Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মঞ্চ ও পর্দার উজ্জ্বল মুখ ভদ্রা বসুর প্রয়াণ: শেষ হলো এক সৃজনশীল যুগ

মঞ্চ ও পর্দার পরিচিত মুখ ভদ্রা বসুর প্রয়াণে শিল্পীমহলে নেমেছে শোকের ছায়া। জরুরি অস্ত্রোপচারের পরও আর ফিরলেন না ৬৫ বছরের এই প্রাণবন্ত শিল্পী।নাট্যপরিচালক অসিত বসুর স্ত্রী ও দুই কন্যা দামিনী আনন্দীর প্রেরণাস্তম্ভ ভদ্রা বসু বিদায় নিলেন, রেখে গেলেন সমৃদ্ধ মঞ্চ-ঐতিহ্য।অভিনেতা সুদীপ মুখোপাধ্যায়ের কাছে দ্বিতীয় মা সমতুল্য ভদ্রা বসুর মৃত্যু সকলকে ব্যথিত করেছে তাঁর স্নেহ, মানবিকতা ও শিল্পচর্চা স্মরণ করছেন সকলেই।স্বাগতা, সোহন, রাহুল-সহ শিল্পীমহলের বহু মানুষ শোকপ্রকাশ করেছেন মঞ্চ, সিরিজ ও সিনেমায় অবিস্মরণীয় ছাপ রেখে গেলেন ভদ্রা বসু।  

বাংলার নাট্যমঞ্চ, ছোটপর্দা আর রুপোলি পর্দার এক অত্যন্ত পরিচিত, প্রাণচঞ্চল এবং সৃজনশীল মুখ ভদ্রা বসু— আজ আর নেই। তাঁর চলে যাওয়ার সংবাদ যেমন আকস্মিক, তেমনই নির্মমভাবে সত্য। বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৬৫। কিছুদিন আগেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। চিকিৎসার পথে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ধরা পড়ে, এবং দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভরতি করে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। পরিবার, সহকর্মী, ছাত্রছাত্রী এবং ভালোবাসার মানুষজন আশা করেছিলেন, তিনি হয়তো তাঁর মতোই জীবনযুদ্ধ থেকে আবার উঠে দাঁড়াবেন। কিন্তু সেই প্রত্যাশা শেষ পর্যন্ত আর পূরণ হল না। শুক্রবার রাত প্রায় ১২টা নাগাদ সকলকে ছেড়ে চলে গেলেন ভদ্রা। থেকে গেল শুধু স্মৃতি, কর্ম, ভালবাসা আর এক অদৃশ্য শূন্যতা।

ভদ্রা বসুর মৃত্যুসংবাদ প্রকাশ্যে আসতেই শোকের ছায়া নেমে আসে সাংস্কৃতিক জগতে। তাঁর জীবনপথ ছিল বিচিত্র, বিস্তৃত এবং গভীর মানবিকতায় ভরা। যে মানুষটি আজীবন হাসিমুখে, দূরদৃষ্টিতে এবং প্রাণবন্ত আচরণে সকলকে আগলে রাখতেন, সেই মানুষটির চলে যাওয়াই যেন সকলের হৃদয়ে এক অচিন্তনীয় ক্ষত রেখে গেল।


শিল্পী ভদ্রার সূচনা: মঞ্চই প্রথম মাটি

ভদ্রা বসুর শিল্পীজীবনের শুরু হয়েছিল মঞ্চ থেকেই। ছোটবেলা থেকেই অভিনয় ও সঙ্গীতের প্রতি ছিল তাঁর গভীর আগ্রহ। বাড়ির পরিবেশও ছিল শিল্পমোদী। পরিবারের সকলে তাঁর প্রতিভাকে উৎসাহ দিতেন। বড় হতে হতে ভদ্রা বুঝতে পারেন যে অভিনয় তাঁর জীবনের একমাত্র পথ। পড়াশুনার পাশাপাশি তিনি যোগ দেন বিভিন্ন নাট্যদলে। সেই সময়ই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় খ্যাতনামা নাট্যব্যক্তিত্ব অসিত বসুর। পরে সেই সম্পর্কই রূপ নেয় দাম্পত্যে। জীবনের প্রতিটি ধাপে, শিল্পযাত্রার প্রতিটি বাঁকে তাঁরা পরস্পরের পরিপূরক হয়ে ওঠেন।

মঞ্চনাটক শুধু ভদ্রার কাজ নয়, ছিল ভালবাসা। প্রথম নাটকেই দর্শক তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি টের পেয়েছিলেন। স্বাভাবিক অভিনয়, চমৎকার সংলাপ বলার ক্ষমতা আর চরিত্রকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার দক্ষতা তাঁকে দ্রুতই জনপ্রিয় করে তোলে। তাঁর কণ্ঠস্বরের বিশেষ মাধুর্য, শরীরী ভাষার সাবলীলতা এবং চরিত্রবোধ— সব মিলিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন নাট্যমঞ্চে অসামান্য এক প্রতিভা।


অসিত বসুর সঙ্গে যৌথ পথচলা

নাট্যপরিচালক অসিত বসুর সঙ্গে ভদ্রার সম্পর্ক ছিল কাজ ও ভালোবাসার এক অনন্য মিশ্রণ। অসিতের পরিচালনায় যেসব উল্লেখযোগ্য নাটক তৈরি হয়েছে, তার একাধিকটিতে ভদ্রা ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী। শুধু অভিনয়ই নয়— মঞ্চসজ্জা, কোরিওগ্রাফি, দলগঠন, রিহার্সালের শৃঙ্খলা— প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি অসিতের অন্যতম সহচর ছিলেন।

যুগলবন্দির মতো কাজ করার সময় তাঁরা দু’জনই বুঝেছিলেন— নাটকের ভিত যে শুধু অভিনয় নয়, তা হলো দলগত সমন্বয়। ভদ্রার প্রাণশক্তি আর সংগঠনক্ষমতা নাট্যদলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। তিনি শুধু অভিনয়ের শিল্পী ছিলেন না, ছিলেন নাটকের আবহ, পরিবেশ এবং মেজাজ গড়ে তোলার একজন জীবন্ত শক্তি।


দুই কন্যা— দামিনী ও আনন্দী: পরিবারের শিল্প-ঐতিহ্য

ভদ্রা ও অসিত বসুর দুই কন্যা— দামিনী বেণী বসু ও আনন্দী বসু— দু’জনেই নাট্যজগত এবং অভিনয়মহলে প্রতিষ্ঠিত। বড় হওয়া থেকেই তাঁরা মায়ের শিল্পানুরাগ প্রত্যক্ষ করেছেন। রিহার্সাল দেখতে দেখতে, নাটকের আলো-অন্ধকার মঞ্চে খেলা করতে করতে, সংলাপ আর চরিত্রের ওঠানামা বুঝতে বুঝতেই তাঁদের বড় হওয়া। ভদ্রা তাঁদের শেখাতেন যে শিল্প মানে শুধু সৃজনশীলতা নয়; শিল্প মানে শৃঙ্খলা, দায়বদ্ধতা ও নিরলস পরিশ্রমও।

দামিনী পরে পরিচিত নাট্যব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। তাঁর অভিনয়ে গভীরতা, সংলাপে দৃঢ়তা এবং চরিত্র বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা— সবই মায়ের কাছ থেকে পাওয়া। আনন্দীও নাটকের পাশাপাশি সিরিজ ও সিনেমায় কাজ করেছেন। ভদ্রার প্রভাব তাঁদের জীবনে ছিল অফুরন্ত। তাঁদের শৈশবের সবচেয়ে বড় শিক্ষা ছিল— শিল্পকে সম্মান করতে হবে, চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে হলে নিজেকে ভুলে যেতে হয়।


সুদীপ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্ক: 'দ্বিতীয় মা'

ভদ্রা বসুর ব্যক্তিগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো অভিনেতা সুদীপ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। সুদীপ ছিলেন দামিনীর প্রাক্তন স্বামী। কিন্তু বিবাহবিচ্ছেদ তাঁদের দুই পরিবারের সম্পর্ককে কখনও ক্ষতিগ্রস্ত করেনি। বরং বছরান্তে ভদ্রা ও সুদীপের মধ্যে বেড়ে উঠেছিল এক গভীর, অপ্রাতিষ্ঠানিক এবং আন্তরিক সম্পর্ক— যা মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কের মতো।

সুদীপ বহুবার বলেছেন যে ভদ্রা তাঁর জীবনে দ্বিতীয় মা-র মতো ছিলেন। তাঁর বাবা-মা না থাকায় ভদ্রা ও অসিত বসুই তাঁর জীবনের নির্ভর। ভদ্রার স্নেহ, আত্মিক সমর্থন এবং বিশ্বাস সুদীপকে জীবনের বহু সংকটে শক্তি দিয়েছে। ভদ্রার মৃত্যু সংবাদ শুনে তিনি চোখ ভেজা কণ্ঠে বলেন—
“যেন আবার দ্বিতীয় বার মাকে হারালাম।”
এই একটি বাক্যই ভদ্রার মানবিকতার গভীরতা বোঝানোর জন্য যথেষ্ট।


নাট্যমহলে ভদ্রার স্থান

বাংলার নাট্যমঞ্চে ভদ্রা বসুর অবস্থান ছিল একেবারেই আলাদা। তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী, কঠোর শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং একই সঙ্গে অত্যন্ত প্রাণবন্ত একজন শিল্পী। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের তিনি চোখে চোখে দেখতেন, ভুল-ত্রুটি ধৈর্য ধরে বুঝিয়ে দিতেন, সাহস দিতেন। তাঁর রিহার্সালে কখনও বিশৃঙ্খলা চলত না। তিনি জানতেন, সবই তৈরি হয় মঞ্চের আড়ালে।

অভিনয়, নাট্যপরিচালনা, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত— সব ক্ষেত্রেই তাঁর দখল ছিল অসাধারণ। শুধু দখল নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সৃষ্টিশীল। তাঁর গলায় ছিল শাস্ত্রীয়তার ছোঁয়া, ব্যঞ্জনা, রস আর আবেগ। নাটকে সঙ্গীতের ব্যবহার নিয়ে তাঁর ছিল বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি বিশ্বাস করতেন— সঠিক সুর মঞ্চের আবহকে বদলে দিতে পারে।

স্বাগতা মুখোপাধ্যায় স্মরণ করেছেন যে ভদ্রার পরিচালনায় তিনি প্রথম ‘গওহরজান’-এর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন— যা তাঁর অভিনয়জীবনে এক বড় বাঁক। সোহন বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, ভদ্রার মতো বহুমুখী প্রতিভা খুব কম দেখা যায়। যেকোনো চরিত্রে ভদ্রা ছিলেন অবলীলাক্রমে স্বচ্ছন্দ।

news image
আরও খবর

টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে ভদ্রার যাত্রা

মঞ্চে প্রতিষ্ঠার পর ভদ্রা ধীরে ধীরে পা রাখেন টেলিভিশন সিরিজে। টিভির জন্য তাঁর অভিনয় ছিল বিশেষভাবে স্বাভাবিক, মাটির গন্ধমাখা এবং বাস্তবতার দিক দিয়ে খুব শক্ত। যে চরিত্রই করতেন, তাতে তাঁর নিজস্ব, অনন্য ছাপ থাকত। সিরিজে অভিনয় করতে করতেই তিনি পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন সাধারণ ঘরোয়া চরিত্রের চেয়ে বড় পরিসরের চরিত্রে।

এরপর তিনি চলচ্চিত্রেও কাজ শুরু করেন। সুমন মুখোপাধ্যায়ের ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’-য় তাঁর চরিত্র ছিল ছোট হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনিলাভ চট্টোপাধ্যায়ের ‘বেলা’-তেও তাঁর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁর একান্ত বিশ্বাস ছিল— সিনেমা মানে ক্যামেরার সঙ্গে এক ধরনের সংলাপ। তিনি ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে তাঁর চোখই বলে দিত।


শিল্পী, শিক্ষক ও অভিভাবক— তিন ভূমিকায় ভদ্রা

ভদ্রা ছিলেন শুধু অভিনেত্রী নন— ছিলেন শিক্ষকও। বহু ছোট-বড় নাট্যদলের নতুন শিল্পীদের তিনি প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তাঁর শেখানোর ধরন ছিল অত্যন্ত সহজ। তিনি জানতেন, অভিনয় শেখানো যায় হাতে ধরে, দেখিয়ে, বোঝানোর মাধ্যমে। তিনি বলতেন—
“অভিনয় মানে নিজেকে হারিয়ে আবার খুঁজে পাওয়া।”

নতুন শিল্পীদের তিনি ভীষণভাবে উৎসাহ দিতেন। তাঁদের ছোট সাফল্যে তিনি উৎসব করতেন, আবার ভুল করলে কঠিন শাসনও করতেন— কিন্তু সবই করতেন গভীর মমতা নিয়ে। তাঁর শিক্ষাদান নাট্যমহলে এক বিশেষ ধারার জন্ম দিয়েছিল।


ব্যক্তিত্ব: প্রাণচঞ্চলতার আড়ালে গভীর মানবিকতা

ভদ্রার ব্যক্তিত্ব ছিল বিরল। তিনি ছিলেন প্রাণচঞ্চল, কিন্তু সেই প্রাণচঞ্চলতার সাহায্যে তিনি সকলকে ছুঁয়ে যেতে পারতেন খুব সহজে। তাঁর হাসি ছিল সংক্রামক, তাঁর উপস্থিতি ছিল প্রাণিতকারী। তিনি যেখানে থাকতেন, সেখানেই যেন আলোর একটা কেন্দ্রবিন্দু তৈরি হতো।

কিন্তু এই প্রাণচাঞ্চল্যের আড়ালে ছিল এক গভীর, শান্ত, স্থির এবং সংবেদনশীল মানুষ। যেকেউ তাঁর সঙ্গে কথা বললে বুঝতেন— ভদ্রা মন দিয়ে শুনতে জানেন। তাঁর কাছে শিল্প মানে ছিল মানুষের অভিব্যক্তির গভীরতম স্তরগুলোকে বুঝে নেওয়া।


রোগ, লড়াই এবং বিদায়

অসুস্থ হওয়ার আগে ভদ্রা ছিলেন সক্রিয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠান, রিহার্সাল, নতুন প্রজেক্ট— সবকিছুতেই তাঁর উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। হঠাৎ একদিন মাথা ঘোরা, অসুস্থতা, এবং পরক্ষণেই হাসপাতালে ছুটে যাওয়া। চিকিৎসকেরা জানান— মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। দ্রুত অস্ত্রোপচার করতে হয়। অপারেশনের পরও ভদ্রা ছিলেন অচেতন।

পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মীরা অপেক্ষা করছিলেন— তিনি হয়তো জেগে উঠবেন। তাঁর প্রাণশক্তি এত প্রবল ছিল যে সবাই ভাবছিলেন— ভদ্রা ফিরবেন। কিন্তু গভীর রাতে সেই প্রত্যাশায় জল ঢেলে চলে গেলেন তিনি।


শেষকৃত্যে উপস্থিতি ও শিল্পীমহলের শোক

ভদ্রার শেষযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন বহু নাট্যব্যক্তিত্ব, অভিনেতা, ছাত্রছাত্রী, পরিবারের সদস্য এবং কাছের মানুষ। সেখানেই ছিলেন সুদীপ মুখোপাধ্যায়— যাঁর মুখে চোখ ভেজা কণ্ঠে শোনা যায়—
“ওঁর মতো প্রাণবন্ত, স্নেহপরায়ণ মানুষ খুব কম দেখেছি। আজ যেন আবার দ্বিতীয় বার মাকে হারালাম।”

স্বাগতা মুখোপাধ্যায়, সোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়— সকলেই ভদ্রার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা স্মরণ করেছেন তাঁর কাজ, তাঁর সহৃদয়তা, তাঁর নিষ্ঠা।


এক যুগের অবসান

ভদ্রা বসুর প্রস্থান মানে শুধু একজন শিল্পীর চলে যাওয়া নয়— বাংলার নাট্যমঞ্চে এক যুগের শেষ হওয়া। তিনি ছিলেন এক সেতু— পুরনো প্রজন্ম আর নতুন প্রজন্মকে সংযুক্ত করা এক উজ্জ্বল সেতু। তাঁর কাজ ভবিষ্যৎকে পথ দেখাবে, তাঁর মানবিকতা রয়ে যাবে প্রেরণা হয়ে।

ভদ্রা বসু রেখে গেলেন এক বিশাল শিল্পসম্ভার— নাটক, সিরিজ, সিনেমা, গান, হাজারো স্মৃতি, অসংখ্য ছাত্রছাত্রী আর আরও অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা। তাঁর চলে যাওয়া শূন্যতা তৈরি করেছে, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি সেই শূন্যতাকে আলোয় পূর্ণ করবে।


উপসংহার

শিল্পীদের মৃত্যু হয় না— তাঁরা রয়ে যান তাঁদের কাজের ভেতরে। ভদ্রা বসুও রয়ে যাবেন তাঁর প্রতিটি সংলাপে, তাঁর প্রতিটি চরিত্রে, তাঁর শেখানো প্রতিটি পাঠে। মঞ্চে আলো জ্বললেই যেন তাঁর ছায়া ফিরে আসবে। দর্শক হাততালি দিলে যেন তিনি মঞ্চের এক কোণে হাসবেন।
মাটির মানুষ, স্নেহপরায়ণ মা, কড়া শিক্ষক, দাপুটে অভিনেত্রী, নীরব মানবিকতা— সব মিলিয়ে ভদ্রা বসু ছিলেন এক অনন্য অধ্যায়। সেই অধ্যায়ের আজ শেষ পাতা লেখা হলো।
কিন্তু তাঁর আলো— রয়ে যাবে, আরও অনেকদিন।

Preview image