সিডনিতে শুরু হতে চলেছে এক বিশেষ ক্রিকেট উৎসব — কারণ এই ম্যাচে দেখা যেতে পারে বিরাট কোহলির শেষ আন্তর্জাতিক ইনিংস অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন “কিং কোহলি”-র ব্যাট থেকে আরেকটি স্মরণীয় মুহূর্ত দেখার জন্য। সিডনি এখন যেন এক বিরাট দর্শন মন্দিরে পরিণত হয়েছে!
সিডনি, ২৫ অক্টোবর: অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য সিডনি আজ যেন এক পবিত্র তীর্থভূমি। কারণ, এখানে নামতে চলেছেন ভারতীয় ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তি বিরাট কোহলি — আর হতে পারে এটাই তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। তাই "কোহলি দর্শন"-এর প্রত্যাশায় সিডনির প্রতিটি ক্রিকেট পাড়া, প্রতিটি দর্শক আসন এখন উচ্ছ্বাসে উত্তাল।
ভারতের হয়ে দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে অগণিত রেকর্ড গড়েছেন বিরাট। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৮০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক শতক, অসংখ্য অবিস্মরণীয় ইনিংস। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডেও বহুবার তিনি প্রমাণ করেছেন, কেন তাঁকে 'কিং কোহলি' বলা হয়। এবার যখন তিনি মাঠে নামবেন, দর্শকরা জানেন — হয়তো এই মহারথীকে শেষবারের মতো এখানে ব্যাট হাতে দেখা যাবে।
বয়স বাড়লেও কমেনি জেদ
৩৬ বছর বয়সে পদার্পণ করলেও কোহলির ফিটনেস ও খেলার প্রতি নিবেদন এখনও তরুণদের হার মানায়। গত কয়েক মাসে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল ধারাবাহিক, যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দাবি দিন দিন কঠিন হচ্ছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্যারিয়ারের সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ার বাস্তবতা মেনে নিতে হচ্ছে। তাই সিডনির দর্শকরা চান, এক শেষবারের মতো কোহলির ব্যাটে ঝড় উঠুক, যেন মাঠ প্রকম্পিত করে ধ্বনিত হয় — "This is Virat Kohli!"
বিশেষ আয়োজনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াও বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে এই ম্যাচকে স্মরণীয় করে তুলতে। স্টেডিয়ামের বিশাল স্ক্রিনে চলবে কোহলির সেরা মুহূর্তগুলির ভিডিও মন্তাজ, ভক্তদের হাতে থাকবে 'Thank You, Virat' লেখা প্ল্যাকার্ড। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ভাইরাল হচ্ছে ট্রেন্ড, যেখানে লাখ লাখ ভক্ত শেয়ার করছেন তাঁদের প্রিয় কোহলি মুহূর্তগুলি।
তরুণদের অনুপ্রেরণা
ভারতীয় দলের তরুণ ক্রিকেটাররাও জানিয়েছেন, এই ম্যাচ তাঁদের জন্য অত্যন্ত আবেগপূর্ণ। কোহলির নেতৃত্বে তাঁরা যেভাবে শিখেছেন চাপের মুহূর্তে লড়াই করা, সেটা সারাজীবন মনে রাখবেন। দলের এক তরুণ ক্রিকেটার আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "কোহলি ভাই আমাদের শেখান, শুধু খেলায় নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কীভাবে জয়ী হতে হয়।"
বিনয়ী কোহলি
বিরাট নিজে অবশ্য সবসময়ই বিনয়ী। প্রাক-ম্যাচ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "আমি জানি না এটা আমার শেষ ম্যাচ কি না, তবে সিডনির সঙ্গে আমার সম্পর্ক সবসময় বিশেষ ছিল। এখানকার দর্শক, এই মাঠ, এই পরিবেশ — সবকিছু মিলিয়ে খেলতে নামলে হৃদয়ে আলাদা উত্তেজনা কাজ করে।"
ইতিহাসের সাক্ষী হতে প্রস্তুত সিডনি
এমন এক কিংবদন্তির উপস্থিতি ঘিরে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে সিডনির দিকে। ভারত জিতবে কি হারবে, সেটা এখন গৌণ বিষয়; কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের চোখ থাকবে সেই একটি ব্যাটের দিকে — যে ব্যাট দিয়ে লেখা হয়েছে অসংখ্য জয়গাথা, যা কোটি কোটি ভক্তকে একসঙ্গে হাসিয়েছে, কাঁদিয়েছে, আর গর্বিত করেছে।
সিডনি শুধু একটি ক্রিকেট ম্যাচের অপেক্ষায় নেই — অপেক্ষায় আছে ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার। হয়তো সত্যিই, এক শেষবারের মতো বিরাট কোহলির ব্যাটে ঝলসে উঠবে সেই আগুন, যা ক্রিকেটকে নিছক খেলা থেকে শিল্পে পরিণত করেছে।