ছোটপর্দার অভিনেত্রী সাইনা, প্রয়াত অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের কন্যা, সম্প্রতি নেপোটিজম নিয়ে সাক্ষাৎকারে বলেন যে, তিনি নেপো কিড ট্যাগ নিয়ে লজ্জিত নন। বরং বাবার পরিচিতির সুযোগকে সৌভাগ্য মনে করেন এবং এর জন্য কৃতজ্ঞ।
ভূমিকা
সম্প্রতি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতে ‘নেপোটিজম’ বা পারিবারিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা তীব্রভাবে বেড়েছে। অনেক নতুন মুখ এই বিতর্কের মধ্যে আটকা পড়েছেন, বিশেষ করে যারা পরিচিত পরিবারের সন্তান। এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাইনা, প্রয়াত অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের কন্যা, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, নেপোটিজম বা ‘নেপো কিড’ ট্যাগ নিয়ে তিনি লজ্জিত নন। বরং তিনি বাবার পরিচিতি এবং সুযোগকে সৌভাগ্য হিসেবে দেখেন।
নেপোটিজম বিতর্কের প্রেক্ষাপট
ভারতীয় বিনোদন জগতে নেপোটিজম দীর্ঘদিন ধরে একটি সংবেদনশীল বিষয়। চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন শিল্পে বহু নতুন প্রতিভা নিজের প্রয়াসে পরিচিতি পেতে ব্যর্থ হয়, কারণ সেখানে প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানরা সহজেই সুযোগ পান। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই অভিযোগ করেন যে, পরিচিত পরিবারের সন্তানরা প্রকৃত প্রতিভার চেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করে। সম্প্রতি এই বিতর্ক আবারও তীব্র হয়েছে কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় নেপোটিজম নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
সাইনার অভিজ্ঞতা ও মতামত
সাইনা, যিনি ছোটপর্দার জনপ্রিয় ‘লাজু’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন, এই বিতর্কে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি জানি এই নেপোটিজম ব্যাপারটাকে অনেকটা অপমানজনক শব্দ হিসেবেই ব্যবহার করা হয়। তবে আমি এটাকে অপমান হিসেবে নেই। হ্যাঁ, আমার বাবা ছিলেন একজন অভিনেতা এবং তিনি বিখ্যাত মানুষ ছিলেন। এই বিষয়টা আমার জন্য লজ্জার নয়। আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি কারণ সুযোগ সহজে আসে না।”
সাইনার এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, তিনি নিজের পরিবারিক প্রভাবকে লজ্জার বা অপমানজনক কিছু হিসেবে দেখেন না। বরং বাবার পরিচিতি ও সাহায্যকে তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করেন। তাঁর মতে, যারা বিখ্যাত পরিবারে জন্মেছেন, তাদের উচিত এই সুযোগকে মূল্যায়ন করা এবং তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকা।
নেপোটিজম বনাম ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা
যদিও নেপোটিজমকে অনেকেই নেতিবাচকভাবে দেখেন, তবে সাইনা প্রমাণ করছেন যে, এটি স্বাভাবিকভাবে কোনো ব্যক্তির প্রতিভা বা কঠোর পরিশ্রমকে কম প্রমাণ করে না। তিনি বলেন যে, পরিচিতি থাকা মানেই সবকিছু সহজ নয়। অভিনয় শিল্পে সাফল্য ধরে রাখার জন্য কঠোর পরিশ্রম, দক্ষতা এবং প্রয়োজনীয় আত্মউন্নতি অপরিহার্য। সাইনার অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায় যে, বাবা-মার পরিচিতি প্রাথমিক সুবিধা দিতে পারে, কিন্তু টিকে থাকতে হলে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়।
সাইনার ক্যারিয়ারের দিকনির্দেশনা
সাইনার ক্যারিয়ার ছোটপর্দা থেকে শুরু হলেও তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে নিজেকে আলাদা করার চেষ্টা করছেন। তিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। তার মতে, পরিচিতির সুযোগ থাকলেও একজন অভিনেতার প্রকৃত মূল্য দর্শক ও সমালোচকদের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
সমাজে নেপোটিজম নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি
সাইনার মত অনেকেই মনে করেন, নেপোটিজম সবসময় নেতিবাচক নয়। এটি কখনও কখনও নতুন প্রজন্মের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারে। সমাজে নেপোটিজম নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। কেউ এটিকে সুবিধাবাদী এবং অসমতার প্রতীক হিসেবে দেখেন, আবার কেউ এটিকে সম্ভাবনার সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করেন। সাইনার দ্বিতীয় ধরনের মতকে সমর্থন করেন। তিনি মনে করেন যে, পরিচিতির সুবিধা গ্রহণ করাটা স্বাভাবিক এবং এতে লজ্জার কিছু নেই, বরং নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রম দিয়ে সেই সুযোগকে কাজে লাগানোই গুরুত্বপূর্ণ।
সাইনার বক্তব্যের সামাজিক প্রভাব
সাইনারের মতামত তরুণ অভিনেতাদের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি দেখিয়েছেন যে, পরিবারিক পরিচিতি থাকা মানেই ব্যর্থতা নয়, বরং তা কৃতজ্ঞতার বিষয় হতে পারে। তরুণ অভিনেতারা যাদের পরিবার পরিচিত, তারা সাইনার মত নিজের সুযোগকে লজ্জার বিষয় না মনে করে, বরং প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তা কাজে লাগাতে পারেন।
নেপোটিজম বিতর্কের ভবিষ্যত
নেপোটিজম নিয়ে সামাজিক ও পেশাগত বিতর্ক ভবিষ্যতেও চলবে। তবে যেমনটি সাইনার দেখিয়েছেন, এটি একপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শুধুমাত্র নেতিবাচক হিসেবে দেখা উচিত নয়। পরিচিতি থাকা মানেই সাফল্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসে না; নিজের দক্ষতা ও পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ। সাইনার মতামত সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা প্রদান করে যে, সুযোগকে গ্রহণ করা এবং নিজের প্রতিভা দিয়ে তা মূল্যায়ন করা উভয়ই সম্ভব।
উপসংহার
সাইনার সাক্ষাৎকার থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, নেপোটিজমের সঙ্গে নিজের নাম জড়ালেও তা লজ্জার বিষয় নয়। বরং এটি কৃতজ্ঞতার বিষয়। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, পরিবারের পরিচিতি থাকা মানেই স্বয়ংক্রিয় সাফল্য নয়; প্রতিভা, পরিশ্রম এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাইনার দৃষ্টিভঙ্গি তরুণদের জন্য একটি প্রেরণার উৎস, যারা নিজের যোগ্যতা দিয়ে সমাজে স্বীকৃতি পেতে চায়।