Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মুম্বাইয়ের পরিবহন ব্যবস্থায় আজ এক বিশাল বিঘ্ন ঘটেছে। শহরের সিএনজি (Compressed Natural Gas) সরবরাহ চেইনে ক্রমাগত ব্যাঘাত হয়েছে, যার ফলে অটো‑রিকশা, ট্যাক্সি, এমনকি পাবলিক বাস পরিষেবাও প্রভাবিত যাচ্ছে

Mumbai‑র পরিবহণ ব্যবস্থার উপর বড় ধরনের ঝড় বয়ে আনে এক গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতি: GAIL India Ltd‑র পাইপলাইন এক তৃতীয় পক্ষীয় ক্ষতির কারণে Mahanagar Gas Ltd‑র সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হয়। এই এক ঘটনায় শুধু অটো‑ট্যাক্সি বন্ধ হয়ে যায়নি, স্কুলবাস থেকে শুরু করে বড়‑ছোট পরিবহণ সংস্থা পর্যন্ত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। সাধারণ যাত্রী, গাড়িচালক, পরিবহণ সংস্থা—সব রকম অংশে দেখা দিয়েছে প্রভাব। আজকে সেই প্রভাবের বিভিন্ন দিক আলোচনা করব: কী ঘটেছে, কেন হয়েছে, কারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এবং এই ধরনের সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কি করা যেতে পারে।

Mumbai‑র পরিবহণ ব্যবস্থার উপর বড় ধরনের ঝড় বয়ে আনে এক গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতি: GAIL India Ltd‑র পাইপলাইন এক তৃতীয় পক্ষীয় ক্ষতির কারণে Mahanagar Gas Ltd‑র সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হয়। এই এক ঘটনায় শুধু অটো‑ট্যাক্সি বন্ধ হয়ে যায়নি, স্কুলবাস থেকে শুরু করে বড়‑ছোট পরিবহণ সংস্থা পর্যন্ত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

সাধারণ যাত্রী, গাড়িচালক, পরিবহণ সংস্থা—সব রকম অংশে দেখা দিয়েছে প্রভাব। আজকে সেই প্রভাবের বিভিন্ন দিক আলোচনা করব: কী ঘটেছে, কেন হয়েছে, কারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এবং এই ধরনের সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কি করা যেতে পারে।

 

ঘটনাটির সারাংশ

  • শনিবার (তারিখ নির্দিষ্ট না) দুপুরে চেম্বুর (Chembur)‑র আরসিএফ টার্মিনালের কাছে গ্যাস পাইপলাইনে তৃতীয় পক্ষের দ্বারা ‘ড্যামেজ’ হয়।
  • এর ফলে MGL‑র ওয়াডালা স্টেশনে সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যায়, সেখান থেকে উত্তর মুম্বাই ও পার্শ্ববর্তী এলাকা জুড়ে সঙ্কট শুরু হয়।
  • সোমবার পর্যন্ত পৌছে গিয়েছে এমন পর্যায়ে যে শহরের প্রায় ৪৪ শতাংশ সিএনজি চালিত Brihanmumbai Electric Supply & Transport (BEST) বাসই বন্ধ হতে পারে।
  • অটো‑ট্যাক্সি চালকদের জন্য হয়েছে উপার্জনের বিপর্যয়, অনেককে ঘন্টাব্যাপী কিউতে দাঁড়াতে হয়েছে, আবার কেউ কেউ দীর্ঘ হাঁটা উপভোগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
  • ব্যাংকিং বা গ্যাস রান্নার পাইপস বা ডোমেস্টিক PNG অবশ্য প্রভাবিত হয়নি বলে জানিয়েছে MGL।

ক্ষতির পরিমাণ প্রভাব

) যাত্রীদের অসুবিধা

যাত্রীদের জীবনে সবচেয়ে প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে:

  • অটো বা ট্যাক্সি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক কেসে চালকরা সিএনজি পাননি, তাই গাড়ি চালাতে পারছেন না।
  • সেগুলি চালু থাকলেও ভাড়া স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে: কিছু ক্ষেত্রে ২ গুণ পর্যন্ত ভাড়া বেড়েছে।
  • স্কুলবাস বন্ধ হওয়ায় ছাত্র‑ছাত্রীদের পড়াশোনায় সমস্যা হয়েছে, ঘাটতির কারণে অনেক শিশু যাননি বা হেঁটেই যেতে হয়েছে।

) চালকপরিবহণ কর্মীদের জন্য ক্ষতি

চালক ও পরিবহণ সংস্থার জন্যও এটি একটা বড় ধাক্কা:

  • কয়েক হাজার অটো‑ট্যাক্সি এবং স্কুলবাস চালক ‘উপার্জন বন্ধ’ বা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছেন। যেসব গাড়ি সিএনজি চালিত, তারা পুরোপুরি বন্ধ ছিল।
  • বিশেষ‑ভিত্তিতে বলা হয়েছে, দৈনিক উপার্জন ৪০০ থেকে ১,৫০০ রুপি পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
  • পরিবহণ সংস্থাগুলোর জন্য ইন্ধন সরবরাহের অনিশ্চয়তা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে: বাস বা অন্য যানবাহন যদি চালাতে না পারে, তাহলে সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাবে।

) পরিবহণ পরিষেবায় সমগ্র সিস্টেমের চাপ

  • BEST বাস চলাচলের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব পড়েছে। সিএনজি চালিত বাসগুলোর জন্য সাপ্লাই বন্ধ হয়ে গেছে বা সীমাবদ্ধ।
  • অন্যদিকে সাধারণ যানবাহন ও ক্যাব সার্ভিসগুলো পেট্রল/ডিজেল‑এ সুইচ করেছে (যাতে যেসব গাড়িতে ডুয়াল‑ফুয়েল অপশন ছিল) — কিন্তু তা স্বাভাবিক মান বা খরচে হয়নি।
  • যাতে করে শহরের ট্রাফিক ও পরিবহন ব্যূহ আরও অসমান হয়ে পড়েছে, এবং যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা বা হাঁটাহাঁটির সমস্যায় পড়তে হয়েছে।

বিষয়টির গভীরে: কারণ বিশ্লেষণ

পাইপলাইন ক্ষতি এবং প্রস্তুতির ঘাটতি

  • মূল কারণ ছিল গ্যাস পাইপলাইনে “third‑party damage” – অর্থাৎ কোনো বাইরের পক্ষের কারণে পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
  • এরপর MGL‑র কাছে বিকল্প সাপ্লাই লাইন বা ব্যাকআপ ব্যবস্থা অধিক ছিল না বলেই দেখা গেছে: অটো‑ট্যাক্সি ইউনিয়নের দায়ে বলা হয়েছে, “আমরা চাইছিলাম যাতে মহাপে (Mahape) থেকে ব্যাকআপ সাপ্লাই দেওয়া যায়” — কিন্তু তা হয়নি।

প্রযুক্তিগত প্রবিধানগত চ্যালেঞ্জ

  • সিএনজি ফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে চাপ কমে যাওয়া, সঠিক চালনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যেমন একটি স্টেশন বলেছে, রাত ১২টা নাগাদ গ্যাস দেওয়া বন্ধ করতে হয়েছে কারণ চাপ কম ছিল।
  • পরিবহণ সার্ভিসের চালক ও অপারেটরদের আগে থেকেই এই রকম জরুরি ব্যাকআপ বা বিপর্যয়‑রেসপন্স সিস্টেম তৈরি ছিল না বলেই সমস্যাটা বড় হয়ে গেছে।

সামাজিকঅর্থনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত

news image
আরও খবর
  • মুম্বাই’র মতো বড় শহরে যেখানে প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ পাবলিক বা পার্সোনাল যানবাহনে নির্ভর করে, এক ধরনের সাপ্লাই বিঘ্নই দ্রুত সার্বিক সমস্যায় রূপ নেয়।
  • চালক‑পরিবহন কর্মীদের উপার্জনের ওপর সরাসরি ধাক্কা লেগেছে — এতে মধ্য ও নিম্নআয়ের মানুষ অনেকটা ঝুঁকিতে পড়েছেন।
  • ইতিমধ্যে কম খরচে চলা যানবাহন সিএনজি‑র জন্য পিচ্ছিল পথে ছিল — এখন সেই সুবিধা দফায় দফায় ধ্বংস হচ্ছে।

আগামী ধাপ করণীয়

অবিলম্বে করণীয়

  • দ্রুত গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে: MGL বলেছে, মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে সাপ্লাই পুনরায় শুরু করার দিকে কাজ চলছে। পরিবহণ সংস্থা ও চালকদের জন্য জরুরি সহায়তা বা বিকল্প ব্যবস্থা প্রয়োজনে চালু করা যাবে — যেমন অস্থায়ী ডুয়াল‑ফুয়েল বা পেট্রল/ডিজেল সার্ভিস।
  • যাত্রীদের জন্য সময়মতো তথ্য দেওয়া জরুরি — কোথায় রুট বন্ধ, কী বিকল্প আছে, ভাড়া বাড়লে কতটা হবে ইত্যাদি।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

  • সাপ্লাই চেইনের রিসিলিয়েন্স বাড়াতে হবে। অর্থাৎ, এক জায়গায় ক্ষতি ঘটলে অন্য কোথাও থেকে অবিলম্বে সাপ্লাই চালু করার প্রস্তুতি থাকতে হবে।
  • বিকল্প ফুয়েলের ব্যাপারে ভাবনা বাড়াতে হবে — সিএনজি ছাড়াও ইভি, হাইব্রিড মডেল পরিবহণে আরও উৎসাহিত হতে পারে।
  • পরিবহণ চালক ও সংস্থা‑গুলোর আর্থিক সুরক্ষা বাড়াতে হবে যাতে এই ধরনের বৈরী অবস্থা­-তে তারা একদম শূন্যে না পড়ে।
  • নগর পরিবহণ নীতিতে সম্পৃক্ত সকল অংশকে (চালক, অপারেটর, সাপ্লাইয়ার, সরকার) এক সঙ্গে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান তৈরি করতে হবে।

বিশেষ দৃষ্টিকোণ: স্কুলবাস শিক্ষার প্রভাব

এ ঘটনা শুধু সাধারণ যাতায়াতে নয়, শিক্ষাক্ষেত্রেও বড় বিপর্যয় ডেকে এনেছে:

  • প্রায় ২,০০০ স্ক্রুলবাস চালক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সিএনজি চালিত বাস বন্ধ হওয়ায়‑‑বাড়ছে।
  • অনেক শিশু‑ছাত্রী সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে পারেনি অথবা বিকালের সেশনে ফিরে যেতে হয়েছে হেঁটে বা অপেক্ষা করে। একজন অভিভাবক বলছেন, “আমার স্ত্রীকে আজ পড়াশোনা দিয়ে যাওয়া হয়ে গেছে ANDheri থেকে Andheri West পর্যন্ত হেঁটে ফিরতে হয়েছে”। এই ধরনের বাধেই শিক্ষার পরিবহণ‑চেইনে বিভ্রাট হয়, যা শিশুদের পড়াশোনা ও নিরাপত্তার দিক থেকে উদ্বেগের বিষয়।

এ জন্য শিক্ষাবিভাগ, জেলা প্রশাসন ও পরিবহণ কর্তৃপক্ষকে একসাথে দ্রুত একটি ব্যবস্থা নিতে হবে — যাতে জরুরি‑সময় শিশুদের জন্য যানবাহন বিকল্প বা সমন্বিত প্ল্যান থাকে।

যাত্রীর ভয়, চালকের ভাবনা

  • যাত্রীদের কথা বললে দেখা গেছে: সাধারণ ইউজারে ভাড়া বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধৈর্য কমে গেছে। অনেক অ্যাপ চালিত ক্যাব ইত্যাদিতে ভাড়া দুই গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।
  • চালকদের কাছে বিষয়টি আর্থিক সংকটে পরিণত হয়েছে: অনেকেই বলছেন, দাঁড়িয়ে থাকা লাগছে, কাজ নেই, ইনকাম নেই। একই সঙ্গে খরচ যেমন গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ, গ্যাস ইত্যাদি চলছে।
  • পরিবহণ ইউনিয়নগুলোর মতে, এই ধরনের সাপ্লাই শাটডাউন‑এর মাঝেও চালক বা মালিকদের জন্য রূপায়িত “বীমা বা ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থার” অভাব রয়েছে — যার কারণে চালক‑পরিবারগুলো কীভাবে সামলাবেন, ভাবনায় পড়ছেন।

 

প্রশ্ন: এত বড় সিটি‑পরিবহনের জন্য এক‑একটি পাইপলাইন ক্ষতিই কি এত বড় প্রভাব ফেলতে পারে?
উত্তর: হ্যাঁ, কারণ সিএনজি‑র ক্ষেত্রে মূলভিত্তি হলো এক নির্ভরযোগ্য সাপ্লাই চেইন। বড় শহরে হাজার হাজার যানবাহন প্রতিদিন সিএনজি দিয়ে চলছে, যদি সাপ্লাই বন্ধ হয় — তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকলে দ্রুত কার্যক্রম বন্ধ হয়।

প্রশ্ন: বিকল্পের জন্য পেট্রল‑ডিজেল দ্রুত ব্যয়বহুল হয়ে যায় কেন?
উত্তর: সিএনজি মূলত কম খরচের ও পরিবেশ‑সাশ্রয়ী ফুয়েল। তাই অনেক যানবাহন সিএনজি মডেলে আছে। পেট্রল বা ডিজেলে স্যুইচ করলে খরচ বেশি হয়, ভাড়া বাড়ে, চালক‑সংস্থার লাভ কমে যায়। এছাড়াও আবহাওয়া ও ট্রাফিক‑চাপে সিএনজি ব্যবহার বেশি উপযোগী হয়।

মুম্বাইয়ের এই সিএনজি সংকট শুধু পরিবহন সমস্যা নয় — এটি দক্ষ নগর পরিচালনা ও সাপ্লাই চেইনের দুর্বলতা‑ও তুলে ধরেছে। সময় মতো একাধিক রুট তৈরির, বিকল্প জ্বালানির উৎস খোঁজার ও চালকদের‑যাত্রীদের জন্য সাসপেন্ডেড হয়তে পারে এমন পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা নেয়ার গুরুত্ব আবার প্রমাণিত হলো।

আপনি চাইলে আমি এই ঘটনার সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ, চালক‑পরিবহন সংস্থার ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে বা ভবিষ্যতের প্রস্তুতির সুপারিশ সহ একটি পূর্ণ প্রতিবেদন বাংলায় তৈরি করে দিতে পারি।

 

Preview image