Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

দিল্লির বায়ুদূষণে আক্রান্ত শিশুরা: অসুস্থতা, মেধার অবনতি ও জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে

দিল্লির চরম বায়ুদূষণ শিশুদের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দূষিত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার ফলে শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হতে পারে, বুদ্ধিমত্তা কমে যেতে পারে এবং শারীরিক অসুস্থতা বাড়তে পারে। এমনকি অকালমৃত্যুর ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমান দূষণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর এর গভীর প্রভাব পড়বে।

দিল্লি শহরের বায়ুদূষণ নিয়ে বহু বছর ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে দূষণের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে সমাজের সবচেয়ে দুর্বল স্তর—শিশুরা। একদিকে বিষাক্ত বাতাসে প্রতিদিন শ্বাস নেওয়ার ফলে তাদের শারীরিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ভয়াবহ। দূষণের কারণে শিশুদের মধ্যে অকালমৃত্যুর আশঙ্কাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি ও আশপাশের বাসিন্দাদের মনে প্রশ্ন—এই প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কি সত্যিই নিরাপদ?

দিল্লি কয়েক বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে বা শীর্ষের কাছাকাছি অবস্থান করছে। শীতকালে আবহাওয়ার অবস্থার কারণে দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। বাতাসে জমে থাকা পার্টিকুলেট ম্যাটার বা ক্ষুদ্র কঠিন কণার পরিমাণ এতটাই বেশি হয়ে ওঠে যে বিশেষজ্ঞরা একে ‘বিষাক্ত প্রলেপ’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই দূষণ কেবল চোখ, নাক, গলা বা ফুসফুসের ওপরই প্রভাব ফেলে না; এটি শিশুদের মস্তিষ্ক, রক্ত সঞ্চালন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি ডেকে আনে।

শিশুরা দূষণের ক্ষতিকর প্রভাবের সবচেয়ে সহজ শিকার। কারণ তারা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অনেক বেশি বাতাস গ্রহণ করে, তাদের ফুসফুস এখনও সম্পূর্ণ বিকশিত হয়নি, এবং তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল। ফলে দূষণের ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান তাদের শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিল্লির শিশুরা এমন একটি পরিবেশে বড় হচ্ছে যেখানে প্রতিদিনের বাতাসই যেন অদৃশ্য বিষ।

দিল্লির শীতকালীন দূষণের প্রধান কারণগুলির মধ্যে রয়েছে গাড়ির ধোঁয়া, শিল্প কারখানার নির্গমন, নির্মাণ স্থলের ধুলো, স্টাবল বার্নিং, এবং তাপমাত্রার দ্রুত পতনের ফলে নিম্নমুখী বায়ু প্রবাহ। বায়ুতে উপস্থিত PM2.5 ও PM10 কণাগুলি এতটাই ক্ষুদ্র যে এগুলো সরাসরি রক্তে প্রবেশ করে মস্তিষ্ক ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই ক্ষতি আরও দ্রুত হয়।

একাধিক আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় গবেষণা বলছে, দূষিত বাতাসে বড় হওয়া শিশুরা জীবনের প্রথম দশ বছরে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। যেমন—অ্যাজমা, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ব্রঙ্কাইটিস, চোখে জ্বালা, অ্যালার্জি, ত্বকের সমস্যা ইত্যাদি। এগুলোর পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে, দূষণ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হারও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির দূষণ প্রতিদিন হাজার হাজার শিশুর শরীরে এমন ক্ষতি করছে, যার প্রভাব বহু বছর পরও দেখা যেতে পারে।

দূষণের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাবগুলির একটি হলো শিশুদের মস্তিষ্কের ওপর এর সরাসরি আক্রমণ। PM2.5 কণার মতো ক্ষুদ্র দূষণকারী উপাদান রক্ত-মস্তিষ্ক বাধা (Blood-Brain Barrier) ভেদ করে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে নিউরন বা স্নায়ুকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা বুদ্ধিমত্তা, স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ধরে রাখা, শেখার ক্ষমতা এবং আচরণগত বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এই ধরনের ক্ষতি শিশুদের বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার জন্ম দেয়। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ দূষণ অঞ্চলে বসবাসকারী শিশুরা মানসিক বিকাশে পিছিয়ে পড়ে এবং শিক্ষাগত ফলাফলেও তাদের সক্ষমতা কমে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি একই থাকলে আগামী দশ বছরে শিশুদের মধ্যে বুদ্ধিমত্তার গড় মান হ্রাস পেতে পারে। এটি কেবল পরিবার বা ব্যক্তিগত স্তরে সমস্যা সৃষ্টি করবে না; সমাজ ও দেশের সার্বিক উন্নয়নেও প্রভাব ফেলবে। কারণ বুদ্ধিমত্তা ও শিক্ষাগত দক্ষতা কমে গেলে ভবিষ্যতের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী দুর্বল হয়ে পড়বে।

শুধু শারীরিক নয়, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যও দূষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষাক্ত বাতাসে দীর্ঘদিন শ্বাস নেওয়ার ফলে শিশুদের মধ্যে অবসাদ, উদ্বেগ, আচরণগত সমস্যা, মেজাজ পরিবর্তন এবং একাকীত্বের প্রবণতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু ইতিমধ্যে শ্বাসকষ্ট বা অ্যালার্জির সমস্যায় ভুগছে, তাদের মানসিক চাপ আরও বেড়ে যায়। স্কুলে অনুপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া এবং আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও তৈরি হয়।

দূষণের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের মধ্যে অন্যতম গুরুতর হলো অকালমৃত্যু। গবেষণায় দেখা গেছে, যে শিশুেরা প্রতিদিন এমন বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে যার মধ্যে দূষণের মাত্রা WHO-র নির্ধারিত সীমার ১০ থেকে ২০ গুণ, তারা জীবনজুড়ে শ্বাসজনিত রোগে ভুগতে পারে। ভবিষ্যতে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা দুর্বল হওয়ার কারণে দ্রুত মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির বর্তমান দূষণ পরিস্থিতি প্রতিদিনই বহু শিশুর জীবনের প্রত্যাশিত আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে।

দিল্লি সরকার দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে যেমন—অড-ইভেন নীতি, নির্মাণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা, জল ছিটিয়ে ধুলো কমানো, গ্র্যাপ (GRAP) নিয়ম চালু, স্কুল বন্ধ রাখা ইত্যাদি। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি দেখলে বোঝা যায়, এগুলো কেবল অস্থায়ী সমাধান। দীর্ঘমেয়াদে দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য চাই পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা, কঠোর শিল্প নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণ সাইটে নিয়মিত ধুলো নিয়ন্ত্রণ, এবং প্রতিবেশী রাজ্যের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ।

শিশুদের দূষণ থেকে রক্ষা করতে চাই সচেতনতা। যেমন—N95 মাস্ক ব্যবহার, ঘরে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার, সকালে কুয়াশা বা ধোঁয়া ঘন থাকলে বাইরে খেলতে না দেওয়া, স্কুলে শিশুদের শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা হলে বিশেষ নজর রাখা, বাসায় বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা ইত্যাদি। দীর্ঘমেয়াদে বাবা-মা ও অভিভাবকদের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে অংশ নিতে হবে, যেমন—গাছ লাগানো, প্লাস্টিক কম ব্যবহার, গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার, এবং দূষণ বিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় থাকা।

দিল্লির দূষণ সমস্যা এখন আর কেবল পরিবেশগত বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার প্রশ্ন। শিশুদের ওপর দূষণের যে প্রভাব পড়ছে তা শুধুমাত্র আজকের নয়, আগামী প্রজন্মের উন্নয়নকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করবে। তাই এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে দিল্লির শিশুদের স্বাস্থ্য, বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষাগত দক্ষতা এমনকি গড় আয়ুও বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিতে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক পরিবার, স্কুল, প্রতিষ্ঠান এবং সমাজকে একসঙ্গে এগিয়ে এসে দূষণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। শিশুদের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ তৈরি করা এখনই আবশ্যিক। নয়তো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এমন এক পৃথিবী পাবে যেখানে শ্বাস নেওয়াই হয়ে উঠবে বিপজ্জনক।

দিল্লির দূষণের বিরুদ্ধে লড়াইকে শুধুমাত্র নীতি বা পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না; এটিকে একটি সমন্বিত সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে হবে, দূষণ রোধে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে, এবং কঠোরভাবে নিয়ম মানতে হবে। কারণ শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রয়োজন আজই—আগামীকাল নয়। 

দিল্লির দূষণ সমস্যার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অদৃশ্য ক্ষতি, যা চোখে দেখা যায় না। শিশুরা যখন প্রতিদিন বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে, তখন তাদের শরীরে এক ধরনের নীরব যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধের শত্রু হলো ক্ষুদ্র দূষণ কণা এবং নানান রাসায়নিক উপাদান, যা ধীরে ধীরে কোষ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ক্ষতি করতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই এই ক্ষতি সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে না, বরং বছরের পর বছর পর এর ফলাফল সামনে আসে।

news image
আরও খবর

গবেষণায় দেখা গেছে যে দীর্ঘমেয়াদি দূষণের ফলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। যার ফলে তারা ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা সাধারণ সংক্রমণের খুব সহজ শিকার হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যেসব শিশু স্কুলে যাতায়াত করে এবং বাইরে বেশি সময় কাটায়, তারা অন্যদের তুলনায় বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশি, গলায় জ্বালা, চোখে পানি পড়া—এগুলো তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই অবস্থায় স্কুল-কলেজগুলিও চিন্তায় রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান দূষণের মাত্রা বেড়ে গেলে ক্লাস বন্ধ রাখছে, কিন্তু এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্কুলগুলোতে বায়ুর মান পরিমাপ করার ব্যবস্থা থাকা জরুরি। পাশাপাশি, শিশুদের শারীরিক ব্যায়াম বা খেলাধুলার কার্যক্রমও দূষণের মাত্রা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। শীতকালের সকালে যখন AQI ৫০০ ছুঁয়ে যায়, তখন শিশুদের মাঠে বের হওয়া খুবই বিপজ্জনক। কিন্তু অনেক অভিভাবকই বিষয়টি অবহেলা করেন, যার ফল ভোগ করতে হয় শিশুদেরই।

দিল্লির দূষণ শহরের জীবনযাত্রাকে এমনভাবে প্রভাবিত করেছে যে এখন এটি একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই ‘স্বাভাবিক’ পরিস্থিতিই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। মানুষ পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে, কিন্তু এর প্রভাব যে ভয়ানক তা বোঝার আগেই সময় ফুরিয়ে যাবে।

এছাড়াও, দূষণ শিশুদের ঘুমের মানেও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। রাতের বেলায় দূষণের মাত্রা অনেক সময় বাড়ে। এর ফলে শিশুদের নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া বা ঘুম ভেঙে যাওয়া স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঘুম ঠিক না হলে তাদের মানসিক বিকাশ, শেখার ক্ষমতা এবং মনোযোগের ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরের দিন স্কুলে তারা মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না, ফলে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে।

মানসিক দিক থেকেও দূষণ শিশুদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। বারবার অসুস্থ হওয়া, বাইরে খেলতে না পারা, স্কুলে যেতে সমস্যা হওয়া—এসব কারণে তারা মানসিকভাবে ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে পড়ে। শিশুদের আচরণগত সমস্যাও বাড়তে দেখা যাচ্ছে। যেমন—রাগ, অস্থিরতা, উদ্বেগ, মনোযোগ কম থাকা ইত্যাদি।

স্বাস্থ্য-বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি উন্নত না হলে আগামী প্রজন্ম এমন এক সমাজে বড় হবে যেখানে শ্বাসযন্ত্রের রোগ একটি কমন সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। ক্যানসারের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকিও বাড়বে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর উৎপাদনশীলতা কমে যাবে, যা অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে।

দূষণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়াও পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের সচেতনতা শিশুদের রক্ষা করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন—

  • উচ্চ AQI দিনে শিশুদের বাইরে খেলতে না দেওয়া

  • প্রয়োজনে স্কুলে জানানো

  • ঘরে সবসময় পরিস্কার পরিবেশ রাখা

  • ঘরে গাছ লাগানো

  • গাড়ি কম ব্যবহার করা

  • শিশুর কোন অসুবিধা হলে তৎক্ষণাত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া

পরিবেশ রক্ষা মানে শুধু গাছ লাগানো বা দূষণ কমানো নয়—শিশুদের জীবন রক্ষা করা। দিল্লির দূষণ আজ যে সংকট তৈরি করেছে, তা আগামী দশকে আরও ভয়াবহ হতে পারে যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়। শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে সরকার, সমাজ ও পরিবার—তিন পক্ষকেই একইসঙ্গে কাজ করতে হবে।

 

Preview image