কলকাতা নাইট রাইডার্স হার্দিক পাণ্ডিয়াকে দলে নিয়ে অধিনায়ক করার দৌড়ে এগিয়ে। তবে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সাম্প্রতিক পোস্টে কি বদলে গেল সমীকরণ?
হার্দিক পাণ্ড্য কি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সেই থাকবেন? নাকি আইপিএলের আগামী মরসুমের আগে দলবদল করবেন ভারতের তারকা অলরাউন্ডার? বেশ কিছু দিন ধরেই এই প্রশ্ন ঘিরে সরগরম ক্রিকেটমহল। বিশেষ করে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে হার্দিকের নাম জড়িয়ে যাওয়ার পর থেকেই জল্পনা আরও বেড়েছে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই হার্দিককে নিয়ে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। আর সেই পোস্ট সামনে আসার পরেই সমর্থকদের একাংশ মনে করছেন, হার্দিককে নিয়ে মুম্বইয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হয়তো ইতিমধ্যেই অনেকটা পরিষ্কার।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্স তাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে হার্দিকের বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছে। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘মেমো: মেক ইট এইচপি কোডেড।’ ‘এইচপি’ বলতে যে হার্দিক পাণ্ড্যের নামের আদ্যক্ষর বোঝানো হয়েছে, তা অনুমান করা কঠিন নয়। ছবিগুলিতে হার্দিককে দেখে অনেকের মনে হয়েছে, এটি সম্ভবত কোনও ঘড়ি বা ব্র্যান্ডের প্রচারের অংশ। কিন্তু দলবদলের জল্পনার সময় মুম্বইয়ের তরফে হার্দিককে নিয়ে এমন পোস্ট হওয়ায় তার অন্য ব্যাখ্যাও শুরু হয়ে গিয়েছে।
মুম্বই সমর্থকদের অনেকেই মনে করছেন, এই পোস্টের মাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজি হয়তো পরোক্ষে বার্তা দিতে চাইছে—হার্দিক এখনও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁকে অন্য কোনও দলের হাতে তুলে দেওয়ার কথা এখনই ভাবছে না পাঁচ বারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা।
তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। হার্দিক পাণ্ড্যও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। ফলে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে জল্পনা বাড়লেও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় এখনও আসেনি।
আইপিএলের দলবদল বা ট্রেড উইন্ডো ঘিরে প্রতি মরসুমেই বিভিন্ন তারকা ক্রিকেটারের নাম উঠে আসে। কিন্তু হার্দিক পাণ্ড্যের ক্ষেত্রে আগ্রহটা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি। কারণ তিনি শুধু একজন বিস্ফোরক ব্যাটার বা কার্যকর পেস বোলার নন, তিনি একজন পরীক্ষিত অধিনায়কও।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে হার্দিকের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর বহুমুখিতা। প্রয়োজন অনুযায়ী মিডল অর্ডারে দ্রুত রান করতে পারেন। আবার বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেটও নিতে পারেন। তার সঙ্গে রয়েছে অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা। ফলে যে কোনও আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে তাঁর মতো ক্রিকেটার অত্যন্ত মূল্যবান।
এই কারণেই কলকাতা নাইট রাইডার্স নতুন অধিনায়কের সন্ধানে নামলে হার্দিকের নাম সামনে আসা অস্বাভাবিক নয়।
অজিঙ্ক রাহানের অবসরের পর কলকাতা নাইট রাইডার্সের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন নতুন অধিনায়ক নির্বাচন। এমন একজন ক্রিকেটার প্রয়োজন, যিনি শুধু প্রথম একাদশে নিশ্চিত জায়গা করে নিতে পারবেন তা নয়, একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে দলের নেতৃত্বও দিতে পারবেন।
হার্দিক পাণ্ড্য সেই জায়গায় একটি আকর্ষণীয় বিকল্প।
হার্দিককে পেলে কেকেআর একই সঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেতে পারে—একজন অভিজ্ঞ ভারতীয় অলরাউন্ডার, একজন বড় ম্যাচের ক্রিকেটার এবং একজন প্রতিষ্ঠিত অধিনায়ক। আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টে এই তিনটি গুণ একজন ক্রিকেটারের মধ্যে পাওয়া খুব সহজ নয়।
তার উপর ভারতীয় অধিনায়ক থাকলে বিদেশি ক্রিকেটার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ফ্র্যাঞ্চাইজির হাতে বেশি স্বাধীনতা থাকে। অধিনায়ক হিসেবে কোনও বিদেশি ক্রিকেটারকে খেলানোর বাধ্যবাধকতা থাকে না। ফলে কম্বিনেশন তৈরির ক্ষেত্রেও সুবিধা পেতে পারে দল।
এই কারণেই হার্দিকের সঙ্গে কেকেআরের নাম জড়িয়ে পড়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে।
কয়েক দিন আগে কলকাতা নাইট রাইডার্সও হার্দিক পাণ্ড্যকে নিয়ে একটি পোস্ট করেছিল। সেই পোস্টের পর থেকেই দুইয়ে দুইয়ে চার করতে শুরু করেন সমর্থকদের একাংশ।
আইপিএলে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট অনেক সময় নিছক ক্রিকেটীয় মুহূর্ত, শুভেচ্ছা বা প্রচারের অংশ হিসেবেও করা হয়। কিন্তু ট্রেড বা দলবদলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলার সময় কোনও নির্দিষ্ট ক্রিকেটারকে নিয়ে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির পোস্ট স্বাভাবিকভাবেই আলাদা গুরুত্ব পায়।
কেকেআরের পোস্টের পর প্রশ্ন উঠেছিল—তবে কি সত্যিই হার্দিককে দলে নেওয়ার চেষ্টা চলছে?
এ বার পাল্টা হার্দিককে নিয়ে পোস্ট করল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। ফলে জল্পনার গতিপথ আবার কিছুটা বদলে গিয়েছে।
হার্দিকের ছবি দিয়ে মুম্বইয়ের সাম্প্রতিক পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই সমর্থকদের একটি বড় অংশ দাবি করতে শুরু করেছে, দল হয়তো তারকা অলরাউন্ডারকে ছাড়ার কোনও পরিকল্পনাই করছে না।
তাঁদের যুক্তি, কোনও ক্রিকেটারকে নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা না থাকলে দলবদলের জল্পনার মধ্যেই তাঁকে এতটা গুরুত্ব দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারে তুলে ধরার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।
তবে এটিই যে মুম্বইয়ের সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত প্রমাণ, তা বলা যাবে না।
আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগ নিয়মিত ক্রিকেটারদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট প্রকাশ করে। স্পনসরশিপ, ব্র্যান্ড ক্যাম্পেন, পুরনো মুহূর্ত বা সমর্থকদের এনগেজমেন্টের কারণেও এই ধরনের পোস্ট হতে পারে।
তাই ‘HP Coded’ পোস্টের সঙ্গে হার্দিকের দলবদলের সরাসরি কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা মুম্বই ইন্ডিয়ান্স আনুষ্ঠানিকভাবে না জানানো পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
হার্দিক পাণ্ড্যের সঙ্গে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। আইপিএল ক্রিকেটে তাঁর তারকা হয়ে ওঠার পিছনে মুম্বইয়ের বড় ভূমিকা রয়েছে। একসময় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অলরাউন্ডার হিসেবে তিনি একাধিক সাফল্যের সাক্ষী থেকেছেন।
পরবর্তী সময়ে অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিতে গেলেও ফের মুম্বইয়ে ফিরে আসেন হার্দিক। আর তাঁর প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে নেতৃত্বের দায়িত্বও জড়িয়ে যায়।
সেই কারণে হার্দিককে ঘিরে মুম্বইয়ের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র একজন ক্রিকেটারকে রাখা বা ছেড়ে দেওয়ার বিষয় নয়। এর সঙ্গে দলের নেতৃত্ব, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ভারতীয় কোর এবং স্কোয়াড ব্যালান্স—সব কিছুই জড়িত।
যদি মুম্বই তাঁকে ধরে রাখে, তা হলে আগামী মরসুমেও হার্দিককে কেন্দ্র করেই দলের পরিকল্পনা তৈরি হতে পারে।
আবার যদি কোনও কারণে ট্রেডের সম্ভাবনা তৈরি হয়, তা হলে আইপিএলের সবচেয়ে বড় দলবদলগুলির মধ্যে সেটি একটি হয়ে উঠতে পারে।
হার্দিক পাণ্ড্য যদি শেষ পর্যন্ত কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ দেন, তা হলে কেকেআরের দলগঠনে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রথমত, অধিনায়ক সমস্যার একটি সম্ভাব্য সমাধান হয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত, মিডল অর্ডারে পাওয়ার হিটিং বাড়বে। তৃতীয়ত, হার্দিক নিয়মিত বোলিং করলে কেকেআর একটি বাড়তি পেস-বোলিং বিকল্প পাবে।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এমন অলরাউন্ডার দলের ভারসাম্য অনেকটাই বদলে দিতে পারেন। একজন ক্রিকেটার যদি ব্যাটিং এবং বোলিং—দুই বিভাগেই ভূমিকা রাখতে পারেন, তা হলে টিম ম্যানেজমেন্ট অতিরিক্ত ব্যাটার বা বোলার খেলানোর সুযোগ পায়।
তার সঙ্গে হার্দিকের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা যোগ হলে তাঁর গুরুত্ব আরও বাড়ে।
কোনও বড় ক্রিকেটারকে এক ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিতে নিয়ে যাওয়া অবশ্য সহজ প্রক্রিয়া নয়। দুই দলের মধ্যে আলোচনা, ক্রিকেটারের অবস্থান, আর্থিক সমীকরণ এবং আইপিএলের ট্রেড সংক্রান্ত নিয়ম—সবই গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে বড় বিষয় হল বর্তমান ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটারকে ছাড়তে রাজি কি না।
মুম্বই যদি হার্দিককে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখে, তাহলে কেকেআর আগ্রহ দেখালেও ট্রেড হওয়া কঠিন। কিন্তু মুম্বই যদি স্কোয়াডে বড় পরিবর্তন আনতে চায়, তখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্য রকম হতে পারে।
সেই কারণেই এখন নজর থাকবে দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের দিকে।
কেকেআরের জন্য হার্দিককে ঘিরে আগ্রহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে নেতৃত্ব।
আইপিএলে নতুন অধিনায়ক বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি কয়েকটি বিষয় দেখে—খেলোয়াড়ের প্রথম একাদশে নিয়মিত জায়গা, অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা, চাপ সামলানোর ক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় তাঁর ভূমিকা।
হার্দিক এই সমস্ত ক্ষেত্রেই শক্তিশালী প্রার্থী হতে পারেন।
পাশাপাশি তাঁর আক্রমণাত্মক ক্রিকেটীয় মানসিকতা কেকেআরের খেলার দর্শনের সঙ্গেও মানিয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন অনেক সমর্থক।
যদিও কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে হার্দিককে অধিনায়ক করার কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নিশ্চিত বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি।
বর্তমান আইপিএলে মাঠের বাইরেও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিযোগিতা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। একটি রহস্যময় পোস্ট, একটি ছবি কিংবা কয়েকটি শব্দের ক্যাপশনও মুহূর্তে লক্ষ লক্ষ সমর্থকের আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
হার্দিককে ঘিরে কেকেআরের পোস্টের পর মুম্বইয়ের ‘HP Coded’ পোস্ট সেই আলোচনাকেই আরও উস্কে দিয়েছে।
মজার বিষয় হল, কোনও দলই সরাসরি দলবদল নিয়ে কিছু বলেনি। অথচ সমর্থকদের ব্যাখ্যায় কখনও হার্দিক কলকাতার কাছাকাছি চলে যাচ্ছেন, আবার কখনও মুম্বই তাঁকে রেখে দেওয়ার বার্তা দিচ্ছে।
এই অনিশ্চয়তাই আইপিএলের দলবদলের সময়কে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
মুম্বই সমর্থকদের একাংশ মনে করছেন, হার্দিকের ছবি পোস্ট করার অর্থ পরিষ্কার—তিনি মুম্বইয়েরই ক্রিকেটার এবং দলের পরিকল্পনার অংশ।
অন্য দিকে কেকেআর সমর্থকদের অনেকেই মনে করছেন, শুধুমাত্র একটি ব্র্যান্ডিং পোস্ট দিয়ে ট্রেডের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় না। যতক্ষণ না ফ্র্যাঞ্চাইজির তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হচ্ছে, ততক্ষণ হার্দিককে নিয়ে কলকাতার আশা থাকতেই পারে।
ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা জমে উঠেছে।
পুরো জল্পনার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল হার্দিক পাণ্ড্য নিজে এখনও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও স্পষ্ট মন্তব্য করেননি।
কোনও ক্রিকেটারের দলবদল নিয়ে জল্পনা যতই থাকুক, তাঁর নিজের মতামত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হার্দিকের মতো বড় ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব, দলের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই হার্দিকের তরফে কোনও বক্তব্য এলে পরিস্থিতি অনেকটাই পরিষ্কার হতে পারে।
আরও একটি প্রশ্ন উঠছে—হার্দিক যদি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সেই থাকেন, তা হলে কি আগামী মরসুমেও তাঁকেই অধিনায়ক রাখা হবে?
মুম্বইয়ের সমর্থকদের একাংশের বিশ্বাস, দল এখনও তাঁর নেতৃত্বের উপরেই আস্থা রাখছে। সাম্প্রতিক পোস্টের পর সেই বিশ্বাস আরও জোরদার হয়েছে।
তবে ক্রিকেটে ফ্র্যাঞ্চাইজির সিদ্ধান্ত অনেক সময় মরসুমের ফলাফল, দলের কম্বিনেশন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার উপর নির্ভর করে। ফলে হার্দিক মুম্বইয়ে থাকলেও নেতৃত্বের বিষয়ে আলাদা সিদ্ধান্ত হতে পারে কি না, সেটিও নজরে থাকবে।
হার্দিককে নিয়ে যতই আলোচনা হোক, কলকাতা নাইট রাইডার্স নিশ্চয়ই শুধুমাত্র একজন ক্রিকেটারের উপর নির্ভর করে অধিনায়ক নির্বাচনের পরিকল্পনা করবে না।
ফ্র্যাঞ্চাইজির বর্তমান স্কোয়াডের কোনও সিনিয়র ক্রিকেটারকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আবার নিলাম বা ট্রেডের মাধ্যমে নতুন কোনও ক্রিকেটারকেও আনা হতে পারে।
তবে হার্দিকের মতো অভিজ্ঞ ভারতীয় অলরাউন্ডারকে পাওয়া গেলে সেই বিকল্প যে কেকেআরের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হবে, তা বলাই যায়।
এই মুহূর্তে নিশ্চিত তথ্য একটাই—হার্দিক পাণ্ড্যকে ঘিরে দলবদলের আলোচনা চলছে, আর তার মাঝেই তাঁকে নিয়ে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স একটি নজরকাড়া পোস্ট করেছে।
পোস্টের ক্যাপশন—‘মেমো: মেক ইট এইচপি কোডেড’—নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা ব্যাখ্যা।
মুম্বই সমর্থকদের কাছে এটি হার্দিককে রেখে দেওয়ার ইঙ্গিত। কেকেআর সমর্থকদের মতে, এখনও কোনও কিছুই চূড়ান্ত নয়।
ক্রিকেটীয় দিক থেকে বিচার করলে দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছেই হার্দিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন। মুম্বইয়ের কাছে তিনি দলের অন্যতম বড় তারকা এবং নেতৃত্বের মুখ। অন্য দিকে কলকাতার কাছে তিনি হতে পারেন নতুন অধিনায়ক এবং দলের ভারতীয় কোরের অন্যতম প্রধান সদস্য।
ফলে আগামী দিনে ট্রেড বা স্কোয়াড সংক্রান্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হলে তবেই পুরো ছবিটা পরিষ্কার হবে।
তার আগে পর্যন্ত হার্দিক পাণ্ড্যকে ঘিরে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সের এই টানাপড়েন আইপিএলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে থাকতেই চলেছে।
হার্দিককে নিয়ে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সাম্প্রতিক পোস্ট আপাতত কেকেআরের সমর্থকদের মনে তৈরি হওয়া আশায় কিছুটা হলেও প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। মুম্বই কি সত্যিই ‘HP Coded’ বার্তার মাধ্যমে বোঝাল যে হার্দিক তাদের সঙ্গেই থাকছেন? নাকি এটি নিছকই একটি প্রচারমূলক পোস্ট, যার সঙ্গে দলবদলের কোনও সম্পর্ক নেই?
উত্তর এখনও অজানা।
এক দিকে নতুন অধিনায়কের খোঁজে কলকাতা নাইট রাইডার্স, অন্য দিকে হার্দিককে নিয়ে মুম্বইয়ের রহস্যময় বার্তা—সব মিলিয়ে আইপিএলের পরবর্তী মরসুমের আগে হার্দিক পাণ্ড্যের ভবিষ্যৎ এখন অন্যতম বড় আলোচনার বিষয়।
শেষ পর্যন্ত হার্দিক মুম্বইয়ের নীল জার্সিতেই থেকে যান, নাকি কলকাতার বেগুনি-সোনালি জার্সিতে দেখা যায় তাঁকে—সেই উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।