অনেক বাকি।

news image
আরও খবর

উত্থানের গল্প, যা রাতারাতি নয়

সিয়ামের এই যাত্রাপথ কোনও রাতারাতি সাফল্যের গল্প নয়। পর্দার ঝলমলে আলোয় তাঁকে যেভাবে দেখা যায়, তার আড়ালে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে জমে ওঠা অভিজ্ঞতা, ব্যর্থতা, সংশয় আর নিজেকে প্রমাণ করার লড়াই। অভিনয়জগতে তাঁর পথচলার বয়স মাত্র ন’বছর হলেও, এই সময়ের মধ্যেই তিনি বুঝে গিয়েছেন—এই ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে হলে শুধু প্রতিভা নয়, দরকার মানসিক দৃঢ়তা।

প্রথম ছবির সময় তিনি জানতেন না দর্শক তাঁকে গ্রহণ করবে কি না। জানতেন না, ক্যারিয়ার কোন দিকে যাবে। কিন্তু একটি বিষয়ে তিনি নিশ্চিত ছিলেন—নিজের কাজের প্রতি সৎ থাকতে হবে। সেই সততার জায়গা থেকেই ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে তাঁর পরিচিতি। আজ তিনি যে জায়গায় দাঁড়িয়ে, তা কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং ধারাবাহিক পরিশ্রমের ফল।

নায়ক হওয়ার আগে প্রেমিক

সিয়ামের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তাঁর প্রেম। তিনি নিজেই বলেন, তিনি ‘প্রেমিক পুরুষ’। এই শব্দবন্ধটা শুনতে সহজ হলেও, এর গভীরে আছে গভীর বিশ্বাস। তাঁর মতে, মানুষ যদি প্রেমে না থাকে, যদি ভালবাসার কোনও বন্ধন না থাকে, তবে জীবনের ভার বহন করা কঠিন হয়ে যায়।

তিনি অকপটে স্বীকার করেন—প্রেমিকাকে না পেলে তিনি হয়তো আজ বেঁচেই থাকতেন না। এই কথার মধ্যে নাটকীয়তা নেই, আছে এক ধরনের নির্ভেজাল সত্য। জীবনের কঠিন সময়গুলোতে যে মানুষটি তাঁর পাশে ছিলেন, যিনি তাঁকে বিশ্বাস করেছিলেন তখন, যখন তাঁর কিছুই ছিল না—সেই বিশ্বাসই তাঁকে ভিতর থেকে শক্ত করেছে।

সম্পর্কের ভিতই শক্ত ভিত

আজ তিনি বিবাহিত। তাঁর স্ত্রী নিজেও নিজের জগতে প্রতিষ্ঠিত। সন্তান আছে। সংসার আছে। কিন্তু এই সবকিছুর মাঝেও সম্পর্কের যে সমীকরণ, তা খুব সাধারণ। তাঁর কথায় বারবার ফিরে আসে একটি বিষয়—সম্মান আর বিশ্বাস।

তিনি জানেন, জনপ্রিয়তা ক্ষণস্থায়ী হতে পারে। আজ যাঁরা হাততালি দিচ্ছেন, কাল হয়তো অন্য কাউকে নিয়ে মাতবেন। কিন্তু যাঁরা জীবনের শুরু থেকে পাশে ছিলেন, তাঁরা আজীবন থেকে যান। এই উপলব্ধিই তাঁকে মাটিতে পা রেখে চলতে সাহায্য করে।

পর্দার নায়ক বনাম বাস্তবের মানুষ

দর্শক তাঁকে পর্দায় দেখেন অ্যাকশন-রোমান্সের মিশেলে। কখনও রাগী, কখনও প্রেমিক, কখনও প্রতিশোধপরায়ণ। কিন্তু বাস্তবের সিয়াম তার থেকে আলাদা। তিনি হিসেবি, সংযত এবং নিজের সীমা সম্পর্কে সচেতন।

তিনি জানেন, কোন ধরনের চরিত্রে তাঁকে মানায়। তিনি জানেন, কোন ধরনের ছবি দর্শক তাঁর কাছ থেকে দেখতে চান। এই আত্মজ্ঞানই তাঁকে অনেক সমসাময়িক অভিনেতার থেকে আলাদা করে দেয়। তিনি অকারণে নিজেকে ভাঙতে চান না, আবার একই জায়গায় আটকে থাকতেও চান না।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিজের সঙ্গে

ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই তাঁর উত্তর এক। তাঁর কোনও বাইরের প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী তিনি নিজেই। আগের ছবির থেকে নিজেকে কতটা এগিয়ে নিতে পারলেন, দর্শক নতুন ছবিতে তাঁকে কতটা গ্রহণ করলেন—এই প্রশ্নগুলোই তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়।

এই মানসিকতা তাঁকে দীর্ঘ রেসের ঘোড়া করে তুলতে পারে বলেই মনে করেন অনেকে। কারণ, যিনি অন্যকে টপকানোর চিন্তায় ব্যস্ত নন, বরং নিজেকে উন্নত করার দিকে মন দেন, তিনি সাধারণত স্থায়ী হন।

দুই বাংলার সেতু

সিয়াম এমন এক প্রজন্মের প্রতিনিধি, যিনি ও পার বাংলা ও এ পার বাংলার দর্শকের মধ্যে এক ধরনের সেতুবন্ধন তৈরি করছেন। ভাষা, সংস্কৃতি, গল্প বলার ধরন—সবকিছুতেই মিল আছে। তাই তাঁর উপস্থিতি শুধু একটি ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না।

তিনি নিজেও জানেন, এই সুযোগ সহজে আসে না। তাই কোনও তাড়াহুড়ো নেই। তিনি অপেক্ষা করতে জানেন। সঠিক গল্প, সঠিক চরিত্র আর সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা।

বিনয়ই তাঁর শক্তি

সবচেয়ে বড় কথা, সিয়াম এখনও নিজেকে শিক্ষার্থী ভাবেন। তিনি মনে করেন, তিনি এখনও শিখছেন। প্রতিটি কাজ, প্রতিটি সেট, প্রতিটি সহশিল্পী—সবাই তাঁর শিক্ষক। এই বিনয়ই তাঁকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

যখন কেউ নিজেকে ‘পথচলার শুরুতেই’ বলে, তখন বোঝা যায়, তাঁর লক্ষ্য কত দূরে। কারণ, যাঁরা মনে করেন তাঁরা পৌঁছে গিয়েছেন, তাঁদের যাত্রা আসলে থেমে যায়। আর যাঁরা মনে করেন পথ এখনও বাকি, তাঁরাই এগিয়ে যান।

সামনে কী?

ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি খুব বেশি কথা বলেন না। কারণ, তাঁর বিশ্বাস—ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার চেয়ে বর্তমান কাজটাই বেশি জরুরি। আজ যে চরিত্রটা করছেন, আজ যে ছবিটা বানাচ্ছেন, সেটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তবু একটাই ইচ্ছা—দর্শককে কখনও নিরাশ না করা। যাঁরা তাঁর উপর বিশ্বাস রেখেছেন, তাঁদের সেই বিশ্বাস যেন অটুট থাকে। এই দায়বদ্ধতাই তাঁকে রাত জাগায়, টানা ২০ ঘণ্টা ক্যামেরার সামনে দাঁড় করায়।

শেষ কথা

ফোনের ওপারে শুটিংয়ের তাড়া, কিন্তু কথার মধ্যে কোনও অস্থিরতা নেই। কারণ, তিনি জানেন তিনি কে। তিনি জানেন, তিনি কোথা থেকে এসেছেন। আর জানেন, তাঁকে কোথায় যেতে হবে।

সিয়াম আহমেদ আজ শুধু একজন নায়ক নন। তিনি এক ধরনের ভরসা—যে ভরসা বলে, সাফল্যের মাঝেও মানুষ হওয়া যায়। প্রেমিক হওয়া যায়। স্বামী হওয়া যায়। বাবা হওয়া যায়।

আর হয়তো এই মানবিকতাই তাঁকে আরও দূর নিয়ে যাবে—ও পার বাংলা থেকে এ পার বাংলা, আরও বহু পর্দা পেরিয়ে, আরও অনেক গল্পের ভেতর দিয়ে।

Preview image