ছট পুজো সূর্যদেব ও ছট মাইয়ের আরাধনার মহোৎসব। উপবাস, স্নান, অর্ঘ্য ও শুদ্ধতার মাধ্যমে পরিবারের মঙ্গল, সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করা হয়। নদীর ঘাট ও পুকুর পাড়ে ভোর থেকে জড়ো হন ভক্তরা। ভক্তি, নিষ্ঠা ও ঐতিহ্যের এই উৎসব সমাজে আনে ঐক্য, শান্তি ও আধ্যাত্মিকতার বার্তা।
আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ছট পুজো, সূর্যদেব ও ছট মাইয়ের আরাধনার এই বিশেষ উৎসব ঘিরে জনমানসে উচ্ছ্বাস, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক আবহ। বিহার, ঝাড়খণ্ড ও উত্তরপ্রদেশে এই পুজোর প্রচলন সবচেয়ে বেশি হলেও, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র সহ দেশের নানা প্রান্তে এই উৎসব পালিত হচ্ছে সমান গুরুত্ব ও শ্রদ্ধার সঙ্গে।
ছট পুজো মূলত উদীয়মান ও অস্তগামী সূর্যদেব-কে প্রণাম জানানোর আচার। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, সূর্যদেব জীবন, শক্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক। তাই সূর্যের সামনে প্রার্থনা করলে পরিবারের দুঃখ দূর হয়, সুখ, শান্তি ও কল্যাণ লাভ হয়।
ছট পুজোর বিশেষত্ব হলো শুদ্ধতা ও কঠোর নিয়ম।
ভক্তরা সাধারণত তিন দিন ধরে নির্জলা উপবাস পালন করেন।
এ সময় পেঁয়াজ-রসুন তো দূরের কথা, ঘরেও থাকে সম্পূর্ণ সৎ, পবিত্র আহার।
পুজোর প্রস্তুতিতে ঘরবাড়ি পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে, নদীর ঘাট সাজানো—সবকিছুই করা হয় অত্যন্ত যত্ন ও নিষ্ঠায়।
আজ সকাল থেকেই বিভিন্ন নদীর ঘাট, পুকুরপাড়, খালপাড় ও জলাশয়ে দেখা গেছে হাজার হাজার ভক্তদের সমাগম। অনেকে পরিবার-পরিজনসহ উপস্থিত হয়েছেন অর্ঘ্য নিবেদনের জন্য।
সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবীরা ঘাটে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা নিশ্চিতে কাজ করছেন।
ভক্তরা ফল, খেজুর, ঢেঁকি চাউলের লাড্ডু, নারকেল, আখ, ফুল, সরষের তেল ইত্যাদি দিয়ে সাজানো বাঁশের ডালা নিয়ে সূর্যদেবের উদ্দেশ্যে অর্ঘ্য নিবেদন করেন।
প্রথম দিন সন্ধ্যাবেলা অস্তগামী সূর্যকে অর্ঘ্য দেওয়া হয়।
পরের দিন ভোরে, সূর্যোদয়ের মুহূর্তে দেওয়া হয় উদীয়মান সূর্যকে চূড়ান্ত অর্ঘ্য।
এই দুই অর্ঘ্যের মধ্যেই রয়েছে ছট পুজোর সবচেয়ে আবেগঘন ও শুদ্ধতম পর্ব।
ছট মাইয়ের কাছে ভক্তরা প্রার্থনা করেন—
পরিবারের সুস্বাস্থ্য
সন্তানদের মঙ্গল
সংসারের অশান্তি দূর
সুখ ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা
অনেক নারী তাঁদের সন্তানের সুস্থতার জন্য এই কঠিন ব্রত রাখেন।
ভক্তি ও বিশ্বাস—এই দুই-ই ছট পুজোর ভিত্তি।
ছট পুজো কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি সমাজকে একত্রিত করার উৎসব।
সকলেই এখানে সমান— নেই কোনো উচ্চ-নীচ, ধর্ম-বর্ণের বিভাজন।
নদীর ঘাটে সবাই দাঁড়ায় একই সারিতে, একই প্রার্থনায়।
আজ দেশজুড়ে প্রার্থনা একটাই—
“ছট মাইয়া সবার ঘরে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বরদান করুন।”