অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, তিনি জ়ুবিন গার্গের মৃত্যু ‘দুর্ঘটনা’ বলে মনে করেন না। তাঁর নির্দেশে এসআইটি আগামী ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্তের চার্জশিট জমা দেবে।
অসমের মুখ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক মন্তব্য ও জনআন্দোলন: জ়ুবিন গার্গ হত্যা দাবি — সম্পূর্ণ বর্ণনা
গায়ক জ়ুবিন গার্গের মৃত্যু নিয়ে ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে জনমঞ্চ। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সম্প্রতি সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন যে তিনি জ়ুবিনের মৃত্যুকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে মনে করেন না এবং তাঁর বক্তব্য—“সিঙ্গাপুরে ওঁকে হত্যা করা হয়েছে”—তাকে নতুন করে চাঞ্চল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। তিনি জানিয়েছেন, এসআইটি (বিশেষ তদন্ত দল) তদন্ত করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করবে এবং সেই চার্জশিট আগামী ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দেবার সময়সীমা তিনি ধার্য করেছেন।
পটভূমি: গায়ক জ়ুবিন গার্গের মৃত্যু হয়েছিল ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে। সিঙ্গাপুর পুলিস প্রথমে তাঁর মৃতদেহে ময়নাতদন্ত করে এবং পরে দেহটি গুয়াহত নিয়ে এসে আরও একটি ময়নাতদন্ত করা হয়। সিঙ্গাপুর পুলিশ জানায়, শুরু থেকেই তাঁদের রেকর্ডে এই মৃত্যুতে “কোনও অস্বাভাবিকতা নেই” — কিন্তু এই পুলিশি বক্তব্য ও বিদেশে ঘটেছে প্লাস ময়নাতদন্তের পরও অনুরাগীরা সন্তুষ্ট নন।
জনপ্রতিক্রিয়া ও আন্দোলন: মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতির পর থেকেই জ়ুবিনের অনুরাগীরা পথে নামেছেন। পুলিশের চাইতে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পর ভক্তসমাজ আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং তারা অবিলম্বে তদন্ত ও ন্যায় দাবি করছেন। এক অনুরাগী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের জ়ুবিনদাকে হত্যা করা হয়ে থাকলে, অপরাধীদের ফাঁসি দিতেই হবে। রাজ্য সরকারকে বলব, অপরাধীদের যেন কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হয়। কেউ যেন পালিয়ে না বাঁচে।” গুয়াহাটির সড়কে ফের মানুষের সমাগম দেখা গেছে এবং তাঁদের মুখে একই দাবি — অবিলম্বে বিচার।
সরকারি প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ: হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন যে ঘটনার তদন্ত বিদেশে হওয়ার কারণে চার্জশিট তৈরি করার আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে প্রযুক্তিগত ছাড়পত্র প্রয়োজন হতে পারে। তিনি এই বিষয়টি সামনে নিয়ে যেতে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় স্তরে উদ্যোগ নিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দিল্লিতে দেখা করার কথাও উল্লেখ করেছেন। এসআইটি গঠন করা হয়েছিল তদন্তটি ত্বরান্বিত করার জন্য এবং মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তারা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রিপোর্ট দেবে বলে জানিয়েছে।
বৈপরীত্য বিবরণ ও অনিশ্চয়তা: প্রতিবেদনে স্পষ্ট—সিঙ্গাপুর পুলিশ যে অবস্থান নিয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের মধ্যে যে ব্যবধান সেই কথাটা তুলে ধরছে। মুখ্যমন্ত্রী কোন কোন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ‘হত্যাকাণ্ড’ শব্দটি ব্যবহার করছেন তা প্রকাশ্যে আনেননি, ফলে তদন্ত প্রতিবেদন ও চার্জশিট আসার আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক এবং জনমানসিক উত্তেজনা কাটানো কঠিনই হবে।
সম্ভাব্য আইনি জটিলতা: বিদেশে ঘটেছে বলে তদন্তে কূটনৈতিক ও কোর্ট-প্রক্রিয়ার জটিলতা থাকতে পারে — তথ্য-হস্তান্তর, ফরেনসিক রিপোর্ট শেয়ারিং, এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সবই সময়সাপেক্ষ। মুখ্যমন্ত্রীর সময়সীমা ঘোষণার অর্থ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ানো হলেও তদন্তকারীরা বৈধ প্রমাণ-সংগ্রহ ও পদ্ধতিগত তদন্ত কিভাবে করে তা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
উপসংহার: জ়ুবিন গার্গের মৃত্যু নিয়ে অনুরাগী-সমর্থক, রাজ্য রাজনীতি ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থার মধ্যে টানাপোড়েন এখনই থামছে না। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য গণমানসে ঝড় তুলেছে এবং অনুরাগীরা কড়া শাস্তি দাবি করছেন — তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও দায়ের কাগজপত্র এসআইটি তদন্তের রিপোর্ট ও আগামী ৮ ডিসেম্বরের চার্জশিটের ওপর নির্ভর করবে।