Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অবৈধ জুয়া কেলেঙ্কারিতে জড়িত এনবিএ তারকা চন্সি বিলাপস ও টেরি রোজিয়ারসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা!

এনবিএ-তে বড় ধাক্কা! অবৈধ জুয়া চক্রের তদন্তে জড়িয়ে পড়েছেন প্রাক্তন তারকা চন্সি বিলাপস ও বর্তমান খেলোয়াড় টেরি রোজিয়ারসহ মোট ৩০ জন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা অননুমোদিত বেটিং কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মার্কিন ক্রীড়াজগতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

এনবিএ জগতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এক বিশাল কেলেঙ্কারি — অবৈধ জুয়া খেলার অভিযোগে প্রাক্তন ও বর্তমান তারকা খেলোয়াড়সহ মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, তারা পেশাদার বাস্কেটবল লিগের ম্যাচে অবৈধ বেটিং বা জুয়া কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন তারকা খেলোয়াড় ও বর্তমানে পোর্টল্যান্ড ট্রেইল ব্লেজার্সের কোচ চন্সি বিলাপস এবং শার্লট হর্নেটসের গার্ড টেরি রোজিয়ার। এই দুই তারকার নাম প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ক্রীড়াজগতে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, একটি বেটিং সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে গোপনে এনবিএ ম্যাচে জুয়া কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই এনবিএ খেলোয়াড় ও কোচদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (FBI) ও যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট যৌথভাবে এই তদন্ত পরিচালনা করছে। কর্তৃপক্ষের মতে, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা ম্যাচ সম্পর্কিত গোপন তথ্য ব্যবহার করে অর্থ উপার্জন করতেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্পোর্টস গেম্বলিং আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চন্সি বিলাপস ও টেরি রোজিয়ারের নাম এই কেলেঙ্কারির মূল তদন্ত তালিকায় রয়েছে। চন্সি বিলাপস, যিনি একসময় এনবিএ-র অন্যতম শ্রদ্ধেয় খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত ছিলেন, বর্তমানে কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি একাধিক ম্যাচের অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবহার করে অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ করেছিলেন। যদিও বিলাপস নিজে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন যে “তিনি কোনো অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত নন এবং প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে অপরাধী বলা ঠিক নয়।”

অন্যদিকে টেরি রোজিয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজের পরিচিত এক বেটিং অপারেটরের মাধ্যমে ম্যাচের ফলাফল নিয়ে লেনদেন করতেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি বেশ কয়েকটি ম্যাচে নিজের পারফরম্যান্স সম্পর্কিত বাজিতে অংশ নিয়েছিলেন, যা এনবিএ-র কঠোর নীতিমালা লঙ্ঘন করে। এনবিএ ইতিমধ্যেই রোজিয়ারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে এবং তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে।

এই ঘটনা সামনে আসার পর এনবিএ কর্তৃপক্ষ কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এনবিএ কমিশনার অ্যাডাম সিলভার বলেন, “এটি লিগের ভাবমূর্তির ওপর সরাসরি আঘাত। আমাদের খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ সততা প্রত্যাশা করা হয়। যদি কেউ সেই নীতিমালা ভঙ্গ করে, তবে তার পরিণতি অত্যন্ত কঠিন হবে।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে লিগ নতুন মনিটরিং সিস্টেম চালু করবে।

news image
আরও খবর

তবে এই ঘটনার প্রভাব শুধু এনবিএ-তেই সীমাবদ্ধ নয়। আমেরিকান স্পোর্টস দুনিয়াতেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই “গ্যাম্বলিং স্ক্যান্ডাল”। ক্রীড়া বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনলাইন বেটিং মার্কেটের বিস্তারের ফলে খেলাধুলার সততা বিপন্ন হয়ে পড়ছে। যেখানে ম্যাচ ফিক্সিং, ইনসাইড ইনফরমেশন ব্যবহার, বা আর্থিক প্রলোভনের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে।

প্রাক্তন এনবিএ তারকা ও বিশ্লেষক চার্লস বার্কলে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “খেলোয়াড়দের এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ ও প্রলোভনের মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রযুক্তির যুগে জুয়া খেলা মাত্র কয়েকটি ক্লিকের ব্যাপার। তাই লিগকে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

সামাজিক মাধ্যমে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের কেলেঙ্কারি এনবিএ-এর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করবে এবং তরুণ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে কিছু মানুষ আবার দাবি করছেন, খেলোয়াড়দেরও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা আছে, এবং প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা উচিত নয়।

তদন্ত এখনো চলছে, এবং আগামী সপ্তাহে আদালতে এই মামলার প্রাথমিক শুনানি শুরু হবে বলে জানা গেছে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে দোষীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানা ও দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।

চন্সি বিলাপস ও টেরি রোজিয়ারের মতো পরিচিত মুখ এই বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় এনবিএ-র ওপর এক অভূতপূর্ব চাপ তৈরি হয়েছে। লিগের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে এখন কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে — কারণ এই ঘটনা প্রমাণ করেছে, পেশাদার খেলাধুলায় অর্থ ও প্রলোভনের জাল কত গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

Preview image