Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মন ছুঁয়ে যাবে সূর্যোদয়ের মুহূর্ত নতুন বছরে ভারতে ঘুরে দেখুন প্রকৃতির ৩ অসাধারণ স্থান

পরিমার্জিত সাধারণ ভার্সন: সূর্যোদয়ের অপূর্ব রূপ দেখার জন্য এই জায়গাগুলি বিশেষভাবে জনপ্রিয়। তবে সূর্যোদয়ের সৌন্দর্য সর্বত্র একরকম নয়। পাহাড়ে দেখা যায় রঙের মায়াবী খেলা, আবার সাগরের বুকে সূর্য ওঠার মুহূর্তে তৈরি হয় একেবারে আলাদা আবেশ। আরও কাব্যিক ভার্সন: সূর্যোদয়ের অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করতে এই স্থানগুলি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে প্রতিটি জায়গায় সূর্যোদয়ের রূপ ভিন্ন। পাহাড়ে আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে রঙের খেলা, আর সাগরের বুকে সূর্যের আলো মিশে যায় ঢেউয়ের ছন্দে। খবরের ভাষায় সংক্ষিপ্ত ভার্সন: সূর্যোদয়ের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের জন্য এই স্থানগুলি পরিচিত। তবে সূর্যোদয়ের সৌন্দর্য জায়গাভেদে আলাদা—পাহাড়ে দেখা যায় রঙিন আকাশ, আর সাগরের বুকে ধরা দেয় আলোর অন্য এক রূপ।

গভীর রাতের নিস্তব্ধতায় যখন গোটা চরাচর ঘুমের চাদরে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, তখন প্রকৃতির রূপ হয় সম্পূর্ণ আলাদা। চারদিক জুড়ে নেমে আসে এক অপার্থিব নীরবতা। মানুষের কোলাহল থেমে যায়, ব্যস্ততার ছাপ মিলিয়ে যায় অন্ধকারের গভীরে। সেই সময়ে প্রকৃতি যেন নিজেকে গুটিয়ে নেয়, সময়ও যেন কিছুক্ষণের জন্য থমকে দাঁড়ায়। আকাশ, পাহাড়, সাগর—সবকিছু তখন নিস্তব্ধতার এক অদ্ভুত আবেশে মোড়া থাকে।

কিন্তু এই অন্ধকার চিরস্থায়ী নয়। গভীর রাতের বুক চিরেই ধীরে ধীরে জন্ম নেয় আলো। সূর্য ওঠার আগের সেই ক্ষণটি প্রকৃতির এক অনন্য রূপ তুলে ধরে। আকাশে প্রথমে দেখা দেয় হালকা আভা, যা ধীরে ধীরে রঙ বদলায়। সূর্যের প্রথম স্পর্শে প্রকৃতির আলস্য কাটতে শুরু করে। রাতের নিশ্চুপ পরিবেশে তখন প্রাণের সঞ্চার ঘটে। পাখিরা ডানা ঝাপটাতে শুরু করে, গাছের পাতায় আলো-ছায়ার খেলা দেখা যায়, পাহাড়ের চূড়ায় রঙের বদল চোখে পড়ে।

পাহাড়ে সূর্যোদয় মানেই এক আলাদা অনুভূতি। ধীরে ধীরে বরফঢাকা শৃঙ্গে রোদ এসে পড়লে সাদা রং সোনালিতে রূপ নেয়। মনে হয় পাহাড় যেন নতুন করে জেগে উঠছে। আবার সাগরের বুকে সূর্যোদয়ের দৃশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। ঢেউয়ের ছন্দে ছন্দে সূর্যের আলো নাচতে থাকে। জলরাশির ওপর ছড়িয়ে পড়া আলো এক অনির্বচনীয় সৌন্দর্য তৈরি করে, যা দেখলে মনে হয় সময় থমকে গেছে। সূর্য ওঠার আগের সেই মুহূর্তে আকাশ ও সাগরের রঙের মেলবন্ধন চোখে জল এনে দেয় অনেকের।

অস্তমিত সূর্যের সৌন্দর্য যেমন মন কেড়ে নেয়, তেমনই সূর্যোদয়ের রয়েছে নিজস্ব এক মোহ। দিনের শুরুতে সূর্যোদয় যেন নতুন আশার প্রতীক। প্রতিটি নতুন দিন সূর্যের সঙ্গে সঙ্গে নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আসে। সূর্যোদয়ের আলো শুধু প্রকৃতিকে আলোকিত করে না, মানুষের মনকেও জাগিয়ে তোলে। সেই আলোয় লুকিয়ে থাকে ইতিবাচক শক্তি, নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।

এই কারণেই সূর্যোদয় শুধু একটি প্রাকৃতিক দৃশ্য নয়, বরং এক গভীর অনুভূতি। তা আমাদের শেখায়—অন্ধকার যত গভীরই হোক, আলো ঠিকই পথ খুঁজে নেয়। প্রকৃতির এই চিরন্তন সত্য বারবার মনে করিয়ে দেয়, প্রতিটি রাতের পরেই ভোর আসে, আর সেই ভোরেই লুকিয়ে থাকে নতুন জীবনের শুরু।

সূর্যোদয়ের সৌন্দর্য সর্বত্র একরকম নয়। জায়গাভেদে তার রূপ, তার আবেশ, তার অনুভূতিও বদলে যায়। পাহাড়ে সূর্য ওঠে রঙের খেলায়, সাগরের বুকে আলো ছড়িয়ে পড়ে ঢেউয়ের ছন্দে, আবার মরুভূমিতে প্রভাতের রবি কিরণ সৃষ্টি করে এক অনন্য মুগ্ধতা। নতুন বছরে যদি এমনই সূর্যোদয়ের সাক্ষী থাকতে চান, তবে ভারতের এই তিনটি জায়গা হতে পারে আপনার ভ্রমণ তালিকার সেরা সংযোজন।

মুন্সিয়ারি: বরফঢাকা শৃঙ্গে আগুনের ছটা

উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলায় অবস্থিত মুন্সিয়ারি একটি সাজানো-গোছানো শৈল শহর। প্রকৃতিপ্রেমী ও ট্রেকারদের কাছে এই জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। তবে মুন্সিয়ারির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল এখান থেকে দৃশ্যমান পঞ্চচুল্লি পর্বতশ্রেণি। পঞ্চচুল্লি মানে পাঁচটি শৃঙ্গ—‘চুল্লি’ শব্দের অর্থ উনুন। কথিত আছে, মহাভারতের সময়ে পাণ্ডবেরা স্বর্গযাত্রার পথে মুন্সিয়ারি হয়ে গিয়েছিলেন। এখানেই নাকি তাঁদের স্ত্রী দ্রৌপদী পাঁচ ভাইয়ের জন্য পঞ্চচুল্লিতে রান্না করেছিলেন—সেই কিংবদন্তিই আজও এই জায়গার সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

মুন্সিয়ারির প্রকৃত রূপ ধরা পড়ে সূর্যোদয়ের সময়। মেঘমুক্ত দিনে ভোরবেলা দূর থেকে দেখা যায় বরফে ঢাকা পঞ্চচুল্লির শৃঙ্গ। সূর্যের প্রথম কিরণ একে একে এসে পড়ে সাদা বরফের গায়ে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সেই শৃঙ্গগুলি রাঙিয়ে ওঠে সোনালি আভায়। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, পাঁচটি শৃঙ্গেই যেন আগুন জ্বলছে। এই দৃশ্য একবার দেখলে মনে গেঁথে যায় চিরকালের জন্য।

মুন্সিয়ারি এমনিতেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। এখানে রয়েছে খালিয়া টপ, নন্দাদেবীর মন্দির, বার্থিং ভিউ পয়েন্ট-সহ একাধিক দর্শনীয় স্থান। নৈনিতাল বা আলমোড়া ভ্রমণের সঙ্গেও সহজেই মুন্সিয়ারি জুড়ে নেওয়া যায়। যারা পাহাড় ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য এই জায়গা নিঃসন্দেহে স্বপ্নের মতো।

কীভাবে যাবেন?
হাওড়া স্টেশন থেকে বাঘ এক্সপ্রেস ধরে কাঠগোদাম পৌঁছতে হবে। সেখান থেকে মুন্সিয়ারির দূরত্ব প্রায় ২৭৫ কিলোমিটার। সরাসরি একদিনে যাত্রা করলে সময় লাগে প্রায় ১০–১২ ঘণ্টা, যা বেশ ক্লান্তিকর হতে পারে। তাই আলমোড়া বা চৌকোরিতে এক রাত কাটিয়ে পরদিন মুন্সিয়ারির পথে রওনা হওয়াই ভালো। লখনউ পর্যন্ত ট্রেনে গিয়ে সেখান থেকে বাসে কাঠগোদাম পৌঁছনোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

কন্যাকুমারী: তিন সাগরের মিলনে সূর্যোদয়ের জাদু

ভারতের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণতম বিন্দু—কন্যাকুমারী। নামটি বহুবার শোনা হলেও অনেকেরই সেখানে যাওয়া হয়নি। এই শীতে নতুন বছর শুরু করতে চাইলে কন্যাকুমারী হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। বিস্তীর্ণ সমুদ্র সৈকত, প্রাচীন কন্যাকুমারী মায়ের মন্দির এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব—সব মিলিয়ে এই জায়গার আবেদন আলাদা।

news image
আরও খবর

কন্যাকুমারীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়াল। সমুদ্রের মাঝখানে অবস্থিত এই স্মৃতিসৌধে পৌঁছতে হয় নৌকা চেপে উত্তাল ঢেউ পার করে। কাচের সেতু যুক্ত করেছে স্বামী বিবেকানন্দ ও তামিল কবি তিরুভাল্লুভারের নামাঙ্কিত দুই স্মৃতিসৌধকে। এখানে দাঁড়িয়ে একসঙ্গে দেখা যায় বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগর ও আরব সাগরের মিলনস্থল—যা এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা।

কন্যাকুমারী থেকে সূর্যোদয় দেখার মুহূর্ত সত্যিই ভাষাতীত। অন্ধকার আকাশে প্রথমে ফুটে ওঠে হালকা আলো। ধীরে ধীরে আকাশে ছড়িয়ে পড়ে নানা রঙের ছটা। সূর্য ওঠার ঠিক আগের মুহূর্তে প্রকৃতি যেন নিঃশ্বাস ধরে থাকে। তারপর হঠাৎ করেই দিগন্ত ছুঁয়ে উদিত হয় সূর্য। সাগরের বুকে সেই আলো ছড়িয়ে পড়ে এক অপার্থিব সৌন্দর্যে। এই দৃশ্য একবার দেখলে মনে হয়, জীবন যেন নতুন করে শুরু হল।

কীভাবে যাবেন?
কলকাতা থেকে ট্রেনে সরাসরি কন্যাকুমারী পৌঁছনো যায়। বিমানে যেতে চাইলে দিল্লি বা চেন্নাই হয়ে তিরুঅনন্তপুরম পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে কন্যাকুমারী যেতে হবে।

নুব্রা ভ্যালি: শীতল মরুভূমিতে সূর্যোদয়ের শান্তি

লাদাখের নুব্রা ভ্যালি তার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য সুপরিচিত। এখানকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই সূর্যোদয়ের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যায়। তবে তার মধ্যে সবচেয়ে আলাদা অভিজ্ঞতা দেয় হুন্ডার বালিয়াড়ি। এটি এক শীতল মরুভূমি, যেখানে বরফঢাকা পাহাড়ের মাঝে বিস্তৃত বালির ঢিবি এক অনন্য দৃশ্য তৈরি করেছে।

ভোরের আলো ফোটার আগেই আকাশে দেখা দেয় হালকা রঙের ছটা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই রঙ বদলে যায়। সূর্যের নরম আলো এসে লাগে ধূসর পাহাড়চূড়ায়। ধীরে ধীরে সোনালি রোদে বালির ঢিবিগুলি হলদেটে হয়ে ওঠে। চারপাশে তখন এক গভীর প্রশান্তি বিরাজ করে। শহরের কোলাহল থেকে দূরে, প্রকৃতির এই নিঃশব্দ সৌন্দর্য মনকে এক অন্য মাত্রার শান্তি দেয়।

নুব্রা ভ্যালিতে শুধু সূর্যোদয় নয়, রয়েছে ডাবল হাম্পড ক্যামেল, মঠ, নদী ও পাহাড়ি পথের রোমাঞ্চ। এখানে ২–৩ দিন কাটিয়ে হুন্ডার বালিয়াড়ি-সহ আশপাশের জায়গাগুলি ঘুরে নেওয়াই আদর্শ।

কীভাবে যাবেন?

নুব্রা ভ্যালি পৌঁছতে হলে প্রথমেই পৌঁছতে হবে লাদাখের রাজধানী লেহ শহরে। কলকাতা থেকে সরাসরি লেহ যাওয়ার কোনও বিমান নেই। তাই কলকাতা থেকে প্রথমে দিল্লি পৌঁছতে হবে বিমানে। দিল্লি থেকে প্রতিদিনই লেহগামী একাধিক ফ্লাইট রয়েছে। প্রায় দেড় ঘণ্টার এই বিমানযাত্রায় হঠাৎ করেই বদলে যায় দৃশ্যপট—সমতল শহরের জায়গা নেয় পাহাড়ে ঘেরা শুষ্ক অথচ বিস্ময়কর এক ভূমি। লেহ বিমানবন্দরে নামার সঙ্গে সঙ্গেই অনুভব করা যায় উচ্চতার প্রভাব। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১১,৫০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই অঞ্চল, তাই প্রথম দিন শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

লেহ পৌঁছানোর পর উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য অন্তত এক বা দুই দিন সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই সময়টিতে ভারী শারীরিক পরিশ্রম, দৌড়ঝাঁপ বা পাহাড়ে ওঠানামা এড়িয়ে চলাই ভালো। পর্যাপ্ত জল পান করা, হালকা খাবার খাওয়া এবং শরীরের সংকেতগুলির দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘অ্যাক্লিমেটাইজেশন’, যা না মানলে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

যাঁরা সড়কপথে ভ্রমণ ভালোবাসেন, তাঁদের জন্যও লেহ যাওয়ার বিকল্প রয়েছে। হিমাচল প্রদেশের মানালি থেকে সড়কপথে লেহ পৌঁছনো যায়। এই রুটে অটল টানেল পার হয়ে রোহতাং পাস, বারালাচা লা, নাকিলা পাস-সহ একাধিক উচ্চ পার্বত্য পথ অতিক্রম করতে হয়। দীর্ঘ হলেও এই যাত্রাপথ অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভরপুর। তবে আবহাওয়া ও রাস্তার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে এই পথ সাধারণত গ্রীষ্মের কয়েকটি মাসেই খোলা থাকে।

লেহ শহরে পৌঁছনোর পর নুব্রা ভ্যালির উদ্দেশে রওনা দিতে হয় সড়কপথে। লেহ থেকে নুব্রা ভ্যালির দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। এই পথে অতিক্রম করতে হয় খারদুং লা পাস, যা বিশ্বের অন্যতম উঁচু মোটরযোগ্য সড়ক হিসেবে পরিচিত। গাড়ি বা ট্যাক্সি ভাড়া করে এই পথ পাড়ি দেওয়া যায়। যাত্রাপথে দেখা মেলে তুষারাবৃত পাহাড়, গভীর উপত্যকা ও মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য। সব মিলিয়ে লেহ থেকে নুব্রা ভ্যালির এই যাত্রা নিজেই এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।

Preview image