Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ভারতের কৃষিতে নতুন বিপ্লব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত রোবট অন্নদাতা এবার মাঠে নামল এবং কৃষকদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিল

ভারতের কৃষি ব্যবস্থায় আজ এক ঐতিহাসিক দিন আজ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করল সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত কৃষি রোবট এবং ড্রোন ব্যবস্থা অন্নদাতা এই প্রযুক্তি কৃষকদের ফসল উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা থেকে তাদের রক্ষা করবে আইআইটি খড়গপুর এবং কৃষি মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই প্রযুক্তি গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তন আনবে

ভারত চিরকালই একটি কৃষিপ্রধান দেশ এবং এই দেশের আত্মা লুকিয়ে আছে গ্রামের মেঠো পথে ও সবুজ ফসলের মাঠে কিন্তু গত কয়েক দশক ধরে জলবায়ু পরিবর্তন অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং আধুনিক প্রযুক্তির অভাবের কারণে ভারতীয় কৃষকরা এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন তাদের কঠোর পরিশ্রমের ফসল অনেক সময়ই প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা পোকার আক্রমণে নষ্ট হয়ে যেত যার ফলে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমশ দুর্বল হচ্ছিল কিন্তু আজ ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সেই অন্ধকারের বুক চিরে এক নতুন আশার আলো নিয়ে এল আজ সকালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার এক বিস্তীর্ণ কৃষি খামারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত কৃষি ব্যবস্থা যার নাম দেওয়া হয়েছে অন্নদাতা এই প্রযুক্তি কেবল কৃষকদের ফসল রক্ষাই করবে না বরং তাদের আয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়ে ভারতীয় অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটাবে

অন্নদাতা প্রজেক্টের নেপথ্য কাহিনী এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে আইআইটি খড়গপুরের রোবোটিক্স বিভাগ এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ বা আইসিএআর এর দীর্ঘ আট বছরের নিরলস গবেষণা তাদের মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করা যা ভারতীয় কৃষকদের ছোট ছোট জমি এবং বৈচিত্র্যময় আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে উন্নত দেশগুলোতে বড় বড় ট্রাক্টর বা বিশাল স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ব্যবহার করা হলেও ভারতের ছোট জমিতে তা ব্যবহার করা সম্ভব নয় তাই বিজ্ঞানীরা ছোট কিন্তু অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং কর্মক্ষম রোবট এবং ড্রোনের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছেন অন্নদাতা ব্যবস্থাটি মূলত তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত প্রথমটি হলো আকাশ থেকে নজরদারি চালানোর জন্য এআই ড্রোন দ্বিতীয়টি হলো মাটিতে কাজ করার জন্য স্বয়ংক্রিয় অ্যাগ্রো রোবট এবং তৃতীয়টি হলো একটি সেন্ট্রাল ক্লাউড সার্ভার যা এই সমস্ত যন্ত্রগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে এবং কৃষকের স্মার্টফোনে সরাসরি তথ্য পাঠায়

অত্যাধুনিক ড্রোন এবং ডেটা বিশ্লেষণ এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় চমক হলো এর আকাশপথে নজরদারি ব্যবস্থা অন্নদাতা ড্রোনগুলো যখন মাঠের ওপর দিয়ে উড়ে যায় তখন তারা সাধারণ ছবি তোলে না তাদের মধ্যে রয়েছে হাইপারস্পেকট্রাল ক্যামেরা এবং থার্মাল সেন্সর এই ড্রোনগুলো মাঠের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় অত্যাধুনিক সেন্সর ব্যবহার করে প্রতি সেকেন্ডে অন্তত চার হাজার ডেটা পয়েন্ট স্ক্র্যাপ করে যার মধ্যে মাটির আর্দ্রতা ফসলের স্বাস্থ্য পোকার আক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ এবং পুষ্টিগুণের ঘাটতির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে এই বিপুল পরিমাণ ডেটা স্ক্র্যাপিং কৃষকদের একেবারে নিখুঁত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে আগে কৃষকরা কেবল চোখের দেখায় বা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে জমিতে সার বা জল দিতেন যার ফলে অনেক সময় অতিরিক্ত সার প্রয়োগে জমির ক্ষতি হতো কিন্তু এখন এই চার হাজার ডেটা পয়েন্ট বিশ্লেষণ করে এআই ঠিক করে দেয় জমির কোন অংশে ঠিক কতটা ইউরিয়া বা কতটা জলের প্রয়োজন এই প্রিসিশন এগ্রিকালচার বা সুনির্দিষ্ট কৃষিকাজ ফসলের উৎপাদন খরচ অন্তত চল্লিশ শতাংশ কমিয়ে দেয় এবং ফলন প্রায় ষাট শতাংশ বাড়িয়ে দেয়

মাটির বুকে স্বয়ংক্রিয় রোবট এবং আগাছা দমন ড্রোনের পাশাপাশি মাটির বুকে কাজ করার জন্য রয়েছে ছোট ছোট সৌরবিদ্যুৎ চালিত রোবট এই রোবটগুলো দেখতে অনেকটা ছোট মার্স রোভারের মতো এরা সারাদিন মাঠের মধ্যে ঘুরে বেড়ায় এবং বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসল কাটা পর্যন্ত সমস্ত কাজ নিখুঁতভাবে করতে পারে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো এদের আগাছা বা উইড চেনার ক্ষমতা এই রোবটগুলোর ক্যামেরায় মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে যার ফলে এরা আসল ফসল এবং ক্ষতিকারক আগাছার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে আগাছা দেখলে এরা কোনো রাসায়নিক স্প্রে না করে একটি ছোট লেজার রশ্মি ব্যবহার করে সেই আগাছাকে পুড়িয়ে দেয় এর ফলে ফসলে কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক বা পেস্টিসাইড ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না এবং উৎপাদিত ফসল হয় সম্পূর্ণ জৈব বা অর্গানিক এই রাসায়নিক মুক্ত ফসল সাধারণ ফসলের চেয়ে বাজারে অনেক বেশি দামে বিক্রি হয় যা কৃষকদের বিপুল আর্থিক লাভ এনে দেয় এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং জলের সাশ্রয় বর্তমান যুগে কৃষিকাজের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জলের অভাব এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাত অন্নদাতা প্রযুক্তি এই সমস্যার এক চিরস্থায়ী সমাধান নিয়ে এসেছে মাটির নিচে থাকা ময়েশ্চার সেন্সর এবং আকাশের ড্রোন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই এআই সিস্টেম সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাইক্রো ইরিগেশন বা ড্রিপ ইরিগেশন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে যখন কোনো নির্দিষ্ট গাছের গোড়ায় জলের প্রয়োজন হয় কেবল তখনই সেখানে পরিমিত জল সরবরাহ করা হয় এর ফলে সাধারণ সেচ ব্যবস্থার তুলনায় প্রায় সত্তর শতাংশ জল সাশ্রয় হয় বিজ্ঞানীরা বলছেন যদি ভারতের সমস্ত কৃষিজমিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায় তবে দেশের ভূগর্ভস্থ জলের স্তর আবার আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে এছাড়াও এই সিস্টেম স্যাটেলাইট ইমেজিং এর মাধ্যমে আগামী পনেরো দিনের আবহাওয়ার নিখুঁত পূর্বাভাস দিতে পারে যদি ঝড় বা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে তবে সিস্টেম আগেই কৃষককে সতর্ক করে দেয় যাতে তিনি তার পাকা ফসল ঘরে তুলে নিতে পারেন

নতুন কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে জোয়ার কৃষিতে রোবট এবং এআই এলে সাধারণ মানুষের কাজ চলে যাবে বলে অনেকে যে আশঙ্কা করেছিলেন অন্নদাতা প্রজেক্ট তা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করেছে বরং এই প্রযুক্তি গ্রামে গ্রামে লক্ষ লক্ষ নতুন এবং আধুনিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে এই প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য গ্রামে গ্রামে তৈরি হয়েছে নতুন এআই কন্ট্রোল রুম বা কিষাণ সুবিধা কেন্দ্র যেখানে স্থানীয় শিক্ষিত তরুণদের জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ পদে নিয়োগ করা হচ্ছে এই জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভরা একই সাথে ড্রোনের ডেটা বিশ্লেষণ কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান রোবটের ব্যাটারি মেইনটেন্যান্স এবং উৎপাদিত ফসল সরাসরি গ্লোবাল মার্কেটে বিক্রির লজিস্টিকস সামলান যা গ্রামীণ কর্মসংস্থানে এক নতুন জোয়ার এনেছে গ্রামের যুবকরা যারা এতদিন কাজের খোঁজে শহরে পাড়ি জমাতেন তারা এখন নিজেদের গ্রামেই অত্যাধুনিক আইটি সেক্টরের মতো পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন এটি ভারতের রিভার্স মাইগ্রেশন বা গ্রামে ফিরে আসার প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করছে

news image
আরও খবর

সরাসরি বাজার সংযোগ এবং ফিনটেক ইন্টিগ্রেশন অন্নদাতা ব্যবস্থা কেবল ফসল উৎপাদনেই সাহায্য করে না এটি ফসল বিক্রির ক্ষেত্রেও কৃষকদের ক্ষমতায়ন করে এই প্রযুক্তির সাথে একটি ব্লকচেইন ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস যুক্ত করা হয়েছে যখন ফসল কাটার সময় হয় তখন এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফসলের গুণমান এবং পরিমাণের একটি ডিজিটাল সার্টিফিকেট তৈরি করে যা সরাসরি দেশ বিদেশের বড় বড় ক্রেতা এবং সুপারমার্কেটগুলোর কাছে পৌঁছে যায় এর ফলে মাঝখানের ফড়ে বা দালালদের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে কৃষকরা এখন নিজেদের ফসলের দাম নিজেরাই ঠিক করতে পারেন এবং ফসল বিক্রির টাকা সরাসরি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে আসে এই ব্যবস্থার সাথে যুক্ত ফিনটেক কোম্পানিগুলো কৃষকদের এই বিপুল ডেটার ওপর ভিত্তি করে খুব সহজেই এবং কম সুদে কৃষি ঋণ বা ক্রপ ইন্স্যুরেন্স প্রদান করছে কারণ এখন ব্যাঙ্কের কাছে প্রমাণ আছে যে ওই কৃষকের জমিতে ঠিক কতটা ফসল উৎপাদিত হবে এটি ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতিকে এক অকল্পনীয় আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করেছে

পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং কার্বন ক্রেডিট অন্নদাতা প্রযুক্তি সম্পূর্ণভাবে পরিবেশ রক্ষার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে এই সিস্টেমে ব্যবহৃত সমস্ত ড্রোন এবং রোবট সৌরবিদ্যুৎ বা সোলার প্যানেলের মাধ্যমে চার্জ হয় তাই এদের থেকে কোনো কার্বন নিঃসরণ হয় না রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে যাওয়ার ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মাটির ভেতরের কেঁচো বা অন্যান্য উপকারী অণুজীব আবার ফিরে আসছে পরিবেশের এই উন্নতি সাধন করার জন্য কৃষকরা এখন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কার্বন ক্রেডিট অর্জন করতে পারছেন অর্থাৎ তারা পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখার জন্য বিদেশ থেকে সরাসরি আর্থিক পুরস্কার পাচ্ছেন যা তাদের আয়ের একটি নতুন এবং বিশাল উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারত আজ বিশ্বকে দেখাচ্ছে কীভাবে পরিবেশ রক্ষা করেও কৃষিতে বিপুল উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং প্রযুক্তির রপ্তানি অন্নদাতা প্রজেক্টের এই অভাবনীয় সাফল্য সারা বিশ্বের নজর কেড়েছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বা ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম ভারতের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছে এবং বলেছে যে আগামী দিনে সারা পৃথিবীর খাদ্য সংকট মেটাতে এই প্রযুক্তি এক বিশাল ভূমিকা পালন করবে আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার অনেক উন্নয়নশীল দেশ যারা খাদ্যাভাব এবং কৃষিক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে তারা ইতিমধ্যেই ভারতের কাছ থেকে এই প্রযুক্তি কেনার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার এবং কৃষি বিজ্ঞানীরা এখন সারা বিশ্বে স্মার্ট ফার্মিং বা আধুনিক কৃষির রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছেন এটি ভারতের মেক ইন ইন্ডিয়া এবং ডিজিটাল ইন্ডিয়া প্রকল্পের এক চরম সার্থকতা যা দেশের অর্থনীতিতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে আসবে

কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং মানসিক পরিবর্তন যেকোনো নতুন প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এক বিশাল চ্যালেঞ্জ বিশেষ করে বয়স্ক কৃষকদের কাছে যারা চিরকাল প্রথাগতভাবে চাষাবাদ করে এসেছেন তাদের এই নতুন এআই ব্যবস্থা শেখানোর জন্য সরকার ব্যাপক সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে প্রতিটি ব্লকে ব্লক লেভেল ট্রেনিং ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে যেখানে কৃষকদের স্থানীয় ভাষায় স্মার্টফোনের অ্যাপ ব্যবহার করা এবং রোবট নিয়ন্ত্রণ করা শেখানো হচ্ছে আশ্চর্যের বিষয় হলো ভারতীয় কৃষকরা অত্যন্ত দ্রুত এই নতুন প্রযুক্তি আপন করে নিচ্ছেন তারা বুঝতে পেরেছেন যে এই যন্ত্র তাদের শত্রু নয় বরং তাদের সবচেয়ে ভালো বন্ধু হুগলী জেলার এক প্রবীণ কৃষক জানান আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এই সব রোবট আমার কোনো কাজে আসবে না কিন্তু গত ছয় মাস এই প্রযুক্তির ব্যবহার করে আমি দেখেছি যে আমার খাটুনি অর্ধেক হয়ে গেছে এবং লাভ তিনগুণ বেড়েছে আমার ছেলে এখন আর শহরের কারখানায় কাজ করতে চায় না সে এই ড্রোনের ব্যবসা দেখতে চায়

ভবিষ্যতের রূপরেখা এবং ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা সরকার জানিয়েছে যে অন্নদাতা প্রযুক্তি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ভারতের প্রতিটি গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হবে প্রাথমিক পর্যায়ে এই ড্রোন এবং রোবটগুলোর দাম কিছুটা বেশি হলেও সরকার এবং বিভিন্ন কো অপারেটিভ সোসাইটি কৃষকদের প্রচুর ভর্তুকি দিচ্ছে অনেকে আবার ভাড়ায় বা রেন্টাল মডেলে এই যন্ত্রগুলো ব্যবহার করছেন যেমন করে আগে ট্রাক্টর ভাড়া করা হতো আগামী দিনে এই প্রযুক্তিতে আরও উন্নত বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হবে যেমন সরাসরি ফসল থেকে ফল তুলে নেওয়ার জন্য রোবোটিক আর্ম বা স্বয়ংক্রিয় কোল্ড স্টোরেজ ম্যানেজমেন্ট ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত কেবল নিজের দেশের ১৪০ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাই সুনিশ্চিত করবে না বরং সারা বিশ্বের এক অন্যতম প্রধান খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হবে

উপসংহার ২০২৬ সালের ৫ই এপ্রিল দিনটি প্রমাণ করল যে ভারতের মাটি কেবল সোনা ফলায় না এই মাটি এখন মেধা এবং প্রযুক্তিরও এক অফুরন্ত ভাণ্ডার অন্নদাতা প্রজেক্ট আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে দেশের অন্নদাতারা বা কৃষকরা যদি সুরক্ষিত এবং সমৃদ্ধ থাকেন তবেই একটি দেশ প্রকৃত অর্থে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে রোবট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এতদিন কেবল শহরের বড় বড় কারখানা বা আইটি অফিসেই সীমাবদ্ধ ছিল আজ তা গ্রামের মেঠো পথে ধুলো মেখে কৃষকের ঘামের সঙ্গী হয়েছে বিজ্ঞান যখন সমাজের একেবারে নিচুতলার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে কাজে লাগে তখনই তা আসল সার্থকতা পায় ভারতের কৃষকরা আজ আর প্রকৃতির করুণার ওপর নির্ভরশীল নয় তারা এখন প্রযুক্তির সাহায্যে নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই তৈরি করছেন এক নতুন সবুজ বিপ্লবের সাক্ষী হচ্ছে আজ সমগ্র ভারত জয় কিষাণ জয় বিজ্ঞান জয় ভারত

Preview image