সমীক্ষায় ইঙ্গিত যে, আন্তর্জাতিক নানা ঘটনা বাণিজ্যে প্রভাব ফেললেও ভারতে বৃদ্ধির হার মাথা তুলছে। এ ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক ঝুঁকি এড়িয়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে সমীক্ষায় গঠনমূলক সংস্কারের পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে।২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতে জিডিপি (দেশে মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন) বৃদ্ধির হার চলতি অর্থবর্ষের (২০২৫-২৬) তুলনায় বাড়ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে লোকসভায় ‘অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-২৬’ রিপোর্ট পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। অর্থনৈতিক সমীক্ষায় পূর্বাভাস, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির হার হতে পারে ৬.৮ শতাংশ থেকে ৭.২ শতাংশ। গত বছরের সমীক্ষায় ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য ৬.৩ থেকে ৬.৮ শতাংশ পর্যন্ত জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
সমীক্ষায় ইঙ্গিত যে, আন্তর্জাতিক নানা ঘটনা বাণিজ্যে প্রভাব ফেললেও ভারতে বৃদ্ধির হার মাথা তুলছে। এ ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক ঝুঁকি এড়িয়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে সমীক্ষায় গঠনমূলক সংস্কারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সমীক্ষায় এ-ও বলা হয়েছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রত্যাশামাফিক উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে না-পারলে অর্থনৈতিক বোঝা চাপতে পারে।রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখার জন্য ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ (মোট ৫০ শতাংশ) শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা। ভারতীয় পণ্যের উপর ওই বিপুল পরিমাণ শুল্ক আরোপের পরেই বহু সমীক্ষক সংস্থা ভারতে জিডিপি বৃদ্ধির হার স্লথ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে গঠনমূলক সংস্কারের জন্য ভারতের অর্থনীতি এই ‘পারিপার্শ্বিক ঝুঁকি’ এড়াতে পেরেছে বলে জানানো হয়েছে সমীক্ষায়।সমীক্ষায় এ-ও বলা হয়েছে যে, আগামী অর্থবর্ষে ভারতে মুদ্রাস্ফীতি ধাপে ধাপে বাড়বে। তবে তা রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক নির্ধারিত সীমার মধ্যেই থাকবে বলে জানানো হয়েছে। মার্কিন ডলারের তুলনায় টাকার দাম ক্রমশ কমলেও অশোধিত তেল এবং খাদ্যপণ্যের দাম নাগালে রাখতে পেরেছে ভারত।
সমীক্ষায় বলা হয়েছে, আগামী অর্থবর্ষে ভারতে মুদ্রাস্ফীতি ধাপে ধাপে বাড়তে পারে। তবে এই বৃদ্ধির হার রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI)-র নির্ধারিত সহনসীমার মধ্যেই থাকবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মূল্যবৃদ্ধি বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে না—এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। এই পূর্বাভাস এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বিশ্ব অর্থনীতি একাধিক চাপে জর্জরিত—ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সুদের হার বৃদ্ধি, ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা একসঙ্গে কাজ করছে।
মুদ্রাস্ফীতির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তিনটি বিষয়—
১) পরিষেবা খাতে চাহিদা বৃদ্ধি
২) খাদ্যপণ্যের মৌসুমি ওঠানামা
৩) আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা
করোনা-পরবর্তী সময়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে পরিষেবা খাতে—পর্যটন, পরিবহণ, হোটেল, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শহুরে মধ্যবিত্ত এবং উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভোগব্যয় বৃদ্ধির ফলে বাজারে টাকার চলাচল বেড়েছে, যা স্বাভাবিকভাবেই দামের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা বড় ভূমিকা নিচ্ছে। কখনও অতিবৃষ্টি, কখনও খরা—এই দুইয়ের জেরে শস্য উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটছে। ফলে সবজি, ডাল, চাল, গমের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। যদিও সরকার সময়মতো আমদানি, মজুত ব্যবস্থাপনা এবং রফতানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।
রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার জন্য মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। RBI-র নির্ধারিত লক্ষ্য হল ৪ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি, যার সহনসীমা ২ থেকে ৬ শতাংশ। সমীক্ষা অনুযায়ী, আগামী অর্থবর্ষে মুদ্রাস্ফীতি এই সীমার মধ্যেই থাকবে, যদিও কিছু ত্রৈমাসিকে তা ৫ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে।
এই প্রেক্ষিতে সুদের হার নিয়ে RBI খুবই সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। একদিকে তারা চায় না অতিরিক্ত সুদ বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে থামিয়ে দিতে, আবার অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতিকে লাগামছাড়া হতে দেওয়াও সম্ভব নয়। তাই ‘ক্যালিব্রেটেড টাইটেনিং’ বা পরিমিত কড়াকড়ির নীতিতেই তারা এগোচ্ছে।
সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার দাম ধীরে ধীরে কমছে। এটি মূলত বৈশ্বিক প্রবণতার ফল। আমেরিকার ফেডারেল রিজ়ার্ভ দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ সুদের হার বজায় রাখায় ডলার আরও শক্তিশালী হয়েছে। ফলে উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রাগুলির উপর চাপ পড়ছে, ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়।
তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, টাকার এই অবমূল্যায়ন এখনো নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। RBI নিয়মিত বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে হস্তক্ষেপ করে অতিরিক্ত অস্থিরতা ঠেকাচ্ছে। ভারতের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার এই ক্ষেত্রে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া দুর্বল টাকা রফতানির ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা এনে দিচ্ছে, যদিও আমদানির খরচ বাড়াচ্ছে।
ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হল আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকা। ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানি করে। ফলে তেলের দাম বাড়লেই তা সরাসরি মুদ্রাস্ফীতি, চলতি খরচ এবং রাজকোষীয় ঘাটতির উপর প্রভাব ফেলে।
বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম ভয়াবহভাবে বাড়েনি। ভারত রাশিয়া-সহ একাধিক দেশ থেকে তুলনামূলক কম দামে তেল আমদানি করতে পেরেছে। এর ফলে জ্বালানি তেলের দাম দেশে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে, যা পরিবহণ খরচ এবং পণ্যের সামগ্রিক দামের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। ডাল ও পেঁয়াজের মতো সংবেদনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে মজুত সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আমদানির শুল্ক কমানো হয়েছে এবং রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়া সরকারি বণ্টন ব্যবস্থার (PDS) মাধ্যমে চাল ও গম সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার মতো প্রকল্পগুলি দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের উপর মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব কমাতে বড় ভূমিকা নিচ্ছে।
মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব শহর ও গ্রামে একরকম নয়। শহরে পরিষেবা ও বাসস্থানের খরচ বেশি বাড়ছে, অন্যদিকে গ্রামে খাদ্যপণ্যের দামই মূল চাপের জায়গা। যদিও গ্রামীণ এলাকায় সরকারি প্রকল্প, কৃষি সহায়তা ও ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (MSP) ফলে আয়ের কিছুটা সুরক্ষা রয়েছে।
সমীক্ষায় বলা হয়েছে, গ্রামীণ চাহিদা ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক থাকলে এবং বর্ষা সহায়ক হলে গ্রামীণ মুদ্রাস্ফীতির চাপ কিছুটা কমতে পারে।
যদিও সামগ্রিক চিত্র আশাব্যঞ্জক, তবু কিছু ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
– পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হলে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।
– বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা গভীর হলে রফতানি ও বিনিয়োগে ধাক্কা লাগতে পারে।
– জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খাদ্য উৎপাদনে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।
এই সব কারণই মুদ্রাস্ফীতিকে নতুন করে চাপে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, আগামী অর্থবর্ষে ভারতে মুদ্রাস্ফীতি ধাপে ধাপে বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই থাকবে—এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে সমীক্ষা। দুর্বল টাকা, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির মতো চ্যালেঞ্জ থাকলেও অশোধিত তেল ও খাদ্যপণ্যের দাম সামলে রাখতে পারাই ভারতের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের সতর্ক মুদ্রানীতি, সরকারের সক্রিয় বাজার হস্তক্ষেপ এবং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ভিত—এই তিনের সমন্বয়েই মুদ্রাস্ফীতির চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। আগামী দিনে এই ভারসাম্য বজায় রাখতে পারলেই ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি স্থিতিশীল থাকবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
মুদ্রাস্ফীতির ধাপে ধাপে বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে সুদের হারের উপর। যদিও রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক হঠাৎ করে বড় কোনও সুদবৃদ্ধির পথে হাঁটবে না বলেই ইঙ্গিত, তবু দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ ও ব্যক্তিগত ঋণের কিস্তি সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা ভারী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মাসিক বাজেটে এর চাপ স্পষ্ট হবে।
তবে এর একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। স্থায়ী আমানত ও সঞ্চয় প্রকল্পে সুদের হার তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় থাকায় প্রবীণ নাগরিক ও সঞ্চয়নির্ভর পরিবারগুলি কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ভারসাম্য বজায় রাখাই RBI-র সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—একদিকে ঋণগ্রহীতাদের স্বার্থ, অন্যদিকে সঞ্চয়কারীদের প্রত্যাশা।
মুদ্রাস্ফীতির সীমিত বৃদ্ধি কর্পোরেট বিনিয়োগের পক্ষে পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। বরং স্থিতিশীল মূল্যবৃদ্ধি শিল্পক্ষেত্রে চাহিদার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। সমীক্ষা বলছে, উৎপাদন খাতে ধীরে ধীরে বিনিয়োগের প্রবণতা বাড়ছে, বিশেষ করে পরিকাঠামো, সবুজ শক্তি ও ডিজিটাল পরিষেবায়।
সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা (PLI) প্রকল্পগুলি শিল্পক্ষেত্রে আস্থা জোগাচ্ছে। যদিও কাঁচামালের দাম ও আমদানিনির্ভর উপকরণের খরচ কিছু ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করছে, তবু অভ্যন্তরীণ বাজারের শক্ত চাহিদা সেই চাপ অনেকটাই সামাল দিচ্ছে।
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে শেয়ার বাজার সাধারণত ইতিবাচক সাড়া দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে যে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে বৈশ্বিক কারণের পাশাপাশি ডলার-টাকার বিনিময় হারও বড় ভূমিকা নিচ্ছে। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) মাঝেমধ্যে লাভ তুলে নিচ্ছেন, কিন্তু ঘরোয়া বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাজারকে ভরসা জোগাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মুদ্রাস্ফীতি RBI-র সহনসীমার মধ্যে থাকে, তবে দীর্ঘমেয়াদে শেয়ার বাজারের ভিত্তি মজবুতই থাকবে। তবে স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এই মুদ্রাস্ফীতির প্রবণতা সাধারণ মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলবে? নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির দাম যদি নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে চাপ সীমিতই থাকবে। তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভাড়া ও পরিষেবা খাতে খরচ বাড়তে পারে। ফলে পরিবারের মোট ব্যয় কাঠামোতে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসবে।
অর্থনীতিবিদরা পরামর্শ দিচ্ছেন—এই সময়ে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে সঞ্চয়ের দিকে নজর দেওয়া উচিত। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনায় স্থিরতা রাখা জরুরি।
সব মিলিয়ে, আগামী অর্থবর্ষে মুদ্রাস্ফীতি ভারতের জন্য বড় আতঙ্ক নয়, বরং একটি নিয়ন্ত্রিত চ্যালেঞ্জ। সতর্ক নীতিনির্ধারণ, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর কড়া নজর এবং অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি এই ভারসাম্য বজায় থাকে, তবে ভারতের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আগামী দিনেও অটুট থাকবে।