Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পোখরানে শক্তি প্রদর্শন করবে ভারতীয় যুদ্ধবিমান! মহড়ায় রাফালও, দেখানো হবে সিঁদুর অভিযানে ভারতের সাফল্য

এ বছরের সাধারণতন্ত্র দিবসে দিল্লিতে কুচকাওয়াজের সময়েও ‘সিঁদুর’ পর্বের ছোঁয়া ছিল। সিঁদুর অভিযানে যে ভাবে যুদ্ধবিমানগুলিকে ব্যবহার করা হয়েছিল, যে ভাবে সেগুলি রণসজ্জায় সেজেছিল, ঠিক সে ভাবেই সাধারণতন্ত্র দিবসেও সাজানো হয় রাফাল, মিগ-সহ মোট সাতটি যুদ্ধবিমান।সিঁদুর অভিযানে ভারতের সাফল্য তুলে ধরা হবে বায়ুসেনার মহড়ায়। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের পোখরানে আয়োজিত হবে ‘এক্সারসাইজ় বায়ুশক্তি’। ওই মহড়ায় থাকবে বায়ুসেনার রাফাল, সুখোই-৩০, মিগ-২৯, তেজসের মতো যুদ্ধবিমান।

সিঁদুর অভিযানে ভারতের সাফল্য তুলে ধরা হবে বায়ুসেনার মহড়ায়। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের পোখরানে আয়োজিত হবে ‘এক্সারসাইজ় বায়ুশক্তি’। ওই মহড়ায় থাকবে বায়ুসেনার রাফাল, সুখোই-৩০, মিগ-২৯, তেজসের মতো যুদ্ধবিমান।গত বছরের এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হত্যালীলা চালায় জঙ্গিরা। ওই জঙ্গিহানার পরে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে চিহ্নিত কিছু জঙ্গিঘাঁটিতে প্রত্যাঘাত করে ভারত। গত বছরের ৭ মে ভোরে দুই পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদ এবং লশকর-এ-ত্যায়বার বেশ কিছু ঘাঁটিতে প্রত্যাঘাত করে ভারতীয় বায়ুসেনা। বাহওয়ালপুর এবং মুরিদকেতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে অব্যর্থ আঘাত হানে ভারত। চার দিন ধরে সামরিক সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয় পাকিস্তান।

গত বছরের এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত জঙ্গি হামলা উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও নাড়িয়ে দিয়েছিল। বসন্তের পর্যটন মরসুমে পহেলগাঁও সাধারণত দেশ-বিদেশের পর্যটকে ভরপুর থাকে। সেই সময়েই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে জঙ্গিরা শুধু নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়নি, বরং ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল। এই হামলা ছিল সুপরিকল্পিত, লক্ষ্যভিত্তিক এবং আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যে পরিচালিত—এমনটাই মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

হামলার দিন সকালে পর্যটকবাহী যান ও স্থানীয়দের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, ছোট আকারের মডিউল এই হামলা চালালেও পরে তদন্তে উঠে আসে সীমান্তপারের জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রত্যক্ষ মদতের বিষয়টি। হামলায় নিহতদের মধ্যে পর্যটক, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং নিরাপত্তারক্ষী—সবাই ছিলেন। ফলে ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী আক্রমণ ছিল না; এটি ছিল অর্থনীতি, পর্যটন এবং জনমনের ওপর একযোগে আঘাত।

হামলার পরপরই কেন্দ্রীয় সরকার উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক ডাকে। গোয়েন্দা সংস্থা, সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী এবং কাশ্মীর প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হয়। সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়, ড্রোন ও স্যাটেলাইট ইমেজিং ব্যবহার করে জঙ্গি অনুপ্রবেশের সম্ভাব্য রুট চিহ্নিত করা শুরু হয়। তদন্তে দ্রুতই উঠে আসে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গিঘাঁটির নাম, যেখান থেকে হামলার পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া হয়েছিল।

ভারত সরকার স্পষ্ট বার্তা দেয়—এই হামলার জবাব দেওয়া হবে “সময়, স্থান ও পদ্ধতি” ভারত নিজেই ঠিক করবে। কূটনৈতিক স্তরেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলে চাপ সৃষ্টি করা শুরু হয়। বিভিন্ন দেশের কাছে গোয়েন্দা তথ্য তুলে ধরে ভারত জানায়, সীমান্তপারের জঙ্গি অবকাঠামো ভেঙে না দিলে এ ধরনের হামলা থামানো সম্ভব নয়।

এরই প্রেক্ষাপটে গত বছরের ৭ মে ভোরে ভারতীয় বায়ুসেনা সুপরিকল্পিত প্রত্যাঘাত অভিযান চালায়। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের মাটিতে এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত চিহ্নিত জঙ্গি ঘাঁটিগুলি ধ্বংস করা। অভিযানে অংশ নেয় দূরপাল্লার আক্রমণ সক্ষমতা-সম্পন্ন যুদ্ধবিমান, প্রিসিশন-গাইডেড মিউনিশন এবং স্ট্যান্ড-অফ মিসাইল সিস্টেম।

ভারতের আঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দুই কুখ্যাত জঙ্গিগোষ্ঠী—জইশ-ই-মহম্মদ এবং লশকর-এ-ত্যায়বা। দীর্ঘদিন ধরেই এই সংগঠন দু’টি ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত। গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাহওয়ালপুরে জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা কেন্দ্র এবং মুরিদকেতে লশকর-এ-ত্যায়বার গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক ও রিক্রুটমেন্ট হাব সক্রিয় ছিল।

৭ মে ভোররাত—সময় নির্বাচন ছিল কৌশলগত। অন্ধকার, কম রাডার ভিজিবিলিটি এবং শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা শিথিল থাকার সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে এ সময়কে বেছে নেওয়া হয়। ভারতীয় বায়ুসেনা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম না করেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এই “স্ট্যান্ড-অফ স্ট্রাইক” কৌশল ভারতকে কৌশলগত সুবিধা দেয় এবং পাইলটদের ঝুঁকি কমায়।

বাহওয়ালপুরে আঘাতে একাধিক ভবন, প্রশিক্ষণ শিবির ও অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস হয় বলে প্রতিরক্ষা সূত্রে দাবি করা হয়। মুরিদকেতেও অনুরূপ ক্ষয়ক্ষতি হয়—বিশেষত যোগাযোগ কেন্দ্র, ডরমিটরি এবং অস্ত্র সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। স্যাটেলাইট ইমেজ এবং সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে পরবর্তী মূল্যায়নে দেখা যায়, জঙ্গি অবকাঠামোর বড়সড় ক্ষতি হয়েছে।

পাকিস্তান প্রথমে হামলার মাত্রা অস্বীকার করলেও পরে সীমান্তে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে। উভয় দেশই সেনা মোতায়েন জোরদার করে। নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) বরাবর গোলাগুলি, মর্টার শেলিং এবং আর্টিলারি ফায়ার বৃদ্ধি পায়। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়, অস্থায়ী বাঙ্কার সক্রিয় করা হয়।

পরবর্তী চার দিন পরিস্থিতি কার্যত সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়। আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ, ড্রোন নজরদারি, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্রিয়করণ—সব মিলিয়ে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং উভয় দেশকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানায়।

ভারত স্পষ্ট করে দেয়—এই অভিযান ছিল “নন-মিলিটারি প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক”, যার লক্ষ্য শুধু জঙ্গি অবকাঠামো, পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনা নয়। এর মাধ্যমে ভারত আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমর্থন বজায় রাখতে সক্ষম হয়। বহু দেশ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন জানায়।

অন্যদিকে পাকিস্তান অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে। একদিকে সামরিক প্রতিক্রিয়ার চাপ, অন্যদিকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকি—এই দ্বৈত সংকটের মধ্যে চার দিন পর তারা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়। সীমান্তে ডি-এস্কেলেশন, ফায়ার সাসপেনশন এবং কূটনৈতিক সংলাপ পুনরারম্ভের কথা জানানো হয়।

যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণের আগে ভারত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। জঙ্গিঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি, অনুপ্রবেশ হ্রাস, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থান—সব বিবেচনা করে সীমিত সংঘাত থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কারণ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ অর্থনৈতিক, মানবিক এবং ভূরাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

এই সংঘাত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—

প্রথমত, ভারত সীমান্তপারের জঙ্গি অবকাঠামো লক্ষ্য করে নির্দিষ্ট ও প্রযুক্তিনির্ভর আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
দ্বিতীয়ত, “স্ট্যান্ড-অফ” অস্ত্র ব্যবহারে কৌশলগত গভীরতা বেড়েছে।
তৃতীয়ত, কূটনৈতিক সমর্থন সামরিক অভিযানের বৈধতা জোরদার করে।

news image
আরও খবর

কাশ্মীরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এই ঘটনার পর পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা, সিসিটিভি নজরদারি, কুইক রিঅ্যাকশন টিম মোতায়েন এবং স্থানীয় গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক জোরদার করা হয়। কারণ জঙ্গিদের লক্ষ্যই ছিল অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ব্যাহত করা।

পহেলগাঁও হামলা এবং পরবর্তী প্রত্যাঘাত ভারতের সন্ত্রাসবাদবিরোধী নীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করে—“প্রোঅ্যাকটিভ ডিটারেন্স”। অর্থাৎ হামলার পর শুধু প্রতিরক্ষা নয়, উৎসস্থল ধ্বংসের কৌশল।

তবে সামরিক সাফল্যের পাশাপাশি মানবিক দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ গোলাবর্ষণ, বাস্তুচ্যুতি এবং আতঙ্কের শিকার হন। যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গৃহীত হওয়ায় অন্তত সাময়িক স্বস্তি ফেরে।

ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চার দিনের সংঘাত ছিল “লিমিটেড ওয়ারফেয়ার” মডেলের উদাহরণ—যেখানে লক্ষ্য নির্দিষ্ট, সময় সীমিত এবং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়িয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়।

সবশেষে বলা যায়, পহেলগাঁওয়ের হত্যালীলা ছিল এক মর্মান্তিক সন্ত্রাসী আঘাত, কিন্তু তার জবাবে ভারতের সামরিক ও কূটনৈতিক সমন্বিত পদক্ষেপ দেখিয়েছে—রাষ্ট্র তার নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় কতদূর যেতে প্রস্তুত। একইসঙ্গে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব গ্রহণ প্রমাণ করে, শক্তি প্রদর্শনের পর শান্তির পথও খোলা রাখা কৌশলগতভাবে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এই ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণ, সন্ত্রাসবাদবিরোধী নীতি এবং সীমিত সামরিক প্রতিক্রিয়ার ভবিষ্যৎ কাঠামো বোঝার ক্ষেত্রে এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

পহেলগাঁও হামলা ও তার পরবর্তী সামরিক প্রত্যাঘাত শুধু তাৎক্ষণিক প্রতিরক্ষা পদক্ষেপেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত, রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রভাবও সুদূরপ্রসারী। ঘটনার পর ভারত তার সামগ্রিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী নীতিকে আরও আক্রমণাত্মক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলার দিকে জোর দেয়। বিশেষ করে “ইন্টেলিজেন্স-লেড অপারেশন” বা গোয়েন্দা তথ্যনির্ভর অভিযানের উপর গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

গোয়েন্দা সমন্বয় ব্যবস্থায়ও বড় পরিবর্তন আনা হয়। র’ (RAW), আইবি (IB), মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স এবং ন্যাশনাল টেকনিক্যাল রিসার্চ অর্গানাইজেশন (NTRO)-এর মধ্যে রিয়েল-টাইম তথ্য আদানপ্রদান জোরদার করা হয়। সীমান্তবর্তী এলাকায় সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার ট্র্যাকিং এবং স্যাটেলাইট নজরদারি বাড়ানো হয়, যাতে জঙ্গি অনুপ্রবেশ বা প্রশিক্ষণ কার্যকলাপ আগেভাগেই শনাক্ত করা যায়।

এই ঘটনার পর কাশ্মীরের স্থানীয় যুবসমাজকে জঙ্গি সংগঠনের রিক্রুটমেন্ট থেকে দূরে রাখতে “ডি-র‍্যাডিক্যালাইজেশন” প্রোগ্রামও জোরদার করা হয়। শিক্ষা, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, স্পোর্টস অবকাঠামো এবং স্টার্টআপ সহায়তার মাধ্যমে বিকল্প ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু হয়। কারণ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা সম্ভব নয়—সামাজিক ও অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপও সমান জরুরি।

কূটনৈতিক স্তরেও ভারত বহুমুখী কৌশল নেয়। জাতিসংঘ, ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ও মদতের প্রমাণ তুলে ধরা হয়। এর ফলে পাকিস্তানের ওপর আর্থিক ও কূটনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি পায়। বহু দেশ সন্ত্রাসবাদ দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানায়।

সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও এই অভিযানের প্রভাব ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। প্রিসিশন-গাইডেড মিউনিশন, স্টেলথ ন্যাভিগেশন, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সাপোর্ট এবং নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক অপারেশনাল সক্ষমতা পরীক্ষিত হয় বাস্তব পরিস্থিতিতে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভবিষ্যতের সীমিত সংঘাতে এই প্রযুক্তিনির্ভর মডেলই প্রধান ভূমিকা নেবে।

এছাড়া সিভিল ডিফেন্স মেকানিজমও শক্তিশালী করা হয়। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে আধুনিক বাঙ্কার, আগাম সতর্কীকরণ সাইরেন, স্কুল সেফটি ড্রিল এবং জরুরি সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আপডেট করা হয়। কারণ সামরিক সংঘাতের প্রথম অভিঘাত পড়ে সাধারণ মানুষের ওপরই।

মিডিয়া ও তথ্যযুদ্ধ (Information Warfare)-এর দিকটিও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ভুয়ো খবর, বিভ্রান্তিকর ভিডিও এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টা রুখতে সরকার ফ্যাক্ট-চেক ইউনিট সক্রিয় করে। সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়, যাতে শত্রুপক্ষের প্রোপাগান্ডা অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে।

চার দিনের সংঘাত শেষ হলেও নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। “হট পিস” বা উত্তপ্ত শান্তি পরিস্থিতি বজায় থাকে—যেখানে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নেই, কিন্তু স্থায়ী অবিশ্বাস ও সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত থাকে। উভয় দেশই সীমান্ত অবকাঠামো, নজরদারি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে থাকে।

অর্থনৈতিক প্রভাবও উপেক্ষণীয় ছিল না। পর্যটন শিল্প সাময়িক ধাক্কা খায়, বিমা খরচ বাড়ে, সীমান্ত বাণিজ্য ব্যাহত হয়। তবে নিরাপত্তা জোরদার এবং স্থিতিশীলতার বার্তা দেওয়ায় ধীরে ধীরে পর্যটক আস্থা ফিরে আসে—বিশেষত পহেলগাঁও, গুলমার্গ ও সোনমার্গ অঞ্চলে।

সব মিলিয়ে, পহেলগাঁও হত্যালীলা ও তার জবাবে ভারতের সামরিক প্রত্যাঘাত দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোয় একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এটি দেখিয়েছে—সন্ত্রাসবাদকে শুধু প্রতিরোধ নয়, উৎসস্থলে আঘাত করাও আধুনিক প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ। একইসঙ্গে সীমিত সময়ের সংঘাত, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং যুদ্ধবিরতির সমন্বয় ভবিষ্যতের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কীভাবে কাজ করতে পারে, তারও একটি বাস্তব উদাহরণ তৈরি হয়েছে।

Preview image