Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বন্দে ভারত স্লিপার থেকে অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ভোটের মুখে বাংলায় রেলের মেগা চমক, দেখে নিন নতুন ট্রেনের সম্পূর্ণ তালিকা ও রুট

বছরের শুরুতেই বাংলার জন্য বড় সুখবর দিল ভারতীয় রেল। যাত্রী পরিষেবাকে আরও আধুনিক ও আরামদায়ক করতে রেল মন্ত্রক পশ্চিমবঙ্গ ও অসম থেকে মোট ১১টি নতুন ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন, যা দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রায় যাত্রীদের জন্য দেবে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা। পাশাপাশি চালু হচ্ছে একাধিক অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, যা সাধারণ ও মধ্যবিত্ত যাত্রীদের জন্য দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ যাত্রার বিকল্প তৈরি করবে। নতুন এই ট্রেন পরিষেবাগুলির মাধ্যমে কলকাতা, শিলিগুড়ি, গুয়াহাটি সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও মজবুত হবে। ভোটমুখী বাংলায় রেলের এই বড় পদক্ষেপকে রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যাত্রীদের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যটন ও ব্যবসাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বছরের শুরুতেই বাংলার জন্য বিরাট চমক ভারতীয় রেলের, ১১টি নতুন ট্রেন পরিষেবায় বদলাতে চলেছে যাতায়াতের ছবি

বছরের শুরুতেই বাংলার জন্য বড় সুখবর দিল ভারতীয় রেল। যাত্রী পরিষেবাকে আরও আধুনিক, দ্রুত ও আরামদায়ক করে তুলতে রেল মন্ত্রক পশ্চিমবঙ্গ ও অসম থেকে মোট ১১টি নতুন ট্রেন চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন এবং একাধিক অমৃত ভারত এক্সপ্রেস। রেলের এই বড় ঘোষণাকে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নয়, ভোটমুখী বাংলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের সূচনা

এই ঘোষণার মধ্যে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন। এখন পর্যন্ত বন্দে ভারত ট্রেনগুলি মূলত চেয়ারকার বা সিটিং কোচে চলাচল করলেও, এবার প্রথমবার স্লিপার সংস্করণ আনা হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘ দূরত্বে রাতের যাত্রা আরও আরামদায়ক হবে। আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই ট্রেনে থাকবে উন্নত সাসপেনশন সিস্টেম, আরামদায়ক বার্থ, উন্নত আলো-বাতাস ব্যবস্থা, জিপিএস-ভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি নজরদারি।

রেল সূত্রে খবর, এই বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি পশ্চিমবঙ্গ বা অসম থেকে দেশের অন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। বিশেষ করে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক ও উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অমৃত ভারত এক্সপ্রেস: সাধারণ যাত্রীদের জন্য বড় স্বস্তি

নতুন তালিকায় রয়েছে একাধিক অমৃত ভারত এক্সপ্রেস। এই ট্রেনগুলি মূলত সাধারণ ও মধ্যবিত্ত যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে চালু করা হচ্ছে। অমৃত ভারত এক্সপ্রেসে থাকবে নন-এসি আধুনিক কোচ, উন্নত বসার ব্যবস্থা, বড় জানালা, আধুনিক টয়লেট, মোবাইল চার্জিং পয়েন্ট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ট্রেনগুলি হবে দ্রুতগামী, কম ভিড়যুক্ত এবং সময়ানুবর্তী। দীর্ঘদিন ধরে এক্সপ্রেস ও প্যাসেঞ্জার ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড়ের সমস্যায় জর্জরিত যাত্রীদের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর।

কোন কোন রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত হবে বাংলা ও অসম

এই ১১টি নতুন ট্রেন চালু হলে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের সঙ্গে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও দিল্লির মতো রাজ্যের যোগাযোগ আরও মজবুত হবে। ফলে দেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতের দূরত্ব অনেকটাই কমবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে শুধু যাত্রী যাতায়াত নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ও শিল্পক্ষেত্রেও বড়সড় প্রভাব পড়বে। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণ ভারত বা পশ্চিম ভারতে যাওয়া এখন যেমন সময়সাপেক্ষ ও কষ্টকর, নতুন ট্রেন পরিষেবায় সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে।

কলকাতা, শিলিগুড়ি, গুয়াহাটি হবে বড় হাব

রেল সূত্রে জানা যাচ্ছে, কলকাতা, শিলিগুড়ি ও গুয়াহাটি এই নতুন ট্রেনগুলির বড় হাব হিসেবে গড়ে উঠবে। কলকাতা থেকে দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতের দিকে একাধিক নতুন রুট চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে শিলিগুড়ি ও গুয়াহাটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ আরও মজবুত করবে।

বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এতদিন অনেককেই কলকাতা বা দিল্লি ঘুরে যেতে হতো, এখন সরাসরি ট্রেনেই পৌঁছানো সম্ভব হবে।

পর্যটনে নতুন গতি আসবে

রেলের এই সিদ্ধান্তে পর্যটন ক্ষেত্রেও বড়সড় প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দার্জিলিং, কালিম্পং, সিকিম, সুন্দরবন, দীঘা, পুরী ও অসমের কাজিরাঙা, মেঘালয়ের শিলং—এইসব পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন ও দ্রুতগামী ট্রেন চালু হলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা সহজেই এইসব জায়গায় পৌঁছাতে পারবেন। এতে হোটেল, পরিবহন, গাইড ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আয় বাড়বে।

ব্যবসা ও শিল্পের জন্য বড় সুবিধা

শুধু পর্যটন নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পক্ষেত্রেও রেলের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের চা শিল্প, জুট শিল্প, হস্তশিল্প, কৃষিপণ্য ও ক্ষুদ্র শিল্পের পণ্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছানো যাবে।

বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও অসমের চা শিল্পের জন্য এটি অত্যন্ত ইতিবাচক খবর। দ্রুত ট্রেন পরিষেবার ফলে পণ্য পরিবহণের সময় কমবে, খরচ কমবে এবং বাজার সম্প্রসারণ হবে।

ভোটমুখী বাংলায় রাজনৈতিক তাৎপর্য

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি বছরই পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে রেলের এই বড় ঘোষণা রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। উন্নয়ন ও পরিকাঠামো বৃদ্ধির বার্তা দিয়ে কেন্দ্র সরকার যে এই দুই রাজ্যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, সেটাই স্পষ্ট।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের বড় প্রকল্প ঘোষণা করে সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে কেন্দ্র। নতুন ট্রেন পরিষেবা মানেই চাকরি, ব্যবসা, পর্যটন ও যোগাযোগের উন্নতি—সব মিলিয়ে একটি উন্নয়নের ছবি তুলে ধরা হচ্ছে।

news image
আরও খবর

যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া

রেলের এই ঘোষণায় যাত্রীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ভিনরাজ্যে যাতায়াত করেন, তাঁদের কাছে এটি বড় স্বস্তির খবর।

একজন যাত্রী বলেন, “দক্ষিণ ভারতে কাজ করি, বছরে দু-তিনবার বাড়ি আসতে হয়। ট্রেনের যাত্রা খুব কষ্টকর। যদি বন্দে ভারত স্লিপার বা অমৃত ভারত এক্সপ্রেস চালু হয়, তাহলে যাত্রা অনেক আরামদায়ক হবে।”

নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির ওপর জোর

নতুন ট্রেনগুলিতে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি কোচে থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরা, ইমার্জেন্সি অ্যালার্ম, জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ও আধুনিক ফায়ার সেফটি সিস্টেম। মহিলা যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ নজরদারি থাকবে বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে।

এছাড়া ট্রেনের দরজা ও কোচের নকশাও আধুনিক করা হয়েছে যাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে।

রেল পরিকাঠামো উন্নয়নের ধারাবাহিকতা

এই ১১টি নতুন ট্রেন চালু হওয়া রেল পরিকাঠামো উন্নয়নের ধারাবাহিকতারই অংশ বলে জানিয়েছে রেল মন্ত্রক। গত কয়েক বছরে নতুন লাইন, ডাবল লাইন, ইলেকট্রিফিকেশন ও স্টেশন আধুনিকীকরণের কাজ জোরকদমে চলছে। বন্দে ভারত, অমৃত ভারত, তেজস, হামসফর—এই সব আধুনিক ট্রেন চালু করে রেল যাত্রী পরিষেবায় নতুন দিগন্ত খুলেছে।

রেল কর্তৃপক্ষের মতে, আগামী দিনে আরও নতুন রুটে আধুনিক ট্রেন চালু হবে।

কর্মসংস্থানের সুযোগ

নতুন ট্রেন পরিষেবা চালু হওয়ায় সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। ট্রেন চালানো, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ক্যাটারিং, নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই লোক নিয়োগ হবে। এছাড়া পর্যটন ও ব্যবসা বাড়লে স্থানীয় স্তরেও কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মতো অঞ্চলে যেখানে কাজের সুযোগ তুলনামূলক কম, সেখানে এটি বড় আশার আলো।

রেলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

রেল মন্ত্রক সূত্রে খবর, আগামী কয়েক বছরে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে রেল নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করা হবে। নতুন ট্রেনের পাশাপাশি নতুন লাইন, সেতু ও টানেল নির্মাণের কাজ চলছে। লক্ষ্য একটাই—দেশের প্রতিটি প্রান্তকে দ্রুত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী রেল পরিষেবার আওতায় আনা।

বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও পাহাড়ি এলাকায় রেল যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা

রেলের এই ঘোষণার পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে। অনেকেই চাইছেন, শুধু ঘোষণা নয়, দ্রুত যেন বাস্তবায়ন হয়। অতীতে অনেক প্রকল্প ঘোষণা হলেও কাজ শেষ হতে সময় লেগেছে—এই অভিজ্ঞতা থেকেই মানুষ এখন দ্রুত ফল দেখতে চাইছেন।

যাত্রীদের দাবি, ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সময়ানুবর্তিতা ও পরিষেবার মানও উন্নত করতে হবে।

উপসংহার

সব মিলিয়ে বলা যায়, বছরের শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের জন্য ভারতীয় রেলের এই বড় ঘোষণা যাত্রী পরিষেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ও রাজনৈতিক—সব দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন এবং একাধিক অমৃত ভারত এক্সপ্রেস চালু হলে যাতায়াতের ছবি আমূল বদলে যাবে।

মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে উঠলে পশ্চিমবঙ্গ ও অসম আরও শক্তভাবে দেশের মূল স্রোতের সঙ্গে যুক্ত হবে। ভোটমুখী সময়ে এই পদক্ষেপ যে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য।

এখন সকলের নজর একটাই—কবে থেকে এই নতুন ট্রেনগুলি বাস্তবে রাস্তায় নামবে এবং কত দ্রুত সাধারণ মানুষ এর সুফল পাবে।

Preview image