Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ধীরে ধীরে রেললাইন পেরচ্ছিলেন বৃদ্ধা হঠাৎ সামনে এসে গেল ট্রেন ঝাঁপিয়ে পড়লেন গাঙ্গুলি

রেললাইন পার হতে গিয়ে হঠাৎ দ্রুতগতির ট্রেনের সামনে পড়ে যান এক বৃদ্ধা। বিপদ বুঝে এক মুহূর্তও দেরি না করে ঝাঁপিয়ে পড়েন কর্তব্যরত পয়েন্টসম্যান গাঙ্গুলি। তাঁর তৎপরতায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান ওই বৃদ্ধা, প্রশংসায় ভাসছে রেলকর্মীর মানবিকতা।

রেললাইন মানেই বিপদ, বিশেষ করে বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে সেই বিপদের মাত্রা আরও বেশি। সামান্য অসতর্কতা বা এক মুহূর্তের দেরি যে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে, তার উদাহরণ প্রায়ই সামনে আসে। কিন্তু কখনও কখনও মানুষের মানবিকতা, সাহস এবং কর্তব্যবোধ সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিকেও পরাস্ত করে দেয়। এমনই এক ঘটনার সাক্ষী থাকল কলকাতা ও শহরতলি রেলপথ, যেখানে এক পয়েন্টসম্যানের তৎপরতায় নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে রক্ষা পেলেন এক বৃদ্ধা মহিলা।

ঘটনাটি ঘটে ব্যস্ত একটি রেললাইনের কাছে। প্রতিদিনের মতোই ট্রেন চলাচল করছিল স্বাভাবিক নিয়মে। সেই সময় এক বৃদ্ধা মহিলা ধীরে ধীরে রেললাইন পার হচ্ছিলেন। বয়সের ভারে তাঁর চলাফেরা ছিল মন্থর, দৃষ্টিশক্তিও সম্ভবত পুরোপুরি স্পষ্ট ছিল না। রেললাইন পার হওয়ার সময় তিনি বুঝতেই পারেননি যে দূর থেকে দ্রুতগতিতে একটি ট্রেন এগিয়ে আসছে। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে শুরু করে। ট্রেনের হর্নের শব্দে আশপাশের মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, কিন্তু ততক্ষণে বৃদ্ধা মহিলার পক্ষে দ্রুত সরে যাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

ঠিক সেই সময় কর্তব্যরত পয়েন্টসম্যান গাঙ্গুলির নজরে আসে বিষয়টি। দূর থেকে তিনি দেখতে পান, এক বৃদ্ধা ট্রেন লাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়েছেন এবং সামনে দিয়ে দ্রুত ছুটে আসছে ট্রেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে তিনি ছুটে যান লাইনের দিকে। নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বৃদ্ধা মহিলার দিকে এগিয়ে যান এবং শক্ত করে ধরে তাঁকে টেনে নিয়ে আসেন নিরাপদ জায়গায়। ঠিক তার কয়েক সেকেন্ড পরেই গর্জন করতে করতে পাশ দিয়ে ছুটে যায় ট্রেন। যদি সামান্য দেরিও হত, তাহলে অনিবার্য দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত।

এই ঘটনার পর মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা হতবাক হয়ে যান পয়েন্টসম্যানের সাহসিকতা দেখে। অনেকেই এগিয়ে এসে তাঁকে ধন্যবাদ জানান এবং প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। বৃদ্ধা মহিলা তখনও আতঙ্কে কাঁপছিলেন, চোখেমুখে স্পষ্ট ছিল মৃত্যুভয়ের ছাপ। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি বুঝতে পারেন, এক অচেনা মানুষ তাঁর জীবন বাঁচিয়েছেন। কান্নাভেজা চোখে তিনি পয়েন্টসম্যানের হাত ধরে কৃতজ্ঞতা জানান।

রেলকর্মীদের কাজ সাধারণ মানুষের চোখে অনেক সময়ই নজরে আসে না। কিন্তু প্রতিদিন তাঁদের কাজের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য মানুষের নিরাপত্তা। পয়েন্টসম্যানদের দায়িত্ব শুধুমাত্র লাইনের দিক পরিবর্তন করা নয়, প্রয়োজনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় দুর্ঘটনা এড়ানোও তাঁদের কাজের অংশ। এই ঘটনায় গাঙ্গুলি প্রমাণ করে দিলেন, কর্তব্যবোধের পাশাপাশি মানবিকতার মূল্য কতটা গভীর হতে পারে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় প্রতিদিন বহু মানুষ রেললাইন পার হন। যদিও সেখানে সতর্কতামূলক বোর্ড ও সিগন্যাল রয়েছে, তবুও অনেক সময় মানুষ তা উপেক্ষা করে বিপদের মুখে পড়ে যান। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। এই ঘটনার পর রেল কর্তৃপক্ষ আবারও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং অননুমোদিতভাবে রেললাইন পার না হওয়ার অনুরোধ করেছে।

এই সাহসী পয়েন্টসম্যানের ভূমিকা ইতিমধ্যেই রেল দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নজর কেড়েছে। সূত্রের খবর, তাঁর এই সাহসিকতা ও তৎপরতার জন্য তাঁকে সম্মানিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। রেলওয়ে কর্মীদের মধ্যে এমন উদাহরণ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ঘটনা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয়, প্রযুক্তি ও নিয়মকানুনের পাশাপাশি মানুষের উপস্থিতি ও সিদ্ধান্ত অনেক সময় জীবন-মৃত্যুর পার্থক্য গড়ে দেয়। যদি ওই সময় পয়েন্টসম্যান সামান্যও গাফিলতি করতেন, তাহলে আজ হয়তো গল্পটা অন্যরকম হত। তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি, সাহস এবং মানবিক মনোভাব এক বৃদ্ধার জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে।

আজকের ব্যস্ত জীবনে আমরা প্রায়ই নিজেদের কাজ নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকি যে আশপাশের মানুষের বিপদ চোখে পড়ে না। কিন্তু এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হল, একটু সচেতনতা ও মানবিকতা কত বড় পরিবর্তন আনতে পারে। পয়েন্টসম্যান গাঙ্গুলির এই কাজ নিঃসন্দেহে সমাজের কাছে এক বড় উদাহরণ। তিনি দেখিয়ে দিলেন, একজন সাধারণ রেলকর্মীও অসাধারণ হয়ে উঠতে পারেন তাঁর কাজ ও মানসিকতার মাধ্যমে।

এই ঘটনার পর থেকে এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রেললাইন পারাপারের নিরাপত্তা নিয়ে। অনেকেই দাবি তুলেছেন, ওই এলাকায় আরও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সচেতনতা প্রচার চালানোর। কারণ একটি প্রাণ বাঁচানো যেমন আনন্দের, তেমনই ভবিষ্যতে এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি যাতে আর না ঘটে, সেটাও নিশ্চিত করা জরুরি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এই ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা এড়ানোর গল্প নয়, এটি মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রেলের মতো ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করা একজন কর্মী যে কীভাবে নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়ে একজন অচেনা মানুষের জীবন বাঁচাতে পারেন, তা এই ঘটনাই প্রমাণ করে। এমন সাহসী কাজ সমাজে আরও ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে এবং মানুষকে আরও সচেতন ও মানবিক হতে অনুপ্রাণিত করবে।

news image
আরও খবর

রেললাইন মানেই বিপদ, বিশেষ করে বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে সেই বিপদের মাত্রা আরও বেশি। সামান্য অসতর্কতা বা এক মুহূর্তের দেরি যে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে, তার উদাহরণ প্রায়ই সামনে আসে। কিন্তু কখনও কখনও মানুষের মানবিকতা, সাহস এবং কর্তব্যবোধ সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিকেও পরাস্ত করে দেয়। এমনই এক ঘটনার সাক্ষী থাকল কলকাতা ও শহরতলি রেলপথ, যেখানে এক পয়েন্টসম্যানের তৎপরতায় নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে রক্ষা পেলেন এক বৃদ্ধা মহিলা।

ঘটনাটি ঘটে ব্যস্ত একটি রেললাইনের কাছে। প্রতিদিনের মতোই ট্রেন চলাচল করছিল স্বাভাবিক নিয়মে। সেই সময় এক বৃদ্ধা মহিলা ধীরে ধীরে রেললাইন পার হচ্ছিলেন। বয়সের ভারে তাঁর চলাফেরা ছিল মন্থর, দৃষ্টিশক্তিও সম্ভবত পুরোপুরি স্পষ্ট ছিল না। রেললাইন পার হওয়ার সময় তিনি বুঝতেই পারেননি যে দূর থেকে দ্রুতগতিতে একটি ট্রেন এগিয়ে আসছে। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে শুরু করে। ট্রেনের হর্নের শব্দে আশপাশের মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, কিন্তু ততক্ষণে বৃদ্ধা মহিলার পক্ষে দ্রুত সরে যাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

ঠিক সেই সময় কর্তব্যরত পয়েন্টসম্যান গাঙ্গুলির নজরে আসে বিষয়টি। দূর থেকে তিনি দেখতে পান, এক বৃদ্ধা ট্রেন লাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়েছেন এবং সামনে দিয়ে দ্রুত ছুটে আসছে ট্রেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে তিনি ছুটে যান লাইনের দিকে। নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বৃদ্ধা মহিলার দিকে এগিয়ে যান এবং শক্ত করে ধরে তাঁকে টেনে নিয়ে আসেন নিরাপদ জায়গায়। ঠিক তার কয়েক সেকেন্ড পরেই গর্জন করতে করতে পাশ দিয়ে ছুটে যায় ট্রেন। যদি সামান্য দেরিও হত, তাহলে অনিবার্য দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত।

এই ঘটনার পর মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা হতবাক হয়ে যান পয়েন্টসম্যানের সাহসিকতা দেখে। অনেকেই এগিয়ে এসে তাঁকে ধন্যবাদ জানান এবং প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। বৃদ্ধা মহিলা তখনও আতঙ্কে কাঁপছিলেন, চোখেমুখে স্পষ্ট ছিল মৃত্যুভয়ের ছাপ। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি বুঝতে পারেন, এক অচেনা মানুষ তাঁর জীবন বাঁচিয়েছেন। কান্নাভেজা চোখে তিনি পয়েন্টসম্যানের হাত ধরে কৃতজ্ঞতা জানান।

রেলকর্মীদের কাজ সাধারণ মানুষের চোখে অনেক সময়ই নজরে আসে না। কিন্তু প্রতিদিন তাঁদের কাজের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য মানুষের নিরাপত্তা। পয়েন্টসম্যানদের দায়িত্ব শুধুমাত্র লাইনের দিক পরিবর্তন করা নয়, প্রয়োজনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় দুর্ঘটনা এড়ানোও তাঁদের কাজের অংশ। এই ঘটনায় গাঙ্গুলি প্রমাণ করে দিলেন, কর্তব্যবোধের পাশাপাশি মানবিকতার মূল্য কতটা গভীর হতে পারে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় প্রতিদিন বহু মানুষ রেললাইন পার হন। যদিও সেখানে সতর্কতামূলক বোর্ড ও সিগন্যাল রয়েছে, তবুও অনেক সময় মানুষ তা উপেক্ষা করে বিপদের মুখে পড়ে যান। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। এই ঘটনার পর রেল কর্তৃপক্ষ আবারও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং অননুমোদিতভাবে রেললাইন পার না হওয়ার অনুরোধ করেছে।

এই সাহসী পয়েন্টসম্যানের ভূমিকা ইতিমধ্যেই রেল দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নজর কেড়েছে। সূত্রের খবর, তাঁর এই সাহসিকতা ও তৎপরতার জন্য তাঁকে সম্মানিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। রেলওয়ে কর্মীদের মধ্যে এমন উদাহরণ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ঘটনা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয়, প্রযুক্তি ও নিয়মকানুনের পাশাপাশি মানুষের উপস্থিতি ও সিদ্ধান্ত অনেক সময় জীবন-মৃত্যুর পার্থক্য গড়ে দেয়। যদি ওই সময় পয়েন্টসম্যান সামান্যও গাফিলতি করতেন, তাহলে আজ হয়তো গল্পটা অন্যরকম হত। তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি, সাহস এবং মানবিক মনোভাব এক বৃদ্ধার জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে।

আজকের ব্যস্ত জীবনে আমরা প্রায়ই নিজেদের কাজ নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকি যে আশপাশের মানুষের বিপদ চোখে পড়ে না। কিন্তু এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হল, একটু সচেতনতা ও মানবিকতা কত বড় পরিবর্তন আনতে পারে। পয়েন্টসম্যান গাঙ্গুলির এই কাজ নিঃসন্দেহে সমাজের কাছে এক বড় উদাহরণ। তিনি দেখিয়ে দিলেন, একজন সাধারণ রেলকর্মীও অসাধারণ হয়ে উঠতে পারেন তাঁর কাজ ও মানসিকতার মাধ্যমে।

এই ঘটনার পর থেকে এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রেললাইন পারাপারের নিরাপত্তা নিয়ে। অনেকেই দাবি তুলেছেন, ওই এলাকায় আরও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সচেতনতা প্রচার চালানোর। কারণ একটি প্রাণ বাঁচানো যেমন আনন্দের, তেমনই ভবিষ্যতে এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি যাতে আর না ঘটে, সেটাও নিশ্চিত করা জরুরি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এই ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা এড়ানোর গল্প নয়, এটি মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রেলের মতো ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করা একজন কর্মী যে কীভাবে নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়ে একজন অচেনা মানুষের জীবন বাঁচাতে পারেন, তা এই ঘটনাই প্রমাণ করে। এমন সাহসী কাজ সমাজে আরও ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে এবং মানুষকে আরও সচেতন ও মানবিক হতে অনুপ্রাণিত করবে।

Preview image