২০২৫ সালের অক্টোবরে ভারতের অটোমোবাইল বাজারে রেকর্ড বিক্রয় হয়েছে। FADA (Federation of Automobile Dealers Associations)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় মোট যানবাহন বিক্রয় বেড়েছে ৪০.৫ শতাংশ, যা দেশের অটো রিটেইল ইতিহাসে সর্বোচ্চ অক্টোবর পারফরম্যান্স। দুই-চাকা যানবাহনের বিক্রয় বেড়েছে ৫১.৭৬% হয়ে ৩১.৫ লক্ষ ইউনিট, আর প্যাসেঞ্জার ভেহিকেল বিক্রয় বেড়েছে ১১.৩৫% হয়ে ৫.৫৭ লক্ষ ইউনিটে। কমার্শিয়াল ভেহিকেল ও ট্র্যাক্টর সেগমেন্টেও যথাক্রমে ১৭.৭% ও ১৪.২% বৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে এই রেকর্ড বিক্রয়ের মাঝেও পিছিয়ে পড়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেগমেন্ট — কনস্ট্রাকশন ইকুইপমেন্ট (CE), যেখানে বিক্রয় কমেছে প্রায় ৩০.৫%। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবকাঠামো প্রকল্পে বিলম্ব ও বিনিয়োগ কমে যাওয়াই এর মূল কারণ। উৎসব মৌসুম, বিশেষ করে দশহরা ও দীপাবলি বিক্রয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে। GST 2.0 সংস্কার ও গ্রামীণ আয় বৃদ্ধি গ্রাহকদের কেনার ক্ষমতা বাড়িয়েছে। দুই-চাকা ও প্যাসেঞ্জার ভেহিকেলের ক্ষেত্রে গ্রামীণ বিক্রয় শহুরে বিক্রয়ের তুলনায় দ্বিগুণ গতি পেয়েছে। EV (ইলেকট্রিক ভেহিকেল) সেগমেন্টেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। সব মিলিয়ে, সরকারী নীতি, ফেস্টিভ সিজন ও গ্রামীণ চাহিদার সমন্বয়ে ভারতের অটোমোবাইল খাত এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কনস্ট্রাকশন ইকুইপমেন্ট সেক্টরের মন্দা অটোমোবাইল শিল্পের ভারসাম্যহীনতা তুলে ধরছে। আগামী মাসগুলোতে এই সেগমেন্টে পুনরুজ্জীবন ঘটবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে, অক্টোবর ২০২৫ ভারতের অটো ইন্ডাস্ট্রির জন্য এক ঐতিহাসিক মাস — একদিকে রেকর্ড বিক্রয়, অন্যদিকে একটি সেগমেন্টের ধাক্কা; তবে সামগ্রিকভাবে অটোমোবাইল বাজার এখনো উর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রেখেছে।
ভারতের যানবাহন বিক্রয় অক্টোবর ২০২৫-এ এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে। FADA (Federation of Automobile Dealers Associations)-এর তথ্যে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রয় বেড়েছে ৪০.৫ %, যা দেশের অটোমোবাইল ইতিহাসে সর্বোচ্চ অক্টোবর পারফরম্যান্স।
দুই-চাকা ও প্যাসেঞ্জার ভেহিকেল সেগমেন্ট উভয়েই জীবনকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছে। তবে একটি খাত — কনস্ট্রাকশন ইকুইপমেন্ট (CE) — উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে পড়েছে।
দুই-চাকা বিক্রয়: ৫১.৭৬ % বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছেছে ৩১.৫ লক্ষ ইউনিটে — যা ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
প্যাসেঞ্জার ভেহিকেল: ১১.৩৫ % বৃদ্ধি পেয়ে ৫.৫৭ লক্ষ ইউনিট, এটিও নতুন রেকর্ড।
কমার্শিয়াল ভেহিকেল (CV) ১৭.৭ % ও ট্র্যাক্টর বিক্রয় ১৪.২ % বৃদ্ধি পেয়েছে।
থ্রি-হুইলার বিক্রয় বেড়েছে ৫.৪ %, কিন্তু কনস্ট্রাকশন ইকুইপমেন্ট (CE) সেগমেন্টে ৩০.৫ % পতন ঘটেছে।
FADA সভাপতি সি. এস. বিঘনেশ্বর বলেছেন, “অক্টোবর ২০২৫ ভারতের অটো রিটেইল ইতিহাসে একটি মাইলফলক। সংস্কার, উৎসব ও গ্রামীণ পুনরুত্থান একসঙ্গে এই রেকর্ড তৈরি করেছে।”
দশহরা ও দীপাবলি মিলিয়ে ৪২ দিনের উৎসব পর্বে মোট যানবাহন বিক্রয় বেড়েছে ২১ %।
দুই-চাকা — ২২ % বৃদ্ধি
প্যাসেঞ্জার গাড়ি — ২৩ % বৃদ্ধি
কমার্শিয়াল গাড়ি — ১৫ % বৃদ্ধি
কনস্ট্রাকশন ইকুইপমেন্ট — ২৪ % পতন
FADA মন্তব্য করেছে, “GST 2.0 রোলআউট ও উৎসব সময় একত্রে ভারতের অটো সেক্টরে ‘বিকশিত ভারত মুহূর্ত’ তৈরি করেছে — নীতি, উৎসব ও গ্রামীণ চাহিদার নিখুঁত মেলবন্ধন।”
সেপ্টেম্বরে GST 2.0 রূপান্তরের কারণে বিক্রয় মন্থর ছিল, কিন্তু অক্টোবর মাসে তা রকেটের গতিতে ঘুরে দাঁড়ায়।
প্রধান কারণ:
GST হার কমানো, বিশেষ করে এণ্ট্রি-লেভেল দুই-চাকা ও ছোট গাড়িতে।
প্রথমবার গাড়ি কেনার প্রবণতা বাড়ায় অ্যাফোর্ডেবিলিটি বৃদ্ধি।
গ্রামীণ এলাকায় প্যাসেঞ্জার গাড়ির বিক্রয় শহরের তুলনায় তিনগুণ দ্রুত বাড়ছে।
দুই-চাকার গ্রামীণ বিক্রয় শহুরে বাজারের তুলনায় দ্বিগুণ গতি পেয়েছে।
এই বৃদ্ধি এসেছে ভালো বর্ষা, কৃষি আয় বৃদ্ধি ও সরকারি অবকাঠামো খরচের মাধ্যমে।
যানবাহনের সব সেগমেন্ট যখন ঊর্ধ্বমুখী, তখন CE সেক্টরে ৩০ % অধিক পতন। কারণ এই সেগমেন্ট মূলত অবকাঠামো প্রকল্পের উপর নির্ভরশীল, আর বেশ কিছু প্রকল্প বিলম্ব ও বিনিয়োগ স্লোডাউনে আটকে রয়েছে। ফলে বিক্রয়ে ধস নেমেছে।
সংস্থার জরিপ বলছে:
৬৪ % ডিলার নভেম্বরে বৃদ্ধি আশা করছেন।
২৭ % বলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে।
মাত্র ৮ % ডিলার বিক্রয়ে পতন আশা করছেন।
নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ৭০ % ডিলার বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন।
প্যাসেঞ্জার ও দুই-চাকা সেক্টর এখন সর্বাধিক লাভজনক পথে।
GST 2.0 রিফর্মস ও উৎসব চাহিদা এই সেক্টরকে দৃঢ় করেছে।
অবকাঠামো ও কনস্ট্রাকশন ইকুইপমেন্ট কোম্পানিতে বিনিয়োগ কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ।
EV (ইলেকট্রিক ভেহিকেল) সেগমেন্টেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে — এখনই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সময়।
FADA বলছে, আগামী মাসগুলোতে বাজার “দৃঢ়ভাবে ইতিবাচক” থাকবে। GST 2.0 সুবিধা, ফসলের টাকা, বিয়ের মৌসুম ও নতুন মডেল লঞ্চ চাহিদা বাড়াবে।
ভারতের অটো সেক্টর এখন গ্রামীণ ও মিডল ইনকাম গ্রুপের উপর ভর করে বাড়ছে। এই বৃদ্ধি কেবল অর্থনীতির উন্নয়ন নয়, চাকরির সংখ্যাও বাড়াবে।